উত্তরঃ এরকম একটি ব্যাপার তো সহজে মেনে নেবার নয়। তবে সেক্ষেত্রে অবস্থা বিবেচনা করে আপনার বাবা মায়ের সাথেও দেখা করুন এবং আপনার স্বামীর সাথেও সম্পর্কের অবনতি না হয় সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।
প্রশ্ন ১৪০. আমি ইসলামী অনুষ্ঠান দেখার জন্য ডিশের লাইন নিয়েছি। কিন্তু আমার স্ত্রীকে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি নাচ গান নাটক ইত্যাদি দেখেন। এখন ডিশ লাইন যেহেতু আমি নিয়েছি তাই আমার কি এজন্য গুনাহ হবে?
উত্তরঃ জ্বি না, এজন্য আপনার কোন গুনাহ হবে না। আল্লাহ একজনের পাপকে অন্যের ঘাড়ে দেন না। যিনি পাপ করবেন তিনিই শাস্তি পাবেন।
প্রশ্ন ১৪১. পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া যায় যে, সুফি সম্রাট, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন। জ্বিনের মাধ্যমে যেমন প্রেম, বিয়ে, বশ করা ইত্যাদি এগুলো কি ইসলাম সম্মত?
উত্তরঃ এ সকল জিনিস মোটেই ইসলাম সম্মত নয়। এগুলো হচ্ছে যাদের ধর্মের প্রতি আবেগ আছে কিন্তু ধর্মীয় জ্ঞানের স্বল্পতা আছে তাদেরকে বিভ্রান্ত করবার প্রয়াস। কিছু চালাক লোকের ধর্মকে পুঁজি করে ব্যবসার প্রয়াস হচ্ছে এগুলো। এগুলো ভিত্তিহীন। রাসূল (সঃ) এবং সাহাবাগণ সুফী সম্রাটদের এ সকল কাজ কখনও করেননি এবং করতেও বলেন নি।
প্রশ্ন ১৪২. একজন হুজুরের নিকট শুনেছি শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিলে নাকি পুঁজা করার শামিল। কিন্তু কেবল শ্রদ্ধা দেখানোর নিয়তে ফুল দিলেও কি পুঁজা করার গুনাহ হবে?
উত্তরঃ ঐ হুজুরের কথাটি অনেকটাই সত্য। কারণ ইসলামে এ ধরনের মিনার বানানোর কোন নিয়ম বা হুকুম নেই। দ্বিতীয়ত মৃত ব্যক্তির মাগফিরাতের জন্য জীবিতরা কি করবেন সেটি কোরআন হাদীসে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে। এভাবে ফুল দিলে মিনার বানালে মৃত ব্যক্তির কোন উপকার হয় বলে কোরআন হাদীস থেকে জানা যায় না। এটি একটি নিরর্থক কাজ। ফুল দিলে যদি কোন উপকার হতো তাহলে সবচাইতে বেশী ফুল দিতো মানুষ রাসূল (সাঃ) এবং তাঁর খলিফাদের কবরে। এমনকি যারা ইসলামের জন্য তখন শহীদ হয়েছিলেন তাদের কবরে অগনিত ফুল দেওয়া হতো। সুতরাং এটি মুসলমানদের এবং ইসলামের কাজ নয়। ক্ষেত্র বিশেষে এটি শিরক এর পর্যায়েও পড়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন ১৪৩. নামাজের পরে অন্য ধর্মের কোন লোকের জন্য দোয়া করা জায়েজ আছে কি?
উত্তরঃ নামাজের পরে দোয়া করার সময় অন্য ধর্মের লোকের জন্যও দোয়া করার অনুমতি ইসলামে আছে। দলমত, জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষ সকল মানুষের জন্য দোয়া করা যায়। এমনকি একজন অমুসলিম অসুস্থ লোকের সেবা করলে তার চিকিত্সার ব্যবস্থা করলেও সওয়াব পাওয়া যায়। এবং তার জন্য আল্লাহর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়াও করা যাবে। যদি কোন মানুষ ইসলামের বিরোধিতা করতে করতে মৃত্যুবরণ করে তবে তার জন্য দোয়া করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু জীবিত অবন্থায় তাঁর জন্য দোয়া করা যাবে। সে ক্ষুধার্ত হলে তাকে খাবার খাওয়ানো যাবে ইত্যাদি।
প্রশ্ন ১৪৪. একজন শ্রমিকের মজুরীর বিষয়ে ইসলামে কি বলা হয়েছে জানালে উপকৃত হবো। শ্রমিকের সাথে মালিকের আচরণই বা কেমন হবে ইসলামের দৃষ্টিতে?
উত্তরঃ শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার মজুরী পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে ইসলামে। যথাযথ পারিশ্রমিক দেবার ব্যাপারে ইসলাম খুবই গুরুত্ব দিয়েছে। এবং সন্তানের সাথে বাবার আচরণ যেরকম হবে ঠিক শ্রমিকের সাথেও মালিকের আচরণ সেরকম হবে বলে ইসলাম বলে। একজন শ্রমিকও যথাযথ সম্মান পাবে বলে ইসলাম বলছে। কারণ আল্লাহ বলছেন - একজন শ্রমিকও বনি আদম তাই সেও সকলের মতই সম্মানি। ইসলাম এ কথাই বলে থাকে শ্রমিকের ব্যাপারে।
প্রশ্ন ১৪৫. এইচআইভিতে সংক্রমণের প্রাথমিক অবস্থা কেমন জানাবেন কি?
উত্তরঃ এইচআইভি সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর কোন লক্ষণ থাকে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এইচআইভি সংক্রমণের চার থেকে ছয় সপ্তাহ পরে রোগীর ইনফ্লুয়েঞ্জা'র মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর রক্তে এন্টিবডি সনাক্তযোগ্য হওয়ার জন্য ছয় সপ্তাহ হতে তিন মাস সময় লাগে। এই সময়কে বলা হয় উইন্ডো পিরিয়ড। সংক্রমনের পর যখন রক্তে এইচআইভি এন্টিবডি নেগেটিভ অবস্থা থেকে পজিটিভ অবস্থায় আসে সে অবস্থাকে Sero Conversion illness বলা হয়। এইচআইভি লক্ষণবিহীন পর্যায় অনেকদিন হতে পারে। লক্ষণবিহীন ব্যক্তিরা সুস্থবোধ করতে পারেন, কিন্তু তাদের রক্তে এইচআইভি এন্টিবডি পজেটিভ পাওয়া যাবে। যেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তি তার সংক্রমণ সম্পর্কে অবগত থাকেন না, সেহেতু তাদের অজান্তে অন্য সুস্থ ব্যক্তির শরীরে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।
প্রশ্ন ১৪৬. কোন ব্যক্তি যদি এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায় তাহলে সে কি করবে?
উত্তরঃ যদি কোন ব্যক্তি এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায় তাহলে আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই। তাকে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হবে পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, নিয়মিত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা ব্যায়াম করতে হবে। যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং এইচআইভি ভাইরাসের ক্ষতি করার ক্ষমতা কমে আসবে। এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মনে রাখতে হবে - আপনি কাউকে রক্ত দিবেন না, ইনজেকশন নিলে একবার ব্যবহার যোগ্য সিরিঞ্জ ব্যবহার করবেন। নেশা বা অন্যকোন খারাপ অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করা। পাশাপাশি আপনার যে কোন পরামর্শের জন্য অভিজ্ঞ কাউন্সিলরের কাছে আসুন। তিনি আপনাকে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করে আপনার সমস্যা সমাধানে সহায়তা করতে পারেন। মনে রাখবেন কোন হাতুড়ে ডাক্তারের নিকট না গিয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। আর পাঁচটা রোগের মত এইচআইভি এবং এইডসও একটা রোগ। শুধুমাত্র নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবন যাপন করা সম্ভব।
* উত্তর দিয়েছেন, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সম্পাদক, মাসিক জিজ্ঞাসা
** এই বিভাগে আপনিও প্রশ্ন পাঠাতে পারেন / প্রশ্ন পাঠাবার ঠিকানা / মাসিক জিজ্ঞাসা, বাড়ী নং - ৫৭, রোড নং - ৭, সেক্টর - ৪, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা - ১২৩০।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



