somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দৈনন্দিন: মৌচাক থেকিয়া গুলশান ( পর্ব- ১)

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শৈত্যপ্রবাহের বিপরীতে লড়াই করা যেমন তেমন কর্ম নহে। বেশ কিছুদিন ধরিয়া যে বরফরূপ আবহাওয়া দেখা যাইতেছে তাহাতে প্রত্যুষে দিবানিশি বাসে করিয়া মৌচাক হইতে গুলশান ভ্রমন এভারেষ্ট বিজয়ের হইতেও কঠিন ঠেকিতেছে। তা দিবানিশি একখান বাস বটে। দিবাকালে উহাতে উঠিয়া বসিলে মাঝে মাঝে গন্তব্যে পৌছাতে উহা নিশিকালই লাগাইয়া দেয়। যেরূপে তা অতিবাহিত হইতেছে তাহাতে কিছুকাল পরে যে ইহার নাম "দিবা-নিশির" পরিবর্তে "আজ-কাল" হইবেনা তাহা বলিতে পারিনা। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ইহা নিয়া আরেকখান গবেষনা করিতে পারেন।

মৌচাক দিবানিশি কাউন্টারের টিকেটম্যান আমাকে দেখিয়াই মিলনানন্দ অনুভব করেন কেন তাহা বুঝিনা। ব্যাপারটা এমন নহে যে আমি বেশি টাকা দিয়া টিকিটখানি কাটি। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে এই শ্রেণীর লোকদের সাথে ভাল ব্যবহার করিলে সুফল মিলে। তাহার মনে রাখে। হয়ত ইহা তাহারই একটা ফলাফল। টিকিট কাটিয়া দীর্ঘ লাইনে দাড়াইয়া থাকাটা কোন সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। দূরালাপনীতে (মুপাইলে) গান আছে, মস্তিষ্কলাপনী (হেডফোন) ঠিক আছে, তাই বান্দরটুপি ঠেইলা কর্ণে প্রবেশ করিয়া বেশ একখান গান শুনিতে লাগিলুম। ছোটবেলা থেকেই সবাই বেশ একখানি উপদেশ দিয়া থাকে, বিদ্যা অর্জন কর। বিদ্যা অর্জন কর। বিদ্যাই সব। কিন্তু আমার দূরালাপনীতে বিদ্যার বদলে বিদ্যা বালান আসিয়া হাজির হইল। সঙ্গীতে কন্ঠ যাহারই হোক, উলালা, উলালা শুনিলে বিদ্যা বালানের কথাই বেশ একখানি মনে পড়ে। বাসের জন্য অপেক্ষার সারি দীর্ঘ হইতেছে, কর্মক্ষেত্রে এখন নারীদের পদচারনা বৃদ্ধি পাওয়ার এক উদাহরন এই সকালের বাসগুলোও বটে।

পুরুষ মাত্রই বলিতে বাধ্য নারীসঙ্গ বড়ই আকাঙ্খিত। তয় বাস ভ্রমনে নারীঅভিজ্ঞতা আমার বেশ সুখকর নয়। সে বেশ কয়েককাল আগের কথা। উহা দিবানিশি বাস ছিলনা। যতদূর মনে পড়ে বাসের নাম ছিল বেগুন। না না বেগুন বাস হইবেক কিভাবে? বেগুন হইল তরকারী। বাসের গাত্র বর্ণ হইল বেগুন আর বাসের নাম ফাল্গুন। বাসে বসিয়া আছি, পুরা বাসে যতসংখ্যক সিট তা বেশ কানায় কানায় পরিপূর্ন কিন্তু কয়েকফুট সামনে এক খানা বেশ মিষ্টি চেহারার বড়ই মায়াবতী মুখ অবলোকন করলুম। হৃদয় ছিল মাটির হাড়ির অধিক ভঙ্গুর। লাস্যময়ীর দাড়িয়ে থাকাটা বড়ই খারাপ লাগিল। বলিলাম, আপামনি আসুন, আমার সিটে বসুন। আপুমনি বসিলেন। আমি দাড়িয়ে রইলাম। ব্যাগখানা আমার পিঠে ঝোলানো, জগত যেন লাগছিল দোলানো। আপামনির পাশের লোক উঠিয়া দাড়ানো মাত্র মনস্থির হইল যে এখন আমার আপামনির পাশে বসার পালা ঠিক তখনি বিপত্তি, আপামনি চিৎকুর দিল, এই এই জায়গা খালি হইছে আস আস। সে বড় হৃদয় বিদারক ব্যাপার। আপামনিকে বসালাম আমি, আপামনির পাশের সিটে বসার জন্য অপেক্ষমান আপামনির বালক-বন্ধু। জগত বড় কঠিন, বড় নির্মম। সেই থেকিয়া পণ করিয়াছি। হৃদয় আমার নরম, মাটির প্রদীপ্ ন্যায়, আঘাত পাইয়া ভাঙ্গিয়া যায়, কিন্তু বাসে কোন নারী দাড়িয়ে থাকাটাও আমার সহ্য হয়না, তাই চোখ বন্ধ করিয়া রাখাটাই সঠিক কাজ।



আজও তাই ছিলাম। বাসের ডানদিকে সামনের নয়টি সিট নারী কোটায় আবদ্ধ। তার থেকে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করিয়া ওয়ারফেজের বেশ একখান গান শুনছিলাম তখন আমার দূরালাপনী জানাল তাহার কোষে (ব্যাটারী) বেশ গোলমেলে ব্যাপার। উহাতে নিরবিচ্ছিন্ন আধান পরিবহন আর সম্ভব হচ্ছেনা। বাসখানি তখন মেরুল, পারুল এবং জারুল বাড্ডা পেরিয়ে, চার চাকা ছড়িয়ে লিঙ্ক রোডের দিকে ধাবমান। কি করিব এখন? সময় কাটানো যে বড় দায়!! আমাকে উদ্ধার করিতেই কিনা দু'জন লোকের মধ্যে বেশ গোলমেল ঠেকিল। বাস থামিয়া গিয়াছে। প্রচন্ড যানজট। দুইজন মানুষের বিবাদ ছাড়ানোর থেকে তা উপভোগ করাটাই সমীবেইজিং মনে হল। মুঠোফোন বন্ধ। করিবার কিছু নাই সামনে যা পাই তাই অবলোকন করিতে লাগিলাম। সামনের মেয়েখানি তার মুঠোফোনে ভারী এখখানা সংবাদ লিখিতে লাগিলেন। বেয়াদবী হয়, বেস্তমিজি হয়, কিন্তু নিরুপায় হইয়া সময় কাটানোর জন্য তাহাই দেখিত লাগিলাম। জান, তোমাকে আমি অনেক ভালবাসি লিখিয়া তিনি কাটিয়া দিলেন। জান, তুমি আমার জান। ইহা লিখিয়াও তিনি মুছিয়া দিলেন। আবার মেসেজ অপশনে গেলেন। জান, তোমাকে আমি বড়ই ভালবাসি, জান। আহা কি মুশকিল। মেসেজ লেখা এতই কঠিন হইবে কেন? জান, তুমি আমার সব। তোমাকে দেখিতে বড় মন চায়। আর সহ্য হইল না। ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গিয়া গেল। সরাসরি বলিয়া ফেলিলাম, আপা অনুগ্রহ করিয়া মেসেজটা যাকে পাঠানোর পাঠান। অগ্নিদৃষ্টি অনুভব করিলাম। মেসেজ প্রার্থীর গার্ল ফ্রেন্ড আমার জন্য বেশ গাড়ল ঠেকিল। তবে কি আর করার। কর্মটাই এমন ছিল। যেমন মনে করিয়াছিলাম তেমন করিয়া বাস ভ্রমন করিতে পারিলাম না , আসিল না , আপামনি অত্যন্ত অসন্তোষ প্রকাশ করিতে লাগিলেন , অতঃপর গন্তব্য আসিল, ট্রাফিক সিগনালের বাতিতে আমার গন্তব্যে পৌছান উজ্জ্বল হইয়া উঠিল।

( ব্লগে এখন তেমন নিয়মিত হতে পারিনা। নানারকম কাজে ব্যস্ত থাকি, গল্প লেখার নেশা পূরন হচ্ছেনা কারন অতটা সময় পাইনা, তাই ঠিক করলাম যখন লিখতে বসব ঐদিনের যা কিছু আছে তাই লিখব 'দৈনন্দিন' শিরোনামে। ভাল লাগবে কিনা এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত না)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৪০
৩১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×