somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দোয়া কী কেন ও কীভাবে (১)

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- অধ্যাপক মুহম্মদ সিরাজউদ্দীন, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

দোয়ার গুরুত্ব ও বরকত
---------

মানবজীবনে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর ইবাদাতের জন্যে সৃস্টি করে আমাদের প্রতিটি নেক আমলকে তাঁর সাহায্য ও অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল করেছেন। আমাদের প্রতি এটা তাঁর বড়ই অনুগ্রহ। আমাদের কর্ম ও বিশ্বাসের ত্রুটিগুলো দোয়ার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ হয়, ইবাদাত পরিপূর্ণতা লাভ করে, ঈমান সুদৃঢ় হয় এবং পরনির্ভরশীলতার পরিবর্তে আমরা আল্লাহ-নির্ভর হওয়ার অবারিত সুযোগ পাই। প্রত্যেক নবী ও রাসূলকে আল্লাহ তায়ালা একটি করে বিশেষ দোয়া করার সুযোগ দিয়েছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্যান্য নবী ও রাসূলগণ তাঁদের জীবদ্দশায় মহান আল্লাহ প্রদত্ত সে সুযোগ গ্রহণ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'প্রত্যেক নবীরই একটি দোয়া আছে যা তিনি করেন। [এবং এটি কবুল হয়ে থাকে] আমি চাই আমার দোয়াটি আখিরাতে আমার উম্মতের শাফায়াতের জন্যে সংরক্ষিত থাকুক।'

অন্য এক সনদে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, 'প্রত্যেক নবীই নিজ নিজ যা চাওয়ার চেয়ে নিয়েছেন', কিংবা তিনি বলেছেন, 'প্রত্যেক নবীরই একটি দোয়া কবুল হয়ে থাকে। সুতরাং তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দোয়া করেছেন এবং তা কবুলও হয়েছে। কিন্তু আমি আমার দোয়াটি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতদের শাফায়াতের জন্য সংরক্ষিত করে রেখেছি।' ^

হাশরের দিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সেই অপরিহার্য দোয়াটি যে পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে পেশ করবেন তার অতন্ত্য মর্মস্পর্শী বর্ণনা রয়েছে নিম্নোদ্ধৃত হাদিসটিতে।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, আমরা নবী করীম (সাঃ) এর সাথে এক দাওয়াতে উপস্থিত ছিলাম। তাঁর সামনে রান্না করা (খাসীর) গোশত পেশ করা হলো। এটা ছিল তাঁর অতি প্রিয়। তিনি তা থেকে এক টুকরো খেলেন এবং বললেন, 'আমি হাশরের দিন মানবজাতির নেতা হবো। তোমরা কি জান কিভাবে আল্লাহ [হাশরের দিন] পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষকে একটি বিশাল সমতল ময়দানে জমায়েত করবেন যেন একজন দর্শক তাদের সবাইকে দেখতে পায় এবং আহ্ববানকারীর ডাক সবার কাছে পৌঁছায়। সূর্য তাদের অতি নিকটে এসে যাবে। তখন কেউ কেউ বলবে, তোমরা কি লক্ষ্য করনি যে, কি অবস্থায় আছ এবং কি পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছো? তোমরা কি এমন ব্যক্তিকে খুঁজে দেখবে না, যিনি তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্যে শাফায়াত করবেন? অপর কিছু লোক বলবে, তোমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) আছেন [তাঁর নিকট চল] অতঃপর সবাই তাঁর কাছে যাবে এবং বলবে, হে আদম (আঃ) ! আপনি সমগ্র মানবজাতির পিতা। আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার মধ্যে রূহ ফুঁকেছেন এবং আপনাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্যে ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তারা সবাই আপনাকে সিজদা করেছে এবং আপনাকে তিনি জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছেন। আপনি কি আমাদের জন্যে আপনার প্রতিপালকের কাছে সুপারিশ করবেন না? আপনি কি দেখেন না আমরা কি ভয়ানক অবস্থায় আছি এবং কত কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি? তখন আদম (আঃ) বলবেন, আজ আমার আল্লাহ এত রাগান্বিত হয়েছেন যে এর পূর্বে কখনও এমনটি হননি। আর পরেও হবেন না। [তাছাড়া] তিনি আমাকে বৃক্ষটির নিকটবর্তী হতে [ফল থেতে] নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি [তাঁর] নাফরমানি করেছি। এখন আমার নিজেরই ইয়া নফ্‌সী ইয়া নফ্‌সী অবস্থা। তোমরা অন্য কারও কাছে যাও। নূহের (আঃ) কাছে যাও। তখন সবাই নূহের (আঃ) কাছে যাবে এবং বলবে, হে নূহ (আঃ) ! পৃথিবীবাসীর প্রতি আপনিই ছিলেন প্রথম রাসূল। আল্লাহ আপনাকে 'কৃতজ্ঞ বান্দা' খেতাব দিয়েছেন। আপনি কি দেখেন না আমরা কি অবস্থায় আছি? আপনি কি লক্ষ্য করছেন না আমরা কত দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি? আপনি কি আপনার প্রভুর কাছে আমাদের জন্যে শাফায়াত করবেন না? তখন তিনি বলবেন আজ আমার প্রভু এমন রাগান্বিত হয়েছেন, যেমনটি এর আগে আর কখনও হননি, আর পরে কখনও হবেন না। এখন আমার নিজেরই ইয়া নফ্‌সী ইয়া নফ্‌সী অবস্থা। তোমরা নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর কাছে যাও। তখন তারা আমার কাছে আসবে। আমি আরশের নিচে সিজদায় পড়ে যাব। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ ! মাথা উঠান, শাফায়াত করুন, আপনার শাফায়াত কবুল করা হবে। আপনি যা ইচ্ছা চান, আপনাকে তাই দেওয়া হবে। মুহাম্মাদ ইবনে উবায়েদ বলেন, পুরো হাদিসটি আমি মুখস্ত রাখতে পারিনি। ^^


তথ্যসূত্রঃ
^ বুখারী - ৫ম খন্ড হাদিস নং ৫৮৬০, প্রকাশকাল - অক্টোবর ১৯৮২
^^ বুখারী - ৩য় খন্ড হাদিস নং ৩০৯৩, পৃ. ৩২২-৩২৩, প্রকাশকাল - জানুয়ারি ১৯৮৮
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×