নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও জ্বালানি সরবরাহ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, প্রতিযোগিতামূলক বিদ্যুৎ ক্রয় এবং আর্থিকভাবে টেকসই কাঠামো একই হারে গড়ে ওঠেনি।
তবে বর্তমান ২০২৬ সালের তীব্র সংকটের পুরোটা অতীত সরকারের ঘাড়ে চাপানোও তথ্যসম্মত নয়। ২০২৬ সালে কাতারের LNG সরবরাহের বড় ধাক্কা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং জুলাইয়ে একটি LNG টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড এসব তাৎক্ষণিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
অর্থাৎ,পুরোনো নীতিগত দুর্বলতা সাথে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভুল তার সাথে আমদানিনির্ভরতা এর সাথে চুক্তিগত/আর্থিক সমস্যা তার সাথে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ধাক্কা = বর্তমান সংকট।

১. প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: বিদ্যুৎ নেই নাকি জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ বানানো যাচ্ছে না? এ বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখা যাক ।
বাংলাদেশের সমস্যাটি অনেকাংশে উৎপাদনক্ষমতার অভাব নয়; উৎপাদনক্ষমতা ব্যবহার করার মতো জ্বালানির অভাব।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২৫-এ মোট গ্রিডভিত্তিক স্থাপিত ক্ষমতা ছিল প্রায় ২৮,৯৪৯ MW; এর সঙ্গে captive ও off-grid মিলিয়ে মোট ক্ষমতা ছিল ৩২,৩৬২ MW। FY2024-25-এ মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১০১,১৮৭ GWh, আর সর্বোচ্চ served demand ছিল ১৬,৭৯৪ MW। অর্থাৎ কাগজে-কলমে উৎপাদনক্ষমতা অনেক।
কিন্তু BPDB-এর জুলাই ২০২৬-এর fuel-wise তথ্য দেখলে দেখা যায়, শুধু BPDB-এর নিজস্ব স্থাপিত ক্ষমতার মধ্যেই:
গ্যাস: ১২,১৯৪ MW
কয়লা: ৬,৬০৪ MW
HFO: ৬,৪৪২ MW
সৌর: ৫৩৫ MW
আমদানি: ১,১৬০ MW
অর্থাৎ BPDB-এর স্থাপিত ক্ষমতার প্রায় ৪৪% গ্যাসনির্ভর।
তাই গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

২. তাহলে গ্যাস সংকটের মূল কারণ কী?এখানেই দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত দায়টি সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ বহু বছর ধরে ধরে নিয়েছিল যে দেশীয় গ্যাসই বিদ্যুৎ ও শিল্পের প্রধান জ্বালানি হিসেবে যথেষ্ট থাকবে। কিন্তু সরকারি Power Division-এর নিজের নথিতেই বলা হয়েছে, পুরোনো Power Sector Master Plan মূলত গ্যাসের ওপর নির্ভর করেছিল কারণ তখন ধারণা ছিল দেশে প্রচুর গ্যাস আছে। পরে দেখা যায় বাস্তবতা ভিন্ন এবং গ্যাসের মজুত দ্রুত কমছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গ্যাসের মজুত কমছে এটা কি হঠাৎ ২০২৬ সালে জানা গেল?না।

বাংলাদেশ ২০১০ এর দশকেই বুঝতে শুরু করে যে দেশীয় গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৪ সালেও Petrobangla বলেছিল যে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে এবং offshore exploration বাড়ানো প্রয়োজন। সে সময় ২৪টি offshore block-এ আন্তর্জাতিক bidding-এর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২০২৫–২৮ সময়ে ১০০টি নতুন gas well করার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছিল।

এখানেই দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার প্রশ্ন আসে।দেশে গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আগেই নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, পুরোনো কূপের উৎপাদন বাড়ানো, offshore exploration, gas infrastructure, LNG diversification আরও দ্রুত করা যেত কি না এটি নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৩. LNG আমদানি কি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল?না। LNG আমদানি নিজে ভুল সিদ্ধান্ত নয়।দেশীয় গ্যাস কমে গেলে LNG আমদানি করা যৌক্তিক।সমস্যা হয়েছে কতটা এবং কী ধরনের আমদানিনির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে সেখানে।
বাংলাদেশ ২০১৮ সালে LNG আমদানি শুরু করে। পরবর্তী সময়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমতে থাকায় LNG-এর ওপর নির্ভরতা বাড়ে। Reuters-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, তখন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই গ্যাসনির্ভর ছিল এবং দেশটি বছরে প্রায় ১০০ LNG cargo আমদানি করছিল। এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো:
দেশীয় গ্যাস কম তাই LNG আমদানি বাড়াও , ফলে বেশি ডলারের প্রয়োজন সে সাথে LNG price risk বৃদ্ধি পাওয়া তার মানে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়া ।

৪. ২০২৬ সালের সংকটে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দায় কতটা?এখানে বর্তমান সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কিছু বড় কারণ আছে।
২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে LNG সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, কাতার ২০২৫ সালে বাংলাদেশকে প্রায় ৪.১৫ million tonnes LNG সরবরাহ করেছিল; কিন্তু ২০২৬ সালের সংঘাতের পর কাতারের নির্ধারিত LNG সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়। বাংলাদেশকে তখন spot market থেকে অতিরিক্ত LNG কিনতে হয়।
এটি বাংলাদেশের কোনো সরকারের সরাসরি তৈরি করা সমস্যা নয়।

আরেকটি বড় ঘটনা ঘটে ২১ জুলাই ২০২৬, Moheshkhali-তে Excelerate Energy-এর LNG terminal-এ অগ্নিকাণ্ডের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ mmcfd gas supply বন্ধ হয়ে যায়। পরে একটি regasification unit আংশিকভাবে চালু হলে প্রায় ১১৫ mmcfd সরবরাহ ফিরে আসে। তাই ২০২৬ সালের তাৎক্ষণিক সংকটের একটি অংশকে অবশ্যই বৈশ্বিক ও অবকাঠামোগত shock হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

৫. কিন্তু তাহলে এত বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানো হলো কেন?এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি।সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের লক্ষ্য ছিল দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো। বর্তমানে সরকার ২০৩০ সালে প্রায় ৪০,০০০ MW উৎপাদনক্ষমতার লক্ষ্য রেখেছে। সমস্যা হলো Generation capacity আর available electricity সমান নয় । একটি ১,০০০ MW বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করলেই সেটি ১,০০০ MW বিদ্যুৎ সবসময় দিতে পারবে না।প্রয়োজন গ্যাস/কয়লা/HFO, ডলার, transmission, maintenance, power purchase agreement, payment capacity। বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের capacity দ্রুত বাড়ানো হলেও সেগুলোর বড় অংশের জন্য প্রয়োজনীয় fuel supply এবং demand-এর সঙ্গে capacity planning সবসময় সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

৬. প্রশ্ন হল Capacity payment সমস্যাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?এখানে বিদ্যুৎখাতের আরেকটি বড় দুর্বলতা।কিছু power purchase agreement-এ বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন না করলেও capacity payment দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে।সরকারি National Review Committee-এর ২০২৬ সালের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ৭.৭–৯.৫ GW excess generation capacity রয়েছে এবং take-or-pay ধরনের চুক্তির কারণে কেন্দ্র বসে থাকলেও আর্থিক দায় তৈরি হতে পারে। একই পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ২০০৯-এর পর installed capacity পাঁচ গুণের বেশি বাড়লেও utilisation প্রায় ৪০–৫০% পর্যায়ে ছিল।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।কারণ এর অর্থ বাংলাদেশ বিদ্যুৎকেন্দ্র বানিয়েছে অনেক, কিন্তু সবসময় সেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করার মতো জ্বালানি বা অর্থনৈতিক প্রয়োজন ছিল না।

৭. ২০১০ সালের বিশেষ আইন ও competitive bidding-এর প্রশ্নটি ও সামনে চলেস আসে ।বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ ২০১০ সালে বিশেষ আইন ব্যবহার করে দ্রুত power procurement-এর পথ তৈরি করেছিল।এটি তখনকার বাস্তবতার বিচারে পুরোপুরি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত ছিল না।কারণ ২০০৯ সালের শুরুতে দেশ ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে ছিল।
কিন্তু যে ব্যবস্থা জরুরি অবস্থায় সাময়িকভাবে কার্যকর হতে পারে, সেটি দীর্ঘমেয়াদে স্বাভাবিক procurement mechanism হয়ে গেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

২০২৬ সালের National Review Committee-এর পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, অনেক দীর্ঘমেয়াদি power contract competitive bidding ছাড়া করা হয়েছিল এবং কিছু contract-এ:guaranteed capacity payment,take-or-pay,foreign-currency indexation,fuel-cost pass-through,exchange-rate risk,sovereign guarantee ইত্যাদির মাধ্যমে ঝুঁকির বড় অংশ রাষ্ট্রের ওপর চলে যায়।এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ structural criticism।

৮. এখানে Adani চুক্তির বিষয়টি নিয়েও কথা বলা যায় । এখানে রাজনৈতিক বিতর্ক অনেক বেশি। তাই তথ্য এবং অভিযোগ আলাদা করা জরুরি।২০২৬ সালের National Review Committee-এর পর্যালোচনায় Adani Power-এর Godda plant থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিতে মূল্য ও procurement process নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিটি হিসাব করেছে যে Adani-এর বিদ্যুতের দাম নিকটতম private-sector competitor-এর তুলনায় ৩৯.৭% বেশি, এবং কিছু contractual arrangement নিয়ে procedural anomaly পাওয়া গেছে।

Financial Times-এর প্রতিবেদনে একই সরকারি review-এর ভিত্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি কিছু বিদ্যুৎ চুক্তি competitive bidding ছাড়া করা হয়েছিল এবং এর ফলে রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এখানে সতর্ক থাকা দরকার এটি Adani একাই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী এমন সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়।Adani চুক্তি বিদ্যুৎখাতের contract governance এবং cost problem-এর একটি উদাহরণ পুরো সংকটের একমাত্র কারণ নয়।

৯. তাহলে আগের সরকারের দায় কতটা?এখানে আমার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হবে ২০০৯–২০২৪ সময়ের সরকারের দায় সবচেয়ে বেশি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত জায়গায়।কারণ ওই সময়:বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হয়েছে,গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর বড় নির্ভরতা তৈরি হয়েছে, পরে LNG আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়েছে. domestic gas exploration যথেষ্ট দ্রুত এগোয়নি, বহু long-term power contract করা হয়েছে, capacity payment-এর বোঝা তৈরি হয়েছে, renewable energy তুলনামূলক ধীর গতিতে এগিয়েছে , competitive procurement নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সরকারি Power Division-এর পুরোনো Master Plan-ই দেখায় যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিকল্পনার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন গ্যাসকেন্দ্রিক ছিল, যদিও পরে গ্যাসের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে যায়।

১০. তাহলে বর্তমান সরকারের কি কোনো দায় নেই? অবশ্যই আছে যদি বর্তমান বলতে ২০২৫–২৬ সালের ব্যবস্থাপনাকে বোঝানো হয়।কারণ বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলো পেলেও LNG procurement, gas allocation, power plant dispatch, unpaid power bills, fuel financing, transmission/distribution management, renewable energy expansion, old power contracts renegotiation এসবের বর্তমান ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের।
২০২৬ সালে Finance Division-কে BPDB-এর overdue IPP/rental bills মেটাতে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে হয়েছে, একটি প্রতিবেদনে মার্চে প্রায় ২০.৬৭ বিলিয়ন টাকা ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ পুরোনো সমস্যার উত্তরাধিকার পেলেও বর্তমান ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতার প্রশ্ন এড়ানো যায় না।

১১. তাহলে বিএনপি বা আওয়ামী লীগকাকে কী দায়ী করা যাবে ?শুধু দলীয়ভাবে উত্তর দিলে বাস্তবতা বিকৃত হবে।কারণ বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট একটি সরকারের তৈরি একক সমস্যা নয়।তবে সময়ভিত্তিক দায় আলাদা করা যায়:
সময়/পক্ষ প্রধান দায়/ভূমিকা
পুরোনো সরকারগুলো দেশীয় গ্যাসের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অতিনির্ভরতা
২০০৯–২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকার দ্রুত capacity expansion, power contracts, gas/LNG strategy, procurement governance-এর বড় সিদ্ধান্ত
বিদ্যুৎ বিভাগ/BPDB generation planning, dispatch, PPAs ও capacity management
Petrobangla gas exploration, production, LNG procurement ও gas allocation
BERC tariff/regulatory oversight
বেসরকারি power producers contractual terms অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ ও payment দাবি
বর্তমান সরকার inherited সমস্যা সামলানো, fuel procurement, contract reform, financial management
আন্তর্জাতিক বাজার LNG price ও supply shock
কাতার/অন্যান্য LNG suppliers ২০২৬ supply disruption-এর সরাসরি প্রভাব
বৈশ্বিক ভূরাজনীতি LNG shipping ও Hormuz ঝুঁকি

১২. সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র কম তথ্য সেটি বলে না।বরং সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে: বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে কিন্তু জ্বালানি নেই তাই কেন্দ্র চলে না অন্যদিকে capacity payment দিতে হয় ফলে BPDB-এর আর্থিক চাপ বাড়ে এ কারণে fuel কেনার টাকা কমে পরিনামে সংকট আরও বাড়ে।এটি একটি vicious cycle।

আর গ্যাসের ক্ষেত্রে দেশীয় গ্যাস কমে তাই LNG আমদানি বাড়ে , ডলার খরচ বাড়ে , আন্তর্জাতিক দাম বাড়ে , LNG কেনা কঠিন হয় ফলে gas allocation কমে সাথে power generation কমে পরিনামে ভয়াবহ load shedding হয়।

১৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমাধানের বড় অংশ হতে পারত, তবে এখানেও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি রয়েছে।BPDB-এর জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, BPDB-এর নিজস্ব grid-connected capacity-এর মধ্যে solar ছিল মাত্র ৫৩৫ MW (১.৯৪%), wind মাত্র ৬০ MW (০.২২%)। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখনো মূলত fossil fuel-এর ওপর নির্ভরশীল।এটি শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয় এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সমস্যা।কারণ গ্যাস, LNG, কয়লা বা তেল সবগুলোর সরবরাহে আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি আছে।

১৪. তাহলে সবচেয়ে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত কী? আমার মূল্যায়নে দায়কে এভাবে ভাগ করা বেশি যুক্তিসঙ্গত:
১. দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত দায় সবচেয়ে বড় সরকারগুলো এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক প্রতিষ্ঠানগুলোর।বিশেষ করে এমন একটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে যেখানে generation capacity দ্রুত বাড়লেও fuel security একই মাত্রায় নিশ্চিত হয়নি।
২. চুক্তি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায় বড়, বিদ্যুৎ বিভাগ, BPDB এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের।Capacity payment, take-or-pay এবং কিছু non-competitive procurement-এর কারণে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে সরকারি review-তে উঠে এসেছে।
৩. গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন ঘাটতির দায় বড়. Petrobangla ও সরকারের জ্বালানি নীতির। দেশীয় উৎপাদন কমার বিষয়টি বহু বছর ধরেই জানা ছিল।
৪. ২০২৬ সালের আকস্মিক সংকটের দায় আংশিকভাবে বাইরের, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, LNG supply disruption এবং Moheshkhali terminal-এর দুর্ঘটনা সংকটকে তীব্র করেছে।
৫. বর্তমান সরকারের দায়, পুরোনো সমস্যা পাওয়া দায়মুক্তির কারণ নয়। এখন দায়িত্ব হলো দ্রুত fuel security, contract reform, domestic exploration এবং renewable expansion করা।
মোদ্দাকথা বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য একজন বা একটি দল কে দায়ী করা বস্তুনিষ্ঠ হবে না।তবে যদি প্রশ্ন করা হয় সবচেয়ে বড় structural responsibility কার?তাহলে উত্তর হবে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির।আর যদি প্রশ্ন হয় এই কাঠামো সবচেয়ে বেশি কোন সময়ে তৈরি হয়েছে? তাহলে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতিনির্ধারণের দায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা উচিত।
আবার যদি প্রশ্ন হয় ২০২৬ সালে হঠাৎ সংকট এত তীব্র হলো কেন? তাহলে উত্তর হবে আগের কাঠামোগত দুর্বলতার সঙ্গে ২০২৬ সালের LNG supply shock, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং LNG terminal disruption যুক্ত হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো”কে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল এটাই বাংলাদেশের জ্বালানি সমস্যার কেন্দ্রীয় শিক্ষা।

প্রধান তথ্যসূত্র
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB): installed capacity ও historical electricity data।
Hydrocarbon Unit, Energy Scenario of Bangladesh 2023–24: gas production ও LNG-এর historical trend।
World Bank: ২০০৫–০৭ সালের বিদ্যুৎ সংকট ও generation-capacity পরিস্থিতি।
২০২৬ National Review Committee-এর findings নিয়ে Reuters ও Financial Times-এর প্রতিবেদন।
২০২৬ সালের LNG supply disruption ও Moheshkhali terminal incident নিয়ে Reuters।
২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বর্তমান BNP সরকার গঠন সম্পর্কে সরকারি Gazette/IPU তথ্য।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আবারও কুইক রেন্টাল চালু করলে কেমন হয় ? কোথাও পড়েছিলাম ৫০/৬০ মেগাওয়াটের কুইক রেন্টাল চালু করতে সময় লাগে ১২০ দিন । সোলার নিয়ে সরকার যে পথে হাটছে সেটা নিয়ে আপনার লেখায় কিছু চোখে পড়লো না ।আপনি কি মনে করেন সরকার সফল হবে ? আশা করি সরকারের নেট মেটারিং প্লান আপনার চোখে পড়েছে ।

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




কুইক রেন্টাল আবার চালু করা যায় কিন্তু সেটি কি সমস্যার সমাধান, নাকি সমস্যাকে আরও কিছুদিন পিছিয়ে
দেওয়ার ব্যবস্থা? ৫০/৬০ মেগাওয়াটের একটি প্ল্যান্ট ১২০ দিনে চালু করা সম্ভব হলেও প্রশ্ন থেকে যায়: সেই
বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কত হবে, জ্বালানি কোথা থেকে আসবে, ভর্তুকির বোঝা কে বহন করবে এবং শেষ
পর্যন্ত এর দাম জনগণকেই কতটা দিতে হবে? জরুরি প্রয়োজনে কুইক রেন্টাল ‘ব্যান্ডেজ’ হতে পারে, কিন্তু
দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নয়।

সোলার ও নেট মিটারিংয়ের প্রসঙ্গটি যথার্থই তুলেছেন। বরং আমি মনে করি, বাংলাদেশের বিদ্যুৎনীতির ভবিষ্যৎ
আলোচনায় এটিই আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তবে শুধু নেট মিটারিংয়ের নীতিমালা করলেই হবে না
গ্রিডের সক্ষমতা, দিনের অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, ব্যাটারি/স্টোরেজ, বিনিয়োগের নিশ্চয়তা এবং
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার বাস্তব ব্যবস্থা না থাকলে কাগজের পরিকল্পনা কাগজেই থেকে যেতে পারে।

নেট মিটারিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুশাসন ও জবাবদিহিতার প্রশ্নটি আসে। বাংলাদেশে বর্তমানে নেট মিটারিং
নির্দেশিকা-২০২৫ রয়েছে, এবং সরকারি নেট-মিটারিং প্ল্যাটফর্মে Bi-directional Net Meter ও Solar/RE
Accounting Meter-এর কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত উৎপাদন গ্রিডে গেলে তার হিসাব রাখা এবং
নির্ধারিত নিয়মে সমন্বয় করার ব্যবস্থাও আছে।

তবে এতে অসততা ঢুকলে সমস্যা হতে পারে? রুন প্রকৃত হিসাব হলো:
সোলার উৎপাদন ৫০০ ইউনিট
নিজের ব্যবহার ২০০ ইউনিট
গ্রিডে যাওয়ার কথা ৩০০ ইউনিট
কিন্তু কোনো পর্যায়ে যদি মিটার, রিডিং, সফটওয়্যার বা বিলিংয়ের তথ্য নিয়ে কারসাজি হয়, তাহলে কাগজে চিত্রটি
এমন দেখানো সম্ভব হতে পারে:
বাস্তব:
৫০০ ইউনিট ২০০ নিজে ব্যবহার + ৩০০ গ্রিডে
কাগজে:
৫০০ ইউনিট ২০০ নিজে ব্যবহার + ২০০ গ্রিডে
অর্থাৎ ১০০ ইউনিটের হিসাব কোথায় গেল? এই প্রশ্নটাই তখন গুরুত্বপূর্ণ।
আবার উল্টো ঘটনাও হতে পারে,রপ্তানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ বাস্তবের চেয়ে বেশি দেখানো। সেক্ষেত্রে জনগণের/
সরকারের অর্থ থেকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আরও কয়েকটি জায়গায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে:
১. মিটার রিডিং হাতে রেকর্ড বনাম ডিজিটাল রেকর্ডে অসঙ্গতি।
২. Solar Accounting Meter উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ে কারসাজি।
৩. সফটওয়্যার/ডেটা মিটারের তথ্য বিলিং সিস্টেমে প্রবেশের সময় পরিবর্তন।
৪. অনুমোদন ও পরিদর্শন প্রকৃত সক্ষমতার চেয়ে বেশি/কম ক্ষমতার সিস্টেম দেখানো।
৫. বিল সমন্বয় আমদানি ও রপ্তানি ইউনিটের ভুল বা ইচ্ছাকৃত ভুল হিসাব।
৬. বছর শেষে ক্রেডিট জমে থাকা অতিরিক্ত বিদ্যুতের হিসাব নিয়ে অনিয়ম।
সরকারি ব্যবস্থায় অবশ্য অনলাইন আবেদন, পরিদর্শন এবং একাধিক মিটারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, অর্থাৎ
কাগজে-কলমে নিয়ন্ত্রণের স্তর একেবারে নেই, তা নয়।

কিন্তু আসল প্রতিরোধ কোথায়?আমার মতে, নেট মিটারিংয়ের সাফল্য সোলার প্যানেলের ওপর যতটা নির্ভর করে,
তার চেয়ে কম নয় মিটারিং ও ডেটার স্বচ্ছতার ওপর।
সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা হওয়া উচিত মিটার , স্বয়ংক্রিয় ডেটা , কেন্দ্রীয় সার্ভার , গ্রাহকের অ্যাপ/পোর্টাল , বিল
অর্থাৎ গ্রাহক নিজেই যেন দেখতে পারেন:
আজ সোলার উৎপাদন = X ইউনিট
নিজের ব্যবহার = Y ইউনিট
গ্রিডে রপ্তানি = Z ইউনিট
গ্রিড থেকে আমদানি = A ইউনিট
বর্তমান ক্রেডিট = B ইউনিট
তাহলে মাঝখানে কারও হাতে হিসাব পাল্টানোর সুযোগ অনেকটাই কমে যায়।
বিশ্বাসের ওপর নয় স্বয়ংক্রিয় হিসাব, উন্মুক্ত ডেটা এবং অডিটযোগ্য প্রযুক্তির ওপর নেট মিটারিং দাঁড় করাতে হবে।
কারণ সোলার যত বাড়বে, টাকার অঙ্কও তত বড় হবে। তাই আজ থেকেই যদি মিটার থেকে বিল পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিটের ডিজিটাল ট্রেস রাখা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতের একটি ভালো উদ্যোগও নতুন ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে ।

তাই সরকার সফল হবে কি না, সেটি সরকারের ঘোষণার ওপর নয় বাস্তবায়নের মানের ওপর নির্ভর করবে। আমরা যদি একদিকে ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ কিনতে থাকি আর অন্যদিকে সস্তা ও বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সুযোগকে যথেষ্ট দ্রুত সফলতার সহিত কাজে না লাগাই, তাহলে সংকটের কাঠামোগত সমাধান হবে না।
আমার আপত্তি কুইক রেন্টালের অস্তিত্বে নয়; আপত্তি হলো জরুরি সমাধানকে স্থায়ী নীতিতে পরিণত করার প্রবণতায়।
একইভাবে, সোলারকে শুধু ভবিষ্যতের কথা বলে বসে থাকলেও চলবে না। এখনই এমন একটি সমন্বিত পরিকল্পনা
দরকার যেখানে স্বল্পমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে, আর দীর্ঘমেয়াদে কুইক রেন্টাল ও ব্যয়বহুল জ্বালানিনির্ভরতা
কমিয়ে সোলার, নেট মিটারিং, গ্রিড আধুনিকায়ন ও স্টোরেজকে মূলধারায় আনা হবে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা ‘কুইক রেন্টাল না সোলার’এটা নয়। আসল প্রশ্ন হলো বাংলাদেশ কি আবার ব্যয়বহুল অস্থায়ী
সমাধানের ওপর নির্ভর করবে, নাকি এবার সত্যিই একটি টেকসই ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত বিদ্যুৎব্যবস্থার
দিকে যাবে?

শুভেচ্ছা রইল

২| ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৮

মাথা পাগলা বলেছেন: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট শুধুমাত্র এলএনজির কারণে। বছরে এলএনজির চাহিদা রয়েছে ৮~৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন, ৯-১১ ডলার প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। বিমান কিনতে খরচ হচ্ছে ৮~৯ বিলিয়ন। এই বিমান দিয়ে আপনি কি করবেন? বিদ্যুতের কারনে জনগনের রুটি-রোজগার বন্ধ করে বিমান কেনার যুক্তি কোথায়? কাতার ছাড়া এলএনজি দেবার মতো কি আর দেশ নাই? রাশিয়া আরও কম মূল্যে দিতে পারবে কিন্তু রাশিয়া থেকে কিনতে পারবেন না কারন অন্য দেশের কাছে বর্গা দিয়ে রাখা হইসে। এইটাই একমাত্র মূল কারন।

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার মন্তব্যের মূল উদ্বেগের সঙ্গে একমত এলএনজি আমদানির ব্যয় বাংলাদেশের জ্বালানি অর্থনীতির ওপর বড়
চাপ তৈরি করছে। কিন্তু “বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট শুধুমাত্র এলএনজির কারণে এটি সমস্যার গভীরে না
গিয়ে একটি জটিল জাতীয় সংকটকে একটি কারণের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া।

প্রথম প্রশ্ন হলো দেশীয় গ্যাস কোথায় গেল? বছরের পর বছর নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ঘাটতি কেন
তৈরি হলো? বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানো হলো, কিন্তু সেগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করা হলো না কেন?
উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরও কেন গ্যাস, কয়লা বা ডলার সংকটে বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রাখতে হয়? এগুলোর
উত্তর না দিয়ে শুধু এলএনজিকে দায়ী করলে আসল দায় ও ভুল নীতির জায়গাগুলো আড়াল হয়ে যায়।

বিমান কেনা বনাম এলএনজি কেনাএই তুলনাটি অনেকটাই আবেগতাড়িত, অর্থনৈতিকভাবে সরল নয়। বিমান
একটি মূলধনী সম্পদ; এলএনজি একটি চলমান জ্বালানি ব্যয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংকটের সময়ে যেকোনো
বড় প্রকল্প বা আমদানি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকবে। জনগণের বিদ্যুৎ, শিল্পের উৎপাদন ও মানুষের রুটি-রোজগার যদি
ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতিটি বড় ব্যয়কে অবশ্যই অগ্রাধিকার, প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক ফলনের
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

আর কাতার ছাড়া আর কোনো দেশ নেই? অবশ্যই আছে। কিন্তু জ্বালানি বাজার এতটা সরল নয় যে আজ একটি
দেশ বাদ দিয়ে কাল আরেক দেশ থেকে কম দামে এলএনজি কিনলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। দীর্ঘমেয়াদি
চুক্তি, স্পট মার্কেট, পরিবহন ব্যয়, টার্মিনাল সক্ষমতা, মুদ্রা ও পেমেন্ট ব্যবস্থা, বীমা এবং আন্তর্জাতিক বাজারসবকিছু
মিলিয়েই প্রকৃত আমদানি ব্যয় নির্ধারিত হয়।

রাশিয়া আরও কম দামে দিতে পারবে এটি সত্য হলে অবশ্যই হিসাব-নিকাশসহ সামনে আনা উচিত। কিন্তু অমুক
দেশের কাছে বর্গা দিয়ে রাখা হয়েছে, তাই রাশিয়া থেকে কেনা যায় না এ ধরনের বক্তব্য প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক
স্লোগান হয়ে যায়। রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংকিং, শিপিং, বীমা ও
পেমেন্ট ব্যবস্থার বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার সস্তা গ্যাস পেলেই সস্তা বিদ্যুৎ নিশ্চিত হয় না। গ্যাসের দাম, বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষতা,
ক্যাপাসিটি পেমেন্ট, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সিস্টেম লস সব মিলিয়ে গ্রাহকের প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যয় তৈরি হয়।

তাই আমার প্রশ্নটি আরও মৌলিক আমরা কি প্রতি সংকটে নতুন করে জ্বালানি কিনে সংকট সামলাব, নাকি এমন
একটি জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলব যেখানে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য শক্তি, rooftop solar, net
metering, জ্বালানি দক্ষতা, গ্রিড আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় আমদানির মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকবে?

জনগণের রুটি-রোজগার রক্ষার জন্য বিদ্যুৎ অবশ্যই দরকার। কিন্তু সেই বিদ্যুৎ যে কোনো মূল্যে কিনলেই দায়িত্ব
শেষ হয় না। একইভাবে বিমান কেনা, বড় অবকাঠামো প্রকল্প বা অন্য কোনো খরচকেও শুধু এটা তো উন্নয়ন
বলে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখা যায় না।

রাষ্ট্রের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের সামনে তিনটি প্রশ্ন থাকা উচিত কত খরচ, বিনিময়ে কী লাভ, আর জনগণকে শেষ
পর্যন্ত কতটা মূল্য দিতে হবে।

এই হিসাবটি স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে আসুক। তখন বোঝা যাবে সমস্যা আসলে শুধু এলএনজিতে, নাকি এর
পেছনে আরও বহু বছরের ভুল পরিকল্পনা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের দায় রয়েছে।

শুভেচ্ছা রইল

৩| ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৭

নাহল তরকারি বলেছেন: লেখাটি পড়ে মনে হলো, সংকটটা শুধু বিদ্যুৎ বা গ্যাসের নয়—এটি দীর্ঘদিনের ভুল পরিকল্পনা, জ্বালানি-নির্ভরতা ও নীতিগত দুর্বলতার ফল। সরকার বদলেছে, কিন্তু সংকটের বোঝা সাধারণ মানুষই বইছে। দলীয় দোষারোপ নয়, এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক জ্বালানি নীতি।

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




একেবারে সঠিক কথা বলেছেন ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৪| ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৫২

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,




তথ্য, পরিসংখ্যান দেখে মনে হয় ভুলভাল পরিকল্পনা এবং দূরদৃষ্টির অভাবের কারণেই আজকের এই সংকট।
তাহলে এ থেকে উত্তরণের পথ কি ?
জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ?

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



য়তার্থ উপলব্দির জন্য ধন্যবাদ ।
বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি সংকট অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং
জ্বালানির বহুমুখীকরণ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাসের মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির
ব্যবহার বাড়াতে হবে।

জ্বালানি অপচয় রোধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং কৌশলগত জ্বালানি
মজুত গড়ে তোলাও প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা, সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক ও
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। সর্বোপরি, “সাশ্রয়ী ব্যবহার, বহুমুখী উৎস ও টেকসই উৎপাদন”
এই তিন নীতির সমন্বয়ই পারে একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

শুভেচ্ছা রইল

৫| ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২

নিমো বলেছেন: অবশ্যই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উন্মাদনার।

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই আহা কী মধুর কাল,দোষটা কার এই প্রশ্নেই জমে মহাকাল!
যুক্তি দিয়ে খুঁজবে কেন, তথ্যই বা কিসের? কমেন্ট বক্সে জ্ঞান বিলানো সেটাই যুগের নিশান!
কেউ বলে নীতি, কেউ বলে বাজার , কেউ খোঁজে হিসাব নিকাশ আর আপনি এসে বললেন
নিশ্চয়ই এ আই উন্মাদনার । দায় কার? ব্যস, শেষ সর্বনাশ!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নাকি এখন মানুষের চেয়েও জ্ঞানী , তাই অনেকের অনেক প্রশ্নই যেখানে উত্তর হয়ে যায়
সেখানে যুক্তি বড়ই মাটি!
তবু আপনার এ মন্তব্যকে সন্মান করি , আপনি থাকুন এমনই মহান। সংকটের কারণ না পেলেও
কমেন্টে রাখুন জ্ঞানের দান!গ্যাস বিদ্যুৎ ফিরুক বা না ফিরুক, কমেন্ট যেন থাকে জ্বলে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যতই
বাড়ুক এমন জ্ঞান হারাবে না কোনো কালে!
শুভেচ্ছা রইল

৬| ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: টেকসই সমাধান করতে গেলে সাবসিডি উঠিয়ে দিতে হবে ।

৭| ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০৫

নিমো বলেছেন: হা!হা! বালুঘরের মধ্যে বসে থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মগজ বন্ধক থাকলে আমার মন্তব্যতো বুঝবেন না, জ্ঞান দানই মনে হবে।

৮| ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:১৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




টেকসই সমাধান করতে গেলে সাবসিডি উঠিয়ে দিতে হবে” আপনার এ মন্তব্যটি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ
সত্যকে স্পর্শ করেছে, কিন্তু পুরো সত্যটি নয়।

সামষ্টিক অর্থনীতির ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় বিদ্যুৎ বা জ্বালানির দাম কৃত্রিমভাবে কম রাখা
হলে সরকারের ওপর রাজস্ব চাপ, বাজেট ঘাটতি এবং ভর্তুকির বোঝা বাড়ে। বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন
ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান কমিয়ে ভর্তুকিকে টেকসই পর্যায়ে নামানোর প্রয়োজনীয়তার কথা IMF স্পষ্টভাবে
উল্লেখ করেছে।

কিন্তু এখানেই অর্থনীতির দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু।

সাবসিডি তুলে দিলেই জ্বালানি উৎপাদন বাড়ে না, গ্যাসের মজুত বাড়ে না, বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষতা বাড়ে না এবং
ডলার সংকটও দূর হয় না। বরং হঠাৎ ভর্তুকি প্রত্যাহার করলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বেড়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে
পারে; সেখান থেকে পরিবহন, খাদ্য, শিল্পপণ্যসহ অর্থনীতির সর্বত্র মূল্যস্ফীতির দ্বিতীয় দফার চাপ তৈরি হতে পারে।

অর্থাৎ,ভর্তুকি হলো সমস্যার একটি অংশ কিন্তু জ্বালানি সংকটের পুরো কারণ নয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সমস্যার সঙ্গে আরও যুক্ত আছে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের ঘাটতি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি,
বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের উচ্চ ব্যয়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি
জ্বালানি পরিকল্পনার প্রশ্ন। সাম্প্রতিক IMF বিশ্লেষণেও গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে জ্বালানি বরাদ্দ এবং মূল্য নির্ধারণের নতুন নীতিগত সংকটের কথা বলা হয়েছে।

তাই সমাধান হওয়া উচিত সাবসিডি শূন্য নয়, বরং স্মার্ট সাবসিডি।

ধনীর বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করার বদলে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক
সহায়তা রাখা যেতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য ধীরে ধীরে প্রকৃত ব্যয়ের কাছাকাছি নেওয়া,
উৎপাদন ও বিতরণে অপচয় কমানো, অদক্ষ ও ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানো এবং জ্বালানির উৎস
বহুমুখী করা প্রয়োজন। IMF-ও ভর্তুকি সংস্কারের সঙ্গে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক
সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো সময় ও পদ্ধতি। একদিনে ভর্তুকি তুলে দিলে সেটি হতে পারে মূল্য সমন্বয়; কিন্তু
ধাপে ধাপে মূল্য সংস্কার, সামাজিক সুরক্ষা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং জ্বালানি খাতের দক্ষতা বাড়ানো
একসঙ্গে করলে সেটিই হয় অর্থনৈতিক সংস্কার।

সুতরাং, াপনার মন্তব্যকে পুরোপুরি ভুল বলা যাবে না; তবে অর্থনীতির ভাষায় মন্তব্যটি নিয়ে কিছু কথা
বলার অবকাশ রাখে । সাবসিডি উঠাতে হবে হ্যাঁ, কিন্তু অন্ধভাবে নয়।সাবসিডি সংস্কার করতে হবেহ্যাঁ, কিন্তু
গরিবের ঘাড়ে পুরো বোঝা চাপিয়ে নয়।

আর জ্বালানি সংকট সমাধান করতে হলে শুধু দামের সংস্কার নয়, উৎপাদন, সরবরাহ, বিনিয়োগ, দক্ষতা,
বৈদেশিক মুদ্রা ও জ্বালানি নিরাপত্তারও সংস্কার করতে হবে।

কারণ ভর্তুকি তুলে দেওয়া একটি রাজস্বনীতি; কিন্তু জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক
কৌশল। এই দুটিকে এক করে ফেলাই হবে সবচেয়ে বড় নীতিগত ভুল।

শুভেচ্ছা রইল

৯| ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫

নূর আলম হিরণ বলেছেন: ইউনূসের আমেরিকার সাথে চুক্তির কারণে বিদ্যুৎ জ্বালানি সাপ্লাইতে ব্যাঘাত ঘটছে কিনা? এই চুক্তি জ্বালানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কিনা, আপনার কি মনে হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.