| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?
ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু পোস্টিং বদলেছে?
বাস্তবতা হচ্ছে- আগের সরকারের আমলে থানায় বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারাই অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরছেন। স্পষ্টতই রাজনৈতিক ও আর্থিক তদবিরের কারণে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারাও বঞ্চিত হচ্ছেন।
এস আই ব্যাচ ২০০৩, ২০০৫ এবং ২০০৭ পরবর্তী সকল এসআই ব্যাচের অফিসারগণ ছাত্রলীগ সার্টিফাইড। ছাত্রলীগের প্যাডে সুপারিশ ছাড়া তাদের কারো চাকরি হয়নি। সেই অফিসারগণই এখন অধিকাংশ থানার ওসি।
অন্যদিকে, বিসিএস পুলিশ- ২৮, ২৯ ব্যাচ পরবর্তী সকল ব্যাচের ৯৫% অফিসার ছাত্রলীগ+আওয়ামী লীগ কর্মী সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরি পেয়েছে- তাদের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আওয়ামী সরকার সৎ অফিসারদের বিভিন্ন ট্যাগিং দিয়ে বা ষড়যন্ত্র করে নন- অপারেশনাল ইউনিটে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারগণকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে। এই এই দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারগনই সকল অপকর্মের হোতা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ফ্যাসিস্ট অফিসারদের ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। তারা সেখানে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপ খুলে আওয়ামী নেতা ও ফ্যাসিস্টদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। অসৎ কর্মকর্তাগণ টাকা নিয়ে ফ্যাসিস্ট দের পদায়ন করায় ইতিমধ্যেই পুলিশ বাহিনী ফ্যাসিস্ট নিয়ন্ত্রিত।
এক্ষেত্রে নন অপারেশনাল ইউনিট ও ট্রেনিং সেন্টারে বদলিকৃত অফিসারদের নজরদারিতে আনতে হবে এবং নিজ বিভাগে(জেলা/বিভাগ) পদায়ন না করা।
এসব সত্য শুধু পুলিশের সমস্যা নয়- রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এন এস আই তে গত ষোলো বছরে যত নিয়োগ হয়েছে- তাদের প্রায় সবাই ছাত্রলীগের ক্যাডার, যা ততকালীন বিভিন্ন পত্রিকার নিউজ লিড ছিলো। গত ষোলো বছর যারা ভালো অবস্থানে ছিলো এখনো তারাই ভালো আছে। যারা বঞ্চিত ছিলো- তারা এখনো বঞ্চিত!
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই তেও একই অবস্থা। আওয়ামী সরকারের আমলে এনএসআই তে যত নিয়োগ দিয়েছে শতভাগ আওয়ামী ছাত্রলীগের ক্যাডার। সম্প্রতি শতাধিক সহকারী পরিচালকদের উপপরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে- সেটা কোন যোগ্যতায় সে প্রশ্ন না করেই বলা যায়- এটা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও ভয়ংকর অশনি সংকেত!
কারণ দুর্বল, দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা রাজনৈতিকভাবে অনুগত পুলিশ গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে কোনো সরকারই দীর্ঘদিন জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।
আবার এর সমাধানও হতে পারে না-
“ওদের পুলিশ সরিয়ে আমাদের পুলিশ বসাও।”
কারণ আজ আওয়ামী পুলিশ সরিয়ে বিএনপি পুলিশ কিম্বা জামাত শিবিরের পুলিশ বানালে, কাল অন্য কেউ এসে আবার নিজের দলীয় পুলিশ বানাবে। পেশাদারিত্ব চাইলে এই চক্রটাই এবার ভাঙতে হবে।
তাহলে করণীয় কী?
★ গুরুত্বপূর্ণ থানায় সৎ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে হবে।
★ বদলি-পদায়ন বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
★ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের লিখিত কারণ ও স্বচ্ছ রেকর্ড রাখতে হবে।
★ দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত করতে হবে।
★ সৎ কর্মকর্তাকে শাস্তিস্বরূপ নন-অপারেশনাল ইউনিটে পাঠানো বন্ধ করতে হবে।
★ পদায়নের মাপকাঠি হবে সততা, দক্ষতা, কর্মদক্ষতা ও আইন মানার রেকর্ড- দলীয় পরিচয় নয়।
★ বেআইনি রাজনৈতিক নির্দেশ প্রত্যাখ্যানের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা দিতে হবে।
★ থানায় নাগরিক তদারকি ও জবাবদিহি বৃদ্ধি করতে হবে।
★ আধুনিক তদন্ত, ফরেনসিক, সাইবার অপরাধ ও মানবাধিকার বিষয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণঃ
ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর যারা চিনহিত অপরাধী সেই সকল অফিসারদের সংযুক্ত নয়, প্রথমেই নিষ্ক্রিয় করে তাদেরকে কনসেনট্রেশান ক্যাম্পে রাখতে হবে। তারপর ধাপে ধাপে সরিয়ে দিতে হবে। নতুন রিক্রুট করতে হবে।
সরকার বদলাবে, পুলিশ বদলাবে না।
ক্ষমতার পালাবদলে পুলিশের আনুগত্যের ঠিকানাও পাল্টাবে না।
পুলিশ কোনো দলের নয়।
পুলিশ কোনো সরকারের ব্যক্তিগত বাহিনীও নয়।
পুলিশ হবে সংবিধানের, আইনের এবং জনগণের।
জুলাই আমাদের সামনে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগ যদি শুধু পোস্টিং বদলের রাজনীতিতে নষ্ট করি, তাহলে কয়েক বছর পর আবার একই প্রশ্ন করতে হবে-
“ফ্যাসিস্ট গেছে, কিন্তু ফ্যাসিস্ট পুলিশিং কি গেছে?”
তাই এখন দরকার পুলিশ বদল নয়- পুলিশ সংস্কার।
দলীয় পুলিশ নয়, রাষ্ট্রের পুলিশ চাই।
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- পুলিশ সংস্কার। তাই শুধু “কে কোন দলের?”- এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা নয়। সতর্ক থাকতে হবে- অনেক গুপ্ত এখন বিএনপি সেজে ভালো যোগ্য অফিসারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ট্যাগিং দিয়ে ক্ষতি করার জন্য উঠে পরে লেগেছে! এই ধরনের হাইব্রিড বিএনপি অফিসারদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রশ্ন হওয়া উচিত-
“কে সৎ? কে দক্ষ? কে আইন মানে? আর কে জনগণের নিরাপত্তার জন্য কাজ করতে পারে?”
এই চারটি প্রশ্নের ভিত্তিতে পুলিশকে পুনর্গঠন করা গেলে তবেই একটি সত্যিকারের জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক এবং রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে উঠতে পারে। দলীয় পুলিশ নয়, রাষ্ট্রের পুলিশ চাই।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১
জুল ভার্ন বলেছেন: তারেক রহমানের সততা আন্তরিকতা এবং চেষ্টার কমতি নাই। কিন্তু তিনি নিজ দলের যেমন যথাযথ সহযোগিতা পাচ্ছেন না, তেমনি স্বৈরাচারী সরকারের লোপাট করা সম্পদ গিলে খাওয়া জা-শি, জানাপা বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসর এবং জা-শি জানাপা মিলে দেশটাকেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলতে যাচ্ছে।
২|
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: পুলিশ বাহিনী নিয়ে লেখা আপনার পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগল। পোস্টটি পড়ে মনটা একটু পুরোনো স্মৃতির দিকে চলে গেল—আসলে পুলিশের প্রতি আমার ব্যক্তিগত একধরনের দুর্বলতা বা আবেগ রয়েছে।
২০০৫ সালে অনার্স পরীক্ষা শেষ করার পর আমার জীবনে প্রথম এবং একমাত্র সরকারি চাকরির চেষ্টাটা আমি করেছিলাম এই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সাব-ইন্সপেক্টর (SI) পদের জন্যই। এরপর আর কখনোই কোনো সরকারি চাকরির জন্য পরীক্ষা দেওয়া বা চেষ্টা করা হয়নি।
পুলিশ বাহিনীতে সত্যিকার অর্থেই আমূল ও কার্যকর নিয়োগ সংস্কার প্রয়োজন। একজন তরুন বা তরুণী যখন তার চাকরিজীবনের শুরুতেই ঘুষ বা বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার প্রথম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়—যেকোনো উপায়ে আগে সেই টাকা তুলে নেওয়া! আর সেই উঠে যাওয়া টাকা তুলতে তুলতেই তার পেশাগত ও নৈতিক চরিত্রের যে অপপূরণীয় অধঃপতন ঘটে, সেখান থেকে আর সহজে ফেরা যায় না। পরবর্তীতে সে আর যেকোনো ধরনের দুর্নীতি করতেই দ্বিধাবোধ করে না। আর এর পাশাপাশি রাজনৈতিক অপব্যবহার ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের বিষয়টি তো রয়েই গেছে।
পুলিশ বাহিনীকে জনগণের ট্রাস্টেড জায়গায় ফেরাতে হলে এই রিক্রুটমেন্ট প্রসেসের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯
জুল ভার্ন বলেছেন: একজন তরুণ যদি চাকরিতে ঢোকার শুরুতেই ঘুষ বা বড় অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য হয়, তার প্রথম লক্ষ্য হয়ে যায়- "আগে টাকা তুলতে হবে!” সেটাই স্বাভাবিক এবং সেখান থেকেই শুরু হয় নৈতিক পতনের পথ। এর সঙ্গে যোগ হয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও পদায়ন-বাণিজ্য।
তাই পুলিশ সংস্কারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শতভাগ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করা।
যোগ্যতার ভিত্তিতে সৎ ও মেধাবী তরুণদের পুলিশে ঢোকার সুযোগ পায় তাহলেই একদিন পুলিশকে দেখে মানুষ ভয় নয়- ভরসা করবে।
আমাদের পরিবারে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আছেন। আমার ছোট ভাই পুলিশের এডিশনাল ডি আই জি থাকা অবস্থায় আমি গুম হই। স্বাভাবিক ভাবেই আমার খোঁজ খবর নিতে ছোট ভাই পুলিশ কমিশনার, আইজিপি এবং ততকালীন র্যাবের ডিজির সাথে যোগাযোগ করেছে এবং নিজ উদ্যোগে আমার অবস্থান জানতে চেষ্টা করেছিলো.... ফলাফল- আমার ভাইকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমার দুই ভাগ্নে এখনো পুলিশের উচ্চ পদে আছে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১
নতুন বলেছেন: ঘুষখোরেরা আসলে দেশ জাতী সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু!!!
এরা নিজের পকেটের দিকে দেখে, কি করলো বা তার এই কাজে কি হবে সেটা দেখে না।
দূনিতি ঠিক না করতে পারলে এই সরকারও মুখ থুবড়ে পড়বে।
আপাত দৃস্টিতে তারেক রহমানের নিয়ত সহী লাগছে, তার চেস্টাও চলে পড়ার মতন। কিন্তু চোরের দেশে তার নিজের দলের নেতাদের নিয়ন্ত্রন না করতে পারলে তার পরিনতিও শেখ হাসিনার মতনই হবে।