somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেনাবাহিনী-সুশীল সম্পর্ক (প্রথম-পর্ব) : মাহমুদুর রহমান

০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেনাবাহিনী-সুশীল সম্পর্ক (প্রথম-পর্ব)
মাহমুদুর রহমান


মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ১৯৭১ সালে তৎকালীন মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী গঠনের প্রক্রিয়াটি আরম্ভ হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা সত্ত্বেও তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন। তার শাসনামলে ভারতের সহযোগিতায় রক্ষীবাহিনী নামে একটি সমান্তরাল প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের প্রচেষ্টাও নেয়া হয়। সেই সময় ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে এমন কথাও শোনা যেত যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাঠক আবার ভুল বুঝবেন না। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মাপকাঠিতে বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ড বানানোর স্বপ্ন দেখানো হয়নি। ইউরোপের ওই সমৃদ্ধ রাষ্ট্রটিতে কোনো জাতীয় সেনাবাহিনী নেই। তারা নিজেদের শান্তিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে কেবল অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য একটি আধুনিক পুলিশ বাহিনী পালন করে। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের সেনাবাহিনী বিদ্বেষের পেছনে অবশ্য একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত রয়েছে। বাংলাদেশের জনগণকে পাকিস্তান যুগে বারবার সেনাশাসনের মোকাবেলা করতে হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এ দেশের মুক্তিকামী জনগোষ্ঠীর ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়েছে। স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধকালীন পুরো নয় মাস পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কারাগারে বন্দী অবস্থায় ছিলেন। এসব তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে অবচেতন মনেই তিনি হয়তো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পাকিস্তানের অত্যাচারী সেনাকর্মকর্তাদের ছায়া খুঁজে পেতেন। অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার লিগ্যাসি অব ব্লাড (Legacy of Blood) নামক গ্রন্থে সেনাবাহিনী সম্পর্কে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের মনোভাবের নিোক্ত বর্ণনা দিয়েছেন, মুজিব সেনাবাহিনীর প্রতি ঘৃণা নিয়েই কবরে গেলেন। শেখ মুজিবের মন্ত্রীবর্গ ও অন্যান্য সিনিয়র আওয়ামী লীগাররাও সেনাবাহিনীর প্রতি একই ধারণা পোষণ করত। এই সেনাবাহিনীর লোকেরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে যখন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যস্ত, তখন আওয়ামী লীগাররা নিরাপদে কলকাতায় বসে দিন কাটাচ্ছিল। মুজিবের বোঝা উচিত ছিল যে, এই সেনাবাহিনীই মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এই নতুন দেশ জন্মের পেছনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার ন্যায় ক্ষমতা চায়নি। মুজিবের প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যও তারা দেখিয়ে আসছিল।

মুজিব আর তার মন্ত্রীবর্গ সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্বন্ধে উদাসীন হয়ে পড়েন। দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার নেয়ার পর একমাস যেতে না যেতেই তিনি ভারতের সাথে পঁচিশ বছর মেয়াদি এক মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বহিঃশক্রর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষার জন্য একটা কার্যকরী সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই ধরা হলো। সেনাবাহিনী কেবল রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার বাহন হিসেবে পরিগণিত হলো।
১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেখ মুজিব নিজেই আমাকে বলেছিলেন, তিনি একটা শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠনের বিরুদ্ধে। ‘আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো একটা দানব সৃষ্টি করতে চাই না।’
শেখ মুজিব চেয়েছিলেন সেনাবাহিনীকে নিঃশেষ করে দিতে, কিন্তু ঘটনাচক্রে তা আর হয়ে উঠল না।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সমর্থকদের মধ্যে সেনাবৈরী মনোভাবের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। অনেকটা প্রতিশোধ স্পৃহা থেকেই আওয়ামী লীগ এবং তৎকালীন সোভিয়েতপন্থী বুদ্ধিজীবী শ্রেণী বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে প্রচারণা চালায়। আমাদের দেশের যে সুশীল(?) সমাজকে আমরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দোসর হিসেবে আজ দেখতে পাচ্ছি তাদের মধ্যে অধিকাংশই সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন পর্যন্ত প্রবলভাবে মার্কিনবিরোধী ছিল। ১৯৭৫ সাল-পরবর্তী শাসক গোষ্ঠীকে এই সুশীল(?) শ্রেণী পক্ষান্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাঁবেদার হিসেবেই গণ্য করত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা যেহেতু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ছিলেন সেই কারণে এই দলটির কথিত ক্যান্টনমেন্ট সংযোগ নিয়ে বাংলাদেশের সুশীল(?) সমাজভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের অপরিসীম বিরক্তির কোনো দিনই অবসান ঘটেনি। এ দেশের সেনাবাহিনীকে প্রকৃত অর্থেই একটি স্বাধীন দেশের নিরাপত্তা রক্ষার মহান দায়িত্বপ্রাপ্ত গর্বিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলায় অসামান্য অবদান রেখেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান। মরহুম জিয়ার এই ভূমিকাকে সুশীলরা কখনোই মেনে নিতে পারেননি। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্ব রাজনীতিতে ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটলে বাংলাদেশেও তার ছোঁয়া এসে লাগে। মস্কোপন্থী বুদ্ধিজীবীরা সুযোগ বুঝে তাদের কেবলা পরিবর্তন করে ওয়াশিংটনের দ্বারস্থ হন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসক শ্রেণীও পরিবর্তিত বিশ্বে তখন ইসলামিক দেশগুলো নতুন নতুন শত্রু সন্ধানে মনোনিবেশ করেছে। আমাদের সুশীল(?) সমাজের অধিকাংশই তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের ছদ্মাবরণে প্রকৃতপক্ষে ইসলামবিদ্বেষী। ইসলামের ক্ষতিসাধনের মূল উদ্দেশ্য মিলে যাওয়ার ফলে আগের মার্কিনবিরোধীদের এক লাফে বুশ-ব্লেয়ার জুটির কোলে উঠতে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। প্রধানত এই বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শেই নব্বই দশকের মধ্যবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সত্তর দশকের দলীয় নীতি পরিবর্তন করে রাতারাতি মার্কিন সমর্থক হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পারিবারিক অবস্থানও তাকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার তুলনায় অধিকতর গ্রহণযোগ্য করে তোলে। শেখ হাসিনার একমাত্র পুত্র সপরিবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং একমাত্র কন্যা সপরিবারে কানাডার অধিবাসী। তার ছোট বোন শেখ রেহানাও দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে ইংল্যান্ড প্রবাসী। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো দু’জনারই পুত্রবধূ বিদেশী।

পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে সম্ভবত স্মরণ করিয়ে দেয়া নিরর্থক হবে যে ১৯৭৫ সালে মরহুম শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের জন্য এই সেদিনও তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি অভিযুক্ত করতেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ তার ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, ফ্যাক্টস অ্যান্ড ডকুমেন্টস’ নামক গ্রন্থের পাতায় পাতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের জন্য দায়ী করেছেন। তিনি লিখেছেন, তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের ঢাকা সফরের পরই ‘ক্যু প্লানিং সেল’-এর সাথে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের যোগাযোগ হয়। জনাব আবু সাইয়িদ অভিযোগ করেছেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের এদেশীয় ঘাতকরা ১৫ আগস্ট রাতে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তনের সাথে তাল রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে বাধ্য হলেও আওয়ামী মানসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি ঘৃণার কোনো দিনই অবসান হয়নি। তবে এ তথ্যটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত প্রধানদের মধ্যে যারা পরবর্তীতে রাজনীতিতে যোগদান করেছেন তাদের অধিকাংশই অশ্চার্যজনকভাবে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, জেনারেল এ কে এম শফিউল্লাহ, জেনারেল নুরউদ্দিন খান, জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান, জেনারেল হারুন-অর-রশীদের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। সাবেক সেনাপ্রধানদ্বয় জেনারেল নাসিম ও জেনারেল হাসান মশহুদ সরাসরি রাজনীতিতে যোগদান না করলেও প্রয়োজনের সময় সর্বদাই আওয়ামী লীগেরই স্বার্থরক্ষা করেছেন। সাবেক স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট জেনারেল এরশাদ ১৯৮২ সালে বিএনপি সরকারকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেই সামরিক আইন জারি করেছিলেন। প্রত্যাশিতভাবেই এখন তিনি মহাজোটের সঙ্গী। জেনারেল নাসিম ১৯৯৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের দৃঢ়তার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ঠিকানা এ মুহূর্তে আন্দাজ করা না গেলেও উল্লেখ করা যেতে পারে ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তার নিকটাত্মীয়রা হয় আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করেছেন অথবা তাদের সমর্থন করেছেন। ভালোবাসা ও ঘৃণার এ এক বিচিত্র সম্পর্ক। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৩৮ বছর অতিবাহিত হলেও আওয়ামী বুদ্ধিজীবী ঘরানা কিন্তু সেনাবাহিনীর প্রতি কখনোই সর্বাংশে আস্থা স্থাপন করতে পারেনি। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে জাতীয়তাবাদের সমর্থক হওয়ার যে মিথটি প্রায় চার দশক ধরে প্রচলিত ছিল সেখান থেকে বিগত দুই দশকে তারা নানা কৌশলে সেনাবাহিনীকে সরিয়ে আনতে পেরেছে বলেই আমার ধারণা। এবার সেই সফল কৌশল নিয়েই আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন তাদের অধিকাংশই ১৯৪৭ সালের আগে এমন এক সময় জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন তৎকালীন পূর্ববঙ্গের অত্যাচারিত প্রধানত মুসলমান কৃষকশ্রেণী পাকিস্তান আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল। এই বঙ্গের হিন্দু জমিদার শ্রেণী এবং উচ্চবর্ণের হিন্দুদের হাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান এবং নিুবর্ণের হিন্দু জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারিত হয়েছে। সে অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা পাকিস্তান আন্দোলনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র পরিচয় চেয়েছেন, যে পরিচয়ের মধ্যে ইসলাম ধর্ম এবং বাঙালি সংস্কৃতির অবিভাজ্য মিশ্রণ ঘটেছে। ১৯৭১ সালে যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সেটা ছিল মূলত পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর অর্থনৈতিক শোষণ এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশেরই বিদেশী মদদপুষ্ট একটি মহল জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এই মহান মুক্তিসংগ্রামকে ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয় এবং সেই চক্রান্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু সেনাবাহিনীর যে প্রজন্ম মুক্তিসংগ্রামে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল তারা ইসলামকে বাংলাদেশী জাতিসত্তার অবিভাজ্য অংশ হিসেবেই দেখেছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চম বাহিনী অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সফলকাম হয়েছে। বাংলাদেশের সেনাসদস্যদের অধিকহারে জাতিসঙ্ঘের শান্তিমিশনে অংশগ্রহণের সঙ্গে চক্রান্তকারীদের সফলতার কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না সেই তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ সামরিক বিশেষজ্ঞ এবং এ বিষয়ে যারা প্রকৃত অর্থেই জ্ঞান রাখেন, গবেষণা করেন তাদের জন্য তোলা রইল। আমি কেবল সুশীল(?) সমাজের সাথে সামরিক বাহিনীর সম্পর্কের যে বিবর্তন ঘটেছে তার প্রতি আলোকপাত করার চেষ্টা করব। বাংলাদেশে সুশীল(?) সমাজের মুখপত্র প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক জনাব মতিউর রহমান পিলখানা ট্র্যাজেডি নিয়ে যে মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছেন সেখানে বিডিআর’র মহাপরিচালক মরহুম মেজর জেনারেল শাকিলের সাথে তার সখ্যের বিশদ বিবরণ রয়েছে। সম্পাদক মহোদয়ের লেখা থেকেই উদ্ধৃত করছি, বিডিআরের নিহত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল, যদিও এ সম্পর্ক ছিল এক বছরের কম সময়ের। তার স্ত্রী নাজনীনকেও আমি চিনতাম। তিনি আমার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বোন সাহানার সঙ্গে স্কলাস্টিকা স্কুলে চাকরি করতেন। গত এক বছর একাধিকবার নানা সময় মেজর জেনারেল শাকিলের সঙ্গে দেখা ও কথা হয়েছে। দেশ-বিদেশের ঘটনা নিয়ে, কখনো বই নিয়ে, এমনকি সঙ্গীত নিয়েও দু’জনের মধ্যে অনেক কথা হয়েছে।...

তাকে সব সময়ই উদার গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন সৈনিক বলে মনে হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও তার সঙ্গে দেখা হয়েছে এক দুপুরে খাবারের টেবিলে, ঘরোয়া এক অনুষ্ঠানে। কথা হয়েছিল নানা বিষয়ে। এক সপ্তাহ পর আবার দেখা হবে, এমনই কথা হয়েছিল।

বিডিআর’র নিহত মহাপরিচালকের সঙ্গে প্রথম আলো সম্পাদকের খুবই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল বোঝা যাচ্ছে। এই সম্পর্কের যে বিষয়টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তা হলো জনাব মতিউর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী এক-এগারোপরবর্তী আধাসামরিক জমানায় জেনারেল ও সম্পাদকের সখ্য খুব তাড়াতাড়ি প্রগাঢ় হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে প্রথম আলো পত্রিকা যে খুব একটা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে এমনটি বিগত দেড় দশকে আমার কাছে অন্তত কখনো মনে হয়নি। অবশ্য এক-এগারো পরবর্তী সময়ে জেনারেল মইন ইউ আহমেদের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীর সাথে সুশীল(?) পত্রিকাটির যে একপ্রকার কৌশলগত মৈত্রী গড়ে উঠেছিল এ বিষয়টি মনোযোগী পাঠকের চোখ এড়ানোর কথা নয়। তা ছাড়া প্রথম আলোর তৎকালীন প্রকাশক জনাব মাহফুজ আনাম তো প্রকাশ্যেই এক-এগারোর সরকারের প্রকৃত ধাত্রী হওয়ার দাবি করেছিলেন। এক-এগারোর অভ্যুত্থানের পর জেনারেল মইন ইউ আহমেদ সুশীল(?) সমাজের নেতৃবর্গ এবং দেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবীদের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত দর্শনের রূপরেখা বর্ণনা করার জন্য। সেখানে উপস্থিত একজন কবি ও বুদ্ধিজীবী আমাকে জানিয়েছিলেন, ওই দিনের সভায় সেনাপ্রধানের দুই পাশ আলোকিত করে বসেছিলেন যথাক্রমে জনাব মাহফুজ আনাম ও জনাব মতিউর রহমান। যা-ই হোক সেনাবাহিনীর বিশেষ সমর্থনধন্য সরকারের সাথে এই মধুচন্দ্রিমা চলাকালীন সময়েও বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম আলো পত্রিকার জনাব মিজানুর রহমান খান কয়েক পর্বে তির্যক প্রতিবেদন লিখে সেনাসদরের সাথে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ১০ আগস্ট ও ১২ আগস্ট, ২০০৬ তারিখে প্রথম আলোয় প্রকাশিত সেনাসদরের প্রতিবাদপত্রের খানিকটা অংশ উদ্ধৃত করলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে সুশীল(?) সমাজের সম্পর্কের টানাপড়েনের ধরনটি পাঠক সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন।

১. কিন্তু দুঃখজনক যে, লেখক সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠানটিকে আক্রমণ করেই ক্ষান্ত থাকেননি বরং এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তাদের বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাদের চাকরিকালে তৎকালীন ধ্যানধারণার আলোকে সেনাবাহিনীর উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ যুগে এসে নতুন চিন্তাভাবনা ও ধ্যান-ধারণার আলোকে সেনাবাহিনীর বর্তমান নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক চাহিদা, মিশন ও দেশের অর্থনৈতিক সামর্থের সাথে সঙ্গতি রেখে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও চলমান উন্নয়নে কোনো দেশেই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের ভূমিকার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, সেনাবাহিনীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কর্মসূচি গৃহীত হয়ে থাকে।

প্রথম আলো ওই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সেনাপ্রধান ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনা অযৌক্তিক ও অবাস্তব প্রমাণের অপচেষ্টা করেছে। সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার পরিকল্পনা তাদের অনভিজ্ঞ ও অপরিপক্ব দৃষ্টিতে অযৌক্তিক। প্রথম আলোতে এরূপ উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেনাবাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিশেষে স্মরণযোগ্য, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ যুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এরূপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিবেদক তথা প্রথম আলো মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে কোন পক্ষকে সমর্থন করছেন?

২. সেনাবাহিনী সদর দফতর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছে যে, প্রথম আলো সেনাসদরের প্রতিবাদলিপি ছাপাতে অসাধুতার আশ্রয় নিয়েছে। ৫ আগস্ট ২০০৬ প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর সেনাসদরের প্রতিবাদলিপি ৭ আগস্ট তাদের কাছে প্রকাশের জন্য পৌঁছানো হলেও তারা ৯ আগস্ট জানায়, প্রতিবাদটি ১০ আগস্ট ছাপা হবে। এ দু’টি দিন প্রথম আলো সম্ভবত সংশোধনী ও প্রতিবেদকের মন্তব্য তৈরি এবং আরও কিছু নতুন প্রসঙ্গ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যয় করে। এ রকম time manipulation বা বিশেষ উদ্দেশ্যে সময়ক্ষেপণ আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না তার ভার বিজ্ঞ পাঠকের অনুধাবনের জন্য ছেড়ে দেয়া হলো। এ ব্যাখ্যাটি প্রথম আলো ১১ আগস্ট ছাপবে বলে সেনাসদর আশা প্রকাশ করছে। পরিশেষে প্রতিবেদককে অনুরোধ করা হচ্ছে ‘ তালগাছ আমার’ এ জাতীয় মন্তব্য না করে পুরো প্রসঙ্গটির ইতি টানা। পরে একই ব্যাপারে আরো লেখালেখি হলে সেনাসদর সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান নিষ্প্রয়োজন মনে করছে। প্রথম আলো পত্রিকার কৌশলটি লক্ষ করার মতো। এক দিকে সম্পাদক মহোদয় জেনারেল সাহেবদের সাথে সখ্য গড়ে তুলছেন। অপর দিকে পত্রিকা তার চরিত্রানুযায়ী সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নবিরোধী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে।

এবার ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভূমিকা দেখা যাক। আমাদের ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অধিকাংশই সেক্যুলার ভাবধারার সমর্থক এবং সে কারণে তাদের সম্প্রচারের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রচারণা। দুই-একটি চ্যানেল বিবেচনার বাইরে রাখলে বাদবাকি ইলেকট্রনিক চ্যানেলের মধ্যে কোনোরকম আদর্শগত বিরোধ নেই। সেক্যুলার এবং আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল চ্যানেলগুলোর মধ্যে ‘চ্যানেল আই’ বিশেষভাবে সুশীলসমাজের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। লক্ষ করলেই নজরে পড়বে যে সুশীল(?) সমাজের অনুষ্ঠানগুলোর মিডিয়া পার্টনারের দায়িত্ব অনেকটা অবধারিতভাবেই চ্যানেল আই, প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের ওপর সম্মিলিতভাবে ন্যস্ত হয়। সেই চ্যানেল আইয়ের মালিক জনাব ফরিদুর রেজা সাগর মরহুম শাকিল আহমেদের স্মৃতিচারণ করে দৈনিক যুগান্তরে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ভাষায় ‘দুই বন্ধু’ শিরোনামে কলাম লিখেছেন। মেজর জেনারেল শাকিলের সৈনিকের পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কবি মনটিকে জনাব সাগর তার লেখায় প্রকাশ করেছেন এভাবে, রংপুর থেকে ঢাকায় বদলি হয়ে আসার পর এক দিন ফোনে আমাকে তার অফিসে যাওয়ার অনুরোধ করলেন।
আমি বললাম, আকাশে এত মেঘ। এ সময় বাইরে যাওয়া? বললেন, মেঘের কারণেই তো আসতে বলছি।

জেনারেল শাকিলের অফিসে পৌঁছানোর পথেই ঝমঝম করে বৃষ্টি নামল। অফিসে ঢুকতেই বললেন, বৃষ্টিতে আসতে কষ্ট হলো।
আমি বললাম, না। বিডিআর প্রধানের হুকুম। তাই চলে এসেছি।
হুকুম নয়। একটু বাইরের দিকে তাকান।

অফিসে যেখানে শাকিল সাহেব বসতেন তার ঠিক হাতের বাঁ-দিকে পুরো দেয়ালে ভারী কাচ। সেই কাচ দিয়ে দেখা যাচ্ছে অঝোর ধারায় বাইরে বৃষ্টি ঝরছে। সবুজ ঘাসের বুকে, বিডিআর চত্বরে বড় বড় গাছের ওপর অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপাত।

ঢাকা শহরে কোথাও বসে এ রকম বৃষ্টি দেখতে পাবেন?
আসলেও তাই। ঢাকা শহরের কোথাও বসে এত সুন্দর বৃষ্টি দেখা যায় না। তার চেয়েও বেশি দেখা যায় না সেসব মানুষকে যারা শত ব্যস্ততার মধ্যেও বৃষ্টি দেখতে ভালোবাসে। বৃষ্টির শব্দ শুনতে ভালোবাসে। আর ভালোবাসেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে।

অফিস ঘর থেকে দেখতে পাওয়া এই সবুজ লনটিতে পরবর্তী সময়ে প্রচুর ফুলের গাছ লাগানোর কারণে জায়গাটা হয়ে উঠেছিল আরো বেশি সুন্দর। বিডিআর পিলখানাজুড়ে এই সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করেছিলেন মেজর জেনারেল শাকিল। নানা রকম ফুলের চাষ করেছিলেন বিডিআর চত্বরজুড়ে। আর এই ফুল যাতে জনগণের কাছে পৌঁছতে পারে তাই রাইফেল স্কোয়ারের সামনে একটি ফুলের দোকানও স্থাপন করেছিলেন।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, জনাব ফরিদুর রেজা সাগরের দাবি অনুযায়ী তার দ্বিতীয় বন্ধু হচ্ছেন পুলিশের বর্তমান আইজি জনাব নুর মোহাম্মদ। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে একজনের সাথে অন্যজনের বন্ধুত্ব হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সচরাচর দেখা যায়, সমমনা ব্যক্তিদের মধ্যেই প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। প্রথম আলো সম্পাদক জনাব মতিউর রহমান এবং চ্যানেল আইয়ের স্বত্বাধিকারী জনাব ফরিদুর রেজা সাগর মরহুম মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদকে তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দাবি করেছেন। এই দু’জনার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সংযোগ এ দেশের মানুষের মোটামুটি জানা। একই মতাবলম্বী সুশীল(?) সমাজভুক্ত অন্যান্য বিশিষ্টজনের সাথেও হয়তো মরহুম শাকিলের একই প্রকার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তারা সম্ভবত সম্পর্কটির বিষয় পত্রিকায় লিখে সবাইকে জানান দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। এই যে বাঘা বাঘা সব সুশীলের সাথে একজন জেনারেলের এত ঘনিষ্ঠতা, নানান বিষয়ে এত আলোচনা এর ফলে কি জেনারেল সাহেবদের রাষ্ট্রের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট দর্শনে কিংবা চিন্তাচেতনায় কোনো পরিবর্তন ঘটে? স্মরণে রাখা দরকার বাংলাদেশে বিগত ৩৮ বছরে প্রধানত বিডিআর সদস্যরাই সীমান্তে বিদেশী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে চলেছেন। মেজর জেনারেল শাকিল যেহেতু স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী নামে অভিহিত সেই বিডিআর’রই দীর্ঘদিনের মহাপরিচালক ছিলেন সে কারণেই এই প্রসঙ্গের অবতারণা। আমাদের প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত সম্পর্কে নিহত বিডিআর মহাপরিচালকের মনোভাব বোঝার জন্য তাদের দীর্ঘদিনের তথাকথিত ট্রানজিটের নামে করিডরের চাহিদাসংক্রান্ত তারই লেখা একটি প্রবন্ধের সাহায্য গ্রহণ করেছি। আগামী সপ্তাহের সমাপ্তি পর্বে এ বিষয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেনাবাহিনী-সুশীল সম্পর্কের প্রথম পর্বের ইতি টানছি।

লেখকঃ সাবেক জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা এবং বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান

[email protected] (সুত্র, নয়া দিগন্ত, ২৫/০৩/২০০৯)
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×