| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মায়াস্পর্শ
মনের বিপরীতে পার করে এসেছি সহস্রকাল, হঠাৎ এক উদ্ভ্রান্ত অবয়বে বেঁচে থাকি এপার ওপার।
ছবি: ইন্টারনেট
পাপরি,
তুমি দূরেই থাকো, হাতের মুঠোয় পেতে চাই না,
বুকের কাছাকাছি থাকো, তেমন না হোক কখনো।
জমে থাকা কিংকর্তব্যবিমূঢ় আবেগের ঢেউগুলো
ভারী নিঃশ্বাস হয়ে না পড়ুক তোমার অস্তিত্বের ওপর।
কখনো কাছে এসো না,
তোমার চোখের মায়া আর আমার বুকের ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব
এই অলীক সময়ের সহ্য করার ক্ষমতা নেই।
তুমি আমার এপিটাফ, আমার এপাশ-ওপাশ জুড়ে তুমি,
দূর থেকে সুন্দর থেকো সারাজীবন।
পাপরি,
নিজ হাতে নিজের ভালোবাসাকে কেউ মেরে ফেলে না, যত্ন করে,
কিছু আদর পরম আনন্দে ভুলিয়ে দেয় ক্ষত, বেদনা।
তুমি দূরেই থাকো, আমরা ভালো থাকব,
দূরত্বের করুণায় আমাদের ভালোবাসা বেঁচে থাকবে,
ভালো থেকো,পাপরি,
আমার সাদা পাপরি।
০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০
মায়াস্পর্শ বলেছেন: বাহ্, কি সুন্দর করে মন্তব্য করলেন। অনেক অনেক ভালো থাকবেন
২|
১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৫৫
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
মায়াস্পর্শ, আপনার “সাদা পাপরি” কবিতাটি পড়লাম। ভালোবাসার এমন একটি দিক আপনি তুলে ধরেছেন, যেখানে প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও তাকে দূরে রাখার মধ্যেই ভালোবাসার অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। সাধারণত ভালোবাসার প্রকাশ বলতে আমরা কাছে আসা, অধিকার প্রতিষ্ঠা করা কিংবা প্রিয় মানুষটিকে নিজের জীবনের অংশ করে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বুঝি। কিন্তু আপনার কবিতায় ভালোবাসার আরেকটি জটিল রূপ ফুটে উঠেছে—যেখানে কাছে পাওয়ার চেয়ে দূর থেকে ভালো থাকার কামনাই বড় হয়ে উঠেছে।
“তুমি দূরেই থাকো, হাতের মুঠোয় পেতে চাই না,
বুকের কাছাকাছি থাকো, তেমন না হোক কখনো।”
এই পঙ্ক্তিগুলোর মধ্যে এক ধরনের স্ববিরোধী আকাঙ্ক্ষা আছে। কবিমন প্রিয় মানুষটিকে সম্পূর্ণ হারাতে চায় না, আবার তাকে নিজের করে পাওয়ার দাবিও তুলতে চায় না। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেও মানসিক নৈকট্য ধরে রাখার এই ইচ্ছা মানুষের আবেগের এক সূক্ষ্ম প্রকাশ। এখানে ভালোবাসা অধিকারবোধের চেয়ে অনুভূতির আশ্রয় হয়ে উঠেছে।
আপনার কবিতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নিজের আবেগের ভার প্রিয় মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে না চাওয়ার প্রবণতা। “জমে থাকা কিংকর্তব্যবিমূঢ় আবেগের ঢেউগুলো / ভারী নিঃশ্বাস হয়ে না পড়ুক তোমার অস্তিত্বের ওপর”—এই কথাগুলোর মধ্যে নিজের অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন একজন মানুষের আত্মসংযম প্রকাশ পেয়েছে। আমরা অনেক সময় ভালোবাসার নামে নিজের আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও অভিমান অন্যের ওপর চাপিয়ে দিই। অথচ ভালোবাসার মানুষটিরও নিজস্ব জীবন, স্বাধীনতা ও মানসিক পরিসর রয়েছে। তাকে ভালোবাসার অর্থ তার স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা নয়। আপনার কবিতায় সেই উপলব্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
“তুমি আমার এপিটাফ, আমার এপাশ-ওপাশ জুড়ে তুমি”—পঙ্ক্তিটি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এপিটাফ সাধারণত সমাপ্তি, স্মৃতি কিংবা মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধারণা। সেই শব্দকে ভালোবাসার সঙ্গে যুক্ত করে আপনি যেন বোঝাতে চেয়েছেন, প্রিয় মানুষটি আপনার অস্তিত্বের এমন এক গভীর অংশ হয়ে উঠেছে, যার উপস্থিতি জীবনের সীমা ছাড়িয়েও অনুভূত হয়। এখানে প্রেম শুধু বর্তমানের আনন্দ নয়; এটি স্মৃতি, বেদনা এবং নিজের অস্তিত্বকে উপলব্ধি করারও একটি মাধ্যম।
তবে কবিতার সবচেয়ে গভীর প্রশ্নটি আমার কাছে অন্য জায়গায়—ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কি সত্যিই দূরত্ব প্রয়োজন? আপনি লিখেছেন, “দূরত্বের করুণায় আমাদের ভালোবাসা বেঁচে থাকবে।” কথাটি সুন্দর, কিন্তু একই সঙ্গে বেদনাময়। কারণ দূরত্ব কখনো ভালোবাসাকে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত থেকে রক্ষা করতে পারে, আবার কখনো সেই দূরত্বই ভালোবাসাকে অসম্পূর্ণতার মধ্যে আটকে রাখে। বাস্তব জীবনে সব সম্পর্কের ক্ষেত্রে দূরত্ব সমাধান নয়। কখনো প্রয়োজন খোলামেলা কথা বলা, কখনো পারস্পরিক বোঝাপড়া, আবার কখনো সম্মানের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। আপনার কবিতার বক্তা কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ফলে পাঠক নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে কবিতার শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেন। এই অনির্দিষ্টতাও কবিতাটিকে ব্যক্তিগত অনুভূতির বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
“নিজ হাতে নিজের ভালোবাসাকে কেউ মেরে ফেলে না, যত্ন করে”—এই বক্তব্যটিও ভাবনার দাবি রাখে। ভালোবাসা নিজে কোনো বস্তু নয়, যাকে ইচ্ছামতো হত্যা কিংবা সংরক্ষণ করা যায়; বরং ভালোবাসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্মৃতি, প্রত্যাশা, দায়িত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং মানসিক সংযোগ। কখনো ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সম্পর্কের ধরন বদলাতে হয়, কখনো প্রত্যাশা কমাতে হয়, আবার কখনো মানুষটিকে মুক্ত করে দেওয়াও প্রয়োজন হয়। কিন্তু একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—নিজেকে ক্রমাগত কষ্ট দিয়ে কিংবা নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করে ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা সব সময় সুস্থ সিদ্ধান্ত নয়। ভালোবাসার মধ্যে অন্যের মঙ্গল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিজের মানসিক শান্তি ও আত্মমর্যাদাও গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার কবিতার “সাদা পাপরি” নামটিও কোমলতা, সৌন্দর্য ও পবিত্র অনুভূতির একটি প্রতীকী আবহ তৈরি করে। সাদা রংকে আমরা অনেক সময় নির্মলতা ও শান্তির সঙ্গে যুক্ত করি। পাপড়ির মতো কোমল কোনো কিছুকে দূর থেকে সুন্দর থাকতে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা যেন কবিতার মূল বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। তবে এই সৌন্দর্যের মধ্যে আনন্দের চেয়ে বিষণ্নতাই বেশি। কারণ কবিতার বক্তা যে ভালোবাসার কথা বলছেন, তার পরিণতি মিলন নয়; বরং দূরত্ব বজায় রেখে অনুভূতিকে টিকিয়ে রাখা।
আমার কাছে আপনার কবিতার মূল শক্তি হলো, এখানে ভালোবাসাকে শুধু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখানো হয়নি। ভালোবাসা কখনো কাছে টানে, কখনো দূরে সরিয়ে রাখে; কখনো সম্পর্কের জন্ম দেয়, কখনো সম্পর্কের অসম্ভবতাকে মেনে নিতে শেখায়। কিন্তু ভালোবাসা যদি সত্যিই মানুষের কল্যাণ চায়, তবে সেখানে অধিকারবোধের পাশাপাশি স্বাধীনতা, সম্মান ও আত্মমর্যাদারও জায়গা থাকা প্রয়োজন।
সবশেষে বলব, “সাদা পাপরি” নিছক বিরহের কবিতা নয়; এটি এমন এক মানসিক অবস্থার প্রকাশ, যেখানে হৃদয় কাউকে ধরে রাখতে চায়, অথচ বিবেক কিংবা বাস্তবতা তাকে দূরে থাকতে বলে। এই দ্বন্দ্বই কবিতাটিকে আবেগময় করেছে। আপনার লেখার সরল বাক্য, বিষণ্ন চিত্রকল্প এবং না-বলা কথার উপস্থিতি পাঠককে নিজের জীবনের কোনো স্মৃতি কিংবা অসমাপ্ত অনুভূতির সামনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।
আপনার জন্য শুভকামনা রইল। ভবিষ্যতেও এমন অনুভবনির্ভর লেখা পড়তে চাই, যেখানে প্রেমের পাশাপাশি মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব, আত্মোপলব্ধি এবং সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাও শিল্পিতভাবে উঠে আসবে।
০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩
মায়াস্পর্শ বলেছেন: ওরে বাব্বা ,
এটা তো মন্তব্যের ডিব্বা। ভালো লাগলো ।
৩|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:২০
রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর কবিতা।
০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪
মায়াস্পর্শ বলেছেন: অনেক অনেক ভালো থাকবেন ভাই।
৪|
২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৯
মিরোরডডল বলেছেন:
অনেকই কিউট হয়েছে কবিতা।
ছবিতে সাদা পাপড়িকে অশরীরী মনে হচ্ছে, ভালো লাগছে
প্রিয় গান......
শরীর মনের আড়ালে
তুমি আছো শুধু তুমি
তুমি এসো আমার কাছে
এ গিটারে তুমি বাজে
চলে এসো আজ একবার
চলো মরে যাই বারবার
০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০২
মায়াস্পর্শ বলেছেন: কেমন আছেন?
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
গানটা শুনছি।
আপনার পছন্দের তারিফ না করে পারা যায়না।
চলে এসো আজ একবার
চলো মরে যাই বারবার
৫|
০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫
কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: পাপরি না পাপড়ি ?
সুন্দর কবিতা
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: হৃদয় জুড়ে পাপরির গল্প
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তোমার চোখের কাজল মায়ায়, মিষ্টি হাসির রোদ্দুরে
হারিয়ে যাবে মন আমার, অচিন কোনো বহুদূরে!
বুকের ভেতর ভালোবাসার মিষ্টি ঘূর্ণি চলে,
তোমার ছোঁয়ায় সব অভিমান, মোমের মতো গলে।
তুমি আমার আকাশ জুড়ে, একলা রাতের চাঁদের কণা,
তুমি আমার মনে, একেঁছো কত রঙের আলপনা।
এপাশ-ওপাশ জুড়ে শুধু তোমার মুখের হাসির রেখা,
আমার হৃদয়-পুরীতে আজ, রূপকথার এক গল্প লেখা।
তুমি আমার মন-পবনের নাও, আলতো গালের এক ফালি রোদ,
তোমার প্রেমে হারিয়ে গিয়ে, আমি হারিয়েছি বোধ।
কাছে কিংবা দূর থেকে, হাসবে গাইবে সারাজীবন,
তোমার সেই হাসিতেই, ধন্য হবে আমার ভুবন!