| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু
লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।
বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে। যেমনটা আমরা দেখি লক্ষ্মীপুরের ক্ষেত্রে; যেখানে সুপারির বাম্পার ফলন আর জমজমাট বেচাকেনায় পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিতে এখন বইছে সুদিনের হাওয়া।
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শুধু লক্ষ্মীপুর জেলাতেই প্রায় ৭১০ কোটি টাকার সুপারি কেনাবেচা হওয়ার কথা রয়েছে। শহরের উত্তর তেহমনী বাজার থেকে শুরু করে রায়পুরের হায়দাগঞ্জ কিংবা লক্ষ্মীপুর সদরের দালাল বাজার—আজ সবখানেই সুপারি ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। পাকা, ভেজানো ও শুকনা—এই তিন কায়দায় সুপারি প্রক্রিয়াজাত করে দেশের নানা প্রান্তে পাঠানো হয়। এই মৌসুমে শুধু বাগানমালিক বা ব্যবসায়ীরাই লাভবান হচ্ছেন না, গাছ থেকে সুপারি পেড়ে রুবেল হোসেনের মতো অনেক শ্রমিকেরও দৈনিক আয় হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। প্রায় ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ আর দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ফলন পাওয়ার নিশ্চয়তা এ অঞ্চলের কৃষকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
লক্ষ্মীপুরের সুপারি কিংবা রায়পুর-সদর অঞ্চলের এই অর্থনৈতিক সাফল্য আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এমন নিজস্ব ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্যভিত্তিক সম্পদ রয়েছে। যেমন—বাগেরহাট অঞ্চলে প্রচুর নারকেল উৎপন্ন হয়; অন্যদিকে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা ও যশোরজুড়ে রয়েছে সাদা সোনাখ্যাত চিংড়ি চাষের বিশাল সাম্রাজ্য। আবার বরিশাল বিভাগে গেলে দেখা মিলবে খালের পর খাল থোকা থোকা পেয়ারার বাগান।
এই স্থানীয় ফল, ফসল ও মৎস্য সম্পদগুলোকে যদি যথাযথভাবে ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাত করা যায়, তবে তা আমাদের স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশাল মূল্য সংযোজন (Value Addition) ঘটাতে পারে। সরকারের পক্ষে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সরকারি চাকরি সৃষ্টি করা শতভাগ সম্ভব নয়। কিন্তু এই বিশাল কৃষি ও গ্রামীণ খাতকে যদি আধুনিকায়ন করা যায়, তবে সেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ও সঠিক পরিকল্পনা, সনাতন পদ্ধতির বদলে আধুনিক চাষাবাদ এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার। একই সাথে কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত পণ্যের আধুনিক সংরক্ষণাগার, সহজ বাজারজাতকরণ এবং তাদের নায্যমূল্য নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। সরকারকে এখন এ বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্পায়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে না পারলে আমাদের টেকসই উন্নয়ন অধরাই থেকে যাবে। লক্ষ্মীপুরের সুপারি আজ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—সঠিক নীতি ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের মাটি ও প্রভাবেই লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক মুক্তির চাবিকাঠি।
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৬
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
লক্ষ্মীপুরের সুপারির উদাহরণ দিয়ে স্থানীয় কৃষিসম্পদকে আধুনিকায়ন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির যে বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী।