ধারণাকৃত কারামতসমূহ
---
আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার মানুষদেরকে হেদায়াত করার জন্য যুগে যুগে অগণিত, অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছিলেন। আর এই উদ্দেশ্যকে পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত করার জন্য আল্লাহ তায়ালা মাঝে মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী নবী ও রাসূলগণকে 'মু'জিযাহ' দান করে তাদেরকে সাহায্য ও শক্তিশালী করেছিলেন সাধারণ মানুষের মোকাবিলায়। এমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা তাঁর কিছু কিছু নেক্কার বান্দাদেরকেও 'কারামত' অর্থাৎ মর্যাদা ও অলৌকিক ঘটনা দিয়ে সম্মানিত করেন। অপরদিকে ভন্ড পীর-ফকিরেরা ধর্মের নামে ভিত্তিহীন কল্প-কাহিনী, আজগুবি ও মিথ্যা কিছ্ছাসমূহ তৈরী করে এগুলিকে 'মু'জিযাহ' ও 'কারামত' নাম দিয়েছে। পরবর্তীতে এই বানোয়াট 'মু'জিযাহ' ও 'কারামত'গুলি বিভিন্ন প্রকারের বাদ্যযন্ত্র সহকারে শরিয়তী, মারফতী ও মাইজ ভান্ডারী গান, আজগুবি গল্প-গুজব, অসাধু লেখকদের অলীক কিছ্ছা-কাহিনী সম্বলিত পুঁথি-পুস্তক, ধর্ম ব্যবসায়ী পীর-ফকিরদের ভিত্তিহীন, বানোয়াট ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে বিস্তার লাভ করেছে। উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একদিকে আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত 'মু'জিযা' ও 'কারামত' এবং অপরদিকে ঐ সকল ভন্ড পীর-ফকিরদের বানোয়াট 'কারামত'। ধর্মীয় ব্যাপারে পূর্নাঙ্গ জ্ঞান না থাকার কারণে সরলমতি সাধারণ মুসলমানেরা এই দুই শ্রেণীর 'কারামতের' মাঝে কোন পার্থক্য বুঝতে না পারায় তারা ভেবে নিয়েছে যে, 'কারামত' পীর-ফকিরদের উপার্জিত ইচ্ছাধীন বিষয় সুতরাং ইচ্ছা করলেই তারা যে কোন ধরনের কারিশ্মা দেখাতে পারে। যার ফলে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তারা এবং ঐসব ভন্ড ও মিথ্যুক পীর-ফকির বাবাদের প্ররোচনায় পড়ে তাদের দরবারে মান্নত দিয়ে নিজেদের দ্বীন-দুনিয়া ধ্বংস করছে। অপরদিকে বহুলোক কবর ও মাযারের সাথে জড়িত থেকে মিথ্যা, ভন্ডামি ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে সরল প্রাণ মানুষদের ধন-সম্পদ লুটে খাচ্ছে। এমনকি এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী, নামধারী আলেম সমাজও এই 'বিনাপুজির ব্যবসা'কে জাঁকজমক করে তুলেছে। এটা যে পরিস্কার হারাম, এতে কোনই সন্দেহ নেই। পরিশেষে এ কথা বলেই প্রসঙ্গের ইতি টানছি যে, ঐসব ভন্ড পীর-ফকিরদের বানোয়াট 'মু'জিযা' ও 'কারামত' সবই শয়তানী কার্যক্রম এবং পরিকল্পিতভাবে সাজানো তাদের কৌশলগত ঘটনা। সুতরাং ও থেকে সতর্ক হওয়া উচিত।
পীর-ফকির ও অলী-আওলিয়াদেরকে অসিলা ধরার বিধান - ৩য় পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



