ফাটকা খেলা বড়ই বিপজ্জনক
আবু আহমেদ
শুধু শেয়ারবাজার কেন, অন্য সদের ক্ষেত্রেও েঙ্কুলেটিভ বাবল বা জল্কপ্পনার মাধ্যমে মহৃল্যকে অতি মাত্রায় চড়িয়ে দেওয়া বিপজ্জনক। এটা ঠিক, েঙ্কুলেশন বা ভবিষ্যতের জল্কপ্পনা ছাড়া কোনো বাজারই হয় না। বরং এটা বলা চলে, যে বাজারে যত বেশি েঙ্কুলেশন, সেই বাজার ততই খেলোয়াড়দের কাছে আকর্ষণীয়। তেলের বাজারে েঙ্কুলেশন আছে, স্ট্বর্ণের এবং অন্য ধাতবের বাজারেও তা আছে, মুদ্রার বাজারে আছে, রিয়েল এস্দ্বেট বা ঘর-বাড়ির বাজারে আছে, দ্রব্যের বাজারে তো আছেই। েঙ্কুলেশনের মাধ্যমে ত্রেক্রতা-বিত্রেক্রতা বেশি লাভ করে। েঙ্কুলেশন থেকে বাবল বা বুদ্বুদের জন্ম হয়। মহৃল্যের বেলুন ফুলতে থাকে। একদিন সেই বেলুন ফেটে যায়। তখন শুরু হয় মাতম- হায়! কী হলো, কী হলো চিৎকার। শুরু হয় দোষারোপের পালা। শেষ পর্যন্স্ন দোষ দিয়ে আর মাতম করে কোনো লাভই হয় না। এক পর্যায়ে সবকিছু শান্স্ন হয়ে যায়। তবে বাবলের ফুটে যাওয়া অবস্টা থেকে এক পক্ষ লাভবান হয়, অন্য পক্ষ ক্ষতিগ্রস্টস্ন হয়।
লাভ-ক্ষতিটা কত হবে, সেটা অন্য অনেক উপাদানের ওপর নির্ভর করে। কখনো কখনো বাবলের উবে যাওয়ার ব্যাপারটা অন্য বাজারেও ছড়িয়ে পড়ে, যেমন করে যুক্তরাষ্দ্ব্রের রিয়েল এস্দ্বেটের বাবল ফুটা হয়ে সেই ফল অন্য বাজারেও ছড়িয়ে পড়ছে। আসলে আর্থিক বাজারগুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। সেই অর্থে প্রকৃত সদের বাজারগুলোও। এটা হতেই পারে না যে, শেয়ার স্দ্বকের বাজারে আগুন লাগল, আর তার খারাপ ফল মুক্তবাজারসহ স্ট্বর্ণ ও তেলের ভবিষ্যৎ বাজারে পড়বে না। তেলের ভবিষ্যৎ বাজারটার ঘটনা অতি সা্রতিককালের। আগে তেলের ব্যবসাটা শুধু তেল উৎপাদনকারী, বিপণন কোানি এবং অর্থ জোগানোর কোানিগুলোর মধ্যে সীমাবদব্দ ছিল। পণ্যের ভবিষ্যৎ বেচাকেনার বাজার সব সময়ই ছিল। স্দ্বক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা পণ্যের এক্সচেঞ্জও চালু ছিল। তবে স্দ্বক এক্সচেঞ্জে স্দ্বকগুলো ত্রেক্রতা দেখতে পেত, ব্রোকারদের থেকে বুঝে নিত। কিন্তু পণ্যের বেচাকেনার ক্ষেত্রে পণ্যকে সুটকেসে ভরে কেউ বুঝে নিতেন না। পণ্য থাকত গোডাউনে বা গুদামে, বেচাকেনা হতো এক্সচেঞ্জে।
নগদ ডেলিভারির জন্যও বেচাকেনা হতো, আবার ভবিষ্যৎ বেচাকেনার জন্যও বেচাকেনা হতো। শেয়ার বা স্দ্বকের ক্ষেত্রেও দুটো বাজার ছিল এবং আছে- একটি হলো এখন ডেলিভারি বা সরবরাহ দেওয়ার বাজার, অন্যটি হলো ভবিষ্যতে সরবরাহ দেওয়া হবে, তার ভিত্তিতে বাজার। ভবিষ্যৎ বাজারের ক্ষেত্রেই েঙ্কুলেশন বা জল্কপ্পনাটা বেশি থাকে। জানুয়ারি-আগস্দ্ব সময়ে যে ত্রুক্রড তেলের মহৃল্য ব্যারেলপ্রতি ১৪০ ডলার পর্যন্স্ন পৌঁছেছিল, এটা পৌঁছল তেলের ভবিষ্যৎ বাজারে এবং এই বাজারের কারণে। আজকে তেলের মহৃল্য যখন ব্যারেলপ্রতি ৭৭ ডলার, তখন যারা ১৪০ ডলারে কিনেছিলেন, তারা অবশ্যই লোকসানের সল্ফুখীন হবেন। সদের বাজারগুলোতে হার-জিতের বিষয়টি আছেই। এটাকেই বলা হয় ঝুঁকি। লাভ যত বেশি, ঝুঁকিও তত বেশি। আজ তেলের ব্যারেল ১৬০ ডলারে উঠলে অবশ্যই যারা ১৪০ ডলারে কিনেছিলেন, তারা লাভবান হতেন। বাবল সৃষ্দ্বি করা কিছু লোকের কাজ। যুক্তরাষ্দ্ব্রের শেয়ারবাজারে বাবল সৃষ্দ্বি করা হয়েছিল ১৯৯৮-২০০০ সময়ে। ওই সময় টেকনোলজি শেয়ারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় ২০০ গুণে বিত্রক্রয় হচ্ছিল, যা ছিল অবিশ্বাস্য। কিন্তু ধারণাটা এমন দেওয়া হয়েছিল যে, শেয়ার-স্দ্বক কিনলেই লাভ হয়! তাই তো হাজার হাজার নতুন লোক এই বাজারের ত্রেক্রতা হতে আসেন ঠিক ওই দিনগুলোতে। কিন্তু ২০০১-২০০২-এ তাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরতে শুরু করে; বাবল ফুটতে শুরু করে।
টেকনোলজি স্দ্বকসহৃচি গড়ে ৫০০০ পয়েন্ট থেকে মাত্র কয়েক দিনে ৩০০০ পয়েন্টে চলে আসে। সেখানেও অবস্টায় স্টির থাকেনি। দফায় দফায় সহৃচক পড়ে পরে ১০০০-এ চলে আসে। মাত্র ৬ মাস আগেও যারা ১০ বিলিয়ন ডলারের মালিক ছিলেন, তাদের অ্যাসেটমহৃল্য কমে দাঁড়ায় ২ মিলিয়ন ডলারে। সেই সহৃচি পরের ৬ বছরে একটু একটু করে বেড়ে ২০০০ পয়েন্টকে অতিত্রক্রম করে। তবে অক্টোবরের আর্থিক সংকটের সময় অন্যান্য সহৃচকের মতোই এর দ্রুত পতন ঘটে। শেয়ারবাজারে মহৃল্যের উত্থান-পতন হবেই। শেয়ারের মহৃল্য আয়, ব্যবস্টাপনার ধরন এবং মুনাফা বিতরণসহ অন্য অনেক উপাদানের ওপর নির্ভর করে। প্রতিযোগী আর্থিক খাত থেকে প্রাপ্য মুনাফাও শেয়ারমহৃল্যকে প্রভাবিত করে। সেজন্যই সুদের হার কমে গেলে বাজারে শেয়ার-স্দ্বকের মহৃল্য বাড়ে। স্ট্বর্ণের মহৃল্য বৃদিব্দ পেলে বা বৃদিব্দ পাওয়ার সল্ফ্ভাবনা দেখা দিলেও শেয়ারের মহৃল্য কমতে পারে। তবে একসঙ্গে সব সদের মহৃল্যও বাড়তে পারে, যদি অর্থনীতি উচ্চ প্রবৃদিব্দতে থাকে। শেয়ার-স্দ্বকের মহৃল্যের ওঠানামা থেকে সবাই সমানভাবে উপকৃত হন না, আবার ক্ষতিগ্রস্টস্নও হন না। কে কতটা ক্ষতিগ্রস্টস্ন হবেন, সেটা নির্ভর করছে ফান্ড ব্যবস্টাপনার দক্ষতার ওপর। লাভের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি সত্য। ওয়ালস্দ্ব্রিটের পতন থেকে এক পক্ষ আরো ধনী হয়েছে, অন্য পক্ষ ঋণগ্রস্টস্ন হয়েছে। সুদ, েঙ্কুলেশন, ভবিষ্যৎ মহৃল্যের বর্তমান বাজার- এসব হলো সঙ্দ এক হস্টস্ন থেকে অন্য হস্টেস্ন কেন্দ্রীভূত হওয়ার ভালো উপকরণ। তবে বাবল ত্রক্রাশের খেলায় সাধারণত ধনীরা আরো ধনী হন। মধ্যবিত্তের সঙ্দ শেষ পর্যন্স্ন ধনীদের অ্যাকাউন্টে গিয়ে হাজির হয়। গ্রিড েঙ্কুলেশন হলো মানুষকে সঙ্দ আহরণের দৌড়ে নামিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রিজ। ওয়ালস্দ্ব্রিট বা সামগ্রিকভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে যেসব ঘটনা ঘটে গেল বা সামনেও ঘটতে পারে, সেগুলোর সহৃত্রপাত হয়েছে অতি স্ট্বাধীনতার বাজার থেকে। কেউ রেগুলেট করার ছিল না, রেগুলেট করার লক্ষ্যে কোনো আইনও তৈরি করতে দেওয়া হয়নি। ডিরাইভেটিভ্স (উবৎরাধঃরাবং) নামের আর্থিক সঙ্দগুলো অবাধে বেচাকেনা হয়েছে। যে সদের মহৃল্য যেটা হতে পারে না, সেই সদের কাগজ বিত্রিক্র হয়েছে অনেক বেশিগুণ মহৃল্যে। আর এখন সেই কাগজগুলোর মহৃল্য পড়তে শুরু করেছে। যেসব ব্যাংক ওইসব কেনাবেচায় অর্থ জুগিয়েছে, সেসব ব্যাংকও ঋণগ্রস্টস্ন বা কুঋণের ভারে জর্জরিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, লোকসান দেওয়ার কারণে মানুষ নতুন ঋণও নিতে চাচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্দ্ব্রের অর্থনীতি একটি স্টবিরতার দিকে যাচ্ছে। সেই স্টবিরতা এখন ইউরোপ-এশিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়ছে। ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থ দিয়ে বুশ-ব্রাউন চেষ্দ্বা করে চলেছেন আর্থিক জগতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় ব্যবসা শুরু করাতে। কিন্তু শেষ পর্যন্স্ন সাফল্য এলেও পুরো সাফল্য আসবে না। তাদের হাউজিং এবং আর্থিক বাজার পহৃর্বের অবস্টায় ফিরে যেতে ৫-৬ বছর তো লাগবেই, আরো বেশিও লাগতে পারে। বাংলাদেশের আর্থিক বাজার অতি সীমিত। তবুও শগ্ধকা এজন্যই যে, অনেক বিনিয়োগকারী না বুঝে শেয়ার কিনছেন। একবার ভেবে দেখুন, আপনি কোন কোানির শেয়ার কত মহৃল্যে কিনছেন। বাজারে ১ টাকা, ১০ টাকা, ১০০ টাকা এবং ১০০০ টাকা মহৃল্যের শেয়ার আছে। অনেক কোানির কোনো আয় নেই, ব্যাংকের সুদও দিতে অক্ষম। এমতাবস্টায় আপনারা যারা ইস্যুমহৃল্যের ১০ গুণ বেশি দিয়ে ওইসব শেয়ার কিনছেন, তারা কি করে ভাবেন শেষ পর্যন্স্ন আপনারা জয়ী হবেন? আপনারা যদি ভাবেন, অন্য অনেক বোকা আপনাদের থেকে ১০ টাকা মহৃল্যের শেয়ারকে ১৭০ বা ২০০ টাকায় কিনে নেবে, তাহলে ভুল করছেন। বাংলাদেশ অর্থনীতিতে কোনো শেয়ার কি আয়ের ১৫০ গুণে বিত্রিক্র হতে পারে? কিন্তু সেটাও ঘটছে।
যারা জেলা শহরে বসে শুধু সস্টস্নায় অনেক শেয়ার পাচ্ছেন বলে উঁচু মহৃল্যে ‘ু’ গ্রুপের শেয়ার কিনছেন, তাদের লোকসানের হারটা আরো বড় হবে। বিনিয়োগের ব্যাপারটা অনেক ভাবনা এবং হিসাবের বিষয়। েঙ্কুলেশনের পেছনে না দৌড়ে কোানির আয়ের দিকেও একটু নজর দিন।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



