| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রথমে পদ্মাসেতু, তারপর মেট্রোরেল অতঃপর পাতাল রেল। বাহ্! চমৎকার উন্নয়নের নিদর্শন। বিশ্বের উন্নত দেশ গুলির সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে বাংলাদেশ, ভাবতে ভালোই লাগে। বাজারে গেলে ৮৬ টাকা করে চাল খেতেও ভালো লাগে, গরুর গোশ মাত্র ৭০০ টাকা কেজি, খাসি ১০০০ পেড়িয়েছে, দেশী মুরগী ৫০০, বয়লার তাও ২০০ ছুঁই ছুঁই, কি দারুন ব্যাপার! আটা, ময়দা, সুজি, ডাল, চিনি, লবন, পেয়াজ, রসুন, আদা, মশলা, সবজি কেউ পিছিয়ে নেই। সবাই উন্নত দেশের লাগাম পেরুতেই বেতি ব্যস্ত। শুধু আমরা মধ্যবিত্তরাই উন্নত হতে পারলাম না। আমরা আরো অনুন্নত হচ্ছি প্রতিনিয়ত কম্প্রোমাইজ করে চলছি। বাজারে গেলেই আমাদের চক্ষু চরকগাছ। কি কিনবো আর কি বাদ দেব যেন মাথায় ধরে না। আয়েশী জীবন না হোক সাধারণ ভাবে খেয়ে বেঁচে থাকাটাই এখন দুস্কর। আয়ের সাথে ব্যয়ের এতো বেসামাল গড়মিল কিভাবে কি করবো হিসাব যেন আর মিলেই না। যখন চারিদিকে উন্নয়নের খবরে সয়লাব তখন নিজের সাথে যুদ্ধ করবো নাকি বেফাঁস কিছু বলে গুম হবো ভাবতে থাকি। উত্তর মেলে না শুধু অতৃপ্ত আত্মা হাহাকার করে বলে আর কতো দিন? এমন করে কি বেঁচে থাকা যায়, নাকি এরই নাম জীবন?
আমি সরকার বিরোধীও নাই আবার সরকারের পক্ষেও নাই। আমি অতি সাধারণ জনগণের তালিকায়। সাধারণ ভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে চাই। নির্বিঘ্নে পথ চলতে চাই। পরিবার নিয়ে শান্তিতে ঘুমুতে চাই। আদৌ কি সেটা পারছি? এতো কথা এতো উন্নয়ন, তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণ নাই কেন? কেন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এমন লাগামহীন? কেন, কেন? বিশ্ব পরিস্থিতি বা করোনার দোহাই দিবেন তো, সেটাও আর কতো কাল? শুধু কি আমরা মধ্যবিত্তরাই সব সময় সব জায়গায় ভুক্তভোগী হবো, এর কি কোন প্রতিকার নাই? নাকি এটাই আমাদের বিধিলিপি বা ভবিতব্য? বুকচিরে আর্তনাদ বেড়িয়ে আসে শিশুদের দুধের দাম দেখলে। হায়রে ডিম! দাম তরতর করে সেও এখন তুঙ্গে।
মাছের আবার ঢং শুরু হয়েছে চাষের মাছ একটু বেছে হাওর মিক্স, নদীর মাছ কতই না নামে আর বাহারে বিক্রি হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটা উচ্চ মূল্য। হায়রে উন্নত হওয়ার পাল্লা শুধু আমরা নিন্ম আয়ের লোকেরা পাচ্ছি গোল্লা।
এরপর আসুন বিদ্যুতের কথায়। কি খেলাই না চলছে রাম শ্যাম আর যদু মধু কখন কি করবে কতো বাড়াবে খেই হারিয়ে ফেলছে। পারলে প্রতি মাসে একবার করে বাড়ায়। অতঃপর রাজনৈতিক ভাষণ শুনুন, জনগণের জন্য নিবেদিত প্রাণ। গ্যাস তবুও সহনশীল মাত্রায় আছে মাঝে মাঝে সেও একটু লম্ফ-ঝম্ফ করে বটে। আর ভোজ্য তেলের কথা তো বলাই বাহুল্য। মনে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী তেল বিহীন রান্না করেই খাই। যদিও সেটা সম্ভব হয় না তারপরও মনে হয় চাল ছাড়া ভাত, আটা ছাড়া রুটি, নুন ছাড়া, আদা রসুন পেয়াজ ছাড়া রান্না করে খাই। ডিমবিহীন খালি পাতিলে ডিমসেদ্ধ করে খাই। মাছ ছাড়া ফিস ফ্রাই আর গোস ছাড়া মিটবল বানিয়ে খাই। এমন যদি হতো তাহলে আসলেই আমরা অনেক উন্নত থেকে উন্নততর হয়ে যেতাম। তখন মনের সুখে তা ধিং তা বলে নাচতাম।
মজার একটা কথা শেয়ার করি গতকাল একটা কাজে তেজগাঁও গিয়েছিলাম। রিক্সায় যাচ্ছি রাস্তায় ভীষণ গাড়ির জটলা একজন রাজনৈতিক নেতার মিটিং চলছে, তাঁর ভাষণ শোনা যাচ্ছিলো, রাস্তায় প্রচুর লোকের সমাগম। রিক্সাওয়ালা একটু বয়স্ক লোক ছিলো। সে তাচ্ছিল্যের স্বরে বললো,
“হায়রে উন্নয়নের জোয়ার, মাথাই নষ্ট”
এখন কথা হলো সে যদি অনুধাবণ করতে পারে, তাহলে তাঁদের মাথায় কেন খেলে না, নাকি নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এ সকল উন্নয়নের বাহানা? আমরা সুধী সমাজ, শিক্ষিত সমাজ ঐ কথায় নাচি আবার ঐ কথার লেজুর ধরে ঝগড়া করি, মারামারি করি আবার কখনো কখনো বাহাদুরি করি। আমাদের বিবেক কবে জাগ্রত হবে? কবে আমরা ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ বলা শিখবো?
©somewhere in net ltd.