| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক
ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র
অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।
এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা, আর নৈতিক আশ্রয়
আচার নয় কেবল, নয় কঠিন বিধান
অস্তিত্বের মানচিত্র, জীবনের দিশান।
বাংলার সমাজজুড়ে ধর্মের প্রভাব
পরিবার গোষ্ঠীর আছে নীরব দাবী
নিজের বিশ্বাস নয়, তবু মানতে হয়
সমাজের প্রত্যাশা টানে বহু লয়।
ডিজিটাল দুনিয়ায় ধর্ম ছড়ায় দ্রুত
ভিডিও, বয়ান, কোটসে ভরা তাবত
সত্য আর বিভ্রান্তি মিশে এক স্রোতে
উত্তেজনা জাগে তরুণের চিত্তপটে।
চাকরি আর ভবিষ্যৎ সবই অনিশ্চিত
চাপের ভারে মন হয় ক্ষতবিক্ষত
প্রার্থনার নীরবতায় মিলে কিছু শান্তি
বিশ্বাস দেয় সাহস, দেয় মানসিক শক্তি।
অনেকে খোঁজে ধর্মে নৈতিক পাঠ
সততা, সংযম, পাপের বিরুদ্ধে হাত
মাদক, অনাচার থেকে ফিরে কিছু প্রাণ
ধারণার বদলে বদলায় জীবনের গান।
ভোগের আধুনিকতা, সম্পর্কের ক্ষয়
একাকীত্ব বাড়ে, কমে মানুষের সয়
এই ভাঙনের মাঝে ধর্মের স্থির ঘর
ভোগের ঢাল হয়, দেয় স্থায়িত্বের ভর।
ধর্মীয় গোষ্ঠীতে মিলে কিছু আপনজন
বন্ধুত্ব, সহযোগিতা, আর সমবেদনের ধন
পাড়া শহর দল ভেঙ্গে গেলে সামাজিক বাঁধন
এই কমিউনিটিই হয় উঠে নিরাপদ আশ্রয়ন।
কখনো ধর্ম হয় প্রতিবাদের ভাষা
রাজনীতি আর সমাজ বদলের আশা
কিছু তরুণ দেখে এতে কালের রূপান্তর
বিশ্বাসের শক্তিতে চায় ভাঙতে অন্তর।
বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা, অর্থের ভয়
বিশ্বাসযোগ্য কাঠামো খোঁজে হৃদয়
ধর্ম দেয় স্থিরতা, নৈতিক দিকনির্দেশ
অস্থির কালের মাঝে এক দৃঢ় বিশ্বাস।
একটি কারণ নয় এ বহু স্রোতের যোগ
সমাজ, মন, প্রযুক্তি, সংস্কৃতির ভোগ
ঝোঁকটি কেবল উন্মাদনা নয় আজ
ধর্মীয় পরিচয়, নিরাপত্তা, নৈতিকতার সাজ।
গবেষনার ভিতর ধর্ম সংখ্যার বয়ান
বাংলার জনপদ জুড়ে ধর্ম এক গভীর সুর
সংস্কৃতি ও সমাজে তার নিরব নকশা ভরপূর
মুসলিম সংখ্যার দেশে তরুণ প্রজন্ম আজ
ধর্ম বিশ্বাসের দিকে কেন? এটি গবেষণারই কাজ।
কলেজের উঠোনে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে
ধর্মের আকর্ষণ কেন প্রশ্ন ওঠে অন্তরে
পরিসংখ্যান বলে কথা, নীরব সংখ্যার গান
বিশ্বাসের প্রকৃতি খোঁজে সমাজবিজ্ঞানের মান।
কিছু দিন আগে আমারী হাত ধরে
২৫৪ জন উত্তরদাতা জনতাকে ঘীরে
এক পরিমান ও গুনগত অন লাইন
জরীপধর্মী গবেষনার কথা করব বর্ণন।
তরুণ প্রান মুসলমান এর বয়ানকৃত
গবেষণার আয়নায় উঠে এল পরিচয়বান
দর্শন ও অনুভবে বিশ্বাস গভীর হয়
কিন্তু আচরণের পথে নিয়মিততা নয়।
বিশ্বাস আছে দৃঢ়, আছে ভাবের আবেশ
কিন্তু প্রতিদিনের চর্চা হয় কিছুটা শেষ
ধর্ম যেন মনে মনে থাকে, আচরণে কম
এই দ্বন্দ্বই আধুনিক শিক্ষার নীরব নিয়ম।
কলেজ ভার্সিটির ১৫০ তরুণের বিশ্লেষণ
বলে দেয় ধর্ম মানে আচার নয়, আশ্রয়ণ
চাপের সময়ে বিশ্বাস দেয় মানসিক বল
উদ্বেগের ঘন ঘোরে জাগে স্থিরতা অটল।
ধর্মে মিলে সমর্থন, মিলে সামাজিক হাত
একাকীত্বের অন্ধকারে জ্বলে সম্পর্কের ধাত
ছাপ্পান্য দশমিক এক শূন্য শতাংশ বলে
পরিচয় ও আচরণে ধর্ম প্রভাব ফেলে।
কেউ বলে আদর্শ আলাদা, আচরণ ভিন্ন
কেউ আবার দ্বিধায় পথ কি সত্যি চিহ্নিত?
সংবাদ পত্রে আর জরিপে উঠে আসে ছবি
কেউ বলে ধর্ম বাড়ছে, কেউ বলে ফাকি সবি।
তবে ধর্মচর্চা আর ধর্মান্ধতা এক নয়
এই বোধে যুক্তি আসে প্রশ্নের সহায়
তরুণেরা আজ মানে না অন্ধ অনুসরণ
বিশ্বাসকে ছেঁকে নেয় প্রশ্নেরই কারণ।
দর্শনে তারা দৃঢ়, নীতিতে অবিচল
তবে আচরণে ভাঙে আধুনিক স্রোতের ঢল
এই অসামঞ্জস্যই সময়ের প্রতিচ্ছবি
শিক্ষা, প্রযুক্তি, সমাজ সব মিলিয়ে ছবি।
ধর্ম দেয় শান্তি, দেয় জীবনের মানে
নৈতিক নিয়ন্ত্রণ রাখে আচরণের টানে
চাপ, বিচ্ছিন্নতা, উদ্বেগের কালে
বিশ্বাস হয় নোঙর, ভাসমান জালে।
তবু প্রশ্ন জাগে ধর্ম আর আধুনিকতা
সংঘাত না কি সংলাপ এই দ্বিধার কথা
এই প্রশ্নই গড়ে দেয় নতুন চেতনা
আকর্ষণ ও সংশয় দুই পথের রচনা।
মূল কথা একটাই, গবেষণা বলে স্পষ্ট
ধর্ম তরুণের কাছে মানসিক কাঠামো সৃষ্ট
পরিচয় দেয়, দিকনির্দেশ, সহায়তার হাত
যদিও আচরণে সমান নয় তার প্রভাব।
এমতাবস্থায় করণীয় পথ একটাই জানি
শিক্ষায় চাই সমন্বয়, বিশ্বাস আর জ্ঞানী
ধর্মের সাথে যুক্তি, আর চিন্তার স্বাধীনতা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নৈতিক সংহতি।
আরও বড় গবেষণা, বিশ্ব ভৌগোলিক ধারা
তরুণ যেন বেছে নেয় ভবিষ্যৎ সহায়ক সারা
বিশ্বাস আর বিজ্ঞানের মিলন সেতুতে দাঁড়িয়ে
বাংলার তরুণ গড়ুক আগামী নিশ্চিন্তে পা বাড়িয়ে।
ভবিষ্যত শিক্ষানীতির পথনকশা
তরুণের সামনে আজ দুই পথ মুখোমুখি
এক পথে ধর্মজ্ঞান, অন্য পথে বিজ্ঞানী
একটি শেখায় নীতি, মানবিকতার ভাষা
অন্যটি দেয় দক্ষতা, কর্মেরই আশা।
কিন্তু ভুল বোঝাবুঝিতে পথ দুটি আলাদা
একটিকে কর্মহীন, আরেকটিকে ধর্ম সাধনা
ফলে তরুণ দ্বিধায় পড়ে ভবিষ্যৎ ভাবনায়
একটি ধরতে গিয়ে হারায় অন্য সম্ভাবনায়।
সমাধান একটাই সংযোগের নীতি চাই
ধর্ম মানে মূল্যবোধ, কর্মবিমুখ নয় তাই
বিজ্ঞান মানে উদ্ভাবন, শূন্য নয় মানবতা
দুয়ের মিলনেই গড়ে ওঠে পূর্ণ সক্ষমতা।
মাদ্রাসা ও সাধারণ সমমানের শিক্ষা সেতু
ক্রেডিটে খুলুক পথ, ভাঙুক সব ভেদাবেদ
ইসলামিক স্টাডিজে কোরান, বাস্তবে প্রযুক্তি
শিক্ষা হোক বহুমুখী, বাস্তবেরই যুক্তি।
নীতির সাথে থাকুক ক্যারিয়ারমুখী পাঠ
বুদ্ধিমত্তায় নৈতিকতা, অর্থে ইসলামি হাত
বায়োইথিক্সে বিজ্ঞান, পরিবেশে জলবায়ু দায়
মিডিয়ায় থাকুক ধর্মচেতনা সময় যা চায়।
একই প্রাঙ্গণে থাকুক ল্যাব আর মসজিদ
ডিজিটাল গ্রন্থাগার, গবেষণার পাদপিঠ
স্টার্টআপ, ইনোভেশন, ভাবনার মিলন
এই হোক শিক্ষাঙ্গনের নতুন গঠন।
শিক্ষককেও বদলাতে হবে সময়ের টানে
মাদ্রাসায় প্রযুক্তি, আর গবেষণার জ্ঞানে
আর সাধারণ শিক্ষায় নৈতিক সংবেদন
সংস্কৃতি-বিশ্বাস বোঝার গভীর অন্বেষণ।
একটি জাতীয় ডিজিটাল শিক্ষা-মঞ্চ চাই,
ধর্ম-বিজ্ঞান-ক্যারিয়ার এক স্রোতে বয়ে যায়
সার্টিফিকেট, মেন্টর, দিকনির্দেশনার আলো
তরুণের ভবিষ্যৎ হোক স্পষ্ট ও ভালো।
প্রতিটি ক্যাম্পাসে থাকুক পরামর্শ কেন্দ্র
যে বোঝে বিশ্বাস, বোঝে বাজারের যন্ত্র
ইন্টার্নশিপে খুলুক হালাল ও প্রযুক্তির দ্বার
স্কিল-ব্রিজ, গড়ে তুলুক সুযোগের ভাণ্ডার।
ধর্ম বনাম বিজ্ঞান হোক এই দ্বন্দ্বের অবসান
পাঠ্যবই, মিডিয়ায় হোক স্পষ্ট ঘোষণা প্রাণ
দুই টিই মানবকল্যাণের সমান্তরাল পথ অবিরত
একটি নৈতিক শক্তি, অন্যটি কর্ম সংস্থানে ব্রত।
পরিবার, সমাজ, মসজিদ সবাই হোক সাথে
সংলাপ গড়ে উঠুক কমিউনিটির হাতে
স্বল্প মেয়াদে নীতি ও প্রশিক্ষণ, মধ্যমে রূপান্তর,
দীর্ঘমেয়াদে গড়ে উঠোক দক্ষ সৎ-নেতৃত্বের স্তর।
শেষ কথা একটাই তরুণ চায় দিশা
সংঘাত নয়, সংযোগই রাষ্ট্রের শিক্ষা
ধর্ম হোক নৈতিক শক্তি, বিজ্ঞান কর্মধারা
এমিলনেই গড়ে উঠুক মানবিক বাংলাদেশ সারা।
ফুটনোট
নীতিনির্ধারকের পথ আমরা ঠিক করতে পারি না
কিন্তু চিন্তা স্পষ্ট করা, দিকদর্শন সেতো দেয়ায় যায়
নৈতিকতা আর বাস্তবতার মাঝে হাত মেলানো
এই কাজটাই করেছি, নিঃশব্দে, ধীরে, ভালোবাসায়।
ইতিহাস বলে প্রথমে আসে লেখা, কবিতা, প্রবন্ধ, সংলাপ
তারপর আসে নীতি, আসে বাস্তবায়নের প্রকৃত রূপ
এ পথচলায় ভ্রান্তি কমে, ভরে কলেজ/ভার্সিটির তরুণের মন
শিক্ষক, অভিভাবক, নীতিনির্ধারকের ভাবনায় আসে নতুন ।
নীতিনির্ধারকদের কাছে কঠিন এক প্রশ্ন রেখে যাই
কথাগুলি যেন ছুঁয়ে যায়,যুদ্ধ নয়, ভাবনার স্পন্দন
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যেন গড়ে ওঠে ধীরে নয় অচিরে
চিন্তাশীল মানুষদের হাতে, আশার সঙ্গে, বিশ্বাসের সুরে।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
ধর্মভীরুতা নিজে কোনো সমস্যাই নয়; সমস্যা তখনই, যখন তা অচিন্তিত ভয়, অন্ধ আনুগত্য আর প্রশ্নহীন
সমর্পণে পরিণত হয়। রাজনীতিকরা ঠিক এই জায়গাটাকেই নিশানা করে কারণ ভয় প্রশ্ন করে না, আবেগ
হিসাব চায় না, আর অন্ধ বিশ্বাস খুব সহজেই নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রাজনীতি ও
ব্যবসা দুটোই নিরাপদ আর লাভজনক হয়ে ওঠে।
কিন্তু ইতিহাস বলে, ধর্ম কখনোই মানুষের চিন্তাশক্তিকে বন্ধ করার জন্য আসেনি। বরং ধর্মের মৌলিক আহ্বান
ছিল নৈতিকতা, ন্যায়, জ্ঞান ও দায়িত্ববোধ। এই জায়গাতেই ধর্মভীরুতাকে উল্টোরথে চাপানো সম্ভব। ভয়কে
বিশ্বাসে, বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসায়, আর জিজ্ঞাসাকে বিজ্ঞানমনস্ক প্রতিবাদে রূপান্তর করাই সময়ের দাবি।
যে ধর্ম মানুষকে ভাবতে শেখায়, সে ধর্ম বিজ্ঞানের শত্রু হতে পারে না। যে ধর্ম সত্য অনুসন্ধানের কথা বলে, সে
ধর্ম প্রযুক্তিকে ভয় পায় না। বরং ধর্মবিশ্বাস যদি যুক্তিবোধ, তথ্যনির্ভর চিন্তা ও প্রযুক্তিগত সচেতনতায় শক্ত হয়,
তবে তা আর রাজনৈতিক পণ্যে পরিণত থাকে না বরং হয়ে ওঠে প্রশ্নকারী নাগরিক শক্তি।
ধর্মভীরু মানুষ যখন বুঝতে শেখে যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাও ইবাদতের অংশ, তখন সে আর সহজে
ব্যবহৃত হয় না। তখন সে আবেগে নয়, বিবেকে সিদ্ধান্ত নেয়। তখন ধর্ম শুধু মসজিদ-মন্দিরে সীমাবদ্ধ থাকে
না; ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং মানবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিক ভিত্তি হয়ে ওঠে।
অতএব, ধর্মভীরুতাকে দমন নয় রূপান্তর করাই সমাধান। ভয়ভিত্তিক ধর্মচর্চা থেকে মুক্ত হয়ে জ্ঞানভিত্তিক,
বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রতিবাদী ধর্মবিশ্বাস গড়ে উঠলেই ধর্ম আর ব্যবসার পণ্য থাকবে না; বরং তা হবে অন্যায়ের
বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী নৈতিক অস্ত্র।
শুভেচ্ছা রইল
২|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩
ঋণাত্মক শূণ্য বলেছেন: এঁরা খালি ধর্মের দিকে হাঁটতেছে তা না, এরা লাল পানিও কম গিলছে। গত ৪ বছরে দুনিয়ার তাবত লাল পানি ইন্ডাস্ট্রি প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার হারাইছে গেঞ্জিদের লাল পানি না খাওয়ার অভ্যাসের জন্য!
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
এঁদের আচরণকে শুধু “লাল পানি কম গেলা” দিয়ে ব্যাখ্যা করলে বাস্তবতার বড় অংশটাই চোখ এড়িয়ে যায়।
তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে কলেজ ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা আজ লালপানি থেকে সরে আসছে কেবল ধর্মীয় কারণে
নয়; এর পেছনে আছে স্বাস্থ্যসচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব, ফিটনেস কালচার, এবং বিজ্ঞানভিত্তিক
জীবনধারা সম্পর্কে সচেতনতা।
অনেকে অ্যালকোহলকে আর ‘কুল’ মনে করছে না, বরং দেখছে এর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি।
এই প্রবণতা পশ্চিমা সমাজেও স্পষ্ট, যেখানে ধর্মীয় অনুশাসন দুর্বল হলেও তরুণরা বিকল্প জীবনধারার দিকে
ঝুঁকছে। ফলে এটাকে শুধু ধর্মীয় রক্ষণশীলতার ফল বলা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অসম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোনো শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেতিবাচক বলা যায় না। একসময়
তামাক শিল্পও লাভজনক ছিল; কিন্তু মানুষ কম ধূমপান শুরু করায় সমাজই উপকৃত হয়েছে। একইভাবে, গেঞ্জিরা
যদি সচেতনভাবে ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করে, তাহলে তা শিল্পের ক্ষতি হলেও জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক।
ধর্মবিশ্বাস, বিজ্ঞানমনস্কতা ও ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা এই তিনটি যদি একসাথে কাজ করে, তাহলে সেটাকে ব্যঙ্গ নয়,
বরং একটি সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত। প্রশ্ন হলো, আমরা পরিবর্তনকে বুঝতে চাইছি
নাকি কেবল ঠাট্টার ফ্রেমে ফেলে দিতে চাইছি?
৩|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮
নিমো বলেছেন: ঋণাত্মক শূণ্য বলেছেন: এঁরা খালি ধর্মের দিকে হাঁটতেছে তা না, এরা লাল পানিও কম গিলছে। গত ৪ বছরে দুনিয়ার তাবত লাল পানি ইন্ডাস্ট্রি প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার হারাইছে গেঞ্জিদের লাল পানি না খাওয়ার অভ্যাসের জন্য!
লাল ড্রাগস খায়। ড্রাগসে কত বিলিয়ন জমা হয়েছে, খোঁজ নেন
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ভাল একটি মুছিবতে পড়লাম কোনটাকে রেখে কোনটাকে নিয়ে কথা বলি ।
একটি সমস্যার জায়গায় আরেকটি সমস্যা দেখা দিল । তরুণদের একটি অংশ মাদকাসক্ত এটা বাস্তব, গুরুতর
এবং উদ্বেগজনক। কিন্তু তাই বলে এই সত্য অস্বীকার করা যায় না যে একই প্রজন্মের আরেকটি বড় অংশ
সচেতনভাবে অ্যালকোহলসহ নানা ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে সরে আসছে হোক তা ধর্মীয় অনুপ্রেরণায়,
স্বাস্থ্যচিন্তায় বা মানসিক স্থিতির প্রয়োজনে।
সব তরুণকে এক খাঁচায় ঢুকিয়ে লাল ড্রাগস খায় বলে সার্বিক সিদ্ধান্ত টানা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি সমস্যার
সমাধানেও কোনো ভূমিকা রাখে না। বরং এতে মূল প্রশ্নগুলো আড়ালে পড়ে যায় , কেন একদল তরুণ
আত্মনিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে, আর কেন আরেকদল ধ্বংসাত্মক নেশার দিকে ঝুঁকছে?
ড্রাগস ইন্ডাস্ট্রিতে কত বিলিয়ন জমা হয়েছে, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, তেমনি প্রশ্ন হওয়া উচিত এই মাদক
সংস্কৃতি তৈরি করছে কারা, কার স্বার্থে, আর এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ কী করছে। তরুণদের
দোষারোপ সহজ; কিন্তু কাঠামোগত দায় এড়িয়ে যাওয়া সুবিধাজনক।
ধর্মবিশ্বাসী বা অনুশাসনমুখী তরুণদের আচরণকে দোষারূপ করার আগে স্বীকার করা দরকার শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ
ও উদ্দেশ্যবোধ অনেককে নেশা থেকে দূরে রাখছে। আবার একই সঙ্গে মাদকাসক্ত তরুণদের জন্য কার্যকর
সামাজিক ও মানসিক সহায়তা দরকার , সমালোচনা সাথে, তাদেরকে নৈতিকতা শিখানো দরকার।
সমস্যাকে সমস্যা হিসেবে চিনে নেওয়াই প্রথম দায়িত্ব। সকল সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা, এটাই সকল
যুক্তিবাদী ব্লগারদের দায়িত্বশীল অবস্থান নেয়ার বিষয় বলে বিবেচ্য হওয়া উচিত বলে মনে করি ।
৪|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৪
নতুন বলেছেন: কিন্তু ইতিহাস বলে, ধর্ম কখনোই মানুষের চিন্তাশক্তিকে বন্ধ করার জন্য আসেনি। বরং ধর্মের মৌলিক আহ্বান
ছিল নৈতিকতা, ন্যায়, জ্ঞান ও দায়িত্ববোধ। এই জায়গাতেই ধর্মভীরুতাকে উল্টোরথে চাপানো সম্ভব। ভয়কে
বিশ্বাসে, বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসায়, আর জিজ্ঞাসাকে বিজ্ঞানমনস্ক প্রতিবাদে রূপান্তর করাই সময়ের দাবি।
কয়েকদিন আগেই ইরানের দেশ জুরে আন্দোলন দমাতে গিয়ে সরকার রাস্তায় নেমে আসা মানুষকে গুলিকেরে হত্যা করেছে।
সরকার বলছে ৩১১৭ জন
কিন্তু মিডিয়া ধারনা করছে সংখ্যাটা ১৮-৩৬ হাজারের মতন হবে।
আমাদের দেশের মানুষেরা এটার প্রতিবাদ করেনাই। বরং অনেকেই এই দমনকে সমর্থনই করেছে।
কিন্তু গত জুলাইতে আমরা দেখেছি সরকারের দমন হত্যা কতটা নিস্ঠুর হয়। সাধারন জনগনের কতটা কস্ট হয়। কত মায়ের কোল খালি হয়।
ধর্মভীরুতা অনেক সময় মানুষকে যৌক্তিক ভাবনা থেকে দুরে নিয়ে যায়। ![]()
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মুল্যবান মন্তব্যটির জন্য ধন্যবাদ ।
ভয়কে বিশ্বাসে, বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসায়, আর জিজ্ঞাসাকে বিজ্ঞানমনস্ক প্রতিবাদে রূপান্তর করাই সময়ের দাবি।
আমরাতো এখনো ভযের জায়গাটিতেই আছি । আমার পোস্টের মুল কথাই হল বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসায়,
আর জিজ্ঞাসাকে বিজ্ঞানমনস্ক করে সঠিক পথে রূপান্তর করা ।
শুভেচ্ছা রইল
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪১
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মানুষকে যৌক্তিক ভাবনায় পৌঁছে দেয়াই সময়ের দাবী ।
সকলের প্রচেষ্টাই হোক গণমুখী সুখ ও সমৃদ্ধি ।
৫|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২১
অগ্নিবাবা বলেছেন: খুবই বিনয়ের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি, ধর্মের সংজ্ঞা আপনার কাছে স্পষ্ট নয়, ধর্ম যদি আপনার কাছে শুধুই সৃষ্টিকর্তাকে খোজা হয়, বা কারো ক্ষতি না করে ভালো মানুষের মত জীবন যাপন করা হয়, তাহলে আপনি হয়ত নিজেকে ভালো ধার্মিক মনে করতে পারেন, কিন্তু ধর্ম প্রতিষ্ঠান আপনাকে তাদের দলের ধার্মিক বলে স্বীকার করবে না, যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি তাদের সেট অফ রুল না মানবেন। ইসলাম ধর্ম এক্ষেত্রে অগ্রগন্য। এই পৃথিবীতে অনেক কাফের ই আছে যারা সারাজীবন ইশ্বরকে বিশ্বাস করেছে এবং মানবজাতির জন্য অনেক মহত কাজ করেছে, কিন্ত ইসলাম মতে তাঁরা সবাই দোজোকের আগুনে পুড়ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম আর ব্যক্তিগত ধর্ম এক নয়, প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম অন্য ধর্মকে সহ্য করে না, বাংলাদেশে ইসলামের প্রকোপ বাড়ছে, ভারতে হিন্দুদের প্রকোপ বাড়ছে, এর ফলাফল হবে ভয়াবহ।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ, একেবারে খাটি কথা বলেছেন, আমার অন্তরের কথা বলেছেন ।
আমি মরমী আধ্যাতিকতায় দিক্ষিত, শুনুন তাহলে একটু:-
পেম নগর কা রাহা কঠিন হ্যায়
ছাম্বল ছাম্বল করে চালাকরে
তন-মন আপনা গুরুকো সামঝো
বচন গুরুকা কিয়া করো।।
খোদা রাসুল নাম দিলমে জপো ভাই
ওহি আগুন মে জ্বালা করো
ছুমমুন বুকমুন ওম ইউন হো কার
খুদী কো আপনা ফানা করো।
প্রেম নগর কা রাহা কঠিন হ্যায়
ছাম্বল ছাম্বল করে চালা করো
তন-মন আপনা গুরুকো সামঝো
বচন গুরুকা কিয়া করো।
মন্দির মে গিয়া মুর্তী না পূজোঁ
মসজিদ মে গিয়া সেজদা করো
আর মওলা মিলন কা রাহা নিরালা
মনকা মালা জপা করো।
প্রেম নগর কা রাহা কঠিন হ্যায়
ছাম্বল ছাম্বল করে চালা করো
তন-মন আপনা গুরুকো সামঝো
বচন গুরুকা কিয়া করো।
আমার বচনগুরু হলেন রসুল'
ও রসুলের হাদিস ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯
নতুন বলেছেন: দেশের রাজনিতিকরা মানুষের ধর্মভীরুতাকে লাগিয়ে ফয়দা নিচ্ছে।
ধর্মীয় আবেগকে পুজি করে ব্যবসা এখন খুবই নিরাপদ, সফল।