আদালত অবমাননার মামলায় গতকাল সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আত্মপক্ষ সমর্থন করে শুনানিতে অংশ নিয়ে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘চেম্বার মানেই সরকারের পক্ষে স্টে’ শিরোনামে গত ২১ এপ্রিল প্রকাশিত রিপোর্টে আমার দেশ সত্য ঘটনা তুলে ধরেছে। নির্ভুল সংবাদ প্রকাশ করেছে। আদালত কিংবা বিচারককে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো রিপোর্ট করেনি। গতকাল সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। শুনানিকালে মাহমুদুর রহমান বুধবারের অসমাপ্ত বক্তব্যের পাশাপাশি উত্থাপিত বিভিন্ন আইনি প্রশ্ন ও তার সম্পর্কিত বিভিন্ন বক্তব্যের জবাব দেন।
মাহমুদুর রহমান তার যোগ্যতা সম্পর্কে গত বুধবার আদালতের মন্তব্যের জবাবে গতকাল আদালতে বলেন, “My academic background in BUET, IBA and Japan, My govt. position as BOI Executive Chairman and Energy Adviser and my pioneering role in Bangladesh in manufacturing and export of Bone China were dismissed as ‘এই সেই’ in this court yesterday.
During my 34 years of ‘এই সেই’ career two years role as 'Chance Editor' was most gratifying and rewarding. Under my Editorship Amar Desh stood resolutely and valiantly in favour of human rights, liberty, national interest and rule of law. I am proud of my colleagues. I salute them. They are now in problem. But this is the price one has to pay for preserving the path of truth. I know truth is no defense. However truth is becoming a defense in other places as has been seen in case of most recent Delhi High Court Judgement. Most importantly truth is the only defense in the ultimate court. ”
অর্থাত্ আমি বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, আইবিএ থেকে এমবিএ এবং জাপানে ডিপ্লোমা করেছি। এছাড়া বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জ্বালানি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও বাংলাদেশে সিরামিকস সামগ্রী তৈরি এবং তা বিদেশে রফতানির ক্ষেত্রে আমি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছি। অথচ এগুলোকে আদালত গতকাল ‘এই সেই’ বলে তাচ্ছিল্য করেছেন। তিনি বলেন, আমার ৩৪ বছরের পেশাগত জীবনে ‘চান্স এডিটর’ (আদালতের ভাষায়) হিসেবে ২ বছর দায়িত্বপালন আমার কাছে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্টির এবং গৌরবের। আমি সম্পাদক থাকা অবস্থায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা মানবাধিকার, স্বাধীনতা, জাতীয় স্বার্থ এবং আইনের শাসনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এক্ষেত্রে আমার সহকর্মীদের ভূমিকার জন্য আমি গর্বিত। আমি তাদের ‘স্যালুট’ করি। তারা এখন সমস্যার মধ্যে আছে। সত্যের পথে থাকায় তাদের এই মূল্য দিতে হচ্ছে আজ। আমি জানি সত্য সুরক্ষা দিতে পারে না। অবশ্য ইদানীং কোনো কোনো দেশে সত্য সুরক্ষার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি দেয়া দিল্লি হাইকোর্টের রায় তার বড় নজির। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে যে আদালত সেখানে সত্যই একমাত্র সুরক্ষা।
শুনানিকালে মাহমুদুর রহমান আদালতকে বলেন, চেম্বার মানেই সরকার পক্ষে স্টে শিরোনামে সত্য সংবাদটি প্রকাশ করে তিনি কোনো রকমের আদালত অবমাননা করেননি। এক মামলার আবেদনে অন্য মামলার বিবরণী উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস আদালতকে কীভাবে বিভ্রান্ত করছে সে বিষয়ে তিনি প্রমাণপত্র উপস্থাপন করেন। আদালতের সামনে তার নিজের মামলার একটি প্রমাণ উপস্থাপন করে বলেন, তেজগাঁও থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ তাকে জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর থেকে সম্পূর্ন্ন ভিন্ন একটি মামলার বিবরণী উল্লেখ করে চেম্বার জজের আদালতে জামিন স্ট্রে চাইলে মঞ্জুর করা হয়। এতে অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে বরং বিভ্রান্ত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মিথ্যা তথ্যের জন্য উল্টো অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা উচিত। আগের দিনের বক্তব্যের রেশ ধরে তিনি আদালতকে জানান, প্রকাশিত সংবাদটিতে মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের একটি মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরের মিথ্যা তথ্যের বিশদ বর্ণনা রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ চেম্বার জজ আদালতে সরকার পক্ষে স্টে করার বিবরণ রয়েছে। এখানে কোনো মিথ্যা তথ্য নেই। আদালতের মর্যাদা রক্ষার জন্য সত্য প্রকাশ করা হয়েছে। আগের দিন আদালতের পক্ষ থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া কয়েকটি প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি। মাহমুদুর রহমানের কাছে আগের দিন বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক জানতে চেয়েছিলেন, তার সাংবাদিকতার কোনো ডিগ্রি আছে কী না। সম্পাদক হওয়ার জন্য কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন নেই বা চান্সে সম্পাদক হওয়া প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান গতকাল বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ইত্তেফাকের সাবেক সম্পাদক মরহুম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, ইংরেজি পত্রিকা অবজারভারের সাবেক সম্পাদক মরহুম আবদুস সালামসহ ১৩ জন সম্পাদকের এই পেশায় আসার বিবরণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আবদুস সালাম সাহেব সরকারি চাকরি থেকে সরাসরি পত্রিকায় যোগ দিয়েছিলেন। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াও সরকারি চাকরি থেকে সাংবাদিকতায় আসেন। এছাড়া আজকের কাগজের সম্পাদক কাজী শাহেদ সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। সেখান থেকে সরাসরি পত্রিকার সম্পাদক হয়েছেন। দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন ছাত্রজীবন শেষ করেই সরাসরি পত্রিকার সম্পাদক হয়েছেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের ক্ষেত্রে সব নাগরিকের সমান সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ নীতি নিয়েছে। তিনি আদালত নিয়ে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকসহ অন্যদের বক্তব্য প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস তাদের বিরুদ্ধেও কেন একই ধরনের প্রসিডিংস ড্র করছে না। গত ১১ আগস্ট ঢাকায় ‘বিচার বিভাগ, পলিসি নোট’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের দেয়া বক্তব্য উদ্ধৃৃত করে বুধবার আদালতে মাহমুদুর রহমান বলেছিলেন, নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ড. মিজান বলেছেন যেখানে মানুষের বিচার পাওয়ার সুযোগ নেই, সেখানে কিসের বিচার? এখানে গরিব মানুষের জন্য আইন; যারা বড়লোক, ক্ষমতাসীন, তাদের জন্য আইন নয়। সাধারণ মানুষের ধারণা, পয়সা দিয়ে বিচার কিনে নিতে হয়। ড. মিজানুর রহমানের বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগ স্বেচ্ছায় পরাধীনতা বেছে নিচ্ছে। কিন্তু কিছু বিচারক আছেন যারা বিবেকের নাড়া দেন। কিন্তু তারা ক’জন? ওই সেমিনারে ড. শাহদীন মালিকের বক্তব্য উপস্থাপন করে মাহমুদুর রহমান বলেন, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে যেভাবে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হচ্ছে, এভাবে হওয়া উচিত নয়। ২০০৩ সাল পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্টে করার এ ধরনের প্র্যাকটিস ছিল না। এটা এখন ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে। হাইকোর্টে একটি মামলা পাঁচ-সাতদিনেরও বেশি সময় শুনানির পর আদেশ হয়। চেম্বার জজের কাছে সেই আদেশ কয়েক সেকেন্ডে স্টে হয়ে যায়, এটা ঠিক নয়। এটা শোধরাতে হবে। বর্তমানে চেম্বার জজের স্থগিতাদেশ বড় বেড়ে গেছে, এটি কমানো উচিত। হাইকোর্টের আদেশের ওপর আপিল হলে তা স্টে না করে নিয়মিত আপিল শুনানি হওয়া প্রয়োজন।
আমার দেশ-এর রিপোর্টে বিচারপতির নামের আগে ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করায় বুধবার আদালতে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুর রহমান ডেইলি স্টারে প্রকাশিত আদালতের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলেন, প্রধান বিচারপতির নামের আগেও তারা ‘অনারেবল’ শব্দ ব্যবহার করেনি। বাংলাদেশের কোনো পত্রিকায়ই মাননীয় শব্দ ব্যবহার করা হয় না, এমনকি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নামের আগেও নয়—এটাই সংবাদপত্রে রিপোর্ট লেখার রীতি। এর মাধ্যমে আদালত অবমাননা হয়েছে বলে উত্থাপিত অভিযোগ ঠিক নয়।
‘চেম্বার মানেই সরকার পক্ষে স্টে’ শিরোনামে গত ২১ এপ্রিল প্রকাশিত রিপোর্টে চেম্বার জজ আদালতের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে বলে বাদীপক্ষের অভিযোগের জবাবে মাহমুদুর রহমান বলেন, এটা ঠিক নয়। এর সপক্ষে তিনি প্রকাশিত রিপোর্টের কিছু অংশ পাঠ করে শোনান। রিপোটর্টি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘উল্লেখ্য, সুপ্রিমকোর্ট রুলস অনুযায়ী কোনো মামলা আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে প্রথমে চেম্বার জজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ বা নির্দেশনার বিরুদ্ধে প্রথমে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করা হয়। চেম্বার জজ সেই আবেদনের ব্যাপারে যে কোনোরকমের আদেশ দেয়ার এখতিয়ার রাখেন। এছাড়া আপিল বিভাগের কোনো মামলা শুনানির তালিকাভুক্ত করতে বা শুনানির জন্য দিন ধার্য করতে প্রথমে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করতে হয়।’ মাহমুদুর রহমান বলেন, এর থেকে স্পষ্ট করে লেখা সম্ভব নয়।
বিচার বিভাগ পৃথক করার পরও আদালতের পরিবেশ নিয়ে মাহমুদুর রহমানের লিখিত বক্তব্যে ‘বাংলাদেশের আদালতগুলি একটি ডিফিকাল্ট পরিবেশে কাজ করছে’, এর ব্যাখ্যায় মাহমুদুর রহমান বলেন, এর মাধ্যমে আমি আদালতে ভাংচুর, লাঠি মিছিল, জরুরি সরকারের আমলে গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের উপস্থিতিতে আদালত পরিচালনা ও আদালত নিয়ে কিছু বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি।
শুনানির শুরুতে মাহমুদুর রহমান বলেন, বাদীপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এ মামলায় সাড়ে তিনদিনে অন্তত ৫ ঘণ্টা শুনানির সুযোগ পেয়েছেন। অথচ আমি বুধবার মাত্র ২৫ মিনিটের মতো বলেছি। মাননীয় প্রধান বিচারপতি আমাকে আজ ১০ মিনিট সময় দিয়েছেন এর মধ্যেই আমি শেষ করব। মাহমুদুর রহমান সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালতকে আইনের রক্ষক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আইন অমান্য ছাড়া কাউকে সাজা দেয়া যায় না এবং কারও প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা সংবিধান পরিপন্থী।
হঠাত্ করে আমার দেশ-এর সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ ও সাংবাদিক হয়ে যাওয়া সম্পর্কে ‘চান্স এডিটর’ বলে আগের দিনের শুনানিকালে মন্তব্যের জবাবে মাহমুদুর রহমান দেশের সাবেক ও বর্তমান স্বনামখ্যাত বেশ কয়েকজন সম্পাদকের নামের একটি তালিকা দিয়ে বলেন, তারা কেউ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। অন্য পেশা থেকে এসে সরাসরি সম্পাদক হয়েছেন।
আদালতে দেয়া কয়েকজন সম্পাদক সম্পর্কে তথ্য : সরাসরি সম্পাদক হয়েছেন এমন ১৩ জনের যে তালিকা মাহমুদুর রহমান গতকাল আদালতে হাজির করেছেন সেটি হল— এক. প্রখ্যাত সম্পাদক আবদুস সালাম তত্কালীন পাকিস্তান অবজারভারে সম্পাদক হওয়ার আগে সরকারি চাকরি করতেন। সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের ২/১ দিনের মধ্যেই তিনি সরাসরি সম্পাদক হিসেবে পাকিস্তান অবজারভারে যোগ দেন। দুই. তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া প্রথমে পিরোজপুর সিভিল কোর্টে চাকরি করেন। ওই চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর তিনি বরিশাল জেলা জনসংযোগ কর্মকর্তার চাকরি করেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাহচর্যে আসার পর তিনি কলকাতায় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের অফিস সেক্রেটারি হন। ১৯৪৯ সালে তিনি সাপ্তাহিক ইত্তেফাক-এ যোগ দেন। তখন মওলানা ভাসানী ছিলেন সম্পাদক। ১৯৫১ সালের ১৪ আগস্ট ওই পত্রিকার সম্পাদকের পূর্ণ দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেন। তিন. দৈনিক সংবাদের সম্পাদক (মরহুম) আহমদুল কবীর একজন রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। চার. দৈনিক সংবাদের সম্পাদক বজলুর রহমানের মৃত্যুর পর জনাব আলতামাশ কবির দৈনিক সংবাদের সম্পাদক হন। এর আগে তিনি সাংবাদিক ছিলেন না। তিনি আহমদুল কবীরের পুত্র। পাঁচ. মওলানা মান্নান দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা বের করে তার পুত্র এএমএম বাহাউদ্দিনকে পত্রিকার সম্পাদক করেন। তিনিও পূর্বে সাংবাদিকতা করেননি। ছয়. দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক আতিকুল্লাহ খান মাসুদ একজন ব্যবসায়ী। জনকণ্ঠ বের হওয়ার পর তিনি সম্পাদক হন। সাংবাদিকতায় তারও কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। সাত. দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সালমা ইসলাম এমপি একজন আইনজীবী। সম্পাদক হিসেবেই তার সাংবাদিকতা শুরু। আট. দৈনিক আজকের কাগজের সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) কাজী শাহেদ আহম্মেদ একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। আজকের কাগজের সম্পাদক হওয়ার পূর্বে তিনি সাংবাদিক ছিলেন না। নয়. বাংলার বাণীর সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম সেলিম একজন রাজনীতিবিদ। দশ. দৈনিক আল আমীন সম্পাদক হাজী মকবুল হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন সাবেক এমপি। সম্পাদক হওয়ার আগে তারও সাংবাদিকতায় কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। এগার. বসুন্ধরা গ্রুপের প্রকাশিতব্য ইংরেজি দৈনিক দ্য সান-এর সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেছেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। সম্পাদক হিসেবে যোগ দেয়ার আগে তিনিও সাংবাদিকতা করেননি। তিনি বাংলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





