somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পীর-ফকির ও অলী-আওলিয়াদেরকে অসিলা ধরার বিধান - ১ম পর্ব

১৫ ই জুন, ২০০৭ সকাল ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য, যিনি একক সত্তা। আর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহানবীর উপর - যার পরে আর কোন নবী আসবে না।
বর্তমান যুগে অধিকাংশ মুসলমান তাদের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তায়ালা হতে দুরে সরে থাকায় এবং তাঁর দেয়া জীবন বিধান ইসলামী শরিয়ত সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞান ও সঠিক ধারণা না থাকায় বিভিন্ন ধরনের শিরক, বিদ'আত ও ধর্মীয় ব্যাপারে ভিত্তিহীন কল্প-কাহিনী ও কুসংস্কার-এর প্লাবনে ডুবে আছে। তার মধ্যে যা মারাত্মক আকার ধারন করেছে তা হলো, অলী-আওলিয়া ও পীর-ফকির নামধারী কিছু মানুষের প্রতি কিছু সংখ্যক মুসলমানের অন্ধ ভক্তি। যাদের অনেকেরই ধারণা যে, ঐ সব পীর-ফকিরেরা মানুষের ভাল-মন্দ করার ক্ষমতা রাখে, সুতরাং তারা বিপদে-আপদে ওদের কাছে আবেদন-নিবেদন জানিয়ে থাকে। এছাড়াও ওদের প্রতি অন্ধ-ভক্তির আতিশায্যে ওদের কবরসমূহ তাওয়াফ করে - এই ধারণা নিয়ে যে, ওদের মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হাসিল করে সকল প্রকার বিপদ-আপদ ও দুশ্চিন্তা হতে মুক্তি পাবে এবং নিজেদের সকল প্রকার প্রয়োজনও পূর্ণ হবে।
পক্ষান্তরে ঐ সকল অবুঝ লোকেরা যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর রেখে যাওয়া পবিত্র কুরআন এবং সহি সুন্নাতের দিকে ফিরে এসে দো'আ ও অসিলার ব্যাপারে তাতে যা কিছু বলা হয়েছে সে সম্পর্কে একটু বুঝার চেষ্টা করত তাহলে অবশ্যই তারা শরিয়ত সম্মত সঠিক অসিলার তাত্পর্য জানতে পারত।

শরিয়তসম্মত সঠিক অসিলার বিবরণ
১. মহান আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদেশগুলি যথাযথভাবে পালন করে তাঁদের নিষেধকৃত সকল হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে শরিয়তসম্মত প্রকৃত অসিলা অর্জিত হয়। অর্থাৎ নিজস্ব কোন সৎ কাজের অসিলায় আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করা যায়।
২. মহান আল্লাহ তায়ালার সুন্দরতম গুণবাচক নামসমূহের অসিলা বা দোহাই দিয়ে তাঁর দরবারে আরয্‌ করা যায়।
৩. জীবিত কোন সৎ লোককে দিয়ে দো'আ করিয়ে, সেই দো'আর অসিলায় মহান মালিকের সমীপে আবেদন করা যায়।

উল্লেখিত তিনটি বিষয় মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য, রহমত ও সন্তষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম ও পন্থা। অপরদিকে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজন মিটানো কিংবা বিপদ মুক্তির আশায় কবর পাকা করা, কবরে গিলাফ চড়ানো, শামিয়ানা টানানো, আলোকসজ্জা করা, আগরবাতি, মোমবাতি জ্বালানো, কবরের উপরে আতর, গোলাপ ও ফুল ছিটানো, ফ্যান চালানো; এছাড়া কবরবাসীর জন্য নজর-নিয়াজ প্রদান করা, কবরে তাওয়াফ করা, কুরআন শরীফ পাঠ করা, ভীত-সন্ত্রস্ত ও নমনীয়ভাবে নামাযের কায়দায় কবরের পাশে বসা বা কবরকে সামনে নিয়ে সিজদা করা এবং কবরবাসীর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হাসিলের চেষ্টা করা কোন রকমেই শরিয়ত সম্মত নয় বরং হারাম। কেননা এগুলো বিদ'আতী, শিরকী ও কুফরী কাজ। এ সকল কাজ থেকে আল্লাহ তায়ালার আশ্রয় প্রার্থনা করি।

হযরত উমর ফারূক [ রাদিআল্লাহু আনহু ] যে 'সালাতুল এস্‌তেসকা'-এ হযরত আব্বাস [ রাদিআল্লাহু আনহু ]-র মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, যা দিয়ে অনেকেই মানুষের দ্বারা অসিলা গ্রহণ করার স্বপক্ষে দলীল পেশ করে থাকে; তা মোটেই ঠিক নয়। কারণ হযরত উমর ফারূক [ রাদিআল্লাহু আনহু ] কেবলমাত্র হযরত আব্বাস [ রাদিআল্লাহু আনহু ]-এর দো'আর অসিলায় বৃষ্টি চেয়েছিলেন, তাঁর ব্যক্তি সত্তার মাধ্যমে নয়।

জীবিত কোন সৎ লোকের দো'আর মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ করা আর কোন জীবিত বা মৃত, সৎ কিংবা অসৎ মানুষের শুধু ব্যক্তি সত্তার দ্বারা অসিলা তলব করা এক কথা নয়। কারণ প্রথমটি জায়েজ ও শরিয়তসম্মত, যা ইতিপূর্বে বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে দ্বিতীয়টি বিদ'আত ও হারাম। সুতরাং হযরত উমর ফারূক [ রাদিআল্লাহু আনহু ] শরিয়তসম্মত পন্থায়ই অসিলা তলব করেছিলেন।

ঐসব আবেদনকারীগণ এমন সব মানুষের কাছে আবেদন করে যারা তাদের নিজেরই কোন উপকার করতে পারে না মৃত্যুবরণ করার কারণে, সুতরাং তাদের পক্ষে অপরের কোন উপকার করার প্রশ্নই ওঠে না। একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করায় তার নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়, অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলিও অকেজো হয়, এরপরে সে অপরের উপকার তো দুরের কথা নিজের উপকার করতে পারে বলে কোন সুস্থ বিবেক ও জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ আদৌ মেনে নিতে পারে না। মৃত্যুর পর মানুষের কাজ করার ক্ষমতা থাকে না। এ মর্মে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ঘোষণা হলোঃ "যখন আদম সন্তান মারা যায়, তখন তিন প্রকার আমল ছাড়া তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়ঃ (১) সাদকায়ে জারিয়াহ্‌। [ যেমন মস্‌জিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল তৈরী করে যাওয়া ইত্যাদি ]। (২) অথবা জনকল্যাণমূলক এলেম বা জ্ঞান [ রেখে যাওয়া ]। (৩) অথবা এমন সুসন্তান রেখে যাওয়া, যে তার [ মৃত পিতা-মাতার ] জন্য দো'আ করে।" [ সহীহ্‌ মুসলিম ]

উক্ত হাদিস দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, মৃত ব্যক্তিরা জীবিতদের দো'আর প্রতি চরমভাবে মুখাপেক্ষী, পক্ষান্তরে জীবিত মানুষেরা মৃত মানুষদের দো'আর প্রতি কোন প্রকারেই মুখাপেক্ষী নয়। কেননা উক্ত হাদিসই বলে দিচ্ছে যে, আদম সন্তানের মৃত্যুর সাথে সাথে তার আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং জীবিত মানুষেরা যেভাবেই অনুনয়-বিনয় করে দীর্ঘ সময় ধরে কবরবাসীকে ডাকুক না কেন, তাদের পক্ষে ওদের ডাকে সাড়া দেয়া আদৌ সম্ভব নয়। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "... আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন তোমাদের সবার মালিক, সার্বভৌমত্ব তার জন্যেই, তাকে বাদ দিয়ে তোমরা অন্য যেসব (মাবুদ)-দের ডাকো তারা তো তুচ্ছ একটি (খেজুরের) আটির বাইরের ঝিল্লিটির মালিকও নয়। যদি তোমরা তাদের ডাকো - (প্রথমত) তারা তো শুনবেই না, যদি তারা তা শুনেও তবে তারা তোমাদের ডাকের কোনো উত্তর দেবে না (উপরন্তু) কেয়ামতের দিন তারা (নিজেরাই) তোমাদের এই শেরেক (-এর ঘটনাকে) অস্বীকার করবে, (এ সম্পর্কে) একমাত্র আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কেউই তোমাকে কিছু অবহিত করতে পারবে না।" (সূরা ফাতেরঃ আয়াত ১৩-১৪)

উপরোক্ত আয়াতে পূজনীয় দেব-দেবী ও কবর-মাযারে শায়িত পীর-ফকীরদের মালিকানা এবং শ্রবণ ক্ষমতা নাকচ করা হয়েছে। আর এটা জানা কথা যে, যে ব্যক্তি কোন কিছুর মালিক নয় সে অপরকে কিছু দিতে পারে না। আর যে কোন কিছুই শুনতে পায় না, সে জবাব দিতে পারে না এবং কোন কিছুরই খবরও রাখে না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে লোকদের উদ্দেশ্যে বলতে বলেন, "(আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে) তুমি কখনো আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডেকো না, যে তোমার কোনো কল্যাণ (যেমন) করতে পারে না, (তেমনি) তোমার কোনো অকল্যানও সে করতে পারে না, (এ সত্তেও) যদি তুমি অন্যথা করো, তাহলে তুমি যালেমদের মধ্যে গণ্য হবে। যদি আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কোনো দুঃখ-কষ্ট দেন, তাহলে তিনি ছাড়া অন্য কেউই নেই তা দূরীভূত করার, (আবার) তিনি যদি (মেহেরবানী করে) তোমার কোনো কল্যাণ চান, তাহলে তাঁর সেই অণুগ্রহ রদ করারও কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের যার ওপর চান তার ওপরই কল্যাণ পৌঁছান। আল্লাহ তায়ালা তায়ালা বড়োই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" (সূরা ইউনুসঃ আয়াত ১০৬-১০৭)

উক্ত আয়াত দুটি দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, একমাত্র আল্লাহ তায়ালা ছাড়া দুনিয়ায় আর যে সব নামধারী ত্রানকর্তা পীর-ফকির, খাজাবাবা, দয়ালবাবা, অলী-আওলিয়া, যেমন বর্তমান বাংলাদেশের সাঈদাবাদী, দেওয়ানবাগী, চরমোনাই, আটরশি, চন্দ্রপুরী, শাহজালাল; ভারতের খাজা মঈনুদ্দীন চিশ্‌তী এবং ইরাকের আব্দুল কাদের জিলানী প্রমূখ যারা আছে তাদের কেহই মানুষের সামান্যতম ভাল ও মন্দ করার ক্ষমতা রাখে না। আর উক্ত আয়াতদ্বয় ওদেরকেও মিথ্যাবাদী প্রমাণ করছে, যারা বলেঃ 'আমরা যে উদ্দেশ্যে পীর-ফকীর, অলী-আওলিয়াদের নামে মান্নত দিয়েছি এবং তাদের কাছে প্রার্থনা করেছি, তা হাসিল হয়েছে।' যারা এমন কথা বলে তারা মহান আল্লাহ তায়ালার উপর মিথ্যা অপবাদই দিয়ে থাকে। [ নাউযুবিল্লাহ ]

আর যদি ধরে নেওয়া যায় যে, সত্যিই তাদের উদ্দেশ্য হাসিল হয়েছে, তাহলে এ ব্যাপারটা নিচের দুই বিষয়ের যে কোন একটির সাথে জড়িতঃ
১. মানুষের উদ্দেশ্য হাসিলের ব্যাপারটা যদি এমন বিষয়ে হয়, যার উপর মানুষ স্বভাবগত ভাবে ক্ষমতা রাখে না; তবে তা শয়তানদের সহযোগিতায় হতে পারে। কেননা মানুষেরা যখন আল্লাহ তায়ালার ইবাদত ছেড়ে দিয়ে গাইরুল্লাহ তথা দেব-দেবী অথবা কবর-মাযারের পূজা-পার্বনে লিপ্ত হয়, শয়তানেরা তখন সেখানে তাদের আড্ডাখানা বানিয়ে নেয় এবং পূজনীয় পীর-পুরোহিতদের বেশ ধরে কিছু তেলেসমাতি দেখিয়ে সরলমতি মানুষের স্বাভাবিক তাওহীদবাদী চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণাকে নষ্ট করে দিয়ে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলে। যেমনভাবে প্রাচীনকালে তারা বুজুর্গদের আকৃতি ধারণ করে লোকদেরকে প্ররোচনা দিয়ে তাওহীদ তথা ইসলামের পথ থেকে বিচ্যুত করে মূর্তি পূজারীতে পরিণত করেছিল। প্রথমে তারা হযরত নূহ (আলাইহিসসাল্‌তু ওয়াস্‌সালাম)-এর কওমের কাছে তাদের পূর্ববর্তী শ্রদ্ধাভাজন অলী-আওলিয়াদের আকৃতি ধারণ করে এসে বিভিন্ন ধরনের আজগুবি খবর দিয়ে তাদেরকে আকৃষ্ট করে এবং তাদেরকে প্ররোচনা দেয় যে, তোমাদের পূর্ব পুরুষেরা ভাল মানুষ ছিল সুতরাং তোমরা যদি তাদের ছবি এঁকে ঝুলিয়ে রাখ আর মাঝে মাঝে তা দেখ, তাহলে তাদের অধিক ইবাদতের কথা স্মরণ করে তোমরাও বেশী বেশী ইবাদত করতে পারবে। শয়তানের এই কুমন্ত্রণা পেয়ে তারা খুব খুশী হয়ে তাদের পূর্ব পুরুষদের ছবি অংকন করে ঝুলিয়ে রাখে এবং মাঝে মাঝে ঐ ছবিগুলি দেখে তাদেরকে স্মরণ করে ইবাদতে মনোনিবেশ করে।
এ অবস্থা বহুদিন চলার পর শয়তানেরা তাদেরকে আবারও প্ররোচনা দেয় যে, তোমরা যদি এ ছবিগুলিকে বড় আকারের মূর্তি বানিয়ে দেয়ালের পার্শ্বে খাড়া করে রেখে ইবাদত কর; তাহলে তোমাদের ইবাদত খুবই ভাল হবে ... ।
মোটকথা ওরা এভাবেই হযরত নূহ [ আলাইহিস্‌সালতু ওয়াস্‌সালাম ]-এর কওমকে পথভ্রষ্ট করে মূর্তি পূজারীতে পরিণত করেছিল। আর এটাই হলো পৌত্তলিক ধর্ম সৃষ্টির গোড়ার কথা।
এমনিভাবে আজও ওরা গণক ও যাদুকরদেরকে দুনিয়ায় বর্তমান ঘটমান বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে দু/একটি সত্যের সাথে মিথ্যা খবর দিয়ে থাকে, আর এই সুযোগে ঐ সকল গণক, যাদুকর ও ভন্ড পীর-ফকিরেরা দুষ্ট শয়তানের সহযোগিতায় মানুষের এমন কিছু প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে আর সমস্যা দূর করে দেয় যা সাধারণত সৃষ্টজীবের পক্ষে সম্ভব। যার ফলে অসহায় মুরীদেরা মনে করে যে, এইতো আমি ডুবেই গেছিলাম আমার পীরবাবাই এসে আমাকে ভরা গাঙ থেকে তুলে নিয়ে এলো! আসলে যে ইবলীস শয়তান পীরবাবার রূপ ধারণ করে বিপদ ও অজ্ঞতার সুযোগে ওর ঈমান হরণ করে গেল তা সে বুঝতেই পারেনি। এমনিভাবে শয়তানেরা মূর্তিসমূহের ভিতর থেকে পূজকদের সাথে কথা বলে এবং তাদের কিছু কিছু প্রয়োজন মিটিয়ে তাদেরকে তাক লাগিয়ে দিয়ে থাকে। এ ব্যাপারে অনেক আলেমই ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন।
২. পক্ষান্তরে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের ব্যাপারটা যদি এমন বিষয়ে হয়, যার উপর একমাত্র আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কেউ ক্ষমতা রাখে না। যেমন জীবন-মরণ, সুস্থতা, ধনাঢ্যতা ও দারিদ্রতা ইত্যাদি তাহলে তাদের ঐ দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ এসব জিনিস একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার হাতে। আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কেউ এসবের সামান্যতম কোন ক্ষমতা রাখে না। আসমান-জমিন তথা এই পৃথিবী সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর পূর্বে মহান আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির ভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। কাজেই এগুলি পীর-ফকির কিংবা অলী-আওলিয়াদের কারামতিতে বা তাদের দো'আর বরকতে পাওয়া যায় না।

বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও বই-পুস্তকে দেখতে পাওয়া যায় যে, আব্দুল কাদের জিলানী [রাহেঃ], খাজা মঈনুদ্দীন চিশ্‌তী, দয়ালবাবা, খাজাবাবা, আটরশী, সাঈদাবাদী ও দেওয়ানবাগী ইত্যাদি এসব পীরদের দোআর বরকতে কতক মানুষ তাদের বিবাহের ১৫/২০ বছর পরে সন্তান লাভ করেছে, কেউবা নদীতে নৌকা ডুবি থেকে বেঁচে গেছে এবং রাস্তায় যান-বাহনের দুর্ঘটনা হতে রক্ষা পেয়েছে ..। নাঊজুবিল্লাহ। এসবের প্রতি বিশ্বাস রাখা শেরেকী কাজ। কারণ কাউকে ছেলে-মেয়ে দেয়া অথবা বিপদ-আপদ থেকে বাঁচানো, একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষেই সম্ভব - অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

সুতরাং জ্ঞানবান মানুষের উচিত হবে যে, তারা যেন এসব ধর্মীয় বিষয়ে কোন প্রকার গাল-গপ্প, মিথ্যা-গুজব এবং ভিত্তিহীন কথা বিশ্বাস না করে, কেননা এগুলি মানুষকে বিপথগামী করার এবং মূর্খতায় নিমজ্জিত করার অন্যতম কারণ ও উত্স। আর এগুলি চক্ষুষ্মান ব্যক্তিদের জন্য অন্ধত্ব এবং হৃদয়বান ব্যক্তিদের জন্য মৃত্যুর সমতুল্য। কাজেই তারা যেন সর্বাবস্থা‌য়ই তাদের অন্তকরণকে মহান আল্লাহ তায়ালার দিকে নিবিষ্ট করে এবং সকল প্রকার প্রয়োজনে একমাত্র তাঁর দিকেই ধাবিত হয়। কোন প্রকারেই যেন কোন সৃষ্টজীবের দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে। কেননা সকল সৃষ্টজীব আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতার সামনে কিছুই না বরং দুর্বল, মিসকীন, মূর্খতা ও অপরাগতায় ভরপুর। আর ঐ কবরবাসীরা এমনই দুর্বল ও অপারগ যে, তারা কবরে তাদের দেহের উপর চাপা দেয়া মাটিগুলিকেও সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা রাখে না।

পীর-ফকির ও অলী-আওলিয়াদেরকে অসিলা ধরার বিধান - ২য় পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×