| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা করতে আসেননি; কাঁটায় খোঁচা দিতে এসেছেন, যাতে ঘুম ভাঙে।
বইয়ের সবচেয়ে আলোচিত প্রবন্ধ ‘বাঙালি মুসলমানের মন’। এখানে ছফা বাঙালি মুসলমান সমাজের কিছু প্রবণতা নিয়ে কঠিন কথা বলেন - দোদুল্যমানতা, পরনির্ভরতা, নতুন চিন্তা-জ্ঞানের প্রতি অনাগ্রহ, আবেগপ্রবণতা, আর সমালোচনা সহ্য না করতে পারা।
তাঁর দাবি, বাইরে বাইরে যুগ বদলেছে, শাসন বদলেছে, পোশাক বদলেছে; কিন্তু “মন” অনেক জায়গায় একই গণ্ডিতে আটকে আছে। তিনি এটা বাঙালি হওয়া বা মুসলমান হওয়ার দোষ বলেন না; বলেন দীর্ঘদিনের এক “ঐতিহাসিক পদ্ধতি”, যা মানসিক ভীতিকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলে। ফলে এক পা এগোলে তিন পা পিছিয়ে যাই।
আবার তিনি এও বোধয় জানতে চান যে, সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মটা গ্রহণ করার পরেও কেন এখনো বাঙালী উন্নত জাতিতে রূপান্তরিত হতে পারলো না; সমস্যাটা মূলত কি!
এই বইয়ের ভালো দিক হলো - ছফা শুধু রোগ ধরেন না, ইঙ্গিত দেন চিকিৎসারও। ‘ভবিষ্যতের ভাবনা’, ‘শিক্ষা দর্শন’, এসব জায়গায় তিনি সৃজনশীলতা, বিজ্ঞানচর্চা, মানববিদ্যা-কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়, আর প্রশ্ন করার সাহসকে মুক্তির দিশা হিসেবে দেখান।
হ্যাঁ, বইটা নিয়ে বিতর্ক আছে। কেউ ছফাকে অতিরঞ্জনের অভিযোগ করেন, কেউ বলেন তিনি নির্মোহ সমাজসমালোচক। কিন্তু বইটা একটা জিনিস নিশ্চিত করে: আমরা নিজেদের নিয়ে সমালোচনা শুনতে চাই না, এই অস্বস্তিটাই আমাদের সবচেয়ে বড় রোগ।
ছফাকে মানেন বা না মানেন- বইটা পড়া দরকার, কারণ এটা প্রশ্ন করতে শেখায়। আর যে জাতি প্রশ্ন করতে ভয় পায়, তার ভবিষ্যৎ অন্যেরা লিখে দেয়।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭
জাহিদ অনিক বলেছেন: থ্যাংকু
২|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০১
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
প্রয়াত আহমদ ছফা শ্রদ্ধেয়।
তবে, বাঙ্গালি এক সময়ে শ্রদ্ধা পাওয়ার মতো একটি জাতি ছিলো। প্রায় ২০০০ আগের ঘটনা বলছি। সেই সময়ে, পাশ্চাত্যের পণ্ডিতরাও বাঙ্গালী জাতির অগ্রসরতা নিয়ে লিখতেন।
৩|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:১৭
শ্রাবণধারা বলেছেন: আমার মতে আহমদ ছফার এই প্রবন্ধটি মোটামুটি মানের, এটা খুব বেশি ভালো নয়। এই প্রবন্ধে নতুন চিন্তা তেমন নেই। তিনি কয়েকটি সমস্যাকে চিহ্নিত করেছেন মাত্র, কিন্তু সে পর্যন্তই, তাঁর চিন্তাভাবনা এর বেশি আর এগোয়নি।
আমাদের তসলিমা নাসরিনও এই পর্যন্ত তার মস্তিষ্কের ব্যবহার করতে পারেন। পার্থক্য হচ্ছে মানুষ হিসেবে ছফা সহৃদয়, সৎ এবং সজ্জন। অন্যদিকে তসলিমা হচ্ছেন টাউট এবং পাজি প্রকৃতির।
আপনি যেগুলোকে সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে উল্লেখ করেছেন - সৃজনশীলতা, বিজ্ঞানচর্চা, মানববিদ্যা-কারিগরি শিক্ষা, এসব কোনো চিন্তাশীল কথা নয়। এগুলো সাধারন শিক্ষার্থীর রচনার বুলেট পয়েন্টের মতো গৎবাঁধা কথা।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ছফা সাব কে নিয়া লিখিয়াছেন দেখিয়া পড়িলাম ।