১
ভাইয়া, আমাকে একটু দিবা? আমি খাটাশ হবো
তখন মনে হয় ক্লাশ টু’তে পড়ি। হবিগঞ্জের একটা একাডেমীতে। যতদূর মনে হয় এইটা মাদ্রাসা টাইপ ছিল। মাথায় টুপি পড়ে যেতে হতো। অনেক বেশী পরিমানে ভদ্র ছিলাম তখন। তারপরেও নিসিদ্ব কিছুর ব্যাপারে কিভাবে জানি একটা আগ্রহ এসে যায়। একদিন ক্লাশে দেখলাম যে আমারই এক ক্লাশমেট কিন্তু বয়সে বড় ভাই কি যেন খাচ্ছে! তাকে বললাম যে “ভাইয়া, কি খাচ্ছ?” ভাইয়া বলল, কিছুনা। এইগুলা ভালো না। এইগুলা খেলে মানুষ খাটাশ হয়ে যায় (খাটাশ = খারাপ মানুষ জাতীয় কিছু)! তার এই কথা শুনে আমার এই জিনিসটা খেতে ইচ্ছে হলো। তখন ভাইয়াকে বললাম “ভাইয়া, আমাকে একটু দিবা? আমি খাটাশ হবো” এই কথা শুনার পর আমার দিকে ভাইয়ের চাহনিটা মনে পড়োলে আজো মজা লাগে!! পেক পেক পেক
২
মা, দরজা খুলো, বাথরুমে যাব
৫ম শ্রেনীতে পড়ার সময় একদিন ২য় সাময়িক পরীক্ষা চলাকালে প্রকৃতি আমাকে অনেক ডাকাডাকি করতেছিল। আমি না পারতেছি পরীক্ষা রেখে বাসায় আসতে না পারতেছি প্রকৃতির এই মধুর ডাককে অবজ্ঞা করতে। স্কুলের বাথরুম যাওয়ার মতো উপযুক্ত ছিল না বিধায় এই টেনশন মাথায় ভর করছিল। কি আর করা। কোনমতে পরীক্ষার খাতায় আকাবুকি কইরা রিকশা নিয়া বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইলাম। সেইসময়ের রিকশা ভ্রমণ ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে ভ্রমণ। একটা করে ঝাকি খায় আর আমার প্রানপাখি উড়ে যায় যায় অবস্থা। বাসার কাছাকাছি আসতে আমার অবস্থা করুন। সিড়ি দিয়ে ৩য় তলায় গিয়ে কলিং বেল বাজালাম। চিল্লাইতে লাগলাম “মা, দরজা খুলো, বাথরুমে যাব!” কিন্তু গেট খুলতে খুলতে কাজ ক্লীয়ার! বাসার সবাই তখন যে পরিমানে হাসাহাসি করতেছিল মন চাইছিল আল্লাহকে বলি "আল্লাহ আমারে উঠাইয়া নাও নাইলে দড়ি ফালাও, আমি বাইয়া উঠি" পেক পেক পেক
৩
মা, এখন থেকে আমি সালমান শাহ আর তুমি মৌসুমী
তখন সালমান শাহ – মৌসুমির যুগ। সিনেমার ভক্ত ছিলাম অনেক। পড়া যত সম্ভব তাড়াতাড়ি শেষ করে ছবি দেখতাম মামা’র সাথে! মামার শর্ত ছিল “ছবি দেখতে হলে পড়া তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে” একদিন পড়া তাড়াতাড়ি শেষ করে “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবিটা দেখলাম। দেখা শেষ করে আম্মুকে বললাম “মা, এখন থেকে আমি সালমান শাহ আর তুমি মৌসুমী”! পেক পেক পেক
৪
আব্বু, বেল্ট দিয়ে মাইরেন না, হাত দিয়ে মারেন
তখন ক্লাশ সিক্সে পড়ি। প্রথম সাময়িক পরিক্ষায় ৬২৭ পেয়েছিলাম। রেজাল্ট দেখে আব্বু বলেছিল পরেরটাতে রেজাল্ট যেন ভালো হয়। কিন্তু হায়! পরের পরিক্ষায় পেলাম ৬০৬ রেজাল্ট কার্ড আব্বুকে দেখাবো কি না চিন্তা করছিলাম। পরে নিজে নিজেই একটা অনৈতিক কাজ করলাম। আমাদের রেজাল্ট কার্ডে একপাশে ছিল নাম্বার আর এক পাশে ছিল টিচার আর অভিবাবকের সাইনের জায়গা। আমি নাম্বারের পাশটা কেটে নতুন একটা কাগজ এনে ইচ্ছেমতন নাম্বার বসিয়ে দিলাম। তারপর স্কচটেপ দিয়ে লাগিয়ে দিলাম। আব্বুকে দেখানোর পর উনি যখন জানতে চাইলেন ছেড়ার কারন তখন বললাম যে বন্ধুদের সাথে টানাটানি করতে গিয়ে ছিড়ে গেছে। আমার কর্ম আব্বু কিঞ্ছিত বুঝতে পেরে কাগজটা খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলেন। কিছু একটা বুজতে পেরে আমার সামনে থেকে চলে গিয়ে অন্য রুমে বগেলেন। কিছুক্ষন পর “বেল্ট” হাতে ফিরলেন। কিছু না বলেই দৌড় দিয়ে এসে আমাকে পেঠাতে লাগলেন। অনেক ব্যাথা লাগছিল বেল্টের বাড়ি। শেষ পর্যন্ত না ঠিকতে পেরে আব্বুকে বললাম “প্লিজ, আব্বু, বেল্ট দিয়ে মাইরেন না, হাত দিয়ে মারেন!” পেক পেক পেক
৫
I burn the blanket of your specialty ( আমি তোমার স্পেশালিটির খেতা পুড়ি)
ক্লাশ টেনে একটা মেয়ের সাথে আমার এক আংকেল কাম টিচারের কাছে ইংলিশ প্রাইভেট পড়তাম। মেয়েটাকে আমার অনেক ভালো লাগতো। কিন্তু মেয়েটা সম্পর্কে আমার ভাগ্নি হয়। এইজন্য ওকে কিছুই মুখ ফোটে বলতে পারতাম না। যেদিন প্রাইভেট শেষ হয় সেদিন বিকেলে ওরে ফোন দিয়ে বলি “তোমাকে কেন জানি মিস করছি, কেন জানি তোমাকে অনেক স্পেশাল মনে হচ্ছে, কেন জানি..................” কথা শেষ হতে না দিয়েই মেয়টি বলে উঠলো “আল্লাহ, কেন জানি সবাই আমাকে এতো স্পেশাল ভাবে আমি বুঝি না”। কাজ হয় নাই দেখে ফোন রেখে দিলাম। মানসিক ভাবে কিঞ্ছিত আহত হয়ে বললাম “তোমার স্পেশালিটির খেতা পুড়ি”
বিকেলে মনটা অনেক খারাপ ছিল। নিজেকে বিচার করছিলাম। করতে করতে নিজের কিছু আজাইড়া কাজ ধরা পড়ল। কাজ না পেয়ে এইগুলা ঠুকে রাখলাম। ভাবলাম শেয়ার করি। দেখা যাক কি হয়।
খারাপ লাগলে বকা দিয়েন না প্লিজ।
নতুন বছরের শুভেচ্ছা।
পেক পেক পেক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


