স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ইতোমধ্যে কমিশন, আইনজীবি প্যানেল এবং তদন্তকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অনেক দিন এদিক সেদিক করার পর সরকার শেষ পর্যন্ত এতটুকু এসেছে। তবে এই নিয়োগ নিয়ে অনেক রকমের বিশ্লেষণ হবে আগামী কয়েক দিন বিভিন্ন মহলে। আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, একটু তাড়াহুড়া হয়েছে মনে হচ্ছে। তাছাড়া সারা দেশের আনাচে কানাচে যেমন যুদ্ধাওপরাধী আছে, তেমনি আছে অনেক সাক্ষী সাবুদ। কাজেই আরেকটু বড় পরিসরে শুরু করা উচিত। তাছাড়া পুরো প্রকৃয়ায় সাধারণ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করাটা জরুরী। একটু অনাড়ম্বরভাবেই শুরু হল দেখছি। তাছাড়া, ইতিহাস বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা কাজ করছেন, গবেষণা করছেন, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি এসব অন্তর্ভুক্ত করলে বোধহয় বিষয়টা আরো গতি পেত। যাই হোক, আগামী কয়েকদিনে আরো ভালোকরে বোঝা যাবে বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্তদের কাজের ধারা।
এবার কাজের কথায় আসি।
ধরে নিলাম যে, এই উদ্যোগের ফলে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। রাজাকার আলবদরদের উচিত শিক্ষা হবে। কিন্তু তাতে কি শেষ রক্ষা হবে? যুদ্ধাপরাধী বলতে আমরা এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা ফৌজদারী অপরাধ করেছে তাদেরকে বুঝাচ্ছি। কিন্তু যারা সরাসরি মাঠে নেমে ফৌজদারী অপরাধ করেনি কিন্তু মাস্টারমাইন্ড হিসাবে কাজ করেছে তাদের কি বিচার হবে? তার চেয়েও বড় কথা, আদর্শিকভাবে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারা যে তাদের অনুসারী আরো হাজারো নব্য রাজাকার তৈরি করেছে তাদের কি হবে? কাল সাপ হয়ত মরবে, কিন্তু কালসাপের অসংখ্য বাচ্চাগুলোর কি হবে?
মুক্তিযোদ্ধা , রাজাকার এই শব্দগুলো আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে উৎপত্তি হলেও, এই শব্দগুলো শুধু সেই নয় মাসের মধ্যে আবদ্ধ নেই। এগুলোর ব্যপ্তি আরো বিশাল। সেকারনেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধারা যে চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়েছিলেন, যে অসাম্প্রদায়িক, স্বাধীন, উন্নত দেশের স্বপ্নে তারা জীবন দিয়েছিলেন সেই স্বপ্ন লালন করাকেই মোটা দাগে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলি। সে চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে আছে, দেশদ্রোহী, পাকিস্তান-প্রেমী, রাজাকারীয় চেতনা। এই শক্তি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি। তারা পুরো দেশের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল ৭১-এ। আমরা যেমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার কথা বলছি তেমনি ভাবে এই দেশবিরোধী শক্তি, রাজাকারীয় চেতনায় কিছু নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলেছে। আমাদের অসতর্কতা, অতীতে রাষ্ট্রীয় মদদ এসব কারনে দুখের হলেও সত্য যে রাজাকারীয় চেতনায় কিছু নতুন প্রজন্মের কুলাংগার তৈরি হয়েছে।
এই নব্য রাজাকার, তাদের রাজাকার নেতাদের পক্ষে সাফাই গায়, তাদের অনুসরণ করে। চেতনার দিক থেকে তারাও স্বাভাবিক ভাবে রাজাকার। অনেক সময় এই রাজাকাররা ইসলামকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে। এর ফলে তারা ইসলামের ও অপুরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। ইসলাম যদি সত্যি ধর্ম হয়েই থাকে, তাহলে অন্তত ইসলামে রাজাকারের স্থান হতে পারেনা। সে ধারী রাজাকার হোক বা পাতি নব্য রাজাকার।
কাজেই রাজাকারগুলোর ফাসী হলেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাচ্ছেনা, বরং তাদের রেখে যাওয়া পিচ্চি কেউটে সাপ গুলো রাজাকারী ঐতিহ্য রক্ষা করেই যাবে। তাদের মোকাবেলায় এখন থেকেই ভাবতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যেমন ৭১ এ সীমাব্ধ নেই, তার চেতনা ছড়িয়ে পড়েছে যুগ থেকে যুগে, রাজাকারীয় চেতনাও কিন্তু বসে নেই। আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই।
সবশেষে একটা টিপস। স্বাধীনতা বা বিজয় দিবস আসলে রাজাকারীয় ছাগু গুলোর গাত্রদাহ শুরু হয়। তারা হাবিজাবি বিতর্ক তুলে আলোচনা অন্য দিকে সরিয়ে নিতে চায়। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে এমনটা হয়েছে। কাজেই এদের বেহুদা বিষয়ে বিতর্ক জড়িয়ে পড়বেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


