| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নচিকেতার গান দিয়েই না হয় শুরুটা করি, চলে সব উল্টো পথে উল্টো রথে। আমাদের দেশে কথাটা শতভাগ না হলেও হাজারভাগ সত্য। রোজা বা সিয়াম হচ্ছে মুসলিমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা ইবাদত। এ মাসে সংযম, ইবাদত ,দান ও সাদগাহ এর অশেষ ফজিলতের কথা বলা হয়েছে। আর আমাদের দেশে এ মাসেই ব্যবসায়ীরা তাদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। লাগামহীন মূল্যে সাধারণ ভোক্তাদের জীবন ওষ্ঠাগত। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে এ মাসে সব ডিসকাউন্ট দেয়া হয় রোজাদারের সুবিধা আর সওয়াব এর আশায়। আর আমাদের দেশে এ মাসে সব কিছুর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। যদিও এ বছর আগেই সব কিছুর দাম আকাশচুম্বি। গরুর গোশ ৮০০, দেশী মুরগি ৫০০-৬০০, খাসি-১০০০-১২০০, বয়লার-২৬০-২৮০, লেয়ার-৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে। চাল ডাল নুন তেল সব কিছুরই দাম অনেক বেড়েছে। আর তেলের কথা না হয় বাদই দিলাম। রোজার অন্যান্য পন্য যেমন শোলা, বেসন, খেজুর, চিনি, ডাল, ফল, চিড়া, মুড়ি সব কিছুর মূল্যই সাধারণ জনগনের হাতের নাগালের বাইরে। কি যে হবে রোজায় সবারই ভাবনা শুধু তাই?
সব চেয়ে সমস্যায় পড়ি আমরা যারা ছোট চাকরি করি। না পাড়ি হাত পাততে আর না পাড়ি সঠিক ভাবে সংসার চালাতে। জীবনটা দূর্বিসহ মনে হয়। আর যাদের ঘরে ছোট বাচ্চা আছে তাদের তো কথাই নাই। ছোট ছোট বাচ্চাদের আবদার মিটাতে না পাড়লে কেমন লাগে, সেটা শুধু সেই ভুক্তভোগী বাবা মাই জানে। রোজার মাসে সবাই একটু স্বাচ্ছন্দে এই রোজা পালন করতে চায় কিন্তু সাধ্য কি? এই অল্প আয়ের লোকগুলি কি করবে আর কি বা করবে খেটে খাওয়া কুলি, দিন মজুরেরা? ভিক্ষারীদের তাবুও এ মাসে ভালোই কাটবে দান সাদগাও পেয়ে চেয়ে চিন্তে খেয়ে ওওরা বেশ কাঁটিয়ে দেবে এ মাস। কিন্তু মহা সমস্যায় পড়বে অল্প আয়ের লোকগুলি। না পাড়বে হাসতে না পাড়বে কাঁদতে। হ্যাঁ কাঁদবে ঠিকই লোক চক্ষুর আড়ালে ভেতরে ভেতরে দুমড়ে মুচড়ে কাঁদবে। এ কান্নার কোন শেষ নাই। প্রতি পদে পদে কান্না। এ কান্না শেষ হতে না হতেই আসবে আনন্দঘন ঈদের কান্না। হায়রে মধ্যবিত্ত জীবন! এ যাতনার শেষ কোথায়? এ জীবন এমনি যেমন না যায় কাউকে কিছু বলা, না যায় মনের মতন করে চলা, আর না যায় কারো চাহিদা মেটানো, না যায়..এই অনেক না যায় এর মাঝে একটাই শুধু যায় বড় বড় দীর্ঘশ্বাস।
অনেক ধনী বা বিত্তবানেরা এ মাসে আরো একটি নাটক করে জাকাতের শাড়ী লুঙ্গি বিতরণের। নিন্ম মানের শাড়ী আর লুঙ্গী কিনে আনে বস্তা বস্তা যা দুই দিনও যায় না ছিড়ে যায়। এক হচ্ছে জাকাতের জন্য নিজে যা ব্যবহার না করি সেটা দেয়া যাবে না আর দুই এ পদ্ধীতিতে জাকাত দেয়া নিষেধ হ্যা তবে দান বা সাদগাহ করা যাবে। নিয়ম হচ্ছে এমন ভাবে যাকাত দিতে হবে যেন পরের বছর ঐ যাকাতধারী লোকটি নিজেই যাকাত দিতে পারে অর্খাৎ কর্ম বা রোজাগেরর ব্যবস্থা। আর আমরা করি কি সংবাদের শিরোনাম হওয়ার জন্য ঘোষনা দিয়ে এক ট্রাক শাড়ী আর লুঙ্গি নিয়ে যাকাত যাকাত নাটক করি। পরিনামে পদদলিত হয়ে অসহায় গুটিকয়েক লোকের মৃত্যু। প্রতিবছরই এ জাতীয় সংবাদ আমরা দেখতে ও শুনতে পাই। এ ধারার পরিবর্তন আশু প্রয়োজন।
এ মাসে মধ্যভোগীদের দৌরাত্বে কোন ভাবেই কোন সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না থুক্কু করতে চান না। কারনটা আমি আপনি সবাই জানি। শুধু আমরা প্রজারা দেখি আর শুনি, করতে পারি না কিছুই। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে অচিরেই আমাদের ৩০০/৪০০ টাকা কেজি দরে চাল খেতে হবে। আর হানিফ সংকেতের ইত্যাদিতে প্রচারিত সেই রোম্য নাটকের মতন টাকার বস্তা বাজারে নিয়ে ছোট ছোট বোতলে করে বাজার আনতে হবে সেই দিনও মনে হয় আর দূরে নয়। আমাদের নিজস্ব উৎপাদন আছে তবুও কেন বাজারমূল্য এমন সীমাহীন। দালালেরা বলবে ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, তেলের মূল্যবৃদ্ধি নানান বাহানার কথা। কোন সরকারই সাধারণ জনগনের কথা ভাবে নাই শুধু মুখেই বাড়াবাড়ি আর উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসায়। আসলে কতোটা কি হচ্ছে তা সাধারণ ভুক্তভোগীরা খুব ভালো করেই জানে। শুধু উটকো ঝামেলা এড়াতে কেউ মুখ খুলে না। যদিও এখন মুখ খোলার আর সুযোগ নাই তাহলেই গুম খুন তো আছেই। যাই হোক আসল কথায় আসি, ঐ মধ্যভোগীদের যাতনায় কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছে না আর ভোক্তারা অতি উচ্চ মূল্যে পন্য কিনছে। মাঝখানে দুধের ঘি আর সর হাতিয়ে নিচ্ছে ঐ মধ্যভোগীরা। আর এটা রোধ হচ্ছে না কারণ যে আইন করবে তার মাথাতেও তো দুই আটি। তাই আমরা সাধারণ প্রজারা ঐ রাজাদের কাছে সব সময় বন্দী। সেই হিরোক রাজার দেশের কাহিনীটা মনে পড়ে গেল। আমরা সেই হীরক রাজ্যেই বসবাস করছি মনে হয়। এর পরিত্রাণ নাই হবে না হবে না।
সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা। সবাই নির্বীঘ্নে সিয়াম সাধনা করেন সেই শুভ কামনা।
©somewhere in net ltd.