somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সকাল বেলার ঝিঝি পোকা’র কিছু অনৈতিক অথবা “পেক পেক পেক” ঘটনা। পর্ব ১

০১ লা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




ভাইয়া, আমাকে একটু দিবা? আমি খাটাশ হবো

তখন মনে হয় ক্লাশ টু’তে পড়ি। হবিগঞ্জের একটা একাডেমীতে। যতদূর মনে হয় এইটা মাদ্রাসা টাইপ ছিল। মাথায় টুপি পড়ে যেতে হতো। অনেক বেশী পরিমানে ভদ্র ছিলাম তখন। তারপরেও নিসিদ্ব কিছুর ব্যাপারে কিভাবে জানি একটা আগ্রহ এসে যায়। একদিন ক্লাশে দেখলাম যে আমারই এক ক্লাশমেট কিন্তু বয়সে বড় ভাই কি যেন খাচ্ছে! তাকে বললাম যে “ভাইয়া, কি খাচ্ছ?” ভাইয়া বলল, কিছুনা। এইগুলা ভালো না। এইগুলা খেলে মানুষ খাটাশ হয়ে যায় (খাটাশ = খারাপ মানুষ জাতীয় কিছু)! তার এই কথা শুনে আমার এই জিনিসটা খেতে ইচ্ছে হলো। তখন ভাইয়াকে বললাম “ভাইয়া, আমাকে একটু দিবা? আমি খাটাশ হবো” এই কথা শুনার পর আমার দিকে ভাইয়ের চাহনিটা মনে পড়োলে আজো মজা লাগে!! পেক পেক পেক




মা, দরজা খুলো, বাথরুমে যাব

৫ম শ্রেনীতে পড়ার সময় একদিন ২য় সাময়িক পরীক্ষা চলাকালে প্রকৃতি আমাকে অনেক ডাকাডাকি করতেছিল। আমি না পারতেছি পরীক্ষা রেখে বাসায় আসতে না পারতেছি প্রকৃতির এই মধুর ডাককে অবজ্ঞা করতে। স্কুলের বাথরুম যাওয়ার মতো উপযুক্ত ছিল না বিধায় এই টেনশন মাথায় ভর করছিল। কি আর করা। কোনমতে পরীক্ষার খাতায় আকাবুকি কইরা রিকশা নিয়া বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইলাম। সেইসময়ের রিকশা ভ্রমণ ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে ভ্রমণ। একটা করে ঝাকি খায় আর আমার প্রানপাখি উড়ে যায় যায় অবস্থা। বাসার কাছাকাছি আসতে আমার অবস্থা করুন। সিড়ি দিয়ে ৩য় তলায় গিয়ে কলিং বেল বাজালাম। চিল্লাইতে লাগলাম “মা, দরজা খুলো, বাথরুমে যাব!” কিন্তু গেট খুলতে খুলতে কাজ ক্লীয়ার! বাসার সবাই তখন যে পরিমানে হাসাহাসি করতেছিল মন চাইছিল আল্লাহকে বলি "আল্লাহ আমারে উঠাইয়া নাও নাইলে দড়ি ফালাও, আমি বাইয়া উঠি" পেক পেক পেক




মা, এখন থেকে আমি সালমান শাহ আর তুমি মৌসুমী

তখন সালমান শাহ – মৌসুমির যুগ। সিনেমার ভক্ত ছিলাম অনেক। পড়া যত সম্ভব তাড়াতাড়ি শেষ করে ছবি দেখতাম মামা’র সাথে! মামার শর্ত ছিল “ছবি দেখতে হলে পড়া তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে” একদিন পড়া তাড়াতাড়ি শেষ করে “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবিটা দেখলাম। দেখা শেষ করে আম্মুকে বললাম “মা, এখন থেকে আমি সালমান শাহ আর তুমি মৌসুমী”! পেক পেক পেক




আব্বু, বেল্ট দিয়ে মাইরেন না, হাত দিয়ে মারেন

তখন ক্লাশ সিক্সে পড়ি। প্রথম সাময়িক পরিক্ষায় ৬২৭ পেয়েছিলাম। রেজাল্ট দেখে আব্বু বলেছিল পরেরটাতে রেজাল্ট যেন ভালো হয়। কিন্তু হায়! পরের পরিক্ষায় পেলাম ৬০৬ রেজাল্ট কার্ড আব্বুকে দেখাবো কি না চিন্তা করছিলাম। পরে নিজে নিজেই একটা অনৈতিক কাজ করলাম। আমাদের রেজাল্ট কার্ডে একপাশে ছিল নাম্বার আর এক পাশে ছিল টিচার আর অভিবাবকের সাইনের জায়গা। আমি নাম্বারের পাশটা কেটে নতুন একটা কাগজ এনে ইচ্ছেমতন নাম্বার বসিয়ে দিলাম। তারপর স্কচটেপ দিয়ে লাগিয়ে দিলাম। আব্বুকে দেখানোর পর উনি যখন জানতে চাইলেন ছেড়ার কারন তখন বললাম যে বন্ধুদের সাথে টানাটানি করতে গিয়ে ছিড়ে গেছে। আমার কর্ম আব্বু কিঞ্ছিত বুঝতে পেরে কাগজটা খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলেন। কিছু একটা বুজতে পেরে আমার সামনে থেকে চলে গিয়ে অন্য রুমে বগেলেন। কিছুক্ষন পর “বেল্ট” হাতে ফিরলেন। কিছু না বলেই দৌড় দিয়ে এসে আমাকে পেঠাতে লাগলেন। অনেক ব্যাথা লাগছিল বেল্টের বাড়ি। শেষ পর্যন্ত না ঠিকতে পেরে আব্বুকে বললাম “প্লিজ, আব্বু, বেল্ট দিয়ে মাইরেন না, হাত দিয়ে মারেন!” পেক পেক পেক




I burn the blanket of your specialty ( আমি তোমার স্পেশালিটির খেতা পুড়ি)

ক্লাশ টেনে একটা মেয়ের সাথে আমার এক আংকেল কাম টিচারের কাছে ইংলিশ প্রাইভেট পড়তাম। মেয়েটাকে আমার অনেক ভালো লাগতো। কিন্তু মেয়েটা সম্পর্কে আমার ভাগ্নি হয়। এইজন্য ওকে কিছুই মুখ ফোটে বলতে পারতাম না। যেদিন প্রাইভেট শেষ হয় সেদিন বিকেলে ওরে ফোন দিয়ে বলি “তোমাকে কেন জানি মিস করছি, কেন জানি তোমাকে অনেক স্পেশাল মনে হচ্ছে, কেন জানি..................” কথা শেষ হতে না দিয়েই মেয়টি বলে উঠলো “আল্লাহ, কেন জানি সবাই আমাকে এতো স্পেশাল ভাবে আমি বুঝি না”। কাজ হয় নাই দেখে ফোন রেখে দিলাম। মানসিক ভাবে কিঞ্ছিত আহত হয়ে বললাম “তোমার স্পেশালিটির খেতা পুড়ি”


বিকেলে মনটা অনেক খারাপ ছিল। নিজেকে বিচার করছিলাম। করতে করতে নিজের কিছু আজাইড়া কাজ ধরা পড়ল। কাজ না পেয়ে এইগুলা ঠুকে রাখলাম। ভাবলাম শেয়ার করি। দেখা যাক কি হয়।

খারাপ লাগলে বকা দিয়েন না প্লিজ।

নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

পেক পেক পেক
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×