আবারও আলোচনায় পুলিশের সেই কর্মকর্তা তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হারুনুর রশীদ। সবার সমনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুককে মারতে উদ্যত হন, এক পর্যায়ে ঘুষিও মারেন। রাজনীতিবিদদের পিটিয়ে বিএনপি আমলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন ডিসি কোহিনুর। তেমনটি এবারও আওয়ামী লীগের এমপি মন্ত্রীদের নজর কাড়তে মরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা হারুন।
গতকাল সংসদ ভবন এলাকায় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন তিনি। কিশোরগঞ্জের মিটামইনে বাড়ি হওয়ার সুবাদে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। আর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে মোটা অংকের টাকা চাঁদাবাজি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় দখলবাজির রাজত্ব কায়েম করেছেন বলেও অভিযোগ আছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কোতয়ালীর এডিসি থাকা অবস্থায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিলেন। ওই ব্যবসায়ী টিভিতে সাক্ষাত্কার দিয়ে ঘটনাটি প্রকাশ করে দেন। এ অভিযোগ পাওয়ার পর ওই বিভাগের তত্কালীন ডিসি তৌফিক ঘটনার তদন্তে সত্যতা পেয়ে শাস্তি হিসাবে এপিবিএনে তাকে বদলি করেন। সেখানে যোগদান না করে তদবিরের মাধ্যমে তিনি ওই আদেশ বাতিল শেষে তেজগাঁও জোনে পোষ্টিং নেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, হারুন অতিউত্সাহী ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপকে পেটানোর ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য গোপনে একজন জয়েন্ট কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটিও করা হয়েছে। তারা ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখছেন। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, হারুনের এই অতিউত্সাহী ভূমিকা পুলিশের ভাবমূর্তিকে ম্লান করেছে।
১৯৯৮ সালে ছাত্রলীগের বাহাদুর-অজয় কমিটির সদস্য ছিলেন হারুন। মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে চাকরি নেয়ার পর থেকেই ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখে ‘বেয়াদব’ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত হলেও নানা অপকর্ম করেও অদৃশ্য কারণে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান।
গুলশানে এসি থাকাকালে তিনি একটি নামকরা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা টাকা ঘুষ নিয়ে আরেকটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ গুঁড়া দুধ ভেজাল বলে আটক করেছিলেন। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। এক মাস আগে হারুন তাজমহল রোডের একটি বাড়ি দখল করে নেন। আর দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিনি বাড়ির মালিককে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠান। এখানেই শেষ নয়, ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে শিশু অপহরণ করে হলে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ছিল। ওই সময় ঘটনাটি পত্রিকায় ছাপাও হয়েছিল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

