- হারুন ইয়াহিয়া
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মনে করে যে ধর্ম তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলবে, তাদের ওপর চাপিয়ে দেবে কঠোর দায়-দায়িত্ব। এটা হচ্ছে মানুষকে বিপথে পরিচালিত করার জন্যে তার কানে কানে শয়তানের কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা)। ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্ম সহজ। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন বিশ্বাসী মানুষজনের মুস্কিলের পর আসানই হচ্ছে তাঁর অভিপ্রায়। তাছাড়া ধর্মের মৌলিক নীতিমালা যথা আল্লাহর প্রতি ঈমান ও ভাগ্যলিপির অমোঘতার উপলব্ধি দুঃখ তাপের কারণ ও সকল বিপদ-আপদ দূর করে। ধর্মের নৈতিকতায় জীবন-যাপন করে যে মানুষ তার কোন দুঃখ-দুর্দশা-হতাশা থাকতে পারে না। বহু আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে সাহায্য করার এবং ইহকাল ও পরকালে তাঁদেরকে সুন্দর জীবন উপহার দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যারা তাঁর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে ও তাঁর ধর্মকে অনুসরণ করে। আমাদের রব! যিনি কখনো ভঙ্গ করেন না অঙ্গীকার, বলেছেনঃ
'... পরহেযগার ব্যক্তিদের বলা হবে, তোমাদের মালিক (তোমাদের জন্যে) কি নাযিল করেছেন; তারা বলবে, (হ্যাঁ, এ হচ্ছে) মহাকল্যাণ; যারা নেক কাজ করে তাদের জন্যে এ দুনিয়ায়ও কল্যাণ রয়েছে, আর পরকালের ঘর তো হচ্ছে (আরো) উত্কৃষ্ট কল্যাণ; পরহেযগার ব্যক্তিদের (এ) আবাস কতো সুন্দর !' (সূরা আন নাহল, আয়াত ৩০)
আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বিশ্বাসীদের এই সুসংবাদ দিয়েছেন যে, যারা তাঁর ধর্মের অনুশাসন পালন করবেন তাঁদের কামিয়াব করবেন তিনিঃ
'... যে (আল্লাহর পথে) দান করেছে এবং আল্লাহকে ভয় করেছে, ভালো কথাগুলো যে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, অবশ্যই আমি তাকে সহজভাবে (তার গন্তব্যে) পৌঁছে দেবো;' (সূরা আল লায়ল, আয়াত ৫-৭)
এ রহস্যগুলোতে এই সত্যই উন্মোচন করা হয়েছে যে, যিনি আল্লাহর ধর্মে অকৃত্রিমভাবে আত্মনিবেদন করেছেন তিনি সূচনাতেই এমন একটি আসানের পথ বেছে নিয়েছেন যা ইহকাল ও পরকাল উভয় ক্ষেত্রেই তাঁকে আশিষধন্য ও সাফল্যমন্ডিত করবে। অবিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে পরিণাম হবে বিপরীত। অবিশ্বাসীরা ইতিমধ্যেই দুঃখ-বিষাদময় ও ক্ষতিপূর্ণ জীবন অর্জন করেছে; পরকালও তাদের অনুরূপই হবে। অবিশ্বাসীরা যে মুহূর্তে নাস্তিক্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে মুহূর্তেই তারা ইহকাল ও পরকাল দুই-ই খুইয়েছে। বিষয়টি কোরআনে ব্যক্ত করা হয়েছে এভাবেঃ
'যে ব্যক্তি কার্পণ্য করেছে এবং বেপরোয়া ভাব দেখিয়েছে, এবং যে ভালো কথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, অবশ্যই আমি তাকে কঠোরভাবে (তার গন্তব্যে) পৌঁছাবো;' (সূরা আল লায়ল, আয়াত ৮-১০)
বিশ্বচরাচরে, সবকিছুর মালিক ও স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহর বন্ধুত্ব, সাহায্য ও আনুকূল্যই হওয়া উচিত মানুষের পরমারাধ্য। আল্লাহ তায়ালাকে যে মিত্ররূপে গ্রহণ করে, এবং তাঁর কাছে পূর্ণ আত্মনিবেদন করে সে ইহকাল ও পরকালে প্রাচুর্য ও প্রশান্তির মধ্যে বসবাস করবে, কোন সূত্র থেকেই তার জন্যে হানিকর কোন কিছুর উদ্ভব ঘটবে না। এটি একটি অপরিবর্তণীয় সত্য। এই প্রেক্ষিতে প্রাজ্ঞ ও বিবেকবান প্রত্যেক মানুষের অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে কোরআনে উন্মোচিত এই রহস্যগুলো অনুধাবন করা এবং বিজ্ঞোচিত ও সঠিক পথটি গ্রহণ করা। অবিশ্বাসীরা যে এই পরিস্কার বিষয়গুলোও বুঝতে পারে না সেটা স্বতঃই আরেকটি রহস্য। যত বুদ্ধিমান ও সুনিশ্চিতই হোক না কেন, তারা তাদের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে না, তাই এ বিষয়গুলো দেখতে ও অনুধাবন করতে তারা অক্ষম।
*** অনুবাদ করেছেনঃ আবুল বাশার ***

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



