১) তাহারা মুখমন্ডল লইয়া এতই চিন্তিত যে শরীরের যত্ন নেবার কথা তাহাদের মনেই আসে না।
২) তাহারা একলা তোমার সাথে হাসিয়া কথা কহিবে, কিন্তু সাথে অন্য কেহ থাকিলে এমন ভাব করিবে যে তাহারা তোমাকে সহ্যই করিতে পারিতেছে না।
৩) এক কেজি ওজন কমাইতে পারিলে তাহারা খুশিতে আত্মহারা হইবে এবং সকলকে তাহা বলিয়া বেড়াইবে।
৪) তাহারা ম্যাচিউর ছেলের সন্ধানে এতই ব্যাস্ত এবং নিজের ম্যাচিউরিটি লইয়া এতই আত্মবিশ্বাসী যে কখনো কখনো তাহারা অতিরিক্ত ম্যাচিউর ছেলের খপ্পরে পরিয়া নিজের সর্বস্ব খুইয়া বসে। তবে সে কথা অবশ্য কোনদিন কেহ জানিতে পারেনা। এমনকি তাহাদের স্বামীও না।
৫) যদি কখনো কোনদিন কাহারো চুল কোমর ছুঁইতে পারে ( হোক না সে কাকের বাসা) তাহলে ত আর কথাই নাই। চুলের গর্বে আত্মহারা হইয়া বাকি সব ত্রুটি ভুলিয়া যাইবে। রূপ সংক্রান্ত যেকোন আলোচনায় তখন প্রসংগ টানিয়া নিজের চুলের কথা বলিবার চেষ্টা করিবে। তাহাদের সেই খুশী দেখিলে মনে হইবে সেলুনে চুল বিক্রী করিয়া ভাত খাইতে পারিবে।
৬)কখনোই ইন্টারনেট পুরোপুরি ব্যাবহার করিতে শিখিতে চাইবে না। সর্বদা ছেলে বন্ধুর সাহায্য নিবে। অথবা হাতের কাছের মনুষ্য সমাজকে বিরক্ত করিবে।
৭)কিছু কিনিতে গেলে দশ টাকা হইলেও দরাদরি করিবার চেষ্টা করিবে। দশ টাকা না কমাইলে প্রয়োজনে অতীব দূর্লভ জিনিসটিও হাত ছাড়া করিতে তাহাদের বাঁধে না।
৮) নিজের পছন্দের কুৎসিত মেয়েটিকে ‘সুইট’ উপাধি দিয়া চালাইয়া দেবার চেষ্টা করিবে এবং প্রয়োজনে হিংসার সুন্দরী মেয়েটিকে ‘উগ্র’ উপাধিতে ভূষিত করিবে।
৯) দীর্ঘ চার বছর ক্রিকেটের কোন খোঁজ লইবে না, কিন্তু বিশ্বকাপ আসিলে এমনভাব করিবে যেন ওরা এগারোজনত তাহার হাতেই গড়া।
১০) ব্লগের এই পোস্ট টি তে আসিয়া ভুল ধরিবার চেষ্টা করিবে।
১১) ‘ডাভ’ সাবানের প্রস্তুতকারক দেশ লইয়া তাহারা খুবই চিন্তিত। ভুল করিয়া তাহাদের জন্য ইউকে’র পরিবর্তে ফ্রান্সের ডাভ সাবান কিনিলে তাহারা সেই সাবানের সেনসিটিভিটি বুঝাইবার চেষ্টা করিবে এবং তাহা ব্যাবহার করিবে না।
১২) নিজেরা পুরুষদের লইয়া ইচ্ছামত রসিকতা করিতে পারিবে ( যেমনঃ লুংগি, ভুড়ি, হাফপ্যান্ট, মাসেল, বাথরুম) কিন্তু তাহাদের লইয়া কোন রসিকতা করিলে তাহারা তোমাকে সমাজের নিকৃষ্ট ব্যাক্তি বানাইয়া ছাঁড়িবে ( যেমনঃ গু, পাদ, ফিগার ইত্যাদি)
১৩) তাহাদের মাঝে যাহারা এমেচার সাহিত্যিক তাহাদের লেখার মূল বিষয়বস্তু হইল ‘ধোঁকাবাজ পুরুষ সমাজ’। লেখার ধরন সাধারনত এই রকম ‘ প্রচন্ড কষ্টে আদ্রিতার বুক ফেঁটে যাচ্ছে। কুদ্দস তাঁর সাথে এমন করবে সে ভাবতেই পারেনি। ইচ্ছে করছে ব্ল্যাক সি’র সমস্ত পানি এক সাথে পান করে ফেলতে। সূর্যের সকল উষ্ণতা যেন আজ তাঁর হ্রদয়কে গ্রাস করে ফেলেছে। তাঁর হৃদয়ে তৈরী হয়েছে কালো কাকের চেয়েও কালো এক বিশাল গহ্ববর। সেই গহ্ববরে বাস করছে অজস্র কালো সাঁপ যা কিনা এতদিন……
তাহার লেখায় অধিকাংশ পুরুষই মন্তব্য করিবে – তোমার লেখাটা মন ছুঁয়ে গেল আপুনি, আসলে আমাদের সমাজে……
১৪) কোচিং সেন্টারে চলে তাহাদের হাসির প্রতিযোগিতা। শুনিলে মনে হয় পরিক্ষায় থিওরী ৭৫%, প্র্যাকটিকাল ১৫% এবং হাসি ১০% নম্বর নির্ধারন করা আছে। কখনোও কখনোও মনে হয় তাহারা ভাবিতেছে যে হাসির শব্দ দিয়া তাহারা রুপের সকল ত্রুটি ঢাকিয়া ফেলিতে পারিবে বলিয়া মনে করিতেছে।
১৫) বাহিরে তাহারা ইভটিজার পাইলে চিৎকার চেচামেচী শুরু করিয়া দিবে, অথচ লুইচ্চা টিচার এর বিরুদ্ধে তাহারা কোন কথাই বলিবে না। বরং সেই টিচার এর সাথে খাতির করিতে তাহারা ব্যস্ত হইয়া উঠিবে।
সূত্রঃ সংগৃহীত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


