দুদক, থামলে ভালো লাগে
ড. রোজোয়ান সিদ্দিকী
বাংলাদেশের সর্বনাশের পথ প্রশস্ত করার জন্য বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন তার মধ্যে একটি। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতায় আসীন হওয়া বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করে একেবারে প্রথম থেকেই। ক্ষমতার মদমত্ততায় কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই তারা জোর করে একের পর এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত হয়। তারা নির্বাচন কমিশন থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন পর্যন্ত প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান তছনছ করে ফেলে। এসব প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা শিক্ষাদীক্ষায় মানমর্যাদায়, সামাজিক অবস্থানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের চেয়ে বহু গুণ ঊর্ধ্বে ছিলেন। এসব সম্মানিত ব্যক্তিকে তারা দায়িত্ব থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে শুরু করেন। আমরা তখনই সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম যে, এভাবে একের পর এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেয়ার পরিণাম ভালো হবে না। এসব পদক্ষেপ দেশে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করবে। সে সতর্কবাণীতে কান দেয়নি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এখন প্রমাণিত হয়েছে, এসব সাংবিধানিক পদ থেকে অভিজ্ঞ, দক্ষ, সম্মানিত ব্যক্তিদের তাড়িয়ে যাদের বসানো হয়েছে, তারা অপরিণামদর্শী, বিবেকহীন ও আনাড়ি। এরা সঙ্কট মোচন তো করতে পারেইনি, বরং সঙ্কট বহু গুণে বাড়িয়ে তুলেছে।
এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করেছে। সে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ছিল নিষ্ঠুর ও জবরদস্তিমূলক। কমিশনের প্রধানসহ অন্য সদস্যদের জবরদস্তিমূলকভাবে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। তারপর আসীন করা হয় বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে। এই কমিশন প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত এক দিনের জন্যও নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। বরং তাদের বক্তব্যে বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাত নির্লজ্জভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তারা রাজনৈতিক দল ভাঙার সরকারি অপপ্রয়াসের সাথে হাত মিলিয়ে প্রমাণ করেছে, স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনোরূপ যোগ্যতা তাদের নেই। বরং সরকারের নির্দেশ পালনেই তারা অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ফলে বাংলাদেশে এত বিতর্ক কোনো নির্বাচন কমিশন নিয়ে ওঠেনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এমনকি নির্বাচনের তারিখও ঘোষণা করে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নন। এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারও তাদের এখতিয়ারের সীমারেখা মেনে চলেনি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনসংক্রান্ত সব কাজের এখতিয়ার চলে যায় সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের হাতে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান নিজেই জানিয়ে দিলেন, নির্বাচন ১৮ ডিসেম্বরই অনুষ্ঠিত হবে। অথচ তার আগের দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, ২৮ ডিসেম্বরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনী তফসিল পুনর্নির্ধারণ করতেও তিনি প্রস্তুত আছেন। কিন্তু হোসেন জিল্লুরের ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে পারেননি প্রধান নির্বাচন কমিশনার। যা-ই হোক, শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর করার ঘোষণাটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার দিতে পেরেছেন। এ জন্য তাকে এই প্রথমবার একটা শাবাশি দিতেই হয়। জবরদস্তিমূলক কায়দায় সরকার ভেঙে দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পাবলিক সার্ভিস কমিশন। এরপর তার চেয়ারম্যান হিসেবে সরকার নিয়োগ দিয়েছে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সা’দত হুসেনকে। আমলা হিসেবে তার দক্ষতা যা-ই থাকুক না কেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি এক লেজেগোবরে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। ২৭তম বিসিএস নিয়ে তিনি তুঘলকি কাণ্ড করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার কোনো নজির পাওয়া যাবে না। উপরন্তু যেসব দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ সিনিয়র মন্ত্রীরা পর্যন্ত জেল খেটেছেন, যেসব মামলায় অন্যতম প্রধান আসামি হওয়ার কথা ড. সা’দতের। কিন্তু তিনি ভাগ্যবান ও সম্ভবত ক্ষমতাধর ব্যক্তি। জেল তো তাকে খাটতে হয়ইনি, উপরন্তু পুরস্কার হিসেবে তাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের লাভজনক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে যোগদানের আগে তিনি পূর্ববর্তী প্রধান নির্বাচন কমিশনার সম্পর্কে নানা কটূক্তি করে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিবেকবান মানুষ হলে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলার দায়দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি পদত্যাগ করতেন। কী ভালো মানুষ এই ড. সা’দত হুসেন!
গত দুই বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষতি করেছে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক পুনর্গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে এই দুদক রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অভিযোগ এনে তাদের জেলে পুরে এবং তাড়া করতে শুরু করে ‘পাগলা কুকুরের’ মতো। দুদক’র নবচেয়ারম্যান সাফফান সাফফা চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধূরী ক্ষমতা হাতে পেয়ে ঘোষণা করেন যে, দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালদেরই শুধু ধরা হবে না, বরং চুনোপুঁটিরাও রেহাই পাবে না। তারপর গোটা দেশের ওপর একেবারে হামলে পড়ে এই দুদক। পৃথিবীতে দুর্নীতিমুক্ত কোনো সমাজ নেই। দুর্নীতি নির্মূল করা যায় না। নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই সামান্য ধারণাও দুর্নীতি দমন কমিশনের আছে বলে মনে হয়নি। কোথায়ও দুর্নীতির মাত্রা বা অঙ্ক কম, কোথায়ও বা বিশাল। আমাদের ছোট অর্থনীতির দেশ, এখানে দুর্নীতির মাত্রা কম। এখানকার আরদালি বা পুলিশ ১০-২০ টাকা ঘুষ খায়। কিন্তু বড় অর্থনীতির দেশে ঘুষ লেনদেন হয় হাজার হাজার কোটি টাকায়। দুর্নীতি দমনের নামে বাংলাদেশে যে কেয়ামত নিয়ে আসা হয়েছে, পৃথিবীর কোনো দেশে কখনো এমন কাণ্ড ঘটেনি। কমিশন এমন একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছে যে, বিত্তবান মানে দুর্নীতিবাজ, যেন দুর্নীতি ছাড়া সৎ কোনো পথে টাকা উপার্জন একেবারেই অসম্ভব। ফলে, কার কোথায় টাকা আছে, কার বাড়ি-গাড়ি আছে, ব্যাংকে সঞ্চয় আছে, পাকড়াও করো সব বেটাকে। যেন বাংলাদেশকে ফকিরনীর দেশ বানানোর এক প্রাণান্ত অভিযান।
লোকে কেন দামি গাড়িতে চড়বে? আটকাও গাড়ি। লোকে কেন ভালো বাড়িতে থাকে, তালা ঝোলাও ও বাড়িতে। লোকের কেন শিল্পকারখানা থাকবে? নাও ব্যাটার সম্পদের হিসাব। মনে হলো, সব পদক্ষেপ নেয়া হলো, ইতর ঈর্ষাপরায়ণতা থেকে। আমার মার্সিডিজ গাড়ি নেই, আর একজনের থাকবে কেন। ক্ষমতা হাতে পেয়েছি। হঠাও সব।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একশ্রেণীর মিডিয়া মতলবি মদদ দিয়ে যেতে থাকল। তারা বিভিন্ন রাজনীতিক-ব্যবসায়ী-শিল্পপতির মনগড়া দুর্নীতির কাহিনী প্রচার করতে শুরু করল। আর সে সব কাহিনীকে ভিত্তি করে দুদক হানা দিতে শুরু করল। কোনো তথ্যপ্রমাণের তোয়াক্কা তারা করল না। আটক হলো যেমন হাজার কোটি টাকার মালিক। তেমনি রেহাই পেলো না লাখপতিও। ফলে দেশজুড়ে এক বিশাল আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো।
এই কাণ্ডজ্ঞানহীন অভিযানের শুরুতেই আমরা বলেছিলাম, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। আমরা বলেছিলাম, এই অভিযানে দেশের বিনিয়োগ ক্ষেত্রে বিপর্যয় ঘটবে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হবে। কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে। কালো টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাবে। নতুন করে কেউ ছোটখাটো শিল্পকারখানা স্থাপনেও উদ্যোগী হবে না। এর প্রতিটি কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে। গত দু’বছরে দেশে বিনিয়োগ হয়নি, নতুন কলকারখানা স্থাপিত হয়নি। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা। বেকারত্ব বেড়েছে, দারিদ্র্য বেড়েছে। নতুন করে ১০ শতাংশেরও বেশি মানুষ চলে গেছে দারিদ্র্য সীমার নিচে।
তবে এ বিষয়ে একটা জিনিস লক্ষণীয়। তথাকথিত দুর্নীতি দমন অভিযানে দুদক রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের বিরুদ্ধে যে রকম পদক্ষেপ নিয়েছে, আমলাদের বিরুদ্ধে সে রকম কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। রাজনীতিকদের ফাঁসানোর জন্য মামলার পর মামলা দিয়েছে দুদক। যেনতেন প্রকারে সাজানো এসব মামলায় উচ্চতর আদালত থেকে জামিন পেলে, মুক্তির দিন দুদক নতুন মামলা দিয়েছে, যা মামলায় জামিন পেলে নতুন মামলা যেন জিঘাংসার বশবর্তী হয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে দুদক। এসব ক্ষেত্রেও দুদক বুঝতে চায়নি যে, আমলাদের সহযোগিতা ছাড়া রাজনীতিকদের পক্ষে দুর্নীতি করা অসম্ভব ব্যাপার।
সে চিত্র দেখা গেল ট্রুথ কমিশনে। সরকার ট্রুথ কমিশন গঠন করেছিল, রাজনীতিকদের কাছ থেকে দুর্নীতির স্বীকৃতি আদায়ের জন্য। আশা করেছিল এই কমিশনে এসে রাজনীতিকরা বলবেন, আমি অত টাকা দুর্নীতি করেছি। আমি পাকা চোর অতিশয়। না, ট্রুথ কমিশনে কোনো রাজনীতিক এসে বলেননি যে, তিনি চোর। ট্রুথ কমিশনে এ পর্যন্ত ৪৭৯ জন অনুকম্পা লাভের জন্য আবেদন করেছেন। তার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রীই আছেন ৪১৩ জন। ৩৬৪ জন সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রী ৪১ জন। ২৯ জন ব্যবসায়ী ও ৩৫ জন অন্য পেশার মানুষ।
দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের এই বিশাল কাফেলা সাফফান সাফফা দুদক’র দৃষ্টি এড়িয়ে গেল কেন? এরা সরকারকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা দিয়ে নিজেদের বাকি টাকা হালাল করে নিতে পারবে। এ থেকেও প্রমাণিত হয় যে, দুর্নীতি দমন দুদক’র উদ্দেশ্য নয়, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের হেয় প্রতিপন্ন করা ও ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্প ধ্বংস করাই হয়ে দাঁড়িয়েছে দুদক’র মূল্য লক্ষ্য। তার প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। দেশে ক্যাপিটাল মেশিনারির আমদানি কমেছে। কিন্তু অন্যান্য পণ্য আমদানি বেড়েছে। ২০০৬ সালে মোট আদায় ছিল ১৭ বিলিয়ন ডলারের কিছু ওপরে। ২০০৮ সালে সে আমদানি দাঁড়িয়েছে ২৩ বিলিয়ন ডলারের ওপর। মাত্র দুই বছরে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য বেশি আমদানি হয়েছে। তার অর্থ সরকার ও দুদক’র সম্মিলিত প্রয়াসের ফলে বাংলাদেশ বিদেশীদের বাজারে পরিণত হতে যাচ্ছে। তবে দুদক’র দায়ের করা খামখেয়ালি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন রাজনীতিবিদরা। কিন্তু দুদক রাজনীতিকদের দমনের মিশন সম্ভবত এখন পর্যন্ত বাদ দেয়নি। তারা শিক্ষাও নেয়নি তাদের অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ড থেকে। সে কারণে এখনো নতুন করে রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেই যাচ্ছে।
কিন্তু কী নৈতিক শক্তি আছে দুদক চেয়ারম্যানের? তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ এনেছেন সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান। দুর্নীতির অভিযোগটি তো তিনি স্বীকারও করেছেন। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কোড ভঙ্গ করে তিনি বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরি করেছেন। তার নিজের বাড়িকে বৈধতা দেয়ার জন্য সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় জরিমানা দিয়ে অবৈধ স্থাপনা বৈধ করার ব্যবস্থা করেন তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। তারপর অবৈধ বাড়িটি বৈধ করার জন্য তিনি নিজের করা আইনে আড়াই লাখ টাকা জরিমানাও দিয়েছেন। তা হলে কোন নৈতিক শক্তির বলে তিনি এখনো আঁকড়ে আছেন দুদক চেয়ারম্যানের পদ। কোন নৈতিক বলে তিনি একের পর এক দুর্নীতির মামলা দায়ের করে যাচ্ছেন রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে?
আবার এই হাসান মশহুদ চৌধূরী সেনাপ্রধান হিসেবে ট্রাস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে ৩৫ কোটি টাকা পুঁজির ২৩ কোটি টাকাই লোপাট হয়ে যায়। ব্যাংক এখন বলছে, ব্যবসা করতে গিয়ে ব্যাংক ওই টাকা লোকসান দিয়েছে। সে লোকসান অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে তিনি ধোয়া তুলসি পাতা হয়ে গেছেন। কিন্তু তার নেতৃত্বে পরিচালনার সময় ব্যাংক যে লোকসান দিয়েছে, তাতে রাষ্ট্রের ২৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগে সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা জেল খেটেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের ক্ষতি করার দায়ে দুদক চেয়ারম্যান কেন বাইরে থাকবেন। তিনি কেমন করে এখন আঁকড়ে আছেন দুদক চেয়ারম্যানের পদ। আমরা তো মনে করি নৈতিকতার স্বার্থেই তার অবিলম্বে দুদক চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেয়া উচিত।
কিন্তু সরকার বা দুদক’র কাছে এসব নৈতিকতার কোনো মূল্য নেই। মূল্য যদি থাকত তাহলে সারাদেশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে কোটি কোটি লোককে পথে বসাতেন না। এক দিকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারী একজনকে দুদক’র চেয়ারম্যান পদে বসিয়ে পুরস্কৃত করবেন, অন্য দিকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে সেই স্থাপনা ভেঙে দেবেন, তা কেমন করে হয়। তবে অন্যদেরও জরিমানা দিয়ে বৈধ করে দেয়া হলো না কেন? সুতরাং বড় বড় কথা বলা, আর তথাকথিত দুর্নীতির মামলা জারি থেকে আমরা সরকার ও দুদককে বিরত থাকতে বলি।
আমরা বলতে চাই, এসব কাজ এখন আর আপনাদের মানায় না। ঢাকা শহরের অনেক ট্রাক-বাসের পেছনে লেখা দেখি, থামলে ভালো লাগে। আমরা সরকার ও দুদককে বলতে চাই, ব করুন এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা। কারণ সে নৈতিক অবস্থান আর আপনাদের নেই। তাই, থামলে ভালো লাগে।
লেখকঃ সাংবাদিক সাহিত্যিক
ই-মেইলঃ [email protected]। (সূত্র, নয়া দিগন্ত, ২৬/১১/২০০৮)
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


