somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের শহুরে নারীদের প্রদর্শনীবাতিক ও কিছু কথা

২২ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের আধুনিক নারীদের এক অংশের, বিশেষ করে যারা শহরে থাকে তাদের মধ্যে একটি ভিন্নরকম বাতিক দেখা যায়। পশ্চিমের কু-প্রভাবে পড়ে আমাদের কোনো কোনো মা ও বোন তাদের চালচলনে, সাজসজ্জায় রাস্তাঘাটে পুরুষদের আকর্ষণের একটি অশোভন মনোবৃত্তি দেখান। অশোভন বললাম এই জন্য যে, নিজেকে প্রদর্শনীর উপকরণ হিসেবে যারা ব্যবহার করেন, তারা যথার্থ সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হতে পারেন না। মানুষের মর্যাদার মূল্য অনেকখানি। যদি কোনো নারী মর্যাদা হারিয়ে ফেলেন তখন তার বাকী রইল কি?

বর্তমানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যত্র এমন কোনো কোনো নারীকে দেখা যায় যারা কড়া চকচকে লিপস্টিক দিয়ে পাউডারে মুখ ভর্তি করে রঙ মেখে, সঙ সেজে, অত্যন্ত আঁটসাট পোশাক পড়ে অথবা শরীরের অংশ বিশেষ অনাবৃত রেখে হাস্য-লাস্য অবস্থায় হেলে-দুলে ছেলেদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। পুরুষেরা যেখানে দীর্ঘ জামা পড়ে শরীরকে আবৃত রেখে সুশোভিত করে চলে, সেখানে কোনো নারী স্বল্পবসনা হয়ে বিশ্রীভাবে পেট কিংবা শরীরের উপরের অংশ দেখিয়ে রাস্তাঘাটে, বাজারে চলতে দ্বিধাবোধ করেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে কিংবা যে কোনো মর্যাদাবান পুরুষের সাথে আলোচনা করে বুঝতে পারা যায় এইসব নারীদের এরা পছন্দ করেন না। এদের তারা সম্মান ও মর্যাদা দিতে রাজি নন। তথাকথিত বিশিষ্ট শ্রেণীর পুরুষরা এদের সঙ্গে ঘন ঘন মিলতে মিশতে বা আলাপ করতে যে চায় তা সত্য, কিন্তু তা মর্যাদা দিয়ে নয়, তথাকথিত নাগরালি করার জন্য। পুরুষ সমাজের বেশিরভাগই এইসব নারীদের দেখে ভোগের বস্তু হিসেবে। ভালোবাসার বা সম্মানের পাত্রী হিসেবে নয়! প্রদর্শনীর বস্তু করে নিজেদেরকে পুরুষদের কাছে খেলো করে তোলা কোনো নারীরই উচিত নয়। পুরুষের মনোবৃত্তি না জানলে চলবে না। নারীর প্রতি তাদের আকর্ষণ স্বাভাবিক। এই আকর্ষণ মর্যাদা বা প্রেমে উন্নীত কিংবা ছিনালীপনায় পর্যবসিত হতে পারে। নারীর চালচলন, কথাবার্তায় এটা নির্ধারিত হয়। প্রদর্শনী বাতিকগ্রস্ত নারীর প্রতি পুরুষেরা যতই আকর্ষণ বা আগ্রহ দেখান না কেন, তারা সেই নারীকে সম্মান করে না ভালোবাসে না। মর্যাদাহীন ভালোবাসাও অত্যন্ত ঘৃণ্য বৈকি। ছাত্রদের মধ্যে প্রদর্শনী বাতিকগ্রস্ত মেয়েদের সম্বন্ধে যে আলোচনা সচরাচর হয় তা জানতে পারলেই এর সত্যতা স্বীকৃত হবে। যে ছেলে প্রদর্শনী বাতিকগ্রস্ত মেয়েদের পেছনে দৈনিক কয়েক ঘন্টা ঘুরে। সে হয়তো সঙ্গীদের সঙ্গে তার প্রাদর্শনিকতার জন্যে বিশ্রী মন্তব্য করতেও দ্বিধাবোধ করেনা।

এখনকার সময়কার নারী-পুরুষ একজন অন্যজনের মন বুঝতে পারে না বলেই আজ উভয়েই অসহায় হয়ে পড়েছে। নারীর প্রসাধন ও অলংকারপ্রিয়তা স্বাভাবিক। একে দূর করা চলবে না। কিন্তু অলংকারের, পরিধানের ও প্রসাধনের মধ্যেও একটা মর্যাদাবোধ, একটা সুরুচিবোধ আছে, একটা স্বভাবিকতা আছে। স্বাভাবিকতার সীমা লংঘন করলেই বিপদ। গাঢ় চকচকে লিপস্টিক পশ্চিম থেকে আমদানি। এতে পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ ছাড়া অন্যকিছু হয় কি না আমার বোধের অগম্য। সৌন্দর্যের মধ্যে একটা স্বাভাবিকতা ও সোম্য ভাব থাকা চাই। নতুবা তা হয় উলঙ্গ চিত্রের মতো "বিশ্রী সৌন্দর্যের প্রতীক"।

পূর্বে তৈল, ক্রিম দিয়ে আমাদের নারীরা স্বভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখতেন। আজকাল নানা রকম রং ও পাউডার দিয়ে অস্বাভাবিকতাকে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ফলে দিন দিন কমনীয়তা ও মসৃণতা লয় পাচ্ছে। প্রসাধন মেয়েদের জন্য যে দরকারী তা পূর্বেই বলেছি। কিন্তু প্রসাধনের উদ্দেশ্য স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে আরও মহৎভাবে ফুটিয়ে তোলা, তাকে অস্বাভাবিকতার আড়ালে ঢেকে ফেলা নয়!

পশ্চিমা ঢংয়ে কাপড় পরিধান ও সাজসজ্জা আজ নারীকে আরও খেলো করে তুলছে। পাশ্চাত্য সমাজ নারী স্বাধীনতার যত বড় বুলিই আওড়াক না কেন, নারীকে সেখানে বহুলাংশে ভোগের ও প্রদর্শনীর সামগ্রী করা হয়েছে। সেখানে অধিকাংশ নারী তাদের হৃদয় হারিয়ে ফেলেছে, হারিয়েছে তাদের মর্যাদা। অর্থ হয়তো তারা নিজেরা অর্জন করতে পারে কিন্তু তা অনেক ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদাকে বলি দিয়ে।

নারী-পুরুষের শান্তি ও আনন্দদায়িনী হবে নিশ্চয়ই, কিন্তু ভোগ লালসার সামগ্রী হয়ে পুরুষের হাতের পুতুল হিসেবে পুরুষ যখন যেভাবে নাচায় সেভাবে নাচবে, এটাকে যতই প্রগতি বলা হোক না কেন আসলে এটা চরম প্রতিক্রিয়াশীলতা।
৫৫টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×