প্রতিক্ষীত নির্বাচন এবং কিছু প্রত্যাশা
শরীফ নজমুল
নির্বাচনী মহাসড়ক কিছুটা হলেও মসৃন হতে শুরু করেছে। যখন ঘোষনা দেয়া হল যে আমরা ইতিমধ্যেই নির্বাচনী মহাসড়কে উঠে গেছি, অবাক হয়ে লক্ষ্য করা গেল যে প্রায় দুই বছরের প্রানান্তকর চেষ্টায় তৈরী এই মহাসড়ক খানা-খন্দক আর চোরাবালিতে ভরা। জরূরী অবস্থা বহাল রাখা, গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিতর্কিত ধারা বজায় রেখে দল গুলিকে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার এক সাথে দুই মেয়ে অপাত্রে হলেও বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হওয়ার মত উপজিলা নির্বাচন কে সংসদ নির্বাচনের লেজে বেধে দেয়া প্রভৃতি বাধায় এই সড়ক শেষ পর্যন্ত নির্বাচন পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে বলে মনে হচ্ছিল না। এক জোটের তপশীল প্রত্যাখান এবং অন্য জোটের একাই নির্বাচন করার অতি আকাংখা দেখে একটি অগ্রহনযোগ্য একপক্ষীয় নির্বাচন এবং আবশ্যাম্ভাবী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপট তৈরীর আশংকা দেখা যাচ্ছিল। তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের শেষ সময়ের দৌড়-ঝাপ আর নিস্ফল আস্ফালন দেখে সবার অংশগ্রহনে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন করতে পারার ইচছা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। কোন কোন সুশীল ব্যক্তি সংবিধানের দোহাই দিয়ে একটি পক্ষকে বাদ দিয়েই নির্বাচন করে ফেলার জন্য জাতির বিবেকের কাছে বোদন শুরু করে দেন। এ যেন সেই কৌতুকের মত যখন উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া লাশ দেখে কেউ মন্তব্য করে যে মরে গেলে কি হবে, চোখটা বেঁচে গেছে। তেমনি ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে না পারাটা সংবিধান লঙ্ঘন নয় কিন্ত ঘোষিত ১৮ই ডিসেম্বর ২০০৮ এর নির্বাচন করতে না পারলে সংবিধান আর রক্ষা করা যাবে না। সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ। যা হোক, শেষ পর্যন্ত সর্বশেষ ঘোষিত তপশীলে দুই দলের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আপাত দৃষ্টিতে শান্তির বাতাস তৈরী করেছে। বহুল প্রতিক্ষীত এই নির্বাচন নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ উৎসব মুখর। নিত্যদিনের বঞ্চনা নিয়ে কোন অভিযোগ নেই, অল্পতেই তুষ্ট। নেতাদের প্রবঞ্চনা, কথা না রাখা কিংবা দুর্ণীতিতে নিমজ্জিত হওয়ার পরও আমরা আশায় বুক বাধি। ভাবি নেতাদের খাওয়া শেষ হয়েছি, এবার নিশ্চয় আমাদের দিকে তাকাবেন। আমরা আবারো ভোট দেই, কখনও পুরাতন জনকে পুনঃনির্বাচিত করি, কখনও নতুন নেতাকে ভোট দিয়ে জানিয়ে দেই যে আমরাও পরিবর্তন চাই। আবার কখনো নেতারা আমাদের ভোট কেড়ে নেন, তবুও আমরা আশা করি যে তারাই আমাদের উন্যয়নের পথে চালিয়ে নেবেন। নিজেরা কিছু খাবেন আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে উচ্ছিষ্ট গুলো আমাদের দিকে দিবেন, তাতেই আমরা ধন্য হবো। এ কারণে ভোটও আমাদের জন্য একটি উৎসব। আমরা আশা করছি এবারের আসন্ন ভোটও হবে উৎসব মুখর পরিবেশে সব দলের অংশগ্রহণে। নির্বাচনী রোড ম্যাপের বাকী রাস্তাটুকু মসৃনভাবে এগিয়ে যাবে এটিই প্রত্যাশা। আমরা প্রত্যাশা করি ২৯ ডিসেম্বর তারিখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরেপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হবে। যার মাধ্যমে লাইনচ্যুত এই ট্রেন আবার লাইনে উঠবে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশ চালাবেন। রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আশা আকাঙ্খার মূল্যায়ন করবেন। দুই বছরের জরুরী অবস্থারূপী কারাগার থেকে মুক্তি পাবে দেশের জনগণ।
কিন্ত একটি নির্বাচনই সব কিছু বদলে দিতে পারবে? রাজনীতির দূবৃত্তায়নের মাধ্যমে যে দুষ্ট চক্র তৈরী হয়েছে, ক্ষমতার লোভে নীতি বিসর্জন দেয়ার যে ট্রাডিশন তৈরী হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অসম্মান ও বিরোধিতার যে কালচার আমরা তৈরী করেছি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে বিতর্কিত করার যে নীতি আমরা গ্রহণ করেছি তা থেকে বের হওয়ার জন্য এই নির্বাচন কি যথেষ্ট হবে? ব্যবস্থাপনার একটি সাধারণ শিক্ষা হলো সফলতা একটি যাত্রা, গন্তব্য নয় (success is a journey, not a destination)। গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্ত গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে, এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে শুধু সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, বরং আমাদের মনে, বিশ্বাসে ও আচরণে গণতন্ত্রকে লালন করতে হবে, প্রতি মুহুর্তেই আমাদের গণতন্ত্রের পরীক্ষায় সফল হতে হবে। আসন্ন নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কঠোর ভাবে এই শিক্ষা মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে আরও অনেক বেশী দ্বায়িত্বশীল হতে হবে। গণমাধ্যম গুলোকে, বিশেষ করে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া কে নিরলস ও নিরপেক্ষ ভাবে শিক্ষকের ভূমিকা পালন করে যেতে হবে। এই নির্বাচন দিয়েই তার শুরু হতে পারে।
আমরা কি প্রত্যাশা করতে পারি না যে বড় দুটি দল/জোট জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক ভাষায় কথা বলবে? যদি জরুরী অবস্থা প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই নেত্রী এক ভাষায় কথা বলতে পারতেন, একত্র হয়ে সরকারকে চাপ দিতে পারতেন তবে এটি সমাধান হওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার। এটি একটি উদাহরণ মাত্র। নির্বাচনের বাকী পথটুকুতে যদি দুই দল এক হয়ে যৌক্তিক দাবী গুলির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে তবে তত্বাবধায়ক সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের কিংবা অন্য কোন অদৃশ্য শক্তির ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা সিলেকশনের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নের পথ মোটেই সহজ হবে না। তবে এজন্যে দল দুটিকেও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা করতে হবে। আমরা কথায় কথায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলছি। কিন্ত পরাজিত দল কি পারবে জনগণের রায়কে খুশী মনে মেনে নিয়ে বিজয়ী দলকে সর্বপ্রথম অভিনন্দন জানাতে? ভোটের পর দুই নেত্রী (নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী)কি পারেন না একত্রে বসে পাঁচ বছরের কৌশলগত পপরিকল্পনা করতে? এই নির্বাচন থেকেই কি এটি শুরু হতে পারে না?
সরকারের চাপিয়ে দেয়া সংস্কারের পরিণতি আমরা জানি। এটি সম্ভব হলে আজ দুই নেত্রী থাকতেন দেশের বাইরে, নির্বাচনী মাঠে বাকবাকুম করতো সরকারের পছন্দের লোক, যারা গণতন্ত্রের লেবাসে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতেন দেশে। জনগণের আশা-আকাঙ্খার পরিবর্তে বিদেশী প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করতেন। আপাত দৃষ্টিতে মনে হছছে সেটি সম্ভব হয় নি দুটি দলের জন-সম্পৃক্ততার কারণে। কিন্ত তাই বলে দলে কি সংস্কার হবে না? এই নির্বাচন থেকেই দল দুটি প্রমাণ করতে পারে যে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে, দূর্ণীতিবাজ সন্ত্রাসীদের মনোনয়ন না দিয়ে তারা প্রমান করতে পারে সংস্কার শুরু হয়ে গেছে দলের মধ্যে। দলের মধ্যে গনতন্ত্রচর্চা ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন শুরু হতে পারে এই নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্ত আমরা দেখছি তৃনমুল পর্যায় থেকে প্রার্থী বাছাই নিয়ে কি ধরনের প্রহসন হয়েছে একটি বড় দলে। রাজনৈতিক ডিগবাজীর খবর আসছে পত্রিকায়। নিজ দলে নমিনেশন না পাওয়ায় যারা দীর্ঘদিনের দল ত্যাগ করে এবং উড়ে এসে জুড়ে বসে অন্য দল থেকে মনোনয়ন কিনে নেন, তারা গণতন্ত্রের জন্য কতটা মানান সই? নেত্রীর বাসভবনের সামনে নমিনেশন বঞ্চিতদের বিক্ষোভ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আমাদের দল গুলোতে গণতন্ত্র চর্চা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আর সংগঠনের মজবুতির নমুনা।গণতন্ত্রের পথে চলার এই বাধাগুলি চিহ্নিত করতে ও তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সংস্কার শুরু হতে পারে এখন থেকেই। চাপিয়ে দেয়া নয়, আত্মোলব্ধির এই সংস্কার দলগুলি করতে পারলে ভবিষ্যতে হয়তো এক-এগাবোর ভয়ালবর্তে আর পড়তে হবে না গণতন্ত্র ও রাজনীতিকে।
নির্বাচনী প্রচারাভিযানে অভিনবত্ব ও আধুনিকতার ছোঁয়া এই নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থেই দিতে পারে ভিন্ন মাত্রা। রাস্তা বন্ধ করে ভাড়া করা কর্মী বাহিনী দিয়ে মিছিল, জনসমাবেশ আর শোড়াউনের চেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে ভবিষ্যতমুখী বাস্তবধর্মী কর্মপরিকল্পনা দিয়ে প্রযুক্তি নির্ভর প্রচার কৌশলের মাধ্যমে জনসমর্থন আদায়ের। পেশী শক্তি ও বিরাট জনসমাগম দেখিয়ে, অশ্রুজলে সিক্ত মায়াকান্না দেখিয়ে, ঘোমটা পরে ধর্মীয় ইমেজ তৈরী করে ভোট চাওয়ার পরিবর্তে বাস্তব সম্মত কার্যপরিকল্পনা উপস্থাপন করে ভোটারদের যৌক্তিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে পারে দল গুলি। এই কাজে প্রযুক্তি, বিশেষ করে, ইলেকট্রনিক মিডিয়া গুলির স্বার্থক ব্যবহার করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু যেমন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, তেল-গ্যাস-কয়লা তথা খনিজ সম্পদের উত্তোলন ও ব্যবহার নীতি, পররাষ্ট্রনীতি, বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, দারিদ্র বিমোচন, গার্মেন্ট শিল্পের বিকাশ ও শ্রমিকদের নায্যদাবী আদায় প্রভৃতি বিষয়ে উভয় জোট থেকে দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ সরাসরি বিতর্ক, প্রশ্নোত্তর প্রভৃতি কর্মসূচীর মাধ্যমে জনগণের সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট হতে পারেন। দুই নেত্রীও সরাসরি টিভি বিতর্কে অংশ নিতে পারেন, আমেরিকার নির্বাচন থেকে আমরাও কিছু তো শিখতে পারি।
এই পরিবর্তন শুধু ভোট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে পরবর্তীতে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও সর্বোতভাবে মেনে চলতে দলগুলির সদিচ্ছা থাকা দরকার। ভোটের প্রচারনার সময়ই দল/জোটগুলি এ বিষয়ে তাদের পরিকল্পনা/প্রতিজ্ঞা দেশবাসীকে জানাতে পারেন। সরকারে গেলে কি করবেন এমন কথা সবাই বলেন। জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিরোধী দলে থাকলে কিভাবে কর্ম পরিচালনা করবেন তাও তারা বলতে পারেন। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর বিগত তিন টার্মে ঘন ঘন হরতাল ছাড়া বিরোধী দলের কাছ থেকে আমরা বেশী কিছু পাই নি। আশা করি নবম জাতীয় সংসদে আমরা ব্যতিক্রম দেখতে পাব। দুই নেত্রীর হাসিমাখা মুখে কুশল বিনিময় দেখার জন্য বছরের পর বছর যেন আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়। বরং সংসদের অধিবেশনে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচীতে দুই জনের নিয়মিত কথা-বার্তা হবে বলেই আমরা ধরে নিচ্ছি। মাইনাস টু তত্বে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবার হাত থেকে জনগণের ভালোবাসার শক্তি তাদেরকে সম্মানের সাথে রাজনীতির মঞ্চে ফিরিয়ে এনেছে। এবার তাঁদের প্রতিদান দেবার পালা। হরতালমুক্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ আর অর্থনৈতিক বিকাশের বিষয়গুলিতে উভয় দলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত আমাদের প্রবৃদ্ধিতে আনতে পারে ঈর্ষনীয় গতি। ইমার্জিং টাইগারের মত গর্জে উঠে দ্রূতই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হতে পারি।
সবভালো যার শেষ ভালো। কেয়ারটেকার সরকার দীর্ঘ দুই বছরের চেষ্টায় একটি নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে। নির্বাচন কমিশনও বলছেন তারা প্রস্তত। যদিও এই দীর্ঘ সময়ে অনেক বক্তব্য, সিদ্ধান্ত কিংবা কার্যক্রম অনেক প্রশ্ন এবং অবিশ্বাস জন্ম দিয়েছে। তবুও আমরা আশাবাদী হতে চাই। আশা করি উপরের প্রবাদটি বুঝে শেষটা ভালো করার জন্য উভয় প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করবেন। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এদেশে গণতন্ত্রের পূনর্জন্মে আপনাদের আন্তরিকতার প্রমান রাখুন। এ দেশের ইতিহাসে আপনাদের নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। আর কোন কোন নীলনক্সার নির্বাচন করে পূর্ব নির্ধারিত গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় রত হলে সময়ের আবর্তে আপনারা নিক্ষিপ্ত হবেন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে। এখন এটি আপনাদের সিদ্ধান্ত, আপনারা কোনটি চাইবেন।
আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের গর্ব করার মত একটি দেশ রেখে যাবার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশকে ভালোবেসে আমরা ভালো দিকগুলির প্রত্যাশাই করে যাব।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



