somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফতোয়া ২১ - প্রসঙ্গ - বিউটি পার্লারে যাওয়া এবং উইগ লাগানো

০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রশ্ন : মেকআপের জন্যে মুসলিম মহিলাদের কি বিউটি পার্লারে যাওয়া জায়েয? শরীয়তের দৃষ্টিতে উইগ ব্যবহার কেমন? কিছু লোক এই দাবীর ভিত্তিতে উইগ ব্যবহার জায়েয বলেছেন যে, মহিলাদের চুল তাদের ছতর এর অন্তর্ভুক্ত এবং উইগ-এর মাধ্যমে চুল ঢেকে রাখা যায়। একথা কি ঠিক?

উত্তর : ইসলাম এমন ধর্ম যা সাজসজ্জা সৌন্দর্য চর্চা পছন্দ করে বরং এর তাকিদ দেয়। তবে ভারসাম্যের সাথে সবকিছু করতে হবে। মানুষ অকারণে নিজের ওপর কদর্যতা, অসহায়তা, কুত্সিত দর্শন আকৃতি ধারণ করবে, ইসলাম এসব পছন্দ করে না। আল্লাহ তায়ালা সেসব লোকদের অপছন্দ করেন, যারা বৈধ সৌন্দর্য চর্চাকে হারাম বা অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'(হে নবী) তুমি বলো, আল্লাহ তায়ালার (দেয়া) সৌন্দর্য (মন্ডিত পোশাক) এবং পাক পবিত্র জিনিস খাবার (খাওয়া) তোমাদের জন্যে কে হারাম করেছে?' (সূরা আল আ'রাফ, আয়াত ৩২)

আল্লাহ তায়ালা নামায আদায়ের আগে পরিপাটি হতে বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'হে আদম সন্তানেরা, তোমরা প্রতিটি এবাদাতের সময়ই তোমাদের সৌন্দর্য (মন্ডিত পোশাক) গ্রহণ করো।' (সূরা আল আ'রাফ, আয়াত ৩১)

মহিলাদের স্বভাবের কথা চিন্তা করে ইসলাম সৌন্দর্য চর্চার এমন সব জিনিস মহিলাদের জন্যে জায়েয করেছে, যেসব জিনিস পুরুষদের জন্যে হারাম। যেমন, সোনা, রেশম ইত্যাদি। তবে যেসব সৌন্দর্য চর্চার ক্ষেত্রে ফেতরাত এবং ভারসাম্য রক্ষা হয় না অথবা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন সাধন করে, সেসব বিকৃত সাজসজ্জা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যে একই রকম হারাম বা নিষিদ্ধ। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন সাধন করা শয়তানী কাজ। নিম্নোক্ত আয়াতে সেদিকে ইশারা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'(শয়তান বলেছিলো) আর আমি লোকদের আদেশ দেবো, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন সাধন করবে।'

রসূল (স.) সেসব নারীদের ওপর লানত করেছেন, যারা হাত অথবা দেহের অন্য কোনো অংশে ছিদ্র করে অথবা দাঁত কেটে কেটে ধারালো করে। অথবা ভ্রুর লোম পরিস্কার করে দৃষ্টিনন্দন করে। অথবা আসল চুলের সাথে নকল চুল লাগায়। সৌন্দর্য চর্চায় এসব বিষয়ে রসূল (স.)-এর লানত করার কারণ হচ্ছে এসব হারাম। এর দ্বারাই উইগ ব্যবহারের বিষয়টি জানা যায় যে, এই কাজ হারাম। কারণ উইগ প্রকৃতপক্ষে আসল চুলের সাথে নকল চুল মিশ্রিত করা এবং চুল ফাঁপিয়ে তোলার জন্যেই ব্যবহার করা হয়। উইগ নারীদের চুল ঢেকে রাখার কাজে ব্যবহার করা হয় এ কথা সত্য নয়। কেননা চুল গোপন রাখার এবং ঢেকে রাখার পদ্ধতি সম্পর্কে সবাই জানে। এ কথাও কারো অজানা নয় যে, উইগ সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়। উইগ অর্থ হচ্ছে পরচুলা। কোনো হাদীসে রসূল (স.) উইগকে 'যুর' বলে অভিহিত করেছেন। অর্থাত্ এটা এমন জিনিস যা মানুষকে ধোকা দেয়, প্রতারিত করে। এ সম্পর্কে রসূল (স.) বলেন, নিঃসন্দেহে বনী ইসরাইল তখনই ধ্বংস হয়েছিলো যখন তাদের মহিলারা উইগ ব্যবহার শুরু করেছিলো। (বোখারী)

এই হাদীস থেকে দুটি জিনিস জানা যায়।
১. উইগ বা পরচুলার আবিস্কারক এবং প্রচলনকারী হচ্ছে ইহুদীরা।
২. রসূল (স.) এই জিনিসকে 'যুর' নামে অভিহিত করে এর হুরমত অর্থাত্ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণের প্রতি ইশারা করেছেন। অর্থাত্ এই উইগ হচ্ছে ধোকা এবং প্রতারণার একটি বিষয়। ইসলাম ধোকা, প্রতারণাকে নাজায়েয বলে আখ্যায়িত করেছে।

মহিলাদের বিউটি পার্লারে যাওয়া এবং পুরুষদের দ্বারা মেকআপ করানো সম্পূর্ণ হারাম। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে নারীদের বেগানা পুরুষদের সাথে একা থাকা এবং বেগানা পুরুষের বেগানা নারীর দেহের কোনো অংগ স্পর্শ করা দুটোই সম্পূর্ণ হারাম।

বিউটি পার্লারের প্রচলন তখন শুরু হয়েছে, যখন সাজসজ্জা রুপচর্চায় ভারসাম্য বিদায় নিয়েছে। মহিলাদের জন্যে মেকআপ করানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নারীদের জন্যে মেকআপ জায়েয কিন্তু এটা এমন জিনিস তো নয় যে, এটা তাদের সর্বাধিক প্রয়োজনীয় বিষয়ে পরিণত হবে। মেকআপের প্রয়োজনে তারা নিজেদের অন্য সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে বসবে। এমনকি শিশুদের লালন পালনও প্রভাবিত হবে। মেকআপ জায়েয কিন্তু সীমার মধ্যে থাকতে হবে। মেকআপের জন্যে বিউটি পার্লারে যাওয়া কি দরকার? মহিলারা তো ঘরের ভেতরেও মেকআপের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। মহিলাদের উচিত ঘরে বসে যেন তারা মেকআপ করে এবং সেটা শুধু স্বামীর জন্যে, রাস্তার মানুষদের জন্যে নয়।

তবে বিউটি পার্লার যদি অপরিহার্য হয়ে পড়ে তবে সেটা এমন অবস্থায় জায়েয হতে পারে যখন সেখানে কর্মরত সকল কর্মচারী হবে মহিলা এবং পুরুষদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকবে।



*** জবাব দিয়েছেন শায়খ ইউসুফ আল কারদাওয়ী ***
*** অনুবাদ করেছেনঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ ***
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×