| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু
লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।
কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে দাঁড়াল অনলাইনে ট্রেনের টিকিট পাওয়া।
সাধারণ সময়েই যেখানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের টিকিট পাওয়া বেশ কঠিন, কোরবানির ঈদের ছুটিতে পরিস্থিতি যেন আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। প্রতিদিন সকাল আটটা বাজার আগেই ল্যাপটপ-মোবাইল নিয়ে বসতাম। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ঠিক আটটা ছুঁতেই, দুই থেকে তিন সেকেন্ডের ব্যবধানে চোখের সামনে ট্রেনের সব টিকিট হাওয়া! কয়েকদিন টানা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ বাসের পথ ধরতে হয়েছিল।
বাসে কক্সবাজার পৌঁছে যখন ওখানকার আইকনিক ‘ঝিনুক আকৃতির’ রেল স্টেশনটি নিজের চোখে দেখলাম, সত্যি মুগ্ধ না হয়ে উপায় ছিল না। এক দারুণ নান্দনিক স্থাপনা! যদিও স্টেশনটি এখনও তার পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহৃত হচ্ছে না; ভবিষ্যতে সব আধুনিক সুবিধা পুরোদমে চালু হলে পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে।
কক্সবাজারের সেই সফর আমাকে অনুধাবন করিয়েছিল—এই রুটে ট্রেনের চাহিদা যে কত আকাশচুম্বী! সম্প্রতি পত্রিকার একটি খবরেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখতে পেলাম।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রীদের এই চাপ সামলাতে এবার আরেকটি ট্রেন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বর্তমানে চলাচলরত ‘মহানগর এক্সপ্রেস’কে আগামী অক্টোবরের প্রথম দিক থেকেই কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করার পরিকল্পনা চলছে।
সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, বর্তমানে ঢাকা থেকে সরাসরি চলা ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ বা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ চট্টগ্রাম ছাড়া মাঝপথের কোনো স্টেশনে থামে না। কিন্তু ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বহু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। ফলে এসব অঞ্চলের মানুষও সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রাত সাড়ে আটটায় ছেড়ে পরদিন সকাল ছয়টায় ট্রেনটি কক্সবাজার পৌঁছাবে। আর ফিরতি ট্রেন কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়বে।
যেসব মধ্যবর্তী স্টেশনের যাত্রীরা সুবিধা পাবেন:
ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আখাউড়া ও কসবা
কুমিল্লার কুমিল্লা সদর, লাকসাম ও নাঙ্গলকোট
ফেনী এবং চট্টগ্রামের কুমিরা
তবে একটি খবর কিছুটা মন খারাপও করে দেয়। একই সংবাদে দেখলাম, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত 'সৈকত' ও 'প্রবাল' এক্সপ্রেসের বগিগুলো বেশ পুরোনো এবং সেখানে পর্যাপ্ত এসি বগি না থাকায় যাত্রীরা কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ছেন। নতুন কোচ না আসা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত কম।
যাই হোক, যারা আমার মতো সরাসরি ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট না পেয়ে সমস্যায় পড়েন, তাদের জন্য একটি চমৎকার বিকল্প রুট শেয়ার করি—যা আমি সেই সফরের পর জানতে পেরেছি।
যদি কোনো কারণে সরাসরি ট্রেনের টিকিট না পান, তবে সময় মিলিয়ে নিয়ে এই বিকল্পটি চেষ্টা করতে পারেন:
১. ঢাকা থেকে রাতের ‘মহানগর এক্সপ্রেস’-এ করে চট্টগ্রাম চলে যাওয়া।
২. সেখান থেকে ভোরের ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’-এ উঠে কক্সবাজারের পথ ধরা।
প্রথম ট্রেনটি সময়মতো চললে সূচি অনুযায়ী সকাল সাড়ে নয়টার কাছাকাছি কক্সবাজার পৌঁছে যাওয়ার কথা। যদিও কানেক্টিং ট্রেনের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় বিলম্বের ঝুঁকি থাকে, তবুও বাসের ঝক্কি ও ট্রাফিক জ্যামের তুলনায় এটি একটি বেশ আরামদায়ক অল্টারনেটিভ অপশন হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার আমার সেই প্রথম পরিকল্পনাটি সফল হয়নি। কিন্তু সেই অপূর্ণ যাত্রাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে—এই রুটে মানুষের আগ্রহ কতটা প্রবল।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার আবেগ এবং ক্ষোভের জায়গাটা খুব গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারছি। কক্সবাজারের সমুদ্র আসলেই সব মানুষকে এক অদ্ভুত মায়ায় টানে। কিন্তু এটিও ততোধিক সত্য যে, অপরিকল্পিত পর্যটন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত অবহেলার কারণে আমাদের এই প্রিয় সমুদ্র সৈকত আজ সত্যি ক্ষতিগ্রস্ত।
বিদেশের সুনিয়ন্ত্রিত ও পরিচ্ছন্ন সৈকতগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই পার্থক্যটা খুব তীব্রভাবে চোখে পড়ে ও মনে কষ্ট দেয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটক হিসেবে আমাদের নিজেদের সচেতনতাও খুব জরুরি। সৈকতে প্লাস্টিক বা ময়লা না ফেলা, পরিবেশবান্ধব আচরণ করা—এসব ছোট ছোট অভ্যাসও পরিবর্তন আনতে পারে।
আশা করি, শুধু প্রশাসনিক লাইসেন্স বা বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়; বরং টেকসই পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষার কঠোর পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে, যাতে আমাদের কক্সবাজার তার আগের প্রাকৃতিক রূপ ও শান্তি বজায় রাখতে পারে। আপনার সুন্দর ও ভাবনা উদ্রেককারী মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ!
২|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬
মেহবুবা বলেছেন: অনেকের কাজে লাগবে এ পোষ্ট। আমাদের এমন অনন্য সমুদ্র সৈকত আছে সেটার সদ্ব্যবহার না করবার জন্য কতভাবে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনার ইতিবাচক মন্তব্য এবং মতামতের জন্য!
কক্সবাজারের মতো এমন দীর্ঘ ও অনন্য প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত থাকা সত্যি আমাদের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ। সঠিক অবকাঠামো, নির্বিঘ্ন যাতায়াত ব্যবস্থা এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আমরা যেন এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছি না—আপনার এই কথার সঙ্গে শতভাগ একমত।
রেলপথের সুবিধাগুলো যখন পুরোপুরি কার্যকর হবে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে, তখন আশা করি আমরা সবাই এই সম্পদের আরও ভালো সদ্ব্যবহার করতে পারব। পোস্টটি কারও কাজে লাগলে তবেই লেখার সার্থকতা! সঙ্গে থাকবেন, শুভকামনা সবসময়।
৩|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮
মেহবুবা বলেছেন: যাতায়াতের ব্যবস্থা সহজতর করা প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশী প্রয়োজন নিরাপদ, মাদক এবং সন্ত্রাসহীন, কক্সবাজারে চলাচলের জন্য ঝুঁকি হীন সুলভ যাতায়ত ব্যবস্থা, বিভিন্ন পেশাজীবীদের দৌরাত্ম্য বর্জিত শান্তিপূর্ণ শান্ত পরিবেশ।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৯
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনি একদম সত্য ও মূল জায়গাটিতে আলো ফেলেছেন। কেবল ট্রেনের মতো সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুললেই একটি পর্যটন কেন্দ্র সম্পূর্ণ হয় না; বরং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, মাদকমুক্ত এবং ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি।
আমাদের কক্সবাজারে এসে পর্যটকদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা স্থানীয় কোনো পেশাজীবী দলের দৌরাত্ম্যের মুখে পড়তে না হয় এবং পরিবার নিয়ে মানুষ যেন সত্যিই একটি শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ উপভোগ করতে পারে—সে বিষয়ে পর্যটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ভ্রমণ তখনই স্বার্থক ও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে, যখন যাতায়াতের সুবিধার সাথে সাথে এই নিরাপত্তাটুকু নিশ্চিত হয়। আপনার এই গুরুত্বপূর্ণ মতামতটির জন্য আবারও ধন্যবাদ। শুভকামনা রইল!
৪|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫১
অধীতি বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। বিষয়টা কাজে লাগবে আমার।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১১
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার সুন্দর ও ইতিবাচক মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ!
লেখাটি এবং বিকল্প পথের এই তথ্যটুকু আপনার বাস্তব জীবনে কাজে আসবে জেনে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগল। আশা করি আপনার আগামী সফরগুলো অনেক বেশি সহজ ও আনন্দদায়ক হবে। শুভকামনা রইল!
৫|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- আমার খুব ইচ্ছে ছিলো ট্রেনে চেপে কক্সবাজার যাবার, বিষয়টা এমন না। তবে মাঝে মাঝেই অনলাইনে ঢুকে চেক করি ট্রেনের টিকেট আছে কিনা দেখার জন্য। কোনো দিনই পাইনি!! বাকিরা যে কিভাবে টিকেট পায় আল্লাহ মালুম!!
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আশা করি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সামনে আসন সংখ্যা আরও বাড়াবে এবং অনলাইন টিকিট ব্যবস্থার সাধারণ যাত্রীদের এই ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। আপনার এই দারুণ এবং প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। শুভকামনা সবসময়!
৬|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমার খুবই কাজে লাগবে । প্রিয় তে রেখে দিলাম ।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫১
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
৭|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৬
শায়মা বলেছেন: নেপালের হিমবাহ প্লাবন, আরজেন্টিনার সমুদ্র সরে যাওয়া, ইন্দোনেশিয়ার ভূমিধ্বস এসব দেখে বাড়িতে বসে থাকতেই আমার আজকাল ভয় লাগে।
কক্সেস বাজারের সমুদ্র আবার কখন তেড়েফুড়ে আসে নাকি একশো মাইল দূরে সরে যায় কে জানে। তখন কি হবে!!!
সত্যি কিন্তু ফান না আজকাল পৃথিবীর রাগ দুঃখ দেখে আমি রিতীমত ভয়ে আছি!
৮|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০২
মেহবুবা বলেছেন: @শায়মা, কিছুদিন আগের ভূমিকম্পের কথা ভুলে গেলে! আমি ভাবছিলাম মারা যাচ্ছি কিনা; তো কোন্ দুয়া পড়তে হবে মনে পড়ছিল না!
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের।
......................................................................
সুন্দর বর্ননা,কক্সবাজার সমুদ্র সব মানুষকে টানে ।
একসময় প্রচুর উন্মুখ থাকতাম কবে যাব বেড়াতে ?
কিন্ত আমরা মানুষরা কক্সবাজার সমুদ্রর যেহাল করেছি তার কোন
উত্তর খুজে পাইনা । ভীষন রাগ হয় পরিবেশ অধিদপ্তর কি করে ?
কেউ কেউ বলে তারা শুধু লা্ইসেন্স বাণিজ্যে ব্যস্ত ।
.............................................................................................................
অথচ ইউরোপ বা অষ্ট্রেলিয়া বা সিঙ্গাপুরের সমুদ্র ভ্রমনে যান মনটা শন্তিিতে ভরে যাবে ।