| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক
একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।
অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায় শতটি বসন্তের স্মৃতি নিয়ে
চোখের কোণে সময়ের রেখা
বুকে জমা হাজার গল্প
আর নীরবতার ভেতর
এক সমুদ্র প্রজ্ঞা।
দুজনের মাঝে
প্রায় শত বছরের দূরত্ব
একজনের হাতে স্মার্টফোন
অন্যজনের হাতে পুরোনো দিনের চিঠি
একজন ভবিষ্যৎ খোঁজে স্ক্রিনের আলোয়
অন্যজন অতীত দেখেন
স্মৃতির ম্লান জানালায়।
তবু কথা যখন শুরু হলো
দূরত্ব কোথায় যেন হারিয়ে গেল!
তরুণ বলল-
আমি ভয় পাই
যদি ভুল করি?
বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন-
ভয় আমিও পেয়েছি একদিন,
কিন্তু পথ তো ভয়কে সঙ্গে নিয়েই হাঁটতে হয়।
একটি ছোট্ট সাহসী পদক্ষেপ
অনেক বড় অন্ধকারকে
পেছনে ফেলে যায়।
তরুণ বলল
আমার অনেক স্বপ্ন।
বৃদ্ধ বললেন
স্বপ্ন ছিল আমারও,
সব পূর্ণ হয়নি
তবু অপূর্ণ স্বপ্নগুলোও
জীবনকে সুন্দর করেছে।
কথা বলতে বলতে
দুই প্রজন্মের দুই তীর
ধীরে ধীরে কাছে এলো;
তারা বুঝল-
সময় বদলায়, প্রযুক্তি বদলায়
মানুষের পোশাক বদলায়
পৃথিবীর ভাষাও বদলায়
কিন্তু মানুষের হৃদয়ের ভাষা
বদলায় না কখনো।
মানুষ আজও চায়-
কেউ তার কথা শুনুক
তার চোখের জল বুঝুক
তার আনন্দে একটু হাসুক
তার একাকিত্বে পাশে বসুক।
তাই তো বৃদ্ধ দিলেন
অভিজ্ঞতার আলো
আর তরুণ ফিরিয়ে দিল
আগামীর রোদ্দুর।
একজন বলল
জীবনকে ভয় পেয়ো না।
অন্যজন বলল-
আগামীকাল এখনো সুন্দর।
এইভাবেই
দুই প্রান্তের দুই মানুষ
একটি অদৃশ্য সেতু বানাল-
যার এক প্রান্তে অতীত
অন্য প্রান্তে ভবিষ্যৎ
আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে
আজকের মানুষ।
হয়তো এটাই জীবনের সত্য
আমরা কেউ একা নই;
কেউ আমাদের আগে হেঁটেছে
কেউ আমাদের পরে হাঁটবে।
বৃদ্ধের স্মৃতি
তরুণের স্বপ্নে মিশে যায়
তরুণের স্বপ্ন
বৃদ্ধের চোখে ফিরিয়ে আনে
হারানো বসন্তের আলো।
তাই আসুন
বয়সের দেয়াল না তুলে
একটু কাছে বসি
একটু মন দিয়ে শুনি
একটু সময় দিই একে অন্যকে।
হয়তো দেখব
যাকে এত দূরের মানুষ ভেবেছিলাম
তার বুকেও আমারই মতো
একটি হৃদয় ধ্বনিত হয়।
আর তখন বুঝব-
শত বছরের ব্যবধানও
মানুষকে আলাদা করতে পারে না
যদি দুটো হৃদয়ের মাঝে
ভালোবাসার একটি সেতু থাকে।
জীবন তাই শুধু
কত বছর বেঁচে থাকার নাম নয়-
জীবন হলো
কত হৃদয় ছুঁয়ে গেলাম
কত মানুষকে সাহস দিলাম
কত অন্ধকারে আলো জ্বাললাম
আর চলে যাওয়ার আগে
কারও মনে রেখে গেলাম
একটুখানি আশার আলো।
একদিন আমরাও হব স্মৃতি
তবু যদি আমাদের কথায়
কোনো তরুণ সাহস পায়
কোনো বৃদ্ধ একাকিত্ব ভুলে হাসেন
তবেই হয়তো
আমাদের বেঁচে থাকাটা
সার্থক হবে।
সামুর পাতায় তেমনি করে আজও
নবীন-প্রবীণের মেলা
নবীনের চোখে আগামীর স্বপ্ন
প্রবীণের স্মৃতির ভেলা।
একজন আনে নতুন দিনের ভাষা
অন্যজন অভিজ্ঞতার আলো
দুজন মিলে শব্দের সেতু গড়ে
সামু হয়ে ওঠে আরও ভালো।
প্রবীণের প্রজ্ঞা নবীনের ডানায়
দেয় উড়বার সাহস
নবীনের প্রাণে প্রবীণ খুঁজে পান
হারানো দিনের সুবাস
এই মেলবন্ধনেই বেঁচে থাকুক সামু
প্রজন্ম পেরিয়ে ভালোবাসায়।
সকলের তরে শুভেচ্ছা রইল ।
বিশেষ দ্রস্টব্য : কবিতাটি গুণী ব্লগার শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান এর লেখা
‘Ripe Age’ এবং নিঃসঙ্গতাবোধ
হতে অনুপ্রানীত তাই কবিতাটি এই গুণী ব্লগারের প্রতি উৎসর্গিত।
২|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৭
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: বাহ্ দারুণ হয়েছে। ভালোলাগা রইলো।
৩|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৩
খায়রুল আহসান বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন। + +
আমার উল্লেখিত পোস্টটি পড়ে কিংবা সংযুক্ত ভিডিও ক্লিপটি দেখে আপনার মনে উদিত ভাবনা ও অনুভূতির সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন এ কবিতাটিতে। তাই কবিতাটি আমার প্রতি উৎসর্গ করেছেন, এজন্য নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি।
অনেক, অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা ...
৪|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০
কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: দারুন হয়েছে
৫|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০১
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আপনার কথায় দেখি আজ
দুই প্রজন্মের হাত,
এক হাতে স্মৃতির প্রদীপ,
অন্য হাতে প্রভাত।
যে পথ পেরিয়ে প্রবীণ এলেন
সময়ের স্রোত বেয়ে,
সে পথেই নবীন হাঁটে
নতুন স্বপ্ন নিয়ে।
অভিজ্ঞতার ছায়াতলে
স্বপ্ন পায় ডানা,
নবীনের হাসিতে ফেরে
হারানো দিনের গানা।
বয়স শুধু সংখ্যামাত্র,
হৃদয় থাকে তরুণ,
মনের দরজা খুললে
দূরত্ব হয় নতুন।
সামুর পাতায় তাই আজ
মিলুক সব কণ্ঠ,
প্রবীণের জ্ঞান হোক
নবীনের পথের দিশা যন্ত্র।
অতীত-আগামীর মাঝে
আজকের সেতু গড়ি,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে থাকাই
হোক বড় পরিচয় ধরি।
৬|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০২
মেহবুবা বলেছেন: এক হাতে স্মৃতির প্রদীপ
অন্য হাতে প্রভাত
নিজের চোখ নতুন করে মেলে ধরবার প্রভাত, নতুনকে চিনে নেবার প্রভাত, নিজেকে প্রকাশের আলোময় প্রভাত।
৭|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪২
সুলাইমান হোসেন বলেছেন: প্রবীনের তো জীবন শেষ,নবীনের কেবল শুরু,
প্রবীনকে তাই মেনে নিতে হবে নবীনের গুরু,
হাজার হাজার অভিজ্ঞতায় টইটুম্বুর প্রবীন,
যেখানে,জীবনের ঝড়-তুফানে অজ্ঞ থাকে নবীন।
নবীনকে তাই নিতে হবে প্রবীন থেকে শিক্ষা,
অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে গ্রহন করো দীক্ষা।
প্রবীনরা যেথায় যেথায় করেছিলে ভুল,
নবীনরাও সেথায় যেন না দেয় মাশুল।
প্রবীনকে মনে কোরো না তুমি সমাজের বোঝা!
প্রবীন থেকে উচিত তোমার,জীবনের শিক্ষা খোঁজা।
সামুর পাতা জ্বলে উঠুর প্রবীনের আলোতে,
নবীনের তখন সহজ হবে জীবন গাড়ি চালাতে।
হে প্রবীন! দাযিত্ব কিন্তু তোমার অনেক কঠিন,
যদিও ক্ষয় হয়েছে জীবনের অনেক প্রোটিন।
প্রবীনের অন্তর এখন তুলোর মত কোমল,
কোমল হৃদয় থেকে বেরোয় ভালো ভালো আমল।
নবীনের দিল যেখানে পাথর সম শক্ত
অধিকাংশ সময় তাহার গরম থাকে রক্ত।
প্রবীনের কাছ থেকে তাই দিল করো নরম,
কেয়ামতের দিনে যাতে না পেতে হয় সরম।
হে নবীন দায়িত্ব কিন্তু তোমার অনেক কঠিন।
প্রবীন থেকে শিক্ষা করো এই জীবনের রুটিন।
প্রবীনকে দাও হৃদয় থেকে অনেক ভালোবাসা,
প্রবীন আলোয় ভরে ফেলো হদয়ের বাসা।
৮|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৮
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: আপনার এই কবিতাটা পড়ে আমার খুব প্রিয় দুই শিল্পীর দুটি গান মনে পরে গেলো -
সুমনের - চালশের গান
আজকে যে বেপরোয়া বিচ্ছু
শান্ত সুবোধ হবে কাল সে
চোখের সঙ্গী হবে চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে
আজকে যে আড্ডায় মশগুল
নির্বান্ধব হবে কাল সে
হরিহর আত্মা শুধু চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে
আজকে যে শিস দিয়ে গান গায়
কোন গান শুনবে হে কাল সে
চোখ থেকে খুলে নিয়ে চশমা
ভুলে গিয়ে চোখে আছে চালশে
আজকে যে দল বেঁধে দীঘা যায়
নিরালা সফরে যাবে কাল সে
সফর সঙ্গী শুধু চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে
আজকে যে প্রেমে পড়ে উন্মাদ
ঘোর সংসারী হবে কাল সে
শয্যা সঙ্গী শুধু চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে
আজকে যে শিস দিয়ে গান গায়
কোন গান শুনবে হে কাল সে
চোখ থেকে খুলে নেবে চশমা
ভুলে যাবে চোখে আছে চালশে
আজকে যে চুল রাখে বাবরি
লুকোবে চাঁদির টাক কাল সে
কি করে লুকোবে তার চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে
আজকে যে সারাদিন টই টই
ঘরকুনো হয়ে যাবে কাল সে
কাগজ পড়বে পরে চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে
আজকে যে শিস দিয়ে গান গায়
কোন গান শুনবে হে কাল সে
চোখ থেকে খুলে নেবে চশমা
ভুলে যাবে চোখে আছে চালশে
আজকে যে খুব জলজ্যান্ত
অ্যালবাম এ ঠাই পাবে কাল সে
ফটোগ্রাফ এর চোখে চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে
আজকে যে মুখে মারে বিশ্ব
চুপচাপ হয়ে যাবে কাল সে
ভাগ্যহীনের চোখে চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে
আজকে যে শিস দিয়ে গান গায়
কোন গান শুনবে হে কাল সে
চোখ থেকে খুলে নেবে চশমা
ভুলে যাবে চোখে আছে চালশে
আজকে যে প্রতিবাদী কন্ঠ
সর্বংসহা হবে কাল সে
সয়ে যাবে অসহ্য চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে
অথবা যে আজ নি:শব্দ
স্বশব্দে ফেটে যাবে কাল সে
ভূলে যাবে চোখে আছে চশমা
ভূলে যাবে চোখে আছে চালশে
আজকে যে শিস দিয়ে গান গায়
যেন গান গেয়ে ওঠে কাল সে
চোখ থেকে খুলে নিয়ে চশমা
মন থেকে মুছে দিয়ে চালশে
কাল সে।।
আর
অঞ্জন দত্তের - ক্যালসিয়াম
ডাক্তার বলছে ক্যালসিয়ামটা কম
টিউটর বলছে অংকটা কমজোরি
ছোটকা বলছে ধুচ্ছাই নেই তোর দম
ঠাম্মা বলছে আচার গেছে চুরি
পিসি বলছে বখে গ্যাছে হিন্দি ছবি দেখে
দিদি বলছে ভীষণ আন্সমার্ট
দাদু বলছে সময়টাই গোলমেলে করবে কি
জ্যাঠা বলছে প্যাঁদিয়ে উলকাঠ
ছাঁদের পাচিল বলছে আয়
ছুটে আয় খালি পায়
আকাশ বলছে গলা খুলে গা
দুপুর বলছে কান্না পেলে
ছাঁদে উঠে গিয়ে
সবাই যা বলছে ভুলে যা
জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম ব্যাম ব্যাম ব্যাম (২)
মা বলছে, মা বলছে দুধটা একদম মুখেই তুলছেনা
হরলিক্স বলছে এমনি এমনি খাও
অ্যান্টি বলছে আগে এতো কেয়ারলেস ছিল না
বাবা বলছে জাহান্নামে যাও।
পাশের বাড়ির বৌদি বলছে আঁকার স্কুলে দিন না
মামা বলছে স্পোকেন ইংলিশ উইক
দাদু বলছে সময়টাই গোলমেলে করবে কি
জ্যাঠা বলছে প্যাঁদালেই সব ঠিক
ছাঁদের পাচিল বলছে আয়
ছুটে আয় খালি পায়
আকাশ বলছে গলা খুলে গা
দুপুর বলছে কান্না পেলে
ছাঁদে উঠে গিয়ে
সবাই যা বলছে ভুলে যা
জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম ব্যাম ব্যাম ব্যাম (২)
সুমন বলছে পারো যদি অন্য ছবি এঁকো
টিনটিন বলছে চল এন্টার্কটিকা
টিভি বলছে বলো আই অ্যাম অ্যা কমপ্লেন বয়
অঞ্জন বলছে টিভি দেখো না
তোপসেটাই বা কেন লেখা বন্ধ করে দিলো
ফেলুদা কিছুই বলছে না
দাদু বলছে সময়টা গোলমেলে করবে কি?
জ্যাঠা বলছে প্যাঁদালেই সোজা
ছাঁদের পাচিল বলছে আয়
ছুটে আয় খালি পায়
আকাশ বলছে গলা খুলে গা
দুপুর বলছে কান্না পেলে
ছাঁদে উঠে গিয়ে
সবাই যা বলছে ভুলে যা
জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম ব্যাম ব্যাম ব্যাম
৯|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৩
শায়মা বলেছেন: ছবিতে একটা খায়রুলভাইয়ার ছবি দিতে হত আর আরেকদিকে নবীনের কার ছবি যে দেওয়া যায়!!! কোনো নবীনই তো দেখছিনা আর এখানে .......
আর মাঝখানে নদী আর তাতে একটা নৌকা সেই নৌকায় আমরা কেউ কেউ ....... ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:০৩
কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: অনেক সুন্দর হয়েছে! আপনি এতো ব্যস্ততার মাঝেও এতো সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেন! সবদিক সামলান কিভাবে ~অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।