বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক অনুবাদক ও জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মঙ্গলবার ভোর ছয়টায় তিনি নয়া পল্টনে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ আসর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
কবির চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন।
অধ্যাপক কবির চৌধুরী ১৯২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার গোপাইরবাগ গ্রামের মুন্সী বাড়ি।
তার পিতা খান বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী এবং মা আফিয়া বেগম। তার পুরো নাম আবুল কালাম মোহাম্মদ কবীর। তবে অধ্যাপক কবীর চৌধুরী নামেই তিনি পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তার ডাকনাম মানিক।
শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ছিলেন কবীর চৌধুরীর ভাই।
১৯৩৮ সালে কবির চৌধুরী ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকে সপ্তম স্থান অধিকার করেন। ১৯৪০ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অর্জন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্সে ১৯৪৩ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে এমএতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। পরে ১৯৫৭-৫৮ সালে ফুলব্রাইট বৃত্তিধারী হিসেবে আমেরিকার মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন সাহিত্য সম্পর্কে এবং ১৯৬৩-৬৫ সালে সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসন সম্পর্কে উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করেন এবং দীর্ঘ জীবন বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করেছেন।
পরে তিনি স্বেচ্ছায় সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন৷ ১৯৯৮ সালে তিনি জাতীয় অধ্যাপক পদ লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। জীবনের শেষের দিকে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর স্তরে ‘কালচার স্টাডিজ’ কোর্সে খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।
জীবনদশায় তিনি অসংখ্য পুরুস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান গভর্নর স্বর্ণপদক, ১৯৭০ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী সম্মাননা পদক, ১৯৮৫ সালে অলক্ত স্বর্ণপদক ও সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৬ সালে নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, ১৯৮৯ সালে শেরে বাংলা পুরস্কার, ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমী পুরষ্কার, ১৯৯১ সালে একুশে পদক, ১৯৯৪ সালে উইলিয়াম কেরী স্বর্ণপদক (ভারত), ১৯৯৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পুরস্কার, ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, ১৯৯৮ সালে সুফী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী জাতীয় পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে কবি জসীমউদ্দীন পুরস্কার, ২০০১ সালে বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন পুরস্কার, ২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক, ২০০৪ সালে ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড, ২০০৬ সালে বিশ্ব নাটক দিবস সম্মাননা, ভারতের ট্যাগোর পিস অ্যাওয়ার্ড, ২০১০ সালে গীতাঞ্জলি সম্মাননা পদক।
সবশেষ তিনি জাতীয় শিক্ষা সমন্বয়ের জন্য কাজ করেছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


