| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আদনান সাইদি
স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি, দেখাতেও...
খুব ছোটবেলায় আমি নাকি খুবই লাজুক ছিলাম। বাড়িতে কেউ আসলে আমাকে খুঁজে পাওয়া যেত না। লুকিয়ে যেতাম আমি (মেয়েদের আশে-পাশে নাকি একদমই যেতাম না)।
এমনকি স্কুলে ভর্তির পাক্কা দু বছর আমি একটা কথাও বলিনি কারো সাথে। এমন অবাক বিস্ময় মনে হয় আমার স্কুলের টিচারেরা কখনও দেখেননি বা শোনেননি। স্কুলের অভিবাক মিটিংয়ের সময় আব্বু-আম্মুকে শুনতে হতো সাইদি খুব ভালো, শান্ত ছেলে। এত শান্ত শিষ্ঠ বাচ্চা আমাদের আর দুটি নেই।
সব কাজ সে মন দিয়ে করে কিন্তু একটাই সমস্যা মানে বিশাল সমস্যা তা হলো সে একটা কথাও বলেনা। বন্ধুরা জানতে চায় "আচ্ছা তুমি কি কথা বলতে পারো? " আমি সেটার জবাব দেবার ইচ্ছেটুকুও কখনও প্রকাশ করিনি।
এইভাবে কাটলো বেশ কয়েক বছর। মা রিতীমত ফেড আপ। তাকে বাসায় আমার কথা বলা দৃশ্য রেকর্ড করে নিয়ে গিয়ে স্কুলে দেখিয়ে প্রমান দিতে হলো যে আমি কথা বলতে পারি। মা তখন এতই বিরক্ত আমাকে নিয়ে যে কখনও কোনো আত্মীয়ের সামনে বা অনুষ্ঠানে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করে জবাব না পেলে মাথায় গাট্টা লাগাতেও দ্বিধা করতেন না।
এরপর ধীরে ধীরে আমার জড়তা কাটতে থাকে কিন্তু খুব কম কথায় যা কিছু প্রকাশ সম্ভব সেটাই করেছি আমি আজীবন। এ কারণে আমার তেমন কোনো বন্ধু হয়নি কখনও, এখনও না।
আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো আমার ডায়েরী, আর এখন গিটার, সময় কাটানোর জন্য ফেসবুক, টুইটার এবং অনান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম। আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে ক্লাস সিক্স থেকে আজ পর্যন্ত বেশ কয়েকটা ডায়েরী জমিয়েছি। প্রতি বছর নতুন ডায়েরী উপহার পেয়েছি বাবার কাছ থেকে। আর কেউ না জানুক আমার বাবা জানেন ডায়েরীই আমার সবচাইতে কাছের বন্ধু যার সাথে আমি মনের সব কথা বলি।
যাকগে, লিখতে বসেছি আমার লাজুকতা নিয়ে, আমাকে নিয়ে নয়। মা বাবা দাদী নানীরা খুব সংশয়ে ছিলেন আমার এই কম কথা বলার স্বভাব নিয়ে, না জানি বিয়ের পর আমার শ্বসুরবাড়িতে কি সমস্যা হয়, এখনও কথাটা প্রায়ই বলে থাকেন। তারা বলতেন আমার বউ নাকি হবেন বিশ্ববাঁচাল। তার কথা শুনতে শুনতে নাকি আমার কান কালা হয়ে যাবে। এখন আছি বোবা তখন হবো কালা।
" প্রাণ চায় চক্ষু না চায়, মরি একি তোর দুস্তর লজ্জা।"
এতদিনে আরও একটা জিনিস বুঝলাম আমার মত বোবাকে নিয়ে সারাটাজীবন যে ধকল পুইয়েছেন আমার কাছের মানুষেরা সেই ধকলের শাস্তি বিধাতা আমার কপালেই লিখে রেখেছেন।হয়ত তার কিছুটা এখন হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছি, সামনে আরও পেতে হবে...
©somewhere in net ltd.