somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দৈনন্দিনঃ হাসপাতাল ভ্রমন (পর্ব- ৩)

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাসপাতালে যাওয়াটা আমি খুব বেশি পছন্দ করিনা। হাঁস আর মুরগী দুটি প্রাণী, আকাশ আর পাতাল দুটি জায়গা, হাসপাতাল কিংবা মুরগীআকাশ (এরকম আসলে কোন জায়গা নেই) এ দুটো জায়গা যাওয়ার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। এমনকি আমার জন্মও হাসপাতালে হয় নাই, ১৪/৯ বেইলি স্কয়ার কলনিতে, যেটা কিনা একটি সরকারী বাসা সেখানেই জন্ম। ছোটবেলায় অবশ্য দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করতাম। সেটার একমাত্র কারন ছিল শুনতাম দাঁতের ডাক্তারের কাছে গেলে আইস্ক্রিম খেতে দেয়। এই আইস্ক্রিমটাই একমাত্র কারন। ওহ হা! একবার বাধ্য হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। সেটা লুকানোর কিছু নেই। ছেলেদের একটা বিশেষ অংশ কেন জানি একটু কাটতে হয়। ৭ বছর বয়সে সেটা করা হয়েছিল। জীবনে ঐ একবারই টানা ৭ দিন লুঙ্গি পড়ে ছিলাম।

পিজি হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরন করা হয়েছে। সেখানে সম্প্রতি গেলাম কিছু মেডিকেল টেস্ট করতে। অসুখ-বিসুখের ব্যাপার না, চাকরিগত ব্যাপার। সরকারী হাসপাতালে টেস্ট নাকি অনেক উলটা-বালটা (বাল থেকে বালতা না, উলটার সাথে তাল মিলিয়ে বালটা) আসে। আমার এক বন্ধুর ডায়েবেটিস আসছিল। কবে জানি শুনেছিলাম কোন টিউবয়েলের পানির টেস্টের রেজাল্ট ছিল প্রেগনেন্সি। সে যাই হোক হাসপাতালে গেলাম। যে কয় ধরনের টেস্ট করাতে হইবেক সেগুলা কোথায় করানো হয় সে সম্পর্কে ধারনা না থাকায় এক ফুপাতো ভাইয়ের পিয়নকে হাত করলাম। ফুপাতো ভাই এফসিপিএস ডাক্তার। সেখানকার প্রফেসর। ডাক্তারদের কত কিছুর ত্যাগ করতে হয় তার একটা নমুনা তিনি দিয়েছেন। শুধুমাত্র পড়ালেখা করার জন্য জীবনের প্রথম ৪০ বছর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন নি। আমার সেই ভাইয়ের পিয়নকে হাত করানোতে কাজে লাগছে। সে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। মানুষজন সুই দিয়ে আমার হাত ফুটাচ্ছে আর রক্ত নিচ্ছে। ভয়ে ভয়ে আছি এইচআইভি এর রেজাল্ট কি আসে। বলা তো আর যায় না। ভার্জিন অবস্থায় এইডসে আক্রান্ত হলে তার থেকে দুঃখজনক ব্যাপার আর কি হতে পারে?



রক্ত টেস্ট করার পর এখন চেস্টের এক্স-রে করতে হবে। এক্স-রে রুমের ভিতরে ঢুকলাম। মধ্যবয়সী মহিলা হুঙ্কার দিয়ে বললেন, "সেন্ডেল খুলে আসেন।" ঠান্ডার দিনে খালি পায়ে ঢুকলাম। মহিলা আরো হুঙ্কার দিয়ে বললেন, "জামা খুলেন।" এ কি ব্যাপার রে বাবা!! এ কি বিপদ। তখনও বুঝতে পারিনাই যে বিপদ মাত্র শুরু। জ্যাকেট খুলার পর গেঞ্জিও খুললাম। নিজের বাসাতেই আমি খালি গায়ে থাকিনা আর এইটা হাসপাতালে। কি একটা এক্স-রে প্লেট আমাকে জড়িয়ে ধরতে বলা হল তখন মহিলার আরেক হুঙ্কার- আরে এর তো বুক বড়!! কি বলব ঠিক বুঝতে পারলাম না!! নিঃসন্দেহে এই কথা কোন ছেলে বললে তাকে বেয়াদব বলা যায় কিন্তু মহিলা বললে তাকে কি বলা যায় তাও বুঝতে পারলাম না। ঘটনা হচ্ছে চেস্টের এক্স-রে এর বিভিন্ন প্লেট থাকে যা উচ্চতা আর বিভিন্ন আকার অনুযায়ী হয়। আমি এভারেজ লোকদের মধ্যে পড়িনা। আমার জন্য তখন বড় প্লেট আনা হল, আর যেই দশ মিনিট লাগল সেই পুরা দশ মিনিট আমি খালি গায়ে দাঁড়িয়ে আছি। মাঝে মাঝে কিছু লোকজন উকি ঝুকি মারতেছে কিন্তু মহিলা ইনস্ট্রাক্টরের কাছে গেঞ্জি পড়ার পারমিশন চাওয়ার মত সাহস কুলাচ্ছে না। অবশেষে প্লেট আনা হল। আমার চেস্ট এক্স-রে করা হল।

সব গুলা মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট হাতে আসল। নেগেটিভ বলতে আমরা খারাপ কিছু বুঝি কিন্তু এইচআইভি নেগেটিভ নাকি খুব ভাল জিনিস। হেপাটাইটিস নেগেটিভও ভাল। ইএসআর নামক টেস্ট একটা রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে। নরমাল মানুষদের রেঞ্জ ০-১০, স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যানদের ক্ষেত্রে তাইলে ১৫,২০ এইগুলা হইতে পারে, আমার আসছে ২৫। এটা মানে কি কে জানে!! একজন বলল, কোনো একটা ইনফেকশন আছে। তা আছে বৈকী। ঠান্ডার ইনফেকশন।

হাসপাতাল থেকে আপাতত বিদায়। হাসপাতাল একদমই ভাল লাগেনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৭
২০টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×