| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শেরজা তপন
অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...
বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো চলাচলও বন্ধ। মিটিং কি একেবারেই বাতিল করব, নাকি বিকেলে শিফট করব—বুঝতে পারছি না।
আমাদের মতো দেশে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করার কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্থায়ী উপায় নেই। আজ ওদের বেতন বাড়লে কাল থেকেই বাসা ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে—ফলাফল 'যে লাউ, সেই কদু'।
এমন কোনো মজুরি কাঠামো বানানো সম্ভব নয়, যা একই সঙ্গে শ্রমিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক উভয় পক্ষকেই সন্তুষ্ট করতে পারে। যেকোনো মজুরিতেই শ্রমিকদের মনে হয় তারা শোষিত হচ্ছে, আর মালিকেরা ভাবেন এই আর্থিক চাপ সামলে তারা কীভাবে টিকে থাকবেন!
মূল সমস্যাটি অন্য জায়গায়। এই মুহূর্তে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। দ্বিতীয়ত, ব্যাপক হারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। এই দুটি কারণে বাজারে যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তার ফলে উচ্চমধ্যবিত্তরাও এখন বাজার করতে গিয়ে হাঁসফাঁস করছেন (এর পেছনে কিছু বৈশ্বিক বিষয়ও দায়ী, তবে সেটা ভিন্ন আলোচনা)।
বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার প্রক্রিয়া ৩ বছর পিছিয়ে যাওয়ার পেছনেও এর একটি বড় প্রভাব রয়েছে। ভারত পোশাক ও টেক্সটাইল খাত থেকে বছরে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে। সেখানে কখনো গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের কথা শুনেছেন? ওদের বিশাল দেশ ও বিশাল অর্থনীতি; সুযোগও প্রচুর। কিন্তু আমরা যে একটিমাত্র খাতের ওপর ভর করে চলছি, সেটা বোধহয় তাদের পছন্দ নয়। আমাদের এই ব্যবসায় ধস নামিয়ে বাজারটা কবজা করাই তাদের বড় উদ্দেশ্য। আমাদের রুটি-রুজির জায়গাতেই তারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
গ্রামগঞ্জ থেকে একদল নিরক্ষর ও অনভিজ্ঞ মানুষ ঢাকায় এসেই যদি ৩০০০ টাকা বেতনের চাকরি পেয়ে যায়, তবে শিক্ষাদীক্ষা আর কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন কোথায়?
একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক দৈনিক ২ টাকা মজুরিতে লোক রাখবেন কি না—সেটা তাঁর ইচ্ছে। আপনার পোষালে কাজ করবেন, না পোষালে করবেন না; সেই স্বাধীনতা আপনার আছে। এখানে জোর করে দাবি আদায়ের কী আছে, আর সরকারই বা এতে এত মাথাব্যথা দেখাচ্ছে কেন?
ভারতে কেন শ্রমিক আন্দোলন হয় না? এর একটি বড় কারণ হলো, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দেওয়া বেতন-ভাতা নিয়ে সে দেশের সরকারের তেমন কোনো মাথাব্যথা বা হস্তক্ষেপ নেই।
০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২২
শেরজা তপন বলেছেন: কম বেতনে পাওয়া বলে কথা না। আমার প্রতিষ্ঠান আমি কেমনে চালাব সেটা অন্য কেউ নির্ধারন করে দিতে পারে না।
এখানে দুপক্ষেরই সর্বোচ্চ স্ব্ব্বাধীনতা থাকা উচিৎ।
২|
০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫
নতুন বলেছেন: দ্রব্যমুল্যের উপরে নিয়ন্ত্রন না থাকলে বেতন বাড়ালে কোন কাজ হবেনা।
০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১
শেরজা তপন বলেছেন: দ্রব্যমুল্য ( যেটা অস্বাভাবিক ও জনগনকে জিম্মি করে করা হয়) নিয়ন্ত্রন করলে অনেক সমস্যারই বড় ধরনের সমাধান হবে বলে আমার বিশ্ব্বাস।।
৩|
০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৯
ভুয়া মফিজ বলেছেন: বিএনপি ক্ষমতায় আসলে পরিস্থিতি যে জটিল হবে সেইটা তো আমি আমার অনেক কয়টা পোস্টে আগেই বিতং কইরা কইছি। আম্লীগ ছিল চালাক চোর, সেইজন্য বহুদিন চুরি করতে পারছে। বিম্পি হইলো বলদ চোর। আম্লীগের ১৭ বছরের বিপরীতে এরা ১৭ মাস টিকে কিনা দেখেন।
ভারতের মতো একটা হারামী দেশ বাংলাদেশের ক্ষতি করার সুযোগ পাইলে তো করবেই। বিম্পি তে মনে হইতেছে পশ্চাদ্দেশের কাপড় খুইলা রাখছে। কাজেই এইক্ষেত্রে ভারতের খুব একটা দোষ দেখি না।
আচ্ছা, ভারতের গুপ্ত দালালেরা যে ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতেছে, টের পাইতেছেন? ব্লগেও কিছু নমুনা দেখা যায়। বড়ই আনন্দ পাই যখন নিজের ধারনা সঠিক হইতে দেখি। এগুলার আসলে জন্মের ঠিক নাই........তবে আপনে টেনশান নিয়েন না.............সামনে আরো কঠিন দিন আসতেছে!!!!! ![]()
৪|
০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫২
বিষাদ সময় বলেছেন: একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক দৈনিক ২ টাকা মজুরিতে লোক রাখবেন কি না—সেটা তাঁর ইচ্ছে। আপনার পোষালে কাজ করবেন, না পোষালে করবেন না; সেই স্বাধীনতা আপনার আছে। এখানে জোর করে দাবি আদায়ের কী আছে, আর সরকারই বা এতে এত মাথাব্যথা দেখাচ্ছে কেন?
আপনার সম্পর্কে যদি নাও জানতাম তাও এ বক্তব্য থেকেই বুঝতে পারতাম আপনি শিল্প মালিক। মালিক পক্ষের বক্তব্য সব সময় এরকমই হয়। ১৮ কোটি জনসংখ্যার এ দরিদ্র দেশে আপনি চাইলে ৫০০০ টাকাতেও শ্রমিককে ১০ ঘন্টা খাটাতে পারবেন কিন্তু এখানেই আসে ন্যায্যতার প্রশ্ন, রাষ্ট্রকেই সেটা ঠিক করতে হয়। পৃথিবার প্রায় বেশিরভাগ দেশেই রাষ্ট্র কর্তৃক ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণ করা আছে।
এখানে শ্রমিক আন্দোলনের মূল কারণ মালিক শ্রমিকের মধ্যে বিশ্বাসের অভাবের আর মানসিকতার । এদেশের শিল্প মালিকরা যতটা সম্ভব শ্রমিক শোষণ করে আর শ্রমিকরাও সুযোগ পেলে মালিকের গলায় ছুরি চালাতে পিছপা হয়না। ধন্যবাদ।
৫|
০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩
জাহিদ অনিক বলেছেন: শেরজা তপন ভাই, মিরপুরে আছেন সাবধানে থাকবেন।
নতুন ভাইয়ের মন্তব্যের উত্তরে আপনি যা বলেছেন, আমার কাছে মনে হয় আসল সমাধানটা ঠিক ওখানেই। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে না এলে মজুরি যতই বাড়ানো হোক, "যে লাউ, সেই কদু"।
শ্রমিকের হাতে দশ টাকা বেশি আসে, বাড়িওয়ালা আর বাজার পনেরো টাকা নিয়ে যায়। তাই এই মুহূর্তে শ্রমিক আর মালিক দুই পক্ষই আসলে একই সিন্ডিকেটের শিকার, শুধু দুজন দাঁড়িয়ে আছে টেবিলের দুই পাশে।
তবে "২ টাকা" প্রসঙ্গে বিষাদ সময়ের সাথে আমি একমত, ভাই। স্বাধীনতা তখনই অর্থবহ, যখন দুই পক্ষের দর কষাকষির শক্তি কাছাকাছি থাকে। যার ঘরে আজ রাতে চাল নেই, তার কাছে "না পোষালে করবেন না"-র স্বাধীনতাটা খুব একটা কাজে আসে না।
আর ভারত প্রসঙ্গে একটা কথা: ওখানেও শ্রমিক আন্দোলন হয়; ২০১৬ সালে বেঙ্গালুরুতে প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ে হাজার হাজার পোশাকশ্রমিক রাস্তায় নেমেছিল। পার্থক্য হলো, ওদের অর্থনীতি এত বড় আর বৈচিত্র্যময় যে একটা খাত কাঁপলে পুরো দেশ কাঁপে না। আমাদের সমস্যাটা হয়তো আন্দোলনে না; একটিমাত্র খাতের ওপর পুরো দেশের ভর করে থাকায়।
ভিন্নমতের জন্য আশা করি কিছু মনে করবেন না। মিটিংটা বিকেলে শিফট করাই ভালো হবে মনে হচ্ছে। নিরাপদে থাকবেন, ভালো থাকবেন।
৬|
০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪০
মেঠোপথ২৩ বলেছেন: দেয়ালে পিঠ ঠেকে না গেলে হয়ত আপনি এই পোস্ট দিতেন না। মধ্যবিত্ত শ্রেনী কতখানি নিরুপায় হয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে সন্তানদের সাথে নিয়ে ২০২৪ এর জুলাইতে রাস্তায় নেমে গিয়েছিল , তাতো আর বুঝিয়ে বলার কিছু নাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, এত লাশ পড়ল, এত রক্তপাত হল অথচ যেই লাউ সেই কদু।
ভারতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দলোন হয় না। তবে তাদের সাথে অনায্য আচরন হলে নিশ্চই হবে।সেখানেতো আন্দোলন করে জনগন নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। সম্প্রতি ভারতে যে এত বড় আন্দোলন হল, একটা লাশও কি পড়েছে ? পড়েনি , কারন গনতান্ত্রিক দেশে প্রতিটা নাগরিকের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আর আমাদের দেশে সস্তা যদি কিছু হয়ে থাকে সেটা হচ্ছে মানুষের জীবন।
বিএনপি ক্ষমতার দাপটে বুঝতে পারছে না যে , মানুষ এখন তাদের কতটা ঘৃনা করে। অথচ তারেক রহমানের সামনে সুযোগ ছিল , দেশের জন্য কিছু করার। বিএনপি নিজেদের কর্মকান্ডে শেষপমেশ নিজেরাও ভুগবে , দেশকেও ভোগাবে এতে কোন সন্দেহ নাই।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১১
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: কম বেতনে শ্রমিক পেলে মালিক বেতন বাড়াবে কেন? শ্রমিকের কাজে পোষালে কাজ করবে না পোষালে কাজ করবে না- সহজ কথা।