ট্রেডিশনাল নাস্তিকরা বলে থাকে, ইউনিভার্সের কোন সৃষ্টিকর্তা নেই, কারণ তার শুরুই নেই এবং শেষও নেই। বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছেন খুব সোজা সাপ্টা ভাষায়, স্টিফেন হকিং এর মত পেচান নি। “Universe is just there and that’s it”। কথাটা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। আমরা যখন আমাদের চারপাশ দেখি এবং ভাবি তাহলে আমরা দেখব আমাদের এই বিশ্বজগতে কোন কিছুই এমনি এমনি হয় না, সব কিছুর পিছনে একটা কারণ আছে,
দর্শনের ভাষায় বলে “কার্যকরণ সুত্র” বা “law of causality”। যেমন-এই লেখাটা আপনি হয়ত পিসিতে বসে পড়ছেন, এই পিসিটা এমনি এমনিই হাজির হয়নি, সেটা কেউ তৈরি করেছে এবং এটা চালাতে ইলেকট্রিসিটি লাগে। ইলেকট্রিসিটি এমনি এমনি পাওয়া যায় না, তাকে টারবাইন ঘুরিয়ে উৎপাদন করতে হয়। টারবাইন বেচারাকেও কষ্ট করে কোন মেকানিক্যাল ফোর্স দিয়ে ঘুরাতে হয়। সে ফোর্স আবার এমনি এমনি আসবে না, সেটা আসবে তেল-গ্যাস জ্বালিয়ে … এটা একটা চেইনের মত, প্রত্যকটি ঘটনা(effect) এর পিছনে একটি কারণ (cause) থাকে।
ট্রেডিশনাল নাস্তিকরা এটা অস্বীকার করে না, তারাও স্বীকার করে সবকিছুর পেছনে কারণ থাকে। কিন্তু তাদের যে দাবিটি ত্রুটিপূর্ণ তা হল, কারণ(cause) এবং ঘটনা(effect) এর এই চেইনটির পেছনের দিকে যেতে থাকলে তার কোন শেষ নেই অর্থাৎ অসীম, এই চেনের কোন শুরু বা শেষ নেই। আসলে কি এটা সম্ভব ? আমাদের চারপাশে যা দেখি সবকিছুরই শুরু আছে, অনাদি থেকেই exist করে বসে আছে এমন কিছুই আমাদের নেই, কারণ প্রতিটি বস্তুর অস্তিত্ব অন্য কোন কিছুর উপর নির্ভরশীল।
তাই ইউনিভার্সের শুরু নেই ধারণাটি আমাদের কার্যকরণ সুত্রকে লঙ্ঘন করে। আমরা আরও যদি দেখি তাহলে দেখব যা কারণ এবং ঘটনার যে চেইনকে নাস্তিকরা অসীম বলছে তা কি আদৌ সম্ভব? ধরি, একটি অসীম(infinite) সংখ্যক সৈন্যের একটি লাইন। নিয়মটা এমন, যে প্রত্যেক সৈন্য তার ডান পাশের সৈন্যের নির্দেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত গুলি করবে না, পাশের সৈন্যটিও তার ডান পাশের সৈন্যের নির্দেশ পেলে গুলি করবে না, পাশেরটিও তার পাশের সৈন্যের অপেক্ষায় বসে আছে … এভাবে এই অপেক্ষা চলে যাবে অসীম পর্যন্ত … … … প্রশ্ন হল, কোন সৈন্যের কাছে কি আদৌ গুলির নির্দেশ পৌছবে ? পৌছবে না, কারন এটি অসীমে চলে যাবে, তাই ঘটনাটিই ঘটবে না। ঠিক একইভাবে আমাদের ইউনিভার্সের ক্ষেত্রেও।
সব কিছুর পেছনে একটি কারণ আছে, সে কারণের পেছনে আরেকটি কারণ আছে, তার পেছনে আরেকটি কারণ … এভাবে অনেকদূর চলে যেতে পারে কিন্তু অসীমে যেতে পারবে না, কারণ অসীমে চলে গেলে এই চেইনের শুরুই পাওয়া যাবে না, বর্তমান ঘটনাগুলো ঘটবে না, বা ঘটতে লাগবে অসীম সময়, অসীম সময়ের পরের ঘটনা ঘটে না? বাস্তবজগতে অসীম বলে কিছু নেই, এটি একটি সুপ্ত(potential) ধারণা, বাস্তব (actual) ধারণা নয়। তাই ইউনিভার্সের একটি শুরু আছে, শুরু না থাকলে এই কারণ-ঘটনা-কারণ এই চেইনের অস্তিতে আসাই সম্ভব নয়, ইমাম গাজ্জালি পুরো ব্যাপারটালে লিখেছেন অনেকটা এই ভাবে,
১।কোন কিছু যখন অস্তিত্বে আস্তে শুরু করে তার পেছনে একটি কারণ থাকে, এমনি এমনি কিছু হয় না। (whatever begins to exist has a cause) ২।ইউনিভার্সের শুরু আছে। (universe began to exist) ৩।তাই ইউনিভার্সের পেছনে কারণ আছে। (so, universe has a cause) আমরা যেহেতু আগে প্রমান করেছি কারণ এবং ঘটনার সম্পর্কের যে চেইন তার একটি শুরু আছে, যেহেতু তার শুরু আছে, তাই শুরুতে যা আছে তার পেছনে কিছু নেই, অর্থাৎ এমন একটি কারণ থাকতেই হবে যার পেছনে আর কোন কারণ নেই,
ধরি সে কারণটি হল X, এর পেছনে কোন কারণ নেই (uncaused cause)। যেহেতু ইউনিভার্সের পেছনে কারণ আছেই, তাই এই ‘X’ ইউনিভার্স নয়। এই প্রথম কারণটি এমন কিছু যা অবশ্যি তাই ইউনিভার্সের মতও নয় (ইউনিভার্সের মত হলে তার কারণ থাকবে), এই কারণটির (X) পেছনে কোন কারণ নেই তাই সেটি সেটি স্বনির্ভর এবং তার কোন শুরু নেই এবং যেহেতু সেটি সবসময় অস্তিত্বে ছিল (ever-existing) তাই অন্যসব কিছুই সেটি থেকে এসেছে এবং তাই সেটিই হল সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। কুরআনে আল্লাহ পাক নিজের পরিচয় প্রকাশ করেছেন এইভাবে, “বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।“ [TMQ ১১২] আল্লাহ আরও চলেছেন, তারা কি আপনা-আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? না তারা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করে না। [TMQ ৫২:৩৫] খুব সহজ-সরল যুক্তি, নাস্তিকদের ‘নবী’ রিচার্ড ডকিন্সের মত জটিল নয় ! ইউনিভার্স নিজে নিজেকে সৃষ্টি করতে পারে না, এমনি এমনিও আসতে পারে না, সৃষ্টিকর্তা ছাড়া সেক্ষেত্রে আর কিভাবে ইউনিভার্স আসতে পারে ??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


