নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশী

ফজলুর রহীম সরকার

ফজলুর রহীম সরকার › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুক্তি সংগ্রামের অম্লান স্মৃতি

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:২৬

"Give me blood and I shall give you freedom." - Subhas Chandra Bose

"সালাম সালাম হাজার সালাম সকল শহীদ স্মরণে
আমার হৃদয় রেখে যেতে চাই তাঁদের স্মৃতির চরণে।"


৩রা মার্চ ১৯৭১ - বুধবার, ১৯শে ফাল্গুন, ১৩৭৭ - এই তারিখটা শুধু আক্ষরিক অর্থেই নয় সত্যিকারের অর্থেই আমার জীবনে রক্ত দিয়ে লেখা তারিখ।

আজ থেকে ৪৪ বছর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অগ্নিঝরা উত্তপ্ত দিনে আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌবনাদ্বীপ্ত এক তরুণ ছাত্র। এই দিনে, ঠিক এই তারিখে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গুলিতে আহত হয়ে রাজশাহী শহরে পথের ধুলায় লুটিয়ে পড়েছিলাম আমি। আমার রক্তে পথের ধুলো ভিজে গিয়েছিল। সেই রক্তে রাঙ্গা ধুলায় মাখামাখি হয়ে মিশেছিল শেষ বিকালের রক্তিম সুর্য্যের লালিমা। কিছু অপরিচিত, অচেনা, অজানা মানুষ আমাকে পথ থেকে তুলে নিয়ে পথের পাশের একটা বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। আজ এতদিন পরেও বেশ মনে পড়ে রক্তাক্ত আমাকে দেখে ঐ বাড়ীর মা-বোনেরা শিউরে উঠে ছোটাছুটি করে বাড়ীর উঠানে শুকাতে দেওয়া শাড়ি ছিঁড়ে রক্তে ভিজে যাওয়া আমার পা বেঁধে দিয়েছিলেন। ঐ অচেনা অজানা মানুষ গুলো সন্ধার অন্ধকারে আমাকে রিকশায় তুলে কারফিউ ঢাকা শহরের অলিগলি দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে অনেক কষ্টে পৌঁছে দিয়েছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে । সংবাদ পেয়ে অপারেসন থিয়েটারে ছুটে এসেছিলেন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক আমার ফুপাতো ভাই ডাঃ শামসুল হক (এম. আর. সি. পি.) যিনি আমার পায়ে অপারেসন করে ব্যন্ডেজ বেঁধে দিয়েছিলেন।

চার দিন পর ৭ই মার্চে হাসপাতালের ওয়ার্ডে আমার শয্যায় নার্সদের কল্যানে রেডিওতে বজ্রকন্ঠের সেই বিখ্যাত ভাষণ ভেসে এসেছিলঃ "......ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে.....রক্ত যখন দিতে শিখেছি রক্ত আরো দেব....এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" হাসপাতালেই একদিন জানতে পেরেছিলাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে নির্দেশ দেওয়া আছে সেনাবাহিনীর গুলিতে আমি এবং আরো যারা গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি আমরা সবাই পাকিস্তানের শত্রু তাই ভাল হয়ে গেলেও আমাদের যেন ছেড়ে দেওয়া না হয় ! দু'তিন দিন পর পর ক্যান্টনমেন্ট থেকে একজন আর্মী অফিসার দু'দিকে দু'জন খোলা অস্ত্রধারী বডিগার্ড সাথে নিয়ে ওয়ার্ডে এসে আমাদের দেখে যেতেন। এরই মধ্যে একদিন আকাশ থেকে বিদ্যুৎপড়ার ভয়ঙ্কর ভারী ডাকের মত গগন বিদারী প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দে মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে হাসপাতালের তিন তলার জানালা দিয়ে দেখতে পেয়েছিলাম দাউ দাউ করে জ্বলে উঠা আগুনের লেলিহান শিখা। নার্সদের মুখে শুনেছিলাম পাকিস্তানী সৈন্যরা বাঙ্গালী-প্রধান ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস-এর রাজশাহী ঘাটি আক্রমন করে ওদের গোলা বারুদের অস্ত্রাগারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ।

কেমন করে একদিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলাম, কেমন করে পদ্মা পেরিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলাম সে এক আলাদা লম্বা ইতিহাস। ভারতের অচেনা মাটিতে, অপরিচিত পরিবেশে, কপর্দকহীন শুন্য পকেটে শুরু হয়েছিল কখনো অনাহারে, কখনো অর্ধাহারে একটু খানি আশ্রয়ের সন্ধানে চৈত্রদিনের দিকভ্রান্ত ছিন্ন পাতার মত পথে পথে আমার ঘুরে বেড়ানো! একদিন দুপুর বেলা ভারতের উত্তর বাংলায় শিলিগুড়ি শহরে চোখে চশমা আর ধুলি মলিন শার্ট আর লুঙ্গি পরিহিত উদ্দেশ্যহীন ভাবে আমাকে পথে পথে ঘুরে বেড়াতে দেখে আমারই বয়সের এক তরুণ যুবক আমার চলার পথে সামনে এসে প্রশ্ন করেছিল "তোমাকে দেখেই বোঝা যায় এখানে তুমি নুতন। তুমি কে, কোথা এসেছ, কেন এসেছ জানিনা কিন্তু ঐ পাশের বারান্দায় বসে কয়েকজন বন্ধুর সাথে গল্প করার সময় এই পথে বেশ কয়েকবার তোমাকে যাওয়া আসা করতে দেখেছি। যদি এখানকার নকশালীরা বুঝতে পারে তুমি পুলিশের গুপ্তচর তাহলে যে কোন সময় তোমার গায়ে পেট্রোল বোমা ছুড়ে দিতে পারে আর পুলিশ যদি তোমাকে নকশালী সন্দেহ করে জেলে একবার ঢোকায় তাহলে জীবন নিয়ে কোনদিন বেরিয়ে আসতে পারবেনা, ক্রস ফায়ারে তুমি শেষ হয়ে যাবে।"

যেখানে দাঁড়িয়ে ছেলেটি আমাকে নকশালী আতঙ্কবাদীদের কথা শোনাচ্ছিল সেখান থেকে ঐ উগ্র মাওবাদী আন্দোলনের উৎপত্তিস্থল এবং যে জায়গার নামে আন্দোলন ঐ নাম পেয়েছে সেই নকশালবাড়ীর দূরত্ব মাত্র ষোল মাইল!

দেশে আমার বাড়ীতে সাদা শাড়ি পরা আমার দুখিনী বিধবা মা, আমার একমাত্র ভাই ও ভাবী এবং বোনেরা কেউই আমার কোন খবর জানেনা, ওরা জানেনা আমি কোথায়, জানেনা আমি মরে গিয়েছি নাকি বেঁচে আছি। আর এখন বিদেশের অজানা, অচেনা মাটিতে, সহায় সম্বলহীন আমি। ছেলেটির কথাগুলো আমার কানে যেতেই আমার পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যেতে শুরু করেছিল । আমার ভয় বিহ্বল সাদা, ফ্যাকাশে, আতঙ্কিত মুখ আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না তবে মনে আছে ক্ষুধার্থ, তৃষ্ণার্ত গলায় ছেলেটাকে আমার পরনের লুঙ্গিটা তুলে আমার ব্যন্ডেজ বাঁধা পা দেখিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, পাকিস্তানী মিলিটারীর গুলিতে আহত হয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসেছি।

দেবদূত দেখতে কেমন হয় কোনদিন জানতামনা। অন্ততঃ সেদিন, সেই মুহুর্তের আগে অবধি জানতামনা। সেদিন আমি দেবদূত দেখেছিলাম। ছেলেটি জানালঃ "আমি আমার বোন ভগ্নিপতির বাড়িতে থেকে পড়াশুনো করি। ওদের বাড়ি খুব বেশি দুরে নয়। চলো আমার সাথে, আমার জামাইবাবু এ সময় বাড়ী থাকেন না কিন্তু আমার দিদি তোমাকে আশ্রয় দেবে, দেখো।" ছেলেটি ওর বোনের কথা এক বর্ণও বাড়িয়ে বলেনি বরং মনে হয় কমিয়ে বলেছিল। বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা নিম্ন মধ্যবর্তী সংসারের টিনের ছোট বাড়ীটার টিনের দরজা ঠেলে ছেলেটার পেছনে পেছনে ভেতরে ঢুকে উঠানে গিয়ে দাঁড়াতেই চোখে পড়ল সিমেন্টে বাঁধা বেদীর মাঝখানে একটা তুলসী গাছ আর তার নীচে একটা নেভানো মাটির প্রদীপ। রান্নাঘরের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে একটা পেয়ারা গাছ তার মিষ্টি শীতল ছায়া ছড়িয়ে দিয়েছে ছোট্ট উঠানটিতে । বাড়ির কোথাও জাগতিক বৈভবের চিহ্ন ছিলনা, যা ছিল তা নিঃশ্বতার গৌরব। কোন কাজের ছেলে বা ঝি চোখে পড়েনি, চোখে পড়েছিল দিদির হাতের সাদা শাখা আর সিথির জ্বল জ্বলে সিঁদুর। আচমকা মনে পড়েছিল বিমল মিত্রের লেখা "সাহেব বিবি গোলাম"-এর ভুতনাথ বাবুকে, মনে হয়েছিল এ বুঝি ভুতনাথ বাবুর কারখানায় তৈরী সেই মোহিনী সিঁদুর।

কত দিন পেট পুরে দু'মুঠো খেতে পাইনি, কতদিন গোসল করার সুযোগ পাইনি। ওদের কুয়ো তলায় গোসল করতে গিয়ে দেখি কুয়োর পাশে টানানো দড়িতে আমার জন্য একটা ধোয়া লুঙ্গি ঝোলানো আর আমার জন্য বোনের নিজের হাতে কুয়ো থেকে তোলা বড় বালতি ভর্তি আমার গোসলের পানি। আমি কি কেঁদেছিলাম? আমার চোখ কি অশ্রু সিক্ত হয়েছিল? গোসল শেষে যখন ওদের ঘরের বারান্দায় পেতে দেওয়া মাদুরে গিয়ে দিদির বেড়ে দেওয়া গরম গরম ভাত খেতে বসলাম তখন মনে হলো পৌরণিক গল্প কাহিনীতে "অমৃত" বলতে যা বোঝানো হয়েছে তাই-ই বুঝি মুখে তুলে দিচ্ছি।

*********************************
সত্তুর দশকে আমি




মন্তব্য ২০ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (২০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৪১

কান্ডারি অথর্ব বলেছেন:


লেখাটি ৭ম বাংলা ব্লগ দিবস ২০১৫ উপলক্ষে আয়োজিত লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:১১

ফজলুর রহীম সরকার বলেছেন: আমার স্মৃতি কথাকে সেরা লেখার মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচক মন্ডলী অভিবাদন জানালেন জীবন বলিদান দেওয়া শহীদদের, সকল মুক্তি যোদ্ধাদের, অভিবাদন জানালেন বাংলাদেশের সকল মুক্তিকামী জনতাকে যাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে সহাযতা দিয়েছিলেন। গভীর বিনয় বোধে আচ্ছন্ন হলাম। সন্মানিত বিচারক মন্ডলীর সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ।

২| ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৩০

সকাল রয় বলেছেন: সুন্দর লেখনি___

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:০৮

ফজলুর রহীম সরকার বলেছেন: ভালো লাগায় কুতুব মিনারের মত উঁচু আপনার ছোট্ট কথাটি ! ধন্যবাদ আপনাকে।

৩| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:০০

হাসান মাহবুব বলেছেন: অভিননন্দন! !:#P

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৫৯

ফজলুর রহীম সরকার বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে !

৪| ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৫২

পলক শাহরিয়ার বলেছেন: আপনাকে অভিনন্দন,স্যার। আমিও আপনার মত রাজশাহী ভার্সিটির ছাত্র ছিলাম।

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৫৩

ফজলুর রহীম সরকার বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই পলক শাহরিয়ার। সময় স্বল্পতা হেতু নিয়মিত সামু-তে আসা হয়না। অনেকের লেখা এখনও পড়ার সুযোগ পাইনি, যতটুকু চোখ বুলিয়েছি এটুকু বেশ বুঝেছি আপনি নিজে এবং এখানে প্রায় সকলেই দারুন লিখতে জানেন, সব প্রতিভাবানদের সমাবেশ এখানে। সামুর পরিচালনায় যাঁরা আছেন তাঁরা ব্লগের সর্বাঙ্গীন সৌন্দর্য রক্ষায় নিরলস তাদের সময় ও শ্রম দিয়ে দিচ্ছেন তা-ও বেশ বোঝা যায়।

আপনার স্যার কথাটার দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবছিলাম কি লিখি! বিশ্বায়নের অনেক আগে কানাডা এসেছিলাম তাই এখানকার অনেক কিছুই অজানা ছিল। প্রথম চাকুরিতে প্রথমদিন বসকে স্যার ডাকায় বস বলেছিলেন তোমাকে কে বলেছে আমার নাম স্যার ? পরে জেনেছি উর্ধতন কর্মকর্তা, তা তিনি যত সিড়ি উপরেরই হোন এখানে সবাইকে নাম ধরে ডাকা হয়। স্যার ডাকা হয় শুধু অপরিচিতকে! মজার ব্যাপার হলো, এখানে চোর-ডাকাতকেও পুলিশ কিংবা আদালতের হাকিম স্যার বলেন!

যখন আমি নুতন তখন আর একটা বিষয় লক্ষ্য করেছিলাম, এদেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গাড়ির মালিক নিজেই ড্রাইভার। কখনো দেখতাম গন্তব্যে পৌঁছে ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমে উল্টো দিকে গিয়ে গাড়ীর দরজা খুলে প্রমীলা যাত্রীটিকে নামিয়ে নিয়ে বেশ আস্তে দরজাটা বন্ধ করে দিচ্ছে। ব্যাপারটা দু'একবার দেখার পর কৌতুহলী হয়ে একদিন আমার এক শ্বেতাঙ্গ সহকর্মীর কাছে এর কারণ জানতে চাইলে রহস্যময় হাসি দিয়ে বলেছিলঃ ড্রাইভ করে জায়গা মত পৌঁছে যদি কাউকে দেখা যায় উল্টো দিকে গিয়ে মেয়ে যাত্রীটিকে নামাচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে মেয়েটা ওর নুতন বান্ধবী অথবা নুতন বউ, দুটোর কোনটাই যদি না হয় তাহলে বুঝতে হবে গাড়িটা নুতন!

ভার্সিটির কথায় মনে পড়ে যাচ্ছে সেই যে মাসের শেষে আবাসিক হলে একবার ডিনারের ব্যবস্থা হতো! প্রভোস্ট স্বস্ত্রীক আসতেন প্রধান অতিথি হয়ে। খাওয়া দাওয়ার শেষ পর্বে থাকতো মিষ্টি-পান আর একটা গোল্ড ফ্লেক সিগারেট! তারপর মনে পড়ে যাচ্ছে, স্থানীয় ভাষার সেই হাসির গল্পঃ খাবার সময় লোড শেডিং হয়েছে, অন্ধকারে একজন ডালে আমচুর পেয়ে মজা করে চোষার সময় বাবুর্চির প্রশংসা করাতে বাবুর্চি জানাচ্ছে ডালে আমচুর দেওয়া হয়নি। পরে জানা গেল ওটা আমচুর ছিলনা, ছিল তেলাপোকা!

৫| ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪১

শামছুল ইসলাম বলেছেন: অভিনন্দন !!!

আপনার মুক্তি সংগ্রামের অম্লান স্মৃতি পড়ে খুব ভাল লাগল।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা যে কোন কিছু আমি খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ি।

আশা করি, আগামীতেও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার পোস্ট পাব।

ভাল থাকুন। সবসময়।

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৭:১২

ফজলুর রহীম সরকার বলেছেন: ভাই শামছুল ইসলাম, আপনার আগ্রহের কথা জেনে ভীষণ ভাল লাগলো। আমিও আপনার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি। আমার আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকে !

৬| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:০৭

পলক শাহরিয়ার বলেছেন: এমনিতেই মুক্তিসংগ্রামের অকুতোভয় সেনানীদের কাছে আমার/আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। দেশের সর্বোচ্চ সম্মান প্রাপ্য তাদেরই। কমেন্টে আপনার গল্পদুটো দারুন লাগল। আই লাইক ইয়োর সেন্স অব হিউমার,স্যার।
এমন করেই দারুন সব অভিজ্ঞতার গল্পে রাঙিয়ে দিন ব্লগের আঙিনা।
"এখানে প্রায় সকলেই দারুন লিখতে জানেন, সব প্রতিভাবানদের সমাবেশ এখানে। ..." আপনার এই কমেন্টের জবাবে বলি আসলে বর্তমানে সামু তার দারুন দুঃসময় থেকে উত্তরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মোটামুটি ২০০৮-২০১২/১৩ এই পাঁচ ছ বছর ছিল সামুর স্বর্ণসময়। অসাধারণ প্রতিভাবানদের অনেকেই এখন নেই। নতুন করে প্রতিভা আসছে কিছু যদিও। আশাকরি সামু আবার সেই স্বর্ণসময় ফিরে পাক।


০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৭:১৪

ফজলুর রহীম সরকার বলেছেন: ভাই পলক শাহরিয়ার আপনার কমেন্ট আপনার অতি সুক্ষ রসবোধের সাথে দারুণ ভাবে সামঞ্জস্য পূর্ণ ! গোড়াতেই দেখেছি যেখানে আপনার পরিচয় চাওয়া হয়েছে সেখানে লিখে রেখেছেন আপনি নিজের সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না ..... আর Life is too short to be wasted in finding answers. Enjoy the Questions! একদম ঠিক! মাত্রারিক্ত সুক্ষ রসবোধের
ঘনঘটা আরকি ! আপনি আমার অনেক ধন্যবাদ নেবেন!

৭| ০২ রা জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:২৬

মাসুম-৭০৫ বলেছেন: আপনার অসাধারণ এই লেখাটি পড়ে খুব ভাল লাগল। আমি সেই ভাগ্যবানদের একজন যার লেখকের নিজের মুখ থেকে এই অভিজ্ঞতার কথা শুনার সৌভাগ্য হয়েছিল, আরো অনেক বিস্তারিত। তবে এখানে এই লিখায় ভাষার মাধুর্য্য অনেক ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ।
শুভ ইংরেজী নববর্ষ। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

৮| ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৮:২০

ফজলুর রহীম সরকার বলেছেন: ভাই মাসুম, আমার লেখার উপরে আপনার প্রতিক্রিয়ায় বিনয়াবনত হলাম, মুগ্ধ হলাম ! লাইফ ইজ গুড বিকজ অফ পিপল লাইক ইউ! অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে !

৯| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৫০

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আপনার মতো করে সব মুক্তিযোদ্ধাই যদি ১৯৭২ সালের প্রথম বিজয় দিবসে লিখে রাখতে তাহলে তা হতে পারত এক মহান ইতিহাস, মহাকাব্য, মহা প্রামাণ্য গ্রন্থ।
স্যালুট আপনাকে।

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:০২

ফজলুর রহীম সরকার বলেছেন: ভাই মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন প্রথমে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ সেই সাথে প্রতি-অভিবাদন। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে একদিন "Betrayal of East Pakistan" নামে একটা ইংরেজী বইয়ের নাম চোখে পড়েছিল। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত বইটার লেখকের নাম আমীর আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী যার দেহবাসন ঘটে ৮৯ বছর বয়সে ২রা ফেব্রুয়ারী ২০০৪ সালে।

১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১-এ আত্ব-সমর্পনের দলিলে স্বাক্ষরের আগে পাকিস্তানীদের কাছে যার পরিচয় ছিল "টাইগার নিয়াজী", মুক্তিযুদ্ধের সময় তাকে নাকি একজন সহকর্মী জেনারেলের কাছে দম্ভভরে বলতে শোনা গিয়েছিল "একদিন তুমি আমাকে কোলকাতায় দেখতে পাবে, দেখে নিও।" খুব সত্যি কথাটাই বলেছিল মানুষের বেশে অমানুষ ঐ দানব। ঐ দাম্ভিকতার মাত্র আড়াই মাসের মাথায় সত্যিই ওকে কোলকাতা যেতে হয়েছিল। পাকিস্তানীদের সাথে সারা বিশ্ববাসী কোলকাতায় ওদের টাইগারকে দেখেছে টাইগারের মতো নয়, বন্দী দশায়, মূষিকের মতো। লেখকের নাম দেখে বইটা পড়ার আগ্রহ হয়নি।

বইটার রিভিউ-এ লেখক সম্পর্কে অনেকেই তাঁদের মতামত লিখেছেন। ইংরেজীতে একজনের মন্তব্য এরকমঃ
মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামের পথে হেঁটে যেতে ঝোপের ভেতরে কয়েকটা কুকুরের চিৎকার চেচামেচি শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখি পাকিস্তানী সৈন্যদের হাতে নিহত মায়ের পাশে বেঁচে থাকা শিশুটিকে শেয়ালের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল ওরা।
রিভিউ-এ দেখছি আপনারা অনেকেই নিয়াজীকে কুকুর আখ্যা দিয়েছেন। প্লিজ, নিয়াজীকে কুকুরের সাথে তুলনা করে কুকুরদের অপমান করবেন না।

১০| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:০৪

রোকসানা লেইস বলেছেন: বাহ দারুণ এবং অভিনন্দন

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৪:৫২

ফজলুর রহীম সরকার বলেছেন: রোকসানা লেইস - জানাই আমার অশেষ ধন্যবাদ।

১১| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:১৭

বিজন রয় বলেছেন: বিলম্বিত অভিনন্দন।

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:২৫

ফজলুর রহীম সরকার বলেছেন: আমার দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরব চির-অমলিন ! সেই সংগ্রামের স্মৃতিকথা বিলম্বিত অভিনন্দনে এতটুকু মলিন হবে না ভাই ! অনেক অনেক ধন্যবাদ নেবেন ভাই বিজন রয় !

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.