somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দৈনন্দিনঃ কাটিয়া গেল আরেকটি দিন। (পর্ব- ২)

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাধু চলিত মিশ্রন অবশ্যম্ভাবী। ব্যাকারণ ও বানানে অত্যধিক ভুল। অশ্লীলতায় ভরপুর। উহা উপেক্ষা করিয়া পড়িতে হৈবেক।


কলমচালিকা (পেনড্রাইভ) দিয়া তথ্য সরবরাহ করিতে যাইব কলমচালিকা বড়ই বেহায়া আচরন শুরু করিল। উহা পায় আবার পায় না। আবার বিপাকে পড়া গেল। তারপর হঠাৎ করিয়া উহা কথা আরম্ভ করিল। আমাকে বলিল,

- এই বেহায়া।
আমি চমকালাম।
-কিরে জড় পদার্থ হইয়া কথা বলিতেছিস?
কলমচালিকা আমায় বেয়াদবের মত জবাব দিল,
-গাধা কোথাকার। তোদের অসভ্য কর্ম আমাকে দিয়ে করাচ্ছিস কেন? প্রবেশ করিবার মত গর্ত দেখিলেই সেখানে প্রবেশ করিয়ে দিস!!
- এই তথ্য তুই জানলি কেমনে?
- আমাকে দিয়ে তথ্য পাচার করাবি আর আমি জানবনা তাহা কি করিয়া হয়? মনে রাখিস নীল ছবি অনুসন্ধানে বাংলাদেশের জনগন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করিয়া দাঁড়িয়ে, পাকিস্তানের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে। আর যাবতীয় নীল ছবি আমার মাধ্যমেই অতিবাহিত হয়।
-বড় লজ্জাজনক কথা বলছিস দেখিরে কিংস্টন কলম চালিকা। তা আমার গতিপথে বাঁধার সঞ্চার করছিস কেন? কর্নের মধ্যে আমরা কানচুলকানী প্রবেশ করাই সেরকম কিছু মনে করনা।
- আমাকে ঠিক করারে গাধা। পশ্চাতদেশ বিকৃতরুপী মানুষেরা ব্যবহার করিতে পারে, সম্মানের সহিত বসবাসকারী কলম-চালিকারা না।

দেখিলাম কলমচালিকাটা আসলে উলটো করিয়া প্রবেশ করাচ্ছিলাম। উহা পাল্টাইলাম। কলমচালিকা ঠিকমত প্রবেশ করালাম। কম্পুটার মৃদু স্বরে জানাল, তথ্য প্রবেশ করানোর জন্য কলমচালিকা উপযুক্ত। কিন্তু তারপরেও বিরোধ দেখা গেল!!

- কিরে কিংস্টন কলমচালিকা। আবার কি হলরে।
- মন বড় খারাপ। কবিতার লাইন মনে পড়ছে।
- কোন কবিতা?
- হে আবুল, ভান্ডারে আছিল বিবিধ রতন।
- ইহা মানে কিরে? ইহার সাথে তথ্য সরবরাহে সম্পর্ক কি?
- তোরা মানুষ বড় নির্বোধ। আবুল তথ্যমন্ত্রনালয়ে আসছে আর তোরা মেনে নিচ্ছিস। কিন্তু আমার মন যে বড় খারাপ রে।
- তোর আবার কি হল। তোর কাজ তথ্যসরবরাহ। তোর কি আর কোন কাজ আছে।
-খোঁচা দিবিনা, খবরদার খোঁচা দিবিনা। জড়পদার্থ বলিয়া অপমান করিয়া যাবি এ সহ্য হইবেনা। আর মনে রাখিস তোদের মত জীবেরাও এখন জড় এর মত আচরন করিয়া থাকে। তাইতো কত কিছু হওয়া উচিত নয় কিন্তু হইয়া যায়।



কলমচালিকার মুখ যেভাবে ফুটিতেছে তাতে আর কথা বাড়ালাম না। ইতিমধ্যে মুঠোফোন বাজিতেছে। তাহার প্রতি ধ্যান জ্ঞ্যান নিয়া গেলুম। খুবই আজব ব্যাপার , মুঠোফোনে গ্রহন বোতাম ( ইয়েস বাটোন) দেখা যাচ্ছেনা। এবারে আমারে অবাক করিয়া দিয়া মুঠোফোনখানি কথা আরম্ভ করিল।

- কেমন আছিস রে জিক্কা।
- তোর আবার কি হলরে?
- পরথম আলু পড়েছিস আজকে।
- কি হয়েছে সেখানে?
- আবুল টেলিযোগাযোগে।
- তা এখন কি করিব? নাচিব?
- নিপবনে গিয়ে হারিয়ে যা। আবুল টেলিযোগাযোগে আসিছে তাই আমরা মুঠোফোনেরা ইয়েস বাটনটাই ফেলে দিয়েছি। উহার কোন কার্যকারিতা আমাদের সন্ধানে মিলিছেনা।
- বলিস কিরে? যে আমায় কল করিল সে পাবে কিভাবে?
- তাতো জানিনে। আমি এখন আবুলের দলে। রেট নিয়াব ১০ টাকা প্রতি কলে কলে। উহা না হইলে ইয়েস বাটন ফিরিয়া পাবিনারে।
- আই ডোন্ট গিভ এ শিট।
- বলিস কিরে? কোষ্ঠ্যকাঠিন্য!! কন্সটিপিটিশন হয়েছে তোর? এক কাজ করগে যা। ভারতীয় ইউসুফ পাঠান আর পাকিস্তানি উমর গুলকে এক সাথে মিলিয়ে ইসুফ-গুলের ভুষী খা। তোদেরকে উহাই মানাবে।

বুঝিলাম জড় পদার্থদের সাথে কথা বলা উচিত হবেনে। পরথম আলুতে গেলাম। বড় একখানা খবর ছাপিছে আজ। বিয়ে ভাঙলে ক্ষতিপূরণ! বাহ বেশ তো। বর্তমান সময়ের জন্য বড়ই উপযোগী এই ধারনা ভারতীয় কিছু ইন্সুরেন্স কোম্পানীর!! কিন্তু বিস্তারিত পড়িয়া আশাহত। মনমালিন্যের জন্য উহা নহে। শুধু সড়ক দুর্ঘটনা বা দুর্যোগের কারণে বিয়ে ভাঙ্গিলেই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাইবেক। ইহা কেমন অবিচার!! ইহা তো যেই লাউ, সেই কদু একই ধরনের চালকুমড়া অবেস্থা!!

এক আপিসে প্রবেশ করিলাম। প্রবেশলগ্নে একখানা দস্তখত করিতে হইবেক। খাতা খানি হাতে নিয়া অভ্যার্থনায় বসা লোককে দেখাইলাম ওহে বাহে, এই ভদ্রলোক আসিয়া রুগ্নমুর্তি ধারন করিতে পারে। ইনার নাম খানি কি পরিবর্তন করা যায়না। যাকে বলিলাম তিনি শুধু শুধু আক্রোশ দেখালেন। কিন্তু আমার কাছে যে ব্যাপারটা গুরুতর। আমার Rashat Rahman কে সংক্ষেপে যেভাবে R.Rahman লিখেছে সেভাবে Chowdhury Huda নামটা লিখা যে তার উচিত হয়নি বুঝাতে পারিলাম না।

বসিয়া আছি এক জায়গায়। আশেপাশে মানুষ থাকায় অসুবিধার জায়গায় চুলকানো যাইতেছে না বড় অসহায় লাগিতেছে। ডন সিনেমার উক্তি মনে পড়িয়া যায়,

সবার সামনে থাকলে ধন কো পাকাড়না মুশকিলই নেহি। নামুমকিন হ্যায়।


সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১:০১
৩৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×