ঈভ টিজিং ইদানীং খুব বেড়ে গেছে। মেয়েগুলি যেন নিজ দেশে পরবাসী। অসহ্য উৎপাত থেকে আত্মহননের ভিতর বাঁচার পথ খুঁজে চারুকলার মেধাবী ছাত্রী থেকে শুরু করে অস্টম শ্রেনীতে পড়া জীবনের তেমন কিছুই না দেখা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েগুলি। ঈভ টিজিং নিয়ে ভাবছিলাম খুব বেশী। ভাবতে ভাবতে দেখলাম এই অত্যাচার কেবল থানা-পুলিশ করে কেবল ঈভটিজারদেরকে পিটিয়ে দূর করা সম্ভব না। তা হবে ভিতরে বিশাল টিউমারকে অক্ষত রেখে কেবল ওপর দিয়ে মলম দেয়ার শামিল।
ঈভ টিজার কারা? হ্যাঁ, ঈভ টিজার বললেই চোখে ভেসে উঠে কিছু ভয়ানক বেয়াদব গোছের কিছু তরুন গার্লস স্কুলের আশেপাশে আড্ডা মারছে, ধুমছে সিগারেট কিংবা গাজা ফুকছে। কারো হাতে, বুকে এসিডে ঝলসানো নাম। একজন ধারালো ছুড়ি দিয়ে দেয়ালে নিজের নামের পাশে + চিহ্ন দিয়ে কোন এক মেয়ের নাম বসাচ্ছে। এরা হলো স্টেরিওটাইপ। কিন্তু আমার মনে হয় এই সমাজে প্রায় ১০০ পুরুষ ঈভ টিজার। বয়সের গড় রেঞ্জ ১৪ বছর থেকে ৬০ বছর। আমি বোন কিংবা স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে কোথাও গেলে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাই। বেশ ভদ্র চেহারার, সংসারের ব্যাগ হাতে বাসায় ফেরা পুরুষগুলোও এমনভাবে চোখ দিয়ে গিলতে থাকে যে দেখে আমার ভয়ই লাগে। যেন তার হাতে ছেড়ে দিলে এক্ষুনি চেটেপুটে আস্ত নারীটিকে গিলে খেয়ে দুচারটা ঢেকুর তুলতে তুলতে বাসায় ফিরবে। ভিড়ের মধ্যে কিংবা বাসের ভিতর এই ভদ্রলোকগুলো নিজ নিজ হাতের যেভাবে সদব্যবহার করেন তার বর্ণনা নাই বা দিলাম। পোস্টের যেকোন নারী পাঠকমাত্রই তা জানেন।
ভাবছিলাম আমাদের পুরুষগুলি এমন রাক্ষস প্রকৃতির কি করে হলো। কয়েকটা বিষয় মাথায় এলো। এবং মাথায় প্রথমেই যা এলো তা হলো - নরনারীর সম্পর্ক বিষয়ে আমাদের কোন কোন শিক্ষাদীক্ষা নেই। এই নরনারীর সম্পর্ক বিষয়ক শিক্ষাটাকে অনেকে যৌনশিক্ষা বলেন। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় 'যৌনশিক্ষা' কথাটা বিষয়ের সবটুকু ধারন করে না যতটা করে 'নরনারীর সম্পর্ক বিষয়ক শিক্ষা' কথাটা। যৌনতা এই সম্পর্কের একটি অংশমাত্র, সবটুকু নয়। কিন্তু অতি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বের অনেক দেশেই এ নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে স্কুল কলেজে পড়ানো তো দূরের কথা নিজ বাসায়ও এ নিয়ে কথাবার্তা মারাত্মক ট্যাবুর পর্যায়ে পড়ে। ফলে উঠতি বয়সের ছেলেদের (আজ যারা বড় হয়েছেন তারাও একসময়ে এই বয়সে ছিলেন, আর তাই তারাও এখানে প্রাসঙ্গিক) কাছে যৌনতা হলো এবিষয়ে তারই সমসাময়িকদের দৃষ্টিভঙ্গি, পর্নোগ্রাফি এইসব। এদের কাছে যৌনতা হলো নারীর ওপর ঝাপিয়ে পড়া। নারীকে একপাক্ষিকভাবে ভোগ করা। নারীরও যে একটা মন আছে, মনের একটা গুরুতর ভূমিকা আছে, শরীরের সাড়া আছে, তারও যে শরীরের চাহিদা আছে, সেই চাহিদা যে জোরজবরদস্তিতে মিটে না এসবের কোন খবর নেই।
কমবেশী এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আমাদের বেশীরভাগ পুরুষ নারীকে বোঝে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১০ রাত ১০:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




