বঙ্গভবনের সেই দিনগুলো - ৪
মোখলেসুর রহমান চৌধুরী
দীর্ঘ সময় বঙ্গভবনের সরকারি লোকজন প্রেস সচিবের পদে দায়িত্ব পালন করার পর বাইরে থেকে হঠাত আমাকে প্রেস সচিব নিযুক্ত করায় অনেকের শোন দৃষ্টি পড়েছিল আমার ওপর। সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্য থেকে যোগ্যতা সম্পন্নদের বিভিন্ন সরকারি পদে নিয়োগ প্রদানের অংশ হিসেবে যাদেরই নিয়োগ দেয়া হয় আমলারা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেন না বলে শুনেছি। প্রেসিডেন্ট অফিসে একজন সচিব, যিনি আগের দিন যোগ দিলেন, পরদিনই তার চুক্তি বাতিল করার ঘটনাও ঘটেছে।
২০০৬ সালের ৩০শে অক্টোবর প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের সচিব হলেন আখতার হোসেন খান। পরদিন ৩১শে অক্টোবরই তার চুক্তি বাতিল করতে হয়। তিনি ৩ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার আগে সরকারের সচিবই ছিলেন। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগসমূহ বাতিলের দাবি জানালে তিনি যেখানে থাকতেন সেখানেই তার চুক্তি বাতিল হতো। কিন্তু প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে তিনি চুক্তিভিত্তিক অবস্থায় যোগ দেয়ায় সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। তাই বুঝি উল্লিখিত রাজনৈতিক দলগুলো তার নাম উল্লেখ করে লিখিতভাবে এবং প্রেসিডেন্টের সামনে বক্তৃতা দিয়ে তার চুক্তি বিশেষভাবে বাতিল দাবি করে। এর আগে পরিকল্পনা কমিশনে তিনি চুক্তিভিত্তিক সচিব ছিলেন। তার নাম উল্লেখ করার সময় ১৪ দল নেতৃবৃন্দ সাদা চুলওয়ালা পর্যন্ত উল্লেখ করেছিলেন বোঝানোর জন্য। তিনি যথারীতি ৩০শে অক্টোবর ২০০৬ যোগ দেন এবং ৩১শে অক্টোবর রাতে বঙ্গভবনে সরকারি নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের সময় তিনিও তাতে অন্তর্ভূক্ত হন। ফলে মাত্র দু’দিনের স্বল্পতম সময়ের জন্য তিনি বঙ্গভবনে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হন।
আমি যখন বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের প্রেসসচিব হিসেবে যোগ দেই তখন সেখানে ভারপ্রাপ্ত সচিব ছিলেন মো আবু সোলায়মান চৌধুরী। তিনি ২০০৪ সালের ১১ই আগষ্ট এ পদে যোগ দেন। ১৫ই ফেব্রুয়ারী ২০০৫ তারিখে তিনি সচিব হন এবং প্রেসিডেন্টের সচিব হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিসিএস ৭৩ ব্যাচের মুক্তিযোদ্ধা অফিসার। এর পর ৩০-১১-২০০৫ তারিখে প্রেসিডেন্টের সচিব হিসেবে আসেন কামালউদ্দিন আহমেদ ও ৩১-০১-২০০৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ০১-০২-২০০৬ তারিখে এ পদে যোগ দেন সচিব আবু মো মনিরুজ্জামান খান ও ১৮-০৬-২০০৬ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন এএফএম সোলায়মান চৌধুরী। জাফর আহমেদ চৌধুরী ১৮-০৯-০৬ থেকে ৪১-১০-০৬ এবং ইসমাইল জবিউল্লাহ ০১-১১-০৬ থেকে ০৮-১১-০৬ তারিখে প্রেসিডেন্টের সচিব হিসেবে যোগ দেন মো• সিরাজুল ইসলাম। উল্লেখিত সচিবদের মধ্যে আখতার হোসেন খান ১৯৭৪ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ইসমাইল জবিউল্লাহ বিসিএস ১৯৭৭ ব্যাচের কর্মকর্তা। বাদবাকি সবাই ১৯৭৯ ব্যাচের। আমার দায়িত্বকালে এই ৮জন সচিবের সঙ্গে সহকর্মী হিসেবে কাজ করেছি। আখতার হোসেন খানের ক্ষেত্রে যেমন সংক্ষিপ্ততম সময় সচিবের দায়িত্ব পালন অর্থাত আগের দিন বঙ্গভবনে যোগ দিয়ে পরদিনই চুক্তি বাতিল হওয়ার কারণে বঙ্গভবন ত্যাগ করে তার আর ফিরে আসার ঘটনা ঘটেনি, তেমনি ইসমাইল জবিউল্লাহর বেলায় মাত্র ৯ দিন দায়িত্ব পালনের ঘটনা ঘটেছে।
আমি সব সময় মজলুমদের পাশে অবস্থান নেই। বঙ্গভবনে ইসমাইল জবিউল্লাহ সচিব হিসেবে যোগ দিতে পারছিলেন না। তার যোগদানপত্রও গৃহীত হচ্ছিলো না। কিন্তু তিনি ফাইল স্বাক্ষর করে যাচ্ছিলেন। প্রেসিডেন্টকে না জানিয়েই এই নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। অন্যদিকে তখন প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন প্রোগ্রামেও তিনি যোগ দিচ্ছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ততপর ছিল। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ ছিল। তখন সিদ্ধান্ত হলো তাকে অন্য কোন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হবে। বেচারা আমাকে ধরলেন। ইআরডিতে তিনি ছিলেন। সেখানে যেতে বলা হলে তিনি সেখানে যেতে চাচ্ছিলেন না। ভাল মন্ত্রণালয় চাইলেন। যোগাযোগ দেয়া হলো। তিনি বললেন, চলেই তো যাচ্ছি। কিন্তু এখন আমি যে ক‘দিন বঙ্গভবনে কাজ করলাম তার জয়েনিং রিপোর্ট যদি মহামান্য একসেপ্ট না করেন তাহলে পরে আমার এই ক‘দিনের চাকরি তো সমস্যা হবে। একটি গ্যাপ বা ভ্যাকুয়াম হবে। তখন তাকে প্রেসিডেন্টের কাছে নিয়ে গিয়ে তার এই সমস্যাটি বুঝিয়ে মহামান্যকে দিয়ে ওই জয়েনিংটা একসেপ্ট করিয়ে দিলাম।
কিন্তু এ সমস্যার এখানে শেষ নয়। ততকালীন যোগাযোগ উপদেষ্টা লে জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী (অব) তাকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে নিতে রাজি নন। জবিউল্লাহ বিষয়টি জানালেন। প্রেসিডেন্টকে জানানো হলো। প্রেসিডেন্ট জেনারেল চৌধুরীর সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে এ বিষয়ে কথা বললেন। যোগাযোগ মন্ত্রণারয়ের উপদেষ্টা হাসান মশহুদ চৌধুরী প্রেসিডেন্টকে বললেন, স্যার, আমার কাছে থেকে আপনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নিয়ে নেন। তাকে আমি নিতে পারবো না। সরকারের কোন কোন মহল জেনারেল মশহুদের কাছ থেকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নিয়ে নিতে বললেন। আমি বঙ্গভবনে আরেক দিন আমাদের নিত্যদিনের মিটিং শেষে জেনারেল চৌধুরীকে বললাম মহামান্যের এই সিদ্ধান্তটির প্রতি সম্মান দেখানো দরকার। পরে প্রয়োজনবোধে সচিবকে পরিবর্তন করা যাবে এবং আপনার এ কারণে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ছাড়ার দরকার নেই। কোন অভিযোগ থাকলে সেজন্য আইন রয়েছে। জেনারেল রাজি হলেন আর বললেন, ওই সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। এজন্য আমি তাকে নিতে চাইনি। ঠিক আছে, তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেবেন। আর আমি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়েও পুনরায় যাবো। এভাবে বিষয়টির সুরাহা হয়ে গেলে আমরা স্বস্তি পেলাম।
বঙ্গভবনে দু‘টি বিভাগ বা ডিভিশন রয়েছে। একটি পাবলিক ডিভিশন বা জনবিভাগ ও অপরটি পার্সোনাল ডিভিশন বা আপন বিভাগ। ইতিপূর্বে বঙ্গভবনে আপন বিভাগে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের একটি ফাইল দীর্ঘদিন প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত না দিয়ে পেইন্ডিং রেখেছিলেন। প্রেসিডেন্টের কাছে অভিযোগ ছিল স্বচ্ছতার সঙ্গে এসব নিয়োগ দেয়া হয়নি। বঙ্গভবনের মুয়াজ্জিন হিসেবে যিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন তার নিয়োগও এ প্রক্রিয়ায় আটকা পড়েছিল। ইমাম সাহেবের ছেলে মুয়াজ্জিনের বিষয়টি আমরা সবাই আলাদাভাবে সহানুভুতির দৃষ্টিতে দেখছিলাম। তাদের বাড়িও মুন্সীগঞ্জে। প্রেসিডেন্ট তাদের প্রতি সঙ্গতকারণেই দুর্বল ছিলেন। উল্লিখিত অভিযোগের কারণে প্রেসিডেন্ট কেবল মুয়াজ্জিনের নিয়োগ দেয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। এ জন্য কয়েকবার ফাইল কল করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা জানালেন যে, এ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দিতে হলে সবাইকে দিতে হবে। আলাদাভাবে একজন করে দেয়ার সুযোগ নেই। ইমাম সাহেব বঙ্গভবন জামে মসজিদের জুমার নামাজে দেখা হলে এবং আমার রুমে এসে বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি তুলে ধরলে বিব্রত হতাম। কারণ তার বিষয়টি ছিল যৌক্তিক এবং তাদের প্রতি আমার সম্মান ও সহানুভুতি ছিল। মহামান্যের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার আলাপ করেছি। তিনি পুরো ফাইলটিতে অনিয়ম ও অর্থনৈতিক বিষয় জড়িত হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করায় এ বিষয়ে প্রথমদিকে আমি আর আগাইনি। কারণ আমি নিয়মের মধ্যে থেকে সব বিষয় নিষ্পত্তির পক্ষে। প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএনএম মুনীরুজ্জামান অনেকবার এ বিষয়টি আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগুলো চুড়ান্ত করা হয়েছে। পিএসসি’র প্রতিনিধির স্বাক্ষর না থাকার যে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাবে জানিয়েছিলেন, মেজরিটির স্বাক্ষর ফাইলে রয়েছে। প্রত্যেকের উপস্থিতি ও স্বাক্ষর ম্যান্ডেটরি নয়। একপর্যায়ে সংস্থাপন মত্রণালয় থেকে সার্কুলার এলো, এক মাসের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে সর্বত্র নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে আসা সার্কুলঅরে যেসব প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সেগুলো আওতার বাইরে রাখা হলো। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বিভিন্ন স্থান থেকে তখন এমন ছাড়পত্র নেয়ার যেন হিড়িক পড়ে গেল। শেষে যখন আর সময় নেই এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন না করলে বিষয়টি ল্যাপস হয়ে যাবে বলে গুরুত্বসহকারে জানানো হলো তখন কেবলইমানবিক কারণে আমি প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে জোর দিয়ে বললাম। প্রেসিডেন্টের কাছে এমএসপিকে ফাইলটি নিয়ে যেতে বললাম। আমি সেখানে থেকে এতগুলো লোকের রুটিরুজির প্রশ্নটি তুলে ধরলাম। কোথাও অন্যায় হলে সেটি বিধি অনুযায়ী দেখার ব্যাপারে কোন আপত্তি তো নেই একথাও জানালাম। তারপর র ফাইলে স্বাক্ষর করলেন। এর পর এতগুলো লোকের চাকরি হলো এবং তারা দিব্যি বঙ্গভবনে চাকরি করছেন। সবাই খুশি। মুয়াজ্জিন ছাড়া বাকিদের সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি। তবে আমার অবদানের কথা এমএসপি অন্যদের বলেছিলেন।
বঙ্গভবনে প্রেস উইংয়ে অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী টেলে কাম ফ্যা অপারেটর পদটি দীর্ঘদিন শূন্য ছিল। প্রেস সচিবের পিও’র কাজ করতো স্টেনো। আমি গিয়েই আমার উইং েয়র সব শূন্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ নিলাম। সচিব ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ জন্য বার বার তাগাদা দিলাম। পিএসসি পিও পদে নিয়োগ দিতে বিলম্ব করছিল। পরে আমার পিওসহ চারটি শূণ্যপদে পিও নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখলাম। টেলিফোন কাম ফ্যা অপারেটর পদে বার বার ইন্টারভিউ বাতিল করা হচ্ছিলো। কোন কোন কর্মকর্তা পছন্দের আত্মীয়া নিয়োগের নাকি উদ্দেশ্য ছিল। যা হোক শেষ পর্যন্ত আমার চাপে স্বচ্ছতার সঙ্গেই নতুনভাবে ইন্টারভিউ নিয়ে এ পদে লোক নিয়োগ দেয়া হলো। তার চাকরি শুরু হতে হতে ততক্ষণে আমি বঙ্গভবন ছেড়ে এলাম। কিন্তু আমার স্বস্তি হচ্ছে শূন্য পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘ সময় বঙ্গভবনে সরকারি লোকজন প্রেস সচিবের পদে দায়িত্ব পালন করার পর বাইরে থেকে হঠাত আমাকে প্রেস সচিব নিযুক্ত করায় অনেকের শ্যেন দৃষ্টি পড়েছিল আমার ওপর। সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্য থেকে যোগ্যতাসম্পন্নদের বিভিন্ন সরকারি পদে নিয়োগ প্রদানের অংশ হিসেবে যাদেরই নিয়োগ দেয়া হয় আমলারা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেন না বলে শুনেছি। কিন্তু আমার যোগ্যতা, দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দিয়ে দায়িত্ব পালনের কারণে বরঞ্চ উর্দ্ধতন-অধস্তন সবার আমার সহযোগিতা নেয়াও ভাইস-ভার্সন বা রিসিপ্রোকাল পর্যায়ে আনা সম্ভব হয়েছে। আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান, শিক্ষা, রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান ও প্রটোকল এসার্ট করা ইত্যাদির ক্ষেত্রে আমার সহযোগিতামূলক ভূমিকা উল্টো বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের প্রধানদের সপ্রশংস সম্মান করতে হয়েছে। অনেকে বলতেন, জার্নালিস্ট টার্নড প্রেস সেক্রেটারী। পরে বলতেন, জার্নালিস্ট কাম পলিটিসিয়ান-মিনিস্টার-এডভাইজার ইত্যাদি। বন্ধুবর ড. মিজানুর রহমান শেলী কমনওয়েলথ সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিতিতে বলেই ফেললেন মোখলেস চৌধুরীর প্রতি আমার ঈর্ষা হচ্ছে যে, তিনি সচিব হয়ে মন্ত্রী হলেন। আমি আগে সরকারি চাকরি করে পরে মন্ত্রী হলেও প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বা সচিব হতে পারিনি।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


