ফতোয়া ২০ - প্রসঙ্গ - নারী কি সর্বাংশেই খারাপ?
উত্তর : প্রথমে দুটি কথা স্পষ্ট করে জানাতে চাই। (১) যে কোনো বিষয়ে কোরআন হাদীসই এমন মাপকাঠি যা ইসলামী দৃষ্টিভংগির প্রতিনিধিত্ব করে। এই দুটি মাপকাঠি ছাড়া অন্য যে কারো কথা গ্রহণও করা যায়, আবার প্রত্যাখ্যানও করা যায়।
(২) বিশেষজ্ঞদের মতে 'নাহজুল বালাগা' গ্রন্থে হযরত আলী (রা.)-এর নামে এমন অনেক কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব কথা প্রকৃতপক্ষে হযরত আলী (রা.) বলেননি। একজন সুস্থ পাঠক বুঝতে পারেন যে, উপরোক্ত কথা হযরত আলী (রা.)-এর মতো বিশিষ্ট সাহাবী এবং আলেমে দ্বীনের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। ইসলামী রীতি অনুযায়ী কোনো কথা যার কথিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রতি সে কথার বরাত দিতে হলে নির্ভরযোগ্য সনদ বা সূত্রের উল্লেখ প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া কোনো কথা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আপনিই বলুন, 'নাহজুল বালাগা' নামক গ্রন্থে এ রকম সূত্রের উল্লেখ কোথায় রয়েছে? যদি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এটা প্রমাণিত হয় যে, হযরত আলী (রা.) উপরোক্ত কথা বলেছেন, তবুও কোরআন হাদীসের উল্লেখিত মাপকাঠি অনুযায়ী উক্ত কথা ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী। হযরত আলী (রা.) কোরআন পাঠ করতেন এবং জানতেন যে, সৃষ্টি রহস্যের ক্ষেত্রে নারী পুরুষকে কোরআনে সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। উভয়ের পুরস্কার ও শাস্তিও একই রকম। এমতাবস্থায় তিনি কিভাবে ওরকম কথা বলতে পারেন? কোরআনে বলা হয়েছে,
'হে মানুষ, তোমরা তোমাদের মালিককে ভয় করো, যিনি তোমাদের একটি (মাত্র) ব্যক্তি সত্ত্বা থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তা থেকে (তার) জুড়ি পয়দা করেছেন, (এরপর) তিনি তাদের (এই আদি জুড়ি) থেকে বহুসংখ্যক নর-নারী (দুনিয়ার চারদিকে) ছড়িয়ে দিয়েছেন।' (সূরা আন নেসা, আয়াত ১)
আরো বলা হয়েছে, 'তাদের মালিক (এই বলে) তাদের আহ্বানে সাড়া দিলেন, যে আমি তোমাদের কোনো কাজকে কখনো বিনষ্ট করবো না, নর-নারী নির্বিশেষে (আমি সবার কাজের বিনিময় দেবো) এবং তোমরা তো একে অপরেরই অংশ।' (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯৫)
রসূল (স.) নারীকে একটি নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দুনিয়া একটি সম্পদ। এর মধ্যে সর্বোত্কৃষ্ট সম্পদ হচ্ছে পুন্যশীলা নারী।
রসূল (স.) আরো বলেছেন, যাকে চারটি জিনিস দেয়া হয়েছে, তাকে দুনিয়ার সকল নেয়ামত দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে একটি নেয়ামত হচ্ছে পুন্যশীলা নারী।^
রসূল (স.) নিজের সম্পর্কে বলেছেন, তোমাদের দুনিয়ার পুন্যবতী নারী এবং খুশবু আমার কাছে পছন্দনীয়।
এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসে রসূল (স.) পুন্যবতী নারীকে নেয়ামত হিসেবে অভিহিত করেছেন। কোরআনে নারী সৃষ্টির উদ্দেশ্য প্রসংগে বলা হয়েছে, নারীকে পুরুষের শান্তির জন্যে সৃষ্টি করা হয়েছে।^^ নারী যদি সর্বাংশেই খারাপ বা মন্দ হয়ে থাকে তবে দুনিয়ার নেয়ামত কিভাবে হতে পারে? পুরুষদের জন্যে শান্তির উপকরণই বা নারীকে কিভাবে বলা হয়েছে?
হযরত আলী (রা.) কোরআন হাদীসের বিরোধিতা করে কিভাবে একথা বলতে পারেন যে, নারী সর্বাংশেই মন্দ? তিনি যদি এ রকম কথা বলেই থাকেন তবে তার স্ত্রী হযরত ফাতেমা (রা.) সম্পর্কে কি ধারণা? হযরত ফাতেমা (রা.) সম্পর্কে রসূল (স.) বলেছেন, ফাতেমা হবে জান্নাতী মহিলাদের নেত্রী। তার সম্পর্কেও কি এ কথা বলা যাবে যে, তিনিও সর্বাংশে মন্দ?
নারীর স্বভাব পুরুষের স্বভাবের চেয়ে খুব বেশী আলাদা নয়। পুরুষের মধ্যে যেমন ভালোমন্দ দুটো দিকই রয়েছে তেমনি নারীদের মধ্যেও ভালোমন্দ দুটোই রয়েছে। তবে একটি হাদীসে রসূল (স.) নারীদের ফেতনা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। রসূল (স.) বলেন, আমার পরে পুরুষদের জন্যে নারীদের চেয়ে বড়ো কোনো ফেতনা থাকবে না। (বোখারী)
এই হাদীসে নারীদের ফেতনা সম্পর্কে সতর্ক করার অর্থ এটা নয় যে, নারী সর্বাংশে খারাপ বা মন্দ বরং এখানে বোঝানো হয়েছে যে, নারীদের মধ্যে এমন আকর্ষণ রয়েছে, যে, তাদের মোহে আকৃষ্ট হয়ে পুরুষ আল্লাহ তায়ালা এবং আখেরাতকে ভুলে যেতে পারে। এটা বাস্তব সত্য। একথা অস্বীকার করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা অর্থসম্পদ এবং সন্তানের ফেতনা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি হচ্ছে (তোমাদের জন্যে একটি) পরীক্ষা মাত্র।' (সূরা আত তাগাবুন, আয়াত ১৫)
কিন্তু তা সত্ত্বেও এমন কথা কেউ বলতে পারে না যে অর্থসম্পদ এবং সন্তান সর্বাংশে খারাপ বা মন্দ। পক্ষান্তরে কোরআনে অর্থ সম্পদকে কল্যাণ বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং সন্তানকে নেয়ামত বলা হয়েছে। একই সাথে এ দুটি জিনিস ফেতনাও, কারণ এগুলো অনেক সময় মানুষকে আল্লাহবিমুখ করার কারণ হয়ে দাড়ায়। নারীর ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য। নারী নেয়ামত হওয়ার পাশাপাশি ফেতনাও।
মুসলিম নারীদের জন্যে জরুরী হচ্ছে তারা কাফের ও নাস্তিকদের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং প্রগতি ও নারী স্বাধীনতার নামে যারা তাদের ইজ্জত আবরু ধ্বংস করতে চায় তাদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকবেন। তাদের জন্যে কল্যাণ এবং সাফল্য হচ্ছে তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে পূর্ণ স্বাধীনভাবে জীবন কাটাবেন। পূর্ববর্তীকালের নারীরা যেভাবে জীবন কাটিয়েছিলেন তাদের মতো জীবন কাটাবেন।
^ মুসলিম শরীফের বর্ণনা।
^^ তিবরানীর বর্ণনা।
*** জবাব দিয়েছেন শায়খ ইউসুফ আল কারদাওয়ী ***
*** অনুবাদ করেছেনঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ ***
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।