নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

The best and most beautiful things in the world cannot be seen or even touched - they must be felt with the heart---Helen Keller

জুন

ইবনে বতুতার ব্লগ

জুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

রোদন ভরা আমাদের শিক্ষা জীবন শুরু

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:৫৯

আমাদের শিক্ষা জীবনে প্রথম বাংলা সাহিত্যের সাথে পরিচয় ঘটে সবুজ সাথী বই এর মাধ্যমে। সেই বইতে ছিল নানা রকম শিক্ষা মুলক গল্প, কবিতা,প্রবন্ধ। কিন্ত আজ চিন্তা করলে দেখি সে সব কি আমাদের শিশু মনের যথার্থ উপযোগী ছিল??
ফটিককে মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ভালো শিক্ষা লাভের জন্য মামা বাড়ি পাঠানো হলো। মায়ের কোল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ফটিক মামীর আদরে আল্লাদে অচিরেই তার কি করুন পরিনতিটাই না হলো! এই সব গল্প কি আমাদের শিশু মনের উপযোগী ছিল! আমি বলবো না, বরং এই গল্প আমাদেরকেও মামী নামক আত্মীয়ের প্রতি ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলেছিল।
তারপর গনি মিয়া একজন কৃষক সাথে তার দুঃখের কিচ্ছা। শরতচন্দ্রের মহেশ। এটাও কি আমাদের শিশু মনের উপযুক্ত!! মহেশের মৃত্যু আমাদের হৃদয়কে করুন রসে চুপচুপে করে তুলেছে৷
কবিতার কথা কি বলবো! জসীমউদ্দিন এর বিখ্যাত কবর কবিতা। এই কবিতার কষ্টের ভার বহন করার মত আমাদের শিশুমন কতটা উপযুক্ত ছিল! তখনো আমাদের বেশিরভাগ এরই দাদা দাদী বেচে আছেন। তাদের আদরে স্নেহে আমাদের হৃদয় মাখামাখি। সেইখানে এই কবিতা পড়ে আমি চোখের পানি ফেলি নাই এমন দিন ছিলো না। স্কুলে টিচাররা পড়তে দিলেও গলা বুজে আসতো।

এরপর আসেন যতীন্দ্র মোহন বাগচীর বিখ্যাত কবিতা কাজলা দিদি তারপর সুফিয়া কামালের আজিকার শিশু। জসিমউদদীন এর আসমানী ভেন্না পাতার ছানি দেয়া ঘরে বসবাস! কি করুন, কি করুন! আমার মনে হয় উনারাও এটা আমাদের শিশুদের জন্য উপযুক্ত বলে রচনা করেনি।
এইসব গল্প, কবিতা আর নানাবিধ প্রবন্ধ আমাদের মনে কি গভীর রেখাপাত করতে পারে তা বোধহয় আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত লোকজন চিন্তা করেও দেখেনি। এখন মনে হয় আমাদের ওই শিশু মনের জন্য হাম্পডাম্পটি কিই উপযুক্ত ছিল না! অথবা ছড়া ও ছবির এই কবিতা যা পড়ে অনেক হেসেছি ছোট্ট বেলায়।
দাদুর মাথায় টাক ছিল,
সেই টাকে তেল মাখছিল,
এমন সময় বোলতা এসে,
হুল ফুটিয়ে পালায় শেষে,
ঘুলিয়ে দিল বুদ্ধি দাদুর,
ফুলিয়ে দিল টাকটারে,
ব্যাথার চোটে কাদলো দাদু,
আনলো ডেকে ডাক্তারে।

মন্তব্য ৫৯ টি রেটিং +১৪/-০

মন্তব্য (৫৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:১১

জুল ভার্ন বলেছেন: একটু আগেই আমার পোস্টে আপনার মন্তব্যের জবাবে লিখেছিলাম-অনেক দিন আপনার নতুন লেখা পাচ্ছিনা! মন্তব্যের সাথে সাথেই ফ্রণ্ট পেজে অসম্ভব সুন্দর আপনার এই লেখাটা পেলাম! আপনি যেসব বই, গল্প ছড়ার কথা উল্লেখ করেছেন-সবগুলোই আমারও পাঠ্য ছিলো।
অসাধারণ নস্টালজিকতা!!! +

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:১৪

জুন বলেছেন: এত সুন্দর একটি মন্তব্যের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। লেখালেখি করতে মনে চায় কিন্তু সময় পাই না একদম।
আর লেখার বিষয়বস্ত নিয়ে আপনি দু চার লাইন লিখবেন সেই প্রত্যাশা রইলো। আমাদের শিশু মনের জন্য এই সব গল্প কবিতা কি উপযুক্ত ছিল?

২| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:১৮

জুল ভার্ন বলেছেন: আসমানী কবিতাটি কিন্তু কবি জসিম উদ্দীনের।

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:২৫

জুন বলেছেন: ঠিক করে দিয়েছি, তাড়াহুড়ো করে এইমাত্র মোবাইলে লিখেছি তাই এই ভুল।
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

৩| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:১৮

শায়মা বলেছেন: কথা সত্য হাম্পটি ডাম্পটি পড়ে শিশু শুধু হাসবে আর আনন্দে ভাসবে কিন্তু দুঃখের সাগরে ভেসেও আমরা কম শিখিনি আপুনি।

ইমোশোন ফিল করা শিখেছি। অন্যের দুঃখে দুঃখী হতে শিখেছি। চোখের জলে বুক ভাসিয়েছি। নিজের দাদী নিজের দিদির জন্য যে মমতা কবিতার দিদি দাদীদের জন্যও তাই ছিলো।

আহা আমার শৈশবের সব কবিতাগুলিই তো প্রিয় ছিলো!!!!!

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:২৮

জুন বলেছেন: শায়মা একজন শিক্ষক হিসেবে আপনার মতামত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমার মনে হয় শিশুরা যে আনন্দ নিয়ে প্রথম শিক্ষাজীবনে প্রবেশ করে তাতে এই ইমোশন বড় হৃদয়বিদারক। এগুলো আরেকটু বড় হলে যেমন ফোর ফাইভে হলে ভালো।
অনেক অনেক ধন্যবাদ তোমাকে সুন্দর ও প্রাসঙ্গিক একটি মন্তব্যের জন্য :)

৪| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:২১

ওমেরা বলেছেন: আরে আপু —- ছোট বেলায় এসব দুঃখ কষ্টের কবিতা, গল্প পড়েই তো আমাদের দেশের মানুষের সহ্য শক্তি এত বেশী আমাদের দেশের মানুষ এত মানবিক ।

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:১০

জুন বলেছেন: কেন ওমেরা আপনি তো বিদেশে থাকেন তারাতো হাম্পডিডাম্পটি পড়ে বড় হয়েছে, তারা কি মানবিক না! ব্যাতিক্রম কিছু থাকেই হয়তো তাদেরও আছে। আর আমরা এত মানবিকতা শিখে পেপার পত্রিকায় কি পড়ছি! আমরা শিশুকালে যে শিক্ষা লাভ করেছি তাতে তো একটা মানুষেরও অমানবিক হওয়ার কথা না। কিন্ত আজ তুচ্ছ কারনে বাবা মা ছেলে-মেয়েকে, ছেলে মেয়ে বাবা মাকে, বন্ধু বন্ধুকে হত্যা করছে। সিলেটের ঐ ঘটনাটাই দেখুন শত্রুকে ফাসানোর জন্য অবুঝ ঘুমন্ত ছেলেকে তুলে তার নিজ পিতা তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখলো।
চাচাতো ভাই বিরিয়ানির লোভ দেখিয়ে শিশু ভাইকে অপহরণ করে চাদা না পেয়ে হত্যা করলো ৬/৭ বছরের বাচ্চাকে। এমন উদাহরণ আমি কোটি কোটি দিতে পারবো। তো এত এত মানবিক গল্প কবিতা পড়ে আমরা কি তাদের চেয়ে মানবিক হতে পেরেছি ওমারা যারা শিশুকালে দুঃখের গল্প কবিতা পড়ে বড় হয় নি!
মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকে।

৫| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:৩৪

নতুন নকিব বলেছেন:



পোস্ট পাঠে স্মৃতির পাতায় হেটে আসার সুযোগ হল। আমাদের সময়ে পাঠ্যসূচিতে থাকা এইসব ছড়া, কবিতা আর গল্পগুলোর আবেদন যেন ফুরোবার নয়। কি যে এক আনন্দ ছিল! আজও স্মৃতিতে অম্লান। এখনকার অবস্থা ভিন্নরকম। +

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:১৩

জুন বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আমার মনে হয় আপনি আমার লেখাটির বিষয় বস্তর ব্যাপারে ভুল বুঝেছেন। আমি স্মৃতি চারন করি নি। আমি বলতে চাইছি আমাদের শিশু হৃদয় কি এত কষ্টের কাব্য বা গল্পের ভার বহন করার উপযুক্ত ছিল!!
আবারও ধন্যবাদ জানবেন।

৬| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:৩৬

মেহবুবা বলেছেন: ৩ এবং ৪ এ সহমত। সম্ভবতঃ আসমানী কবিতা পড়ে এবং পরে বুঝে নিজেকে অনেকটা মিতব্যয়ী করতে শিখেছি। অবশ্য পারিবারিক শিক্ষাও কাজে লেগেছে।
কিছু দিন আগেও আমার ছেলেকে বলছিলাম আমরা চিকিৎসা জানি, জায়গা চিনি কোথায় যেতে হবে, পয়সা যাহোক যা আছে ঔষধ কিনতে পারি ; মানুষের কত কষ্ট!

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৫:৩৯

জুন বলেছেন: মেহেবুবা অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্যের জন্য। আসলে আমি যা বলতে চেয়েছি তা বোধহয় লিখে বুঝাতে পারি নি। আমি বলতে চেয়েছি একদম প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা কার্যক্রমে আমাদের যে গুরু গম্ভীর এবং মনে কষ্ট জাগানিয়া যে লেখাগুলো ছিল তা কি নেয়ার মত আমাদের মন তৈরি ছিল? বা পড়ালেখাকে আনন্দময় মনে হয়েছিল? শিশুদের প্রাথমিক বইটা কি তাদের মনের মত হয়েছিল! কিছু গুরু গম্ভীর বানী আর আদর্শের কথা শোনা বা মানার জন্য সেই কচি মন কি প্রস্তুত ছিল?
আসলে আমিই ঠিকঠাক মত লিখতে হয়তো পারি নি।
যাইহোক তারপর ও সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানাই। ভালো থাকুন অনেক অনেক। আর আমাকে দেয়া টিয়া পাখিটির মতই চির সবুজ থাকুন সব সময় :)

৭| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৩৩

রাজীব নুর বলেছেন: এই পোষ্টের মধ্যে দিয়ে আপনি আমাকে স্কুল জীবনে নিয়ে গিয়েছেন।

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৩

জুন বলেছেন: ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য রাজীব নুর। ভালো থাকুন দুই পরী আর ভাবিকে নিয়ে।

৮| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৩৯

রানার ব্লগ বলেছেন: খুব ভালো একটা সাবজেক্ট তুলে ধরেছেন এর জন্য ধন্যবাদ !!!!

আমাদের দেশে যারা স্কুলের টেক্সটবুক এর দায়িত্বে আছে তারা কেউই হিউম্যান সাইকোলজি নিয়ে পড়াশুনা করেন নাই মনেহয়। শিশুদের বইয়ের গল্পকবিতা হবে আনন্দময়ী কিন্তু এরা জীবনের প্রথমেই বিরাট মনষত্বাত্তিক জটিলতায় ফেলে দিচ্ছেন।

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৫

জুন বলেছেন: শিশুদের বইয়ের গল্পকবিতা হবে আনন্দময়ী কিন্তু এরা জীবনের প্রথমেই বিরাট মনষত্বাত্তিক জটিলতায় ফেলে দিচ্ছেন আমি এই কথাটি মনে হয় কাউকে লিখে বোঝাতে পারি নি রানার ব্লগ। এটা আমারই ব্যার্থতা। মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।

৯| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৪১

শায়মা বলেছেন: আপু আজকাল বাচ্চাদেরকে কোনো গল্প কোনো কবিতা পড়াতে গেলে হই হই রই রই করে মা বাবা সহ কোঅরডিনেটর তেড়ে আসে। শিশুমনে দুঃখ জাগবে শিশুরা ভয় পাবে। এমনকি কদিন আগে ডেঙ্গু মশা নিয়ে পাপেট করতে গিয়ে কথা উঠলো ইহা শিশুদের এইজ লেভেলে নহে। ডেঙ্গু মশাকে তাহলে বাচ্চারা ভয় পাবে।

আরে ভয় পাওয়াবার জন্যই তো ডেঙ্গু মশার পাপেট। হা হা আসলে কথাটা একটু আলাদা। ডেঙ্গু মশা ক্ষতিকর তাই প্রতিরোধ শিখবে কিন্তু মশা দেখেই যদি ভয়ে ফেইন্ট হয়ে যায় তাহলে বিপদ।

যাইহোক আপু আসমানী পড়ে ভেন্নাপাতার বাড়িতে বাস করা ওমন একটা গরীব মেয়ের জন্য যে দুঃখটা জেগেছিলো তা মনে হয় এই বুড়িকালে এসেও হৃদয়ে এসে বেঁধে। সত্যি বলতে আমরা যা পেয়েছি তার থেকেও কত কষ্টে আছে মানুষ এটা ফিল করা ও হৃদয়ে আগা জাগা হয়ত একশোজনের মাঝে বড় হতে হতে একজনের হৃদয়েও যদি কারো মানবিকতা জন্মে থাকে এই কবিতা থেকে তাও আমার কাছে অনেক মূল্যবান মনে হয়।

এখনকার বাচ্চাদের এসব মূল্যবোধ কম। কয়েকদিন আগে আমার এক কাজিনের মেয়ে এমন অতিরিক্ত জিনিস চায় বলে বললাম দেখো রাস্তার বাচ্চারা না খেয়েও থাাকে এই টাকায় এক মাস চলে একজন ড্রাইভারের। সে বলে কি জানো? সে কি আমার কারণে গরীব হয়েছে? আমি কি কোনোভাবে তার এই অবস্থার জন্য দায়ী? আমার বাবা মায়ের আছে আমি এটাই চাইবো। আমার কোনো দরকার পড়েছে কে কোথায় কেমন আছে এই নিয়ে ভাবা?

ঠিক এই নিয়ে ভাবাটাই কবিরা গেঁথে দিয়েছিলেন আমাদের মনে। আনন্দের কবিতাও কি ভুলে গেছি বলো? নুরু পুশি আয়শা শফি......আনন্দরে আনন্দ তুই কোথায় থাকিস বল??

হ্যাঁ ফাইভ সিক্সে এসব কবিতা ফিল করার পরিপক্কতা আসে আমি মানছি। কিন্তু জানো আপু আমি আমার ৪/৬ বছর থেকেই সঞ্চিতা গীতবিতান পড়তাম। মাকে আমার পড়ে না মনে পড়ে চোখের জলে বুক ভাসাতাম। ঐ বয়স থেকেই আমি কবিতা বুঝার চেষ্টা করতাম। নিজের মত করেই ভুলভাল হলেও বুঝে নিতাম।

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৮

জুন বলেছেন: আগের দিনে মানুষের মিনিমাম ৫/৬ টা করে সন্তান থাকতো, তারা কি খেতো? কি পড়তো এসব নিয়ে বাবা মা মাথাও ঘামাতো না। আজ সবার একটা দুটো সন্তান তাই বাবা মায়ের টেনশন বেশি।
শায়মা আমি মনে করি এক একটা মানুষের মন এক এক রকম। আপন ভাই বোনদের সাথেও অনেক সময় মানসিকতায় মেলে না। এই যেমন কবর কবিতা পড়ে আমি কেদেছি আবার আমার পাশে বসা মেয়েটির হয়তো কোন বিকারই হয় নি। সবার মানসিকতা কি এক হয়েছে বলো! হয় নি। হওয়ার কথা না, এর পেছনে পারিবারিক শিক্ষার প্রয়োজন আছে।
আমার মনে হয় একদম শৈশবে শিশুদের উপর তত্ব কথার বোঝা না চাপিয়ে ধীরে ধীরে বোঝালেই তারা বুঝতে পারবে।
আমিও অনেক ছোট বয়স থেকেই প্রচুর বই পড়েছি বা পড়ি। আমার বাবা মা ছাড়াও পরিবারের মাঝে বই গিফট করার একটা কালচার আছে। আর তার জন্য আমরা পরিবাতের সবাই ইংরেজি বাংলা বিভিন্ন ভাষার অনুবাদ সাহিত্য কিছুই বাদ রাখি নি পড়তে।
যাই হোক অনেক কচকচানি হলো। মন্তব্যে আরেকবার আসার জন্য অশেষ ধন্যবাদ রইলো। ভালো থেকো আর সুন্দর থেকো বরাবরের মতই :)

১০| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৪৭

শায়মা বলেছেন: ৮. ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৩৯০

রানার ব্লগ বলেছেন: খুব ভালো একটা সাবজেক্ট তুলে ধরেছেন এর জন্য ধন্যবাদ !!!!

আমাদের দেশে যারা স্কুলের টেক্সটবুক এর দায়িত্বে আছে তারা কেউই হিউম্যান সাইকোলজি নিয়ে পড়াশুনা করেন নাই মনেহয়। শিশুদের বইয়ের গল্পকবিতা হবে আনন্দময়ী কিন্তু এরা জীবনের প্রথমেই বিরাট মনষত্বাত্তিক জটিলতায় ফেলে দিচ্ছেন।



ভুল.....
বর্তমানে যারা সরকারী পাঠ্য পুস্তকের দায়িত্বে আছেন তারা শুধু হিউম্যান সাইকোলজীই না বরং চাইল্ড সাইকোলজী এন্ড ইয়ং চিল্ড্রেন এডুকেশন বা টিচিং নিয়ে রিতীমত পড়ালেখা করা মানুষজন আছেন।

আগের চাইতে বর্তমানের টেক্সটবুক অনেকটাই অন্যরকম। কিন্তু আমার যেটা মনে হয়েছে এই বইগুলি পড়াবে যারা হ্যান্ডস অন একটিভিটি বা প্রাকটিকাল নলেজ দিয়ে বা আরও নানা রকম রঙ্গে ও ঢঙ্গে সেই সব টিচারদের প্রপার ট্রেইনিং তার চাইতেও বেশি প্রয়োজন।

১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩১

জুন বলেছেন: শায়মা তুমি একজন টিচার তুমিই ভালো বলতে পারবে। আমার যা মনে হয়েছে অর্থাৎ আমার অনুভূতিটুকুই আমি তুলে ধরেছি।
এখনকার ছেলেমেয়েরা হয়তো দাদীর কবরের পাশে বসে থাকার কথা শুনলে বলে উঠবে হাউ ফানি ওই ওল্ড হ্যাগার্ড্যাটার কি আর কোন কাজ কাম নাই! তাদের অনুভূতি ভোতা। তবে আমাদের সময়েও শুধু কবিতা মুখস্থ করে গিয়েছে, ভেতরের স্বাদ গন্ধ উপলব্ধি করতে পারে নি।
অনেক বার এসে মতামত দিয়ে গেছো তার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। আর আমি হয়তো আমার বক্তব্যটিকে গুছিয়ে বলতে পারি নি এটা আমারই ব্যার্থতা।

১১| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:৩০

*আলবার্ট আইনস্টাইন* বলেছেন: কবর কবিতা পড়াতে গিয়ে অধ্যাপিকা নিলুফা ম্যাডাম প্রতিবছর একবার করে কাঁদতেন ও চোখ মুছতে মুছতে আমাদের সেটা জানিয়েছিলেন। ৫০ বছর বয়সী ম্যাডাম যদি কাঁদেন আর বাচ্চারা তো কোন ছার।

১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩৬

জুন বলেছেন: আসল কথা কি আইনেস্টাইন এটা অনুভূতির ব্যাপার। গল্প বা কবিতার করুনরস ধরতে পারার মত অনুভূতি বা মন মানসিকতা সবার থাকে না। যাদের থাকে তাদের খারাপ লাগে। যেমন আমপাতা জোড়া জোড়া, মারবো চাবুক চলবে ঘোড়া এই ছড়া পড়ে শিশু বয়সেই আমার নিরীহ ঘোড়ার প্রতি কষ্ট আর মমতায় ভরে উঠতো মন। আনন্দ পেতাম না যেটা সুকুমার রায়ের "খাই খাই বা আবোল তাবোল" পড়ে পেতাম.।
মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকে।

১২| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৪:৪৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



আমাদের জাতির সাহিত্যে আমাদের মানুষের জীবনের প্রতিফলন কম; ব্লগের কবিতা ও গল্পগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন। যারা আমাদের পড়ালেখার পাঠ্যসুচী তৈরি করছেন ও পড়াচ্ছেন, তাদের বড় অংশ অদক্ষ।


১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩৭

জুন বলেছেন: আপনার কথা সর্বাংশে না হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকে চাদগাজী।

১৩| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৪:৪৫

চাঁদগাজী বলেছেন:



ব্লগে অনেক শিক্ষক আছেন, তাঁদের পোষ্ট পড়েন, তাঁদের দক্ষতা বুঝতে পারবেন।

১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩৯

জুন বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আরেকবার এসেছেন তার জন্য।

১৪| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৫:২৫

ইসিয়াক বলেছেন: ছোটবেলায় বাংলা বই এর ছড়াগুলো আমার আকর্ষণের প্রধান কেন্দ্র বিন্দু ছিল। নতুন বই বাজার থেকে কিনে এনে( তখন কিনতে হতো) প্রথমে বইয়ের ঘ্রাণ নিতাম। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর এখনও দারুণ লাগে যদিও তারপর পাতা উল্টে দেখতাম কি কি কবিতা বা ছড়া আছে। সেগুলো মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে জোরে জোরে মুখস্থ করতাম যত তাড়াতাড়ি সম্ভব । ছন্দ কবিতায় আমার দারুণ আকর্ষণ যা এখনও বিদ্যমান। আমার শিশুতোষ কবিতা/ছড়াগুলো লেখার মুল অনুপ্রেরণা ছোটবেলায় পড়া কবিতাগুলো। অবশ্য পাঠ্য বই বাদে অন্য অনেক অনেক গল্প কবিতা ছড়া আমি ছোটবেলা থেকেই পড়ি না মা পড়ে শোনাতেন। সুকুমার রায়, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর আমার প্রিয় লেখক। সফদর ডাক্তার, আমাদের গ্রাম,মেঘনার ঢল,আমাদের ছোট নদী,কাজের আনন্দ, বনভোজন, পল্লীছায়া,পালকির গান,উত্তম অধম,বায়োজিদ বোস্তামী, শিক্ষাগুরুর শিক্ষা, বাপুরাম সাপুড়ে,কাজলা দিদি, মা,চাঁদের বুড়ী আরও কত কত। অবশ্য কোন দিন অত কিছু ভাবিনি সে সময়। ছবি আর ছন্দ ছিল মুল আকর্ষণ।

১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪৭

জুন বলেছেন: প্রিয় ব্লগার ইসিয়াক প্রথমেই আপনাকে বিশাল এক ধন্যবাদ জানিয়ে রাখি। আসলে আমার মতের সাথে সবার মত মিলবে সেটা আমি কখনোই আশা করি না। আমার মনে হয়েছিল আমি যে যে গল্প কবিতার কথা উল্লেখ করেছি তা মনে কষ্টের অনুভূতি এনে দেয়, আনন্দ না। যদিও সব সময় আনন্দ উল্লাসও ভালো না। ভালো মন্দ দু ধরনের অনুভূতির সাথেই পরিচয় থাকা ভালো।
আপনার মত আমিও প্রচুর গল্প আর কবিতা ছড়া পড়েছি এখনো পড়ি। ভারতের বিখ্যাত যত লেখক এর বেশির ভাগ গল্প উপন্যাস ছাড়াও সুকুমার রায় তার বাবা উপেন্দ্রকিশোর রায়, লীলা মজুমদার ছাড়াও রাজশেখর বসু যিনি পরশুরাম ছদ্মনামে রম্য লিখতেন তারা আমার প্রিয় তালিকায় ছিলেন। ছন্দের জন্যই আধুনিক কবিতা ভালো লাগাতে আমার অনেক সময় লেগেছিল।
আবারও ধন্যবাদ জানবেন। ভালো থাকুন সব সময়।

১৫| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৫:২৬

অর্ক বলেছেন: ভালো লাগলো। কিন্তু “কাজলা দিদি” কবিতাটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত’র নয়, যতীন্দ্র মোহন বাগচী’র লেখা।

শুভেচ্ছান্তে।

১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪৮

জুন বলেছেন: ওকে ঠিক করে দিবো। লেখার পর আমারও দ্বিধা ছিল লেখকের নাম নিয়ে অর্ক। স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।

১৬| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৪

ঢাবিয়ান বলেছেন: কবিতাগুলো পাঠ্য বইএ এখনো আছে কিনা জানা নেই। অসাধারন সব কবিতা। আপু ছোটবেলা থেকেইতো বাচ্চাদের বাস্তবতা শেখাতে হয়। তানাহলে জীবনকে চিনবে কিভাবে? বিদেশেতো এসব আরো বেশি শেখানো হয়। প্রাইমারী স্কুলের সোস্যাল স্টাডিজ মানেই হচ্ছে চারপাশের বাস্তবতা শিশুদের সামনে তুলে ধরা। বাস্তবতা না জানলেতো জীবনে চ্যলেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারবে না। জীবনে কার কোন বয়সে চ্যলেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে তাতো কারোরই জানা নাই। শুধু হাসি আনন্দের মাঝে বড় হলে বাচ্চারা কোনদিনই মানবিক এবং রিয়েলিস্টিক হতে শিখবে না।

কবিতাগুলো মনে করিয়ে দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:০৭

জুন বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ সব সময় সাথে থেকে উৎসাহিত করার জন্য ঢাবিয়ান।

১৭| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৬

মুক্তা নীল বলেছেন:

জুন আপা ,
যুগের ধারায় হয়তো অনেক কিছু পাল্টে গিয়েছে কিন্তু আমার
সেই ছোটবেলার স্কুল জীবনের কবিতা গুলোকে খুব মিস
করি । আপনার লেখায় ফিরে গেলাম সেই প্রাইমারি স্কুলে।
লেখায় অনেক ভালোলাগা রইলো ++

১৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:০৯

জুন বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ মুক্তানীল। পাঠক হিসেবে আপনাকে সব সময় কাছে পাই এটা আমার সৌভাগ্য। ভালো থাকবেন সবসময়।

১৮| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ৮:৪৮

শাহ আজিজ বলেছেন: খুচিয়ে দিলেন জুন !! অনেক কথা মনে পড়ে গেল সেই পাকিস্তান সময়ের । ছড়াগুলো কিন্তু দারুন ছিল মানতেই হবে ।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১০

জুন বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে শাহ আজিজ :)

১৯| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ৮:৫৫

মনিরা সুলতানা বলেছেন: নস্টালজিক পোষ্ট আপু!
সাথে আমার আমার বই এর কথা ও মনে আছে -
সন্ধ্যে হল হাঁস মুরগী ঘরে তোল, দাদি কে ঔষধ দাও।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৩

জুন বলেছেন: আমরা আমার বইটি পড়েছি কিন্ত আমার কাজিনের কাছে থাকা সবুজ সাথী বইটিও দেখেছি। সত্যি মনে হলে মনে হয় সেদিনগুলোতেই ফিরে যাই আবার। শুভকামনা সবসময় প্রিয় ব্লগার।

২০| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:৩৩

ইসিয়াক বলেছেন:


(১)
মামীর হাতে দুধভাত খেতে বেজায় মিঠে
ঘরে আছে ভাঁপা পুলি পাটি সাপটা পিঠে।।
(২)
সিংহ মামা সিংহ মামা করছো তুমি কি?
এই দেখ না কেমন তোমার ছবি এঁকেছি।
(৩)
গাঁয়ের পথে গরুর গাড়ি
বৌ চলেছে বাপের বাড়ি।
(৪)
আতা গাছে তোতা পাখি
ডালিম গাছে মৌ
এত ডাকি তবু কথা
কও না কেন বৌ।।

এরকম অজস্র ছোট ছোট ছড়ায় ভরপুর থাকতো বই। কি যে ভালো লাগতো। আহ কি সুন্দর দিন ছিল।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৪

জুন বলেছেন: সত্যি অনেক অনেক সুন্দর সেই দিনগুলো নিস্পাপ সহজ সরল জীবন। মিস করি অনেক ইসিয়াক। আরেকবার এসেছেন তার জন্য অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।

২১| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:৪৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: জুন,




ব্লগ খুলতেই আলোচিত ব্লগ অংশে সর্বাধিক মন্তব্য প্রাপ্ত আপনার এই পোস্টটি দেখে লগইন করতে হলো।
যা বলেছেন তা এক অর্থে হয়তো ঠিক যে, অমন গল্প-কবিতা শিশু মনে বেদনার ছবি আঁকে, চোখে জল ঝরায়। কিন্তু এক সময়ের ঐ সব গল্প-কবিতায় সমকালীন সমাজের ছবিই আঁকা হয়েছে যা আজকালকার লেখাগুলোতে অদৃশ্য। তার বদলে সেখানে যা আছে তা দিয়ে মানবিক আবেগ-অনুভূতি তৈরী হয়না ,হয় প্রতিযোগিতা। এ ব্যাপারে আমি শায়মার প্রথম দু'টি মন্তব্যের সাথে সহমত।
আগেকালের ঐসব গল্প-কবিতা হয়তো আমাদের কাদিয়েছে কিন্তু "মানুষ" করেছে- আপনার মতো আবেগ অনুভূতি সম্পন্ন মানুষ। তেমন অনুভূতি নিয়ে বেড়ে উঠেছেন বলে আজকে এমন একটি পোস্ট লিখতে পেরেছেন। আজকাল তেমন "মানুষ" নেই বলে আমরা সেকালের লোকেরা কিন্তু আক্ষেপই করি, তাইনা! ঢাবিয়ান এর মন্তব্যটিও এখানে স্মরণ করা যেতে পারে।
হালের গল্প-কবিতা পড়ে আজকাল কে মানুষের মতো মানুষ হয়? তারা স্বার্থপর হয়- অসুস্থ্য প্রতিযোগিতার পেছনে ছুটতে ছুটতে এককেন্দ্রীক হয়ে পড়ে। জীবনের আনন্দ মুছে ফেলে জাগতিক সাফল্যের জন্যে হণ্যে হয়।

তারপরেও বলবো, আপনার এই লেখাটি হয়তো কোনও আবেগ থেকে লেখা। যে আবেগ আপনাকে শিখিয়েছে, আপনার শৈশবের কান্না ঝরানো ঐ সব গল্প-কবিতাগুলোই। এক প্রতিমন্তব্যে আপনি নিজেই বলেছেন - "এই যেমন কবর কবিতা পড়ে আমি কেদেছি আবার আমার পাশে বসা মেয়েটির হয়তো কোন বিকারই হয় নি।"

১৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৬

জুন বলেছেন: আপনার এই লেখাটি হয়তো কোনও আবেগ থেকে লেখা। মনে হয়।
অনেক অনেক শুভকামনা রইলো। ভালো থাকুন সব সময়।

২২| ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ ভোর ৫:৩৮

কামাল১৮ বলেছেন: যারা নির্বাচিত করেছিলেন তাদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে অত লেখা পড়া ছিল না।তখন অত পরীক্ষা নিরিক্ষাও হয় নাই।বাংলাদেশের পাঠ্যসুচি এখনো ঠিক না এবং লেখা পড়ার ধরন বিজ্ঞান সম্মত না।
আপনি যে সকল গল্প কবিতার কথা লিখেছেন সেগুলো শিশুদের পাঠ্যসুচিতে ছিল না।হাই স্কুলের পাঠ্য সুচিতে ছিল।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৭

জুন বলেছেন: আপনার মন্তব্যটিতে আমার মনের কথাই ফুটে উঠেছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

২৩| ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:০০

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
শিশুদের জন্য সময়উপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া না থাকলে তার পড়াশুনা শুধু মুখস্থ বিদ্যা লাভ হয় । সে নিরান্দভাবে তা গ্রহণ করে । আগের তুলনায় এখন কিছুটা উন্নত হয়েছে অনেক ছড়া, গল্প, ছবি যুক্ত হয়েছে।++++

১৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২০

জুন বলেছেন: জী সেটাই হওয়া উচিত। সেই ক্ষুদে বেলায় বউ সাজবে কালকি, চড়বে সোনার পাল্কি ছড়ায় শিশুদের মনে কি ধারণা হয় আপনিই বলুন?

২৪| ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:৩৮

লিখন২০১৬ বলেছেন: ২২. ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ ভোর ৫:৩৮০

কামাল১৮ বলেছেন: যারা নির্বাচিত করেছিলেন তাদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে অত লেখা পড়া ছিল না।তখন অত পরীক্ষা নিরিক্ষাও হয় নাই।বাংলাদেশের পাঠ্যসুচি এখনো ঠিক না এবং লেখা পড়ার ধরন বিজ্ঞান সম্মত না।
আপনি যে সকল গল্প কবিতার কথা লিখেছেন সেগুলো শিশুদের পাঠ্যসুচিতে ছিল না।হাই স্কুলের পাঠ্য সুচিতে ছিল।



সহমত।
পোস্টে উল্লিখিত কবিতাগুলি হাইস্কুলের পাঠ্যসূচীতে ছিলো। শিশুশ্রেনীতে আমপাতা জোড়া জোড়া যা হাম্পটি ডাম্পটি টাইপ ছড়াগুলিই ছিলো। পাঠ্যসূচী সঠিক সেটা বিবেচনার বিষয় বা ভাবনার বিষয় হতে পারে এমনকি তা উন্নয়নও করা যেতে পারে। কিন্তু শিশুশ্রেনীতে যা পড়ানো হয় তার ৮০ বা ৯০ ভাগই সঠিক আছে।

১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২৬

জুন বলেছেন: আমপাতা জোড়া জোড়া মারবো চাবুক চলবে ঘোড়া আপনার উল্লিখিত ছড়ার লাইনটি পড়েই মনে পরলো সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের এক ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতার কথা। শীর্নকায় ঘোড়াগুলোকে চাবুকের পর চাবুক মেরে চলেছে প্রথম হওয়ার জন্য। হাড্ডি চর্মসার ঘোড়াগুলো মুখে ফেনা তুলে দৌড়ে যাচ্ছে পড়িমরি করে। আমার মনে হচ্ছিল আমি গিয়ে বলি বাবারা এবারের মত এদের মাফ করে দাও এই অবোলা জীবদের।
তারপর আতাগাছে তোতা পাখি পড়তে পড়তে ছোট ছোট মেয়েগুলোর মাথায় বিয়ের স্বপ্ন প্রবেশ করিয়ে দেয়। ভাবে বিবাহিত জীবন কতই না সুখ!
আমি যে গল্প আর কবিতা উল্লেখ করেছি তা আমাদের সহপাঠীরাও পড়েছে কিন্ত তার মাঝে কতজন তা অনুভব করেছে? এখনো তো পাঠ্যসুচীতে আছে তাতে কি সবার উপর একই প্রভাব পরে বলুন? সবাই কি মানবিক? সবাই কি দাদার কবরের পাশে বসে থাকার অনুভূতিটা বুঝতে পারে?

২৫| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:০৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আহা! সেই শৈশবের স্মৃতিচারণা... চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

আমি ক্লাস টুতে পড়েছিলাম,
রবী ঠাকুরের লেখা,
-কালো রাতি গেল ঘুচে
আলো তার দিল মুছে
পূর্বদিকে ( তারপরে আর মনে নেই।)
তবে আমার আজোও মনে পড়ে এই কালোকে আমি সবসময় কেলো রাতি পড়তাম।কেউ ঠিক করে দিলেও মানতামনা।রবী ঠাকুর কতবড় কবি তা তখন বুঝতাম না। কেবল মনে হতো উনি ভুল করে কালো রাতি লিখে গেছেন। আসলেই কেলো হবার কথা ছিল।


ক্লাস ফোরে পড়াকালীন পুকুরে গোসল করতে করতে খুঁজে বেড়াতাম কবিগুরুর আরেকটি কথা,
- কোথায় জলে মরাল চলে মরালী তার পাছে পাছে...
উল্লেখ্য পুকুরে হাসদের দলবেঁধে চলতে দেখতাম। কোনো অবস্থাতেই ওদের কবিতার চলাচল না দেখে হতাশ হয়ে পড়তাম।অথচ কবি যে মিথ্যা কথা বলছেন তা মানতে মনে সায় দিতো না।

যাইহোক শিশুমনের এমন অনেক স্মৃতি আজও আমাকে ভাবলে বেশ বিব্রত করে তোলে।
ভালো থাকবেন আপু সবসময়।

৩০ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:১৬

জুন বলেছেন: হা হা হা মজার একটি মন্তব্য পদাতিক। তবে আমাদের ছেলে বেলায় এইসব উচ্চমার্গের রবীন্দ্র কাব্যর প্রবেশ ছিল না৷ পুকুরে হাস দেখলে মনে পরতো মাংস লোভে বংশ হাতে,
কংস তেড়ে যায়,
হংস গুলো ভয় পেয়ে সব
ঢেউ কেটে পালায়

নয়তো
রামদীন পালোয়ান,
গায়ে দিয়ে আলোয়ান,
আধারেতে পেচা দেখে
চেচিয়ে সে বলে ডেকে
"আলো আন, আলো আন"

এইসব ছড়া ছিল আমাদের পছন্দের :P

২৬| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:০৫

প্রামানিক বলেছেন: ও আপা, কাজলা দিদি কিন্তু সতেন্দ্রনাথ দত্তের না যতীন্দ্রমোহন বাগচির লেখা।

তবে শিশুকালের ছড়াগুলো এখনো আমাকে নাড়া দেয়। যেমন জসীম উ্দ্দিনের মামার বাড়ি, বারষার ঝড় ঝড় সারাদিন ঝড়ছে, আমড়া গাছের ঝোপের ভিতর মৌমাছিদের বাসা, আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা মাছ ধরিতে যাই, আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, তিন দার ছিপ খান তিন জন মাল্লা ইত্যাদি কবিতা এখনও আমার মনে দাগ কেটে আছে।

আপা আপনি কেমন আছেন।

৩০ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:১৮

জুন বলেছেন: ঠিক করে দিয়েছ প্রামানিক ভাই। উত্তর দিতে দেরির জন্য আন্তরিক দুঃখিত আমি। আসলে একটু কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলাম। :`>
ছোট বেলার কবিতা পড়লে সেই ছোট বেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করে এক মুহুর্তের জন্য হলেও।
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

২৭| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:১৮

প্রামানিক বলেছেন: তবে রবীন্দ্রনাথের ছুটি গল্পের ফটিক, শরৎ চন্দ্রের মহেশ গল্পের গফুর এবং কবর কবিতা তো শিশু শ্রেনীতে ছিল এগুলো ছিল ক্লাস নাইন টেনে। নাইন টেনের ছেলে মেয়েদের তো শিশু বলা যাবে না। তাছাড়া ঐ সময়ে নাইন টেনের ছেলে মেয়েরা এখনকার মত এত ছোট ছিল না। বেশিরভাগই বিবাহযোগ্য ছিল। সেই দিক দিয়ে এইসব পড়ানো অযৌক্তিক ছিল না। ক্লাসে কবর কবিতার লেকচার শুনেই তো মাথায় কবিতা ঢুকেছিল। সেই থেকে আমি ছড়া লিখি।

২৮| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:২০

প্রামানিক বলেছেন: তবে রবীন্দ্রনাথের ছুটি গল্পের ফটিক, শরৎ চন্দ্রের মহেশ গল্পের গফুর এবং কবর কবিতা তো শিশু শ্রেনীতে ছিল না এগুলো ছিল ক্লাস নাইন টেনে। নাইন টেনের ছেলে মেয়েদের তো শিশু বলা যাবে না। তাছাড়া ঐ সময়ে নাইন টেনের ছেলে মেয়েরা এখনকার মত এত ছোট ছিল না। বেশিরভাগই বিবাহযোগ্য ছিল। সেই দিক দিয়ে এইসব পড়ানো অযৌক্তিক ছিল না। ক্লাসে কবর কবিতার লেকচার শুনেই তো মাথায় কবিতা ঢুকেছিল। সেই থেকে আমি ছড়া লিখি।

২৯| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:৩৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: অত্যন্ত চমৎকারভাবে তৎকালীন সময়ে (আমাদের সময়ে, শৈশবে) শিশু মনস্তত্ত্বের প্রতিকূলে পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ঐসব গল্প কবিতার অনুপযুক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেছেন, এজন্য আপনাকে প্রাণখোলা সাধুবাদ দিতেই হয়! এর আগে কেউ সাহস করে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে আমার জানা নেই।

ক্লাসে 'কবর' কবিতাটি আবৃত্তি করতে গিয়ে গলা ভারী হয়ে আসার কারণে আমাকে বহুবার থামতে হয়েছে। 'কাজলাদিদি' কবিতাটি নিয়েও আমার একটি দুঃখের স্মৃতি রয়েছে। রানী নামে আমার এক খালাতো বোন ছিল, আমার চেয়ে বছর দুয়েকের ছোট। শৈশবে বছরে একবার করে আমাদের দেখা হতো নানাবাড়িতে। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার পর আমরা ডিসেম্বর মাসে নানাবাড়ি-দাদাবাড়িতে বেড়াতে যেতাম মাস খানেকের জন্য। রানীর সাথে শেষ দেখা হয়েছিল ওর যখন বয়স আট, আমার দশ। আমরা সব খালাতো মামাতো ভাইবোনেরা পেয়ারা গাছের শাখায় বসে পেয়ারা খেতাম আর মুখস্থ ছড়া বা কবিতা আবৃত্তি করতাম। সেবারে রানী খুব সুন্দর করে "কাজলাদিদি কই" কবিতাটি আবৃত্তি করেছিল। এর ছয় মাস পরে রানী ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। খালা আমাদেরকে পরে কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছিলেন, মৃত্যুশয্যায়ও সে বহুবার ঐ কবিতাটি আবৃত্তি করেছিল।

শেষের আট লাইনের ছড়াটি বড় চমৎকার। ছড়াটির নাম কী এবং সেটি কার লেখা?

মন্তব্য শেষ করার আগে একটা ভুল সংশোধন করে দিতে চাই, আশাকরি মনে কিছু করবেন না। "কাজলাদিদি" কবিতাটি রচনা করেছিলেন কবি যতীন্দমোহন বাগচী, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত নয়।

পোস্টে ত্রয়োদশতম প্লাস। + +

৩০| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:৫৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: "আর আমি হয়তো আমার বক্তব্যটিকে গুছিয়ে বলতে পারি নি এটা আমারই ব্যার্থতা" - না, এটা মোটেই আপনার 'ব্যর্থতা' ('আ'কারটা হবে না) নয়, আপনি ঠিকই বোঝাতে পেরেছেন, অন্ততঃ আমি তো বুঝেছি।

৩১| ২০ শে অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪৬

Abida-আবিদা বলেছেন: জুন আপু, তোমার সাথে একমত।

৩২| ১৪ ই নভেম্বর, ২০২১ সকাল ৯:১১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



প্রায় মাসখানেক ঢাকায় কাটানোর কারণে এই মুল্যবান পোষ্টটি পাঠ করা হয়ে উঠেনি ।
যাহোক, খুঁজে নিয়ে পোষ্টটি পাঠ করলাম । দারুন একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন , এতে
প্রানবন্ত অনেক আলোচনার অবকাশ আছে এবং তার প্রতিফলনও ঘটেছে মর্মে মন্তব্যের
ঘরে দেখতে পেলাম । শিশু বান্ধব রচনা সে এক বিশাল ভেল্যু জাজমেন্টের বিষয় সেটাই ভাল
ও কল্যানকর যা কারো কোন প্রকার ক্ষতি না করে কমপক্ষে একজনের জন্য হলেও ভাল বলে গন্য হয় ।

যাহোক, ফিরে যাওয়া যাক বিষয়ে । আমরা জানি শিশু নিজের চারদিকে আপন জগত খুঁজে । কোন একটি
নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি শিশুকে মনযোগী করার , আকৃষ্ট করার অসাধারন ক্ষমতা গল্প , কবিতা ও ছড়া সাহিত্যের
আছে ,সেটা যুগে যুগে প্রমানিত । এসব বিবেচনায় যে কোন দেশে , যে কোন ভাষায় কোন বিষয়ের সঙ্গে
প্রাথমিক পরিচয় ঘটানো বা পড়ালেখা শেখানোর একটি অন্যতম শিক্ষন মাধ্যম হিসাবে গল্প , কবিতা ও
ছড়া গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে । তবে গল্প , কবিতা বা ছড়া শুধু পড়ালেখা শেখার মাধ্যমই নয় ,
ব্যক্তিগত , পারিবারিক , সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক জীবনাচার শেখার একট অতি পরিচিত এবং সহজলভ্য
শিক্ষণ মাধ্যম যা প্রতিটি পরিবারে বা ঘরে ঘরে বিরাজ করে বিশ্বজুরে । তাই এই গুরুত্বপুর্ণ শিক্ষা উপকরণটি
নিয়ে সকলের নিজস্ব চিন্তাভাবনার অবকাশতো রয়েছেই ।

আমরা জানি প্রকৃতিকে ধরে রাখাই শিশুর প্রবৃত্তি । তাদের আগ্রহ প্রবল , তারা পরিবেশ -প্রতিবেশ থেকে অনেক
কিছু জানতে চায় । জীবন , জগত ও প্রকৃতিকে কাছ হতে দেখাই শিশুর প্রবৃত্তি । এই প্রবৃত্তির কিছুটা পরিতৃপ্ত
করতে দেশের অনেক বরেন্য কবি সাহিত্যিকই লিখেছেন মঝার মঝার গল্প কবিতা কিংবা ছড়া । যেমনটি দেখি
দেশের একজন বরেন্য কবি খররুখ আহমেদ লিখেছেন :
বকের বাসা বাঁশ বনে
দল বেধে যায় কাশ বনে ।।
ভোর না হতে খাল বিলে
পাখায় পাখায় যায় মিলে ।।
নদীর ধারে ধ্যান করে
সবাই সাধু জ্ঞান করে ,
সুযোগ পেলে মাছ ধরে
বক উড়ে যায় চলমনে ।।
ছড়াটির প্রতিটি শব্দই বলতে গেলে একজন প্রাথমিক শ্রেনীর শিক্ষার্থী শিশুর কাছে পরিচিত ও তার
দেখা বা শুনার মধ্যেই আবর্তিত । তাই এ জাতিয় ছড়া শিশুর মনে বর্ণিত বিষয়ের অবয়ব তুলে ধরতে
সহায়ক ও তার চিন্তাশক্তির প্রসার ঘটানোর একটি মাধ্যম । এক কথায় ছড়াটি শিশুর কল্পনাশক্তিকে
উজ্জীবিত করে , তার সৃজনক্ষমতাকে উদ্দীপ্ত করে ।

শিশুদের জন্য আমাদের অনেক স্বনাম ধন্য কবি ও ছড়াকার কবিতা ও ছড়া লিখেছেন, তাদের জন্য
রইল শ্রদ্ধাঞ্জলী । তবে তাদের অমুল্য সে সব রচনার মধ্যে শিশুবান্ধব রচনাগুলী খুঁজে খুঁজে শিশুদের
সংস্পর্শে নিয়ে আসা বড়দের দায়িত্ব ।

দুনিয়া জুরেই শিক্ষার কিছু স্বীকৃত উপকরণ আছে । তন্মধ্যে পাঠ্যপুস্তক অন্যতম । তাই পাঠ্যপুস্তককে
অবশ্যই হতে হয় সর্বজনগ্রাহ্য ।
আমরা জানি পুস্তক মানেই পাঠ করার উপকরণ , কিন্তু সব পাঠ্যপুস্তক কি সকল শিশুর পাঠের উপযোগী ?
অথবা শিশুদের পাঠ্যপুস্তক কি লক্ষ্য পূরণে সহায়ক ? অর্থাৎ শিশুদের জন্য রচিত পাঠ্যপুস্তক কি আমাদের
প্রত্যাশা পূরণ করছে ? শিশু শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তককে এবং পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদিকে সত্য বলে জানে
ও অনুসরণ করে । সবচেয়ে বড় কথা জীবন চলার পথে ওই আদলে নিজকে গড়ার চেষ্টা করে ।
তাই পাঠ্যপুস্তকে কি পড়ছে তার পরিচয় জানার দাবী তারা রাখে । দাবী রাখে বিষয়গুলির পরিপ্রেক্ষিত জানারও।
তাই শিক্ষার্থীদের মনের দাবী মেনে নিয়ে , তাদের জানার আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে রচিত হতে হবে পাঠ্যপুস্তক ।
কিন্তু সত্যিই কি তার যতার্থ প্রতিফলন হচ্ছে? সেটা আজকের এই বিশ্বায়নের যুগে দাঁড়িয়ে আপনার মত
অনেকের মনেই প্রশ্নের উদ্রেক করে ।

শিক্ষা হচ্ছে চিন্তা বাড়ানোর জন্য মনের প্রশিক্ষণ, বয়সের সীমা অতিক্রম করে তরিঘরি করে অনেক কিছু
শেখা নয় । আমাদের প্রত্যাশা শিশুরা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে চিন্তা বাড়ানোর জন্য মনের প্রশিক্ষনটি পাবে
সর্বাগ্যে । সুতরাং পাঠ্যপুস্তককে বিষয়টি ধারণ করতে হবে যথাযথভাবে , যা খুবই যৌক্তিক হতে হবে,
কোন প্রকারেই আবেগ তারিত কিংবা বিবিধ ধরনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে নয় ।

আমরা এটাও জানি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্যপুস্তকই শিক্ষার্থীদের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ।
কারণ আমাদের শিশু শিক্ষার্থীদের মনে শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরেই
আমাদের জীবনঘনিষ্ট বিষয় , পরিবেশ , আবিস্কার , সংস্কৃতি , কৃষ্টি ও শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় ঘটে ।
তাই শিক্ষার প্রারম্ভিক ভিত্তি ভুল কিংবা দুর্বল হলে তার প্রভাব শিশুর নিজের ব্যক্তি জীবন হতে শুরু করে
উচ্চ শিক্ষাকে পর্যন্ত আক্রান্ত করে । এখানে উল্লেখ্য বাংলাদেশে বিরাজমান শিশু শিক্ষার মান বিষয়ে সম্প্রতি
বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৫ ভাগ শিক্ষার্থী বাংলা
পড়তেই পারেনা । যদি ফিরে তাকাই ২০১৫ সালের ন্যাশনাল স্টুডেন্ট এসেসমেন্ট প্রতিবেদনের দিকে ,
দেখতে পাব বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরে ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলায় এবং ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে
কাখ্ঙিত দক্ষতা আর্জন করতে পারেনি ( সুত্র : Click This Link) উক্ত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে
যে “ The contents in the text book differs in terms of appropriateness of grade and age ,
as well as grammatical and lexical complexity । এখানে আরো উল্লেখ্য যে আন্তর্জাতিক সংস্থা
‘Room to Read ’ বাংলাদেশের শিশুদের পঠন দক্ষতার উপর একটি জরীপ পরিচালনা করেছিল ।
সেখানে দেখা গেছে বাংলাদেশে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা শব্দ বুজে উচ্চারণ করে মিনিটে গড়ে ৩৩টি
শব্দের বেশী পড়তে পারেনা । অথচ আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষার এই ধাপে শব্দ বুঝে মাতৃভাষা উচ্চারণ
করে পড়তে পারার হার মিনিটে ৪৫ হতে ৬০টি শব্দ ( সুত্র : Click This Link )

একথা অনস্বীকার্য যে একটি আদর্শ শিক্ষা উপকরণ শিশুদের স্মৃতিশক্তির উন্নয়ন ও চিন্তার বিকাশে সহায়ক ।
শিশু কিশুররা চিরসুন্দর, চির অম্লান , নিরলস ও গতিময় , এই গতিময়তাই শিশু-কিশুরদের নিরন্তর শক্তির উৎস।
বড়দের তথা টেকস্ট বুক সংকলকদের দায়িত্ব বিদ্যমান গতিময়তাকে কার্যকরভাবে সঠিক পথে প্রবাহিত হতে
সহায়তা করা , অনুপ্রেরণা দেয়া , শিশুদের মনের মাঝে আনন্দ বিচরণের ক্ষেত্র তৈরী করে দেয়া । এরকম
সহায়তার কার্যকর উপাই হচ্ছে শিশু-কিশুরদের মনে আনন্দ দেয় এমন শিক্ষা উপকরণ বা পাঠ্যপুস্তক । এমন কিছু
শিক্ষা উপকরণ তাদের হাতে দিতে হবে যেগুলি থেকে আনন্দ সহকারে শিখতে পারে , পাঠ্যপুস্তকে থাকা শিক্ষার
কোন উপকরণ সে গল্প কবিতা ছড়া যাই হোক না কেন, তা যেন তার জন্য বেদনাদায়ক না হয়, কিংবা বয়সের
তুলনায় কঠিন ভাব অথবা অপরিচিত শব্দের ভিরে তাকে নুজ্য না করে তুলে ।

এখানে, প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় যে ১৮৪৯ সনে প্রকাশিত মদনমোহন তর্কালঙ্কারের একটি ছড়া শত
বছরেরও বেশী দিন ধরে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর পাঠ্য ছিল । প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনার সময় ছড়াটি
আমাদের বাংলা পাঠ্য পুস্তকে ছিল । ছড়াটির কথামালা এখনো মনের মাঝে গিথে আছে , ছড়াটি হল -
পাখী সব করে রব, রাতি পোহাইল।

পাখী সব করে রব, রাতি পোহাইল
কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল ।।
শীতল বাতাস বয় জুড়ায় শরীর।
পাতায়-পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
ফুটিল মালতী ফুল সৌরভ ছুটিল।
পরিমল লোভে অলি আসিয়া জুটিল।
গগনে উঠিল রবি সোনার বরণ।
আলোক পাইয়া লোক পুলকিত মন।
রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।
শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।
উঠ শিশু মুখ ধোও পর নিজ বেশ।
আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ।

শিশুদের দুরন্ত ও উপভোগ্য সময়টুকু আরও উপভোগ্য হয়ে উঠে আনন্দদায়ক মঝাদার সহায়ক আদর্শ
শিক্ষা উপকরণের সংষ্পর্শ পেলে ।
তাই আমাদের শিশুদের জন্য রচিত শিক্ষা উপকরণ হয়ে উঠুক শিশুবান্ধব ও আনন্দদায়ক এটাই আমাদের প্রত্যাশা ।
আমাদের প্রথিতযশা কবি সাহিত্যিক ও ছড়াকারগন তাঁদের মনের মাধুরী মিশিয়ে গল্প কবিতা ছড়া লিখবেন,
এটাইতো স্বাভাবিক । তাঁদেরকে কোন গন্ডিতে আবদ্ধ করে রাখা যায়না, সংগতও নয় । তাদের লেখাগুলি
শিশুতুষ কিংবা শিশুবান্ধব কিনা সে বিচারের ভার সর্বাংশে তার রচয়িতাদের উপর নয় বরং তাঁদের
লেখাগুলিকে শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে শিক্ষার উপকরণ হিসাবে যারা অন্তর্ভুক্ত করেন কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত হন
তাঁদের উপর । বিজ্ঞ নির্বাচক মন্ডলী বিষয়টিকে সঠিকভাবে উপলব্দি করতে পারলে ভাল ,তা না হলে
পাঠ্যসুচীতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলির সর্বজনগ্রাহ্যের বিষয়ে প্রশ্নতো থেকেই যাবে ।

যাহোক, শিশু পাঠ্যবিষয় সংক্রান্ত গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয়ের উপরে পোষ্ট দিয়ে বিষয়টির উপরে এই ব্লগের
সুধিজনদের সুচিন্তিত মতামত ও আলোচনার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ । আলোচনার সুফল আমাদের
এ প্রজন্মের শিশুরা উপভোগ করুক এ কামনাই রইল ।

পোষ্টের বিষয়বস্তু ও মুল্যবান পাঠক মতামতের বিষয়টি মাথায় রেখে পোষ্টটি প্রিয়তে তুলে রাখলাম

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৩৩| ২২ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ৮:১৯

সোহানী বলেছেন: কই গেলেন আপুনি !!! অনেকদিন তো হয়ে গেল, এবার আসুন ফিরে..........

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.