| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রামানিক
শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র দৈনিক পত্রিকা, প্রকাশক সম্পাদক ছিলেন মওলানা আকরাম খাঁ। এই পত্রিকা প্রকাশ করার পর থেকে ব্রিটিশ বিরোধী লেখার কারণে মওলানা আকরাম খাঁকে ব্রিটিশ সরকার বহুবার জেলে ঢুকিয়েছেন। সাতচল্লিশ সালে ভারত ভাগ হওয়ার পর পত্রিকাটি পুরোপুরি কোলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। সুস্থ্য থাকা অবস্থায় আজাদ পত্রিকায় বিদ্রোহী কবি কাজী নাজরুল ইসলামও এই পত্রিকায় লেখালেখিসহ সম্পাদকীয়র কাজ করতেন।
দৈনিক দেশ পত্রিকাটি ছিল জিয়উর রহমানের নিজের হাতে প্রতিষ্ঠিত। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর এক সময় এই পত্রিকাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলার এমপি এবং মন্ত্রী কাশেম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক মাঈদুল ইসলামকে। আমি যখন অষ্টাশিতে দেশ পত্রিকায় জয়েন করি তখন জিএম ছিলেন এ কে এ ফিরোজ নুন। তিনি একদিন কিছু হাতে লেখা কাগজ পত্র এনে আমার হাতে দিয়ে বললেন, জিয়াউর রহমানের উপর একটা বই প্রকাশ হবে এ কাজটা আপনাকে করতে হবে। আমি বল্লাম, আমি তো পত্রিকা ছাড়া বই প্রকাশের কাজ কখনো করি নাই। উনি বললেন যে কাজ কখনো করেন নাই সেটাই করতে হবে আপনার মেধা আছে আপনি পারবেন। আগামী কাল থেকেই শুরু করে দেন।
সম্ভাবত ১৯৮৯ইং সালের মার্চের শেষ সপ্তাহে বইয়ের পান্ডুলিপি আমার হাতে দিয়েছিলেন। পাকিস্তান আমলে যেমন শেখ মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা এবং দুর্বলতা ছিল তেমনি ১৯৭৪ সালের অভাবের যাতাকলে পরে সেই দুর্বলতায় অনেকটা ভাটা পড়ে যায়। কিন্তু ১৯৭৫-এর পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করার সাথে সাথেই ধান চালের দাম অর্ধেকেরও নিচে নেমে এলো তখন থেকে জিয়াউর রহমানের উপর শ্রদ্ধাবোধটা অটোমেটিকেলি বেড়ে গিয়েছিল। কাজেই জিয়াউর রহমানের উপর লেখা বইয়ের কাজ করতে নিজের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ মনে হলেও না করতে পারলাম না।
পত্রিকায় তখন উনিশ জন কম্পিউটার অপারেটর কাজ করতো। পত্রিকার কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাদের দিয়ে পাঁচ ছয় দিনের মধ্যেই কম্পোজের পুরো কাজ শেষ করে দিলাম। ছাপা বাইন্ডিংসহ আরো পনরো দিন সময় লাগল। প্রকাশনা উৎসবের দিন বিএনপির অনেক বড় বড় প্রাক্তন নেতা মন্ত্রী এমপি এসেছিলেন। রাত দিন পরিশ্রম করে বইটি প্রকাশ করার পর বইয়ের প্রথম পাতায় ”বই প্রসঙ্গে দু’টি কথা” লেখাটি পড়ে নিজের নামটি দেখে সব পরিশ্রম ভুলে গেলাম।
(আমি মনে করেছিলাম বইটি হারিয়ে গিয়েছে। অনেক খুঁজেও বইটি পাচ্ছিলাম না, ৩৭ বছরের পুরানো বই আজ সকালে পুরাতন বইয়ের গাদার মধ্যে খুঁজে পেয়ে মনে হচ্ছে যেন হারানো মানিক ফিরে পেয়েছি। তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।)

১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৪৯
প্রামানিক বলেছেন: ধন্যবাদ আলমগীর সরকার লিটন। মন্তব্যে খুশি হলাম
২|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জিয়াউর রহমান কে নতুন জেনারেশন খুবই কম জানে । তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের সব মেডিকেল কলেজে জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবারকে নিয়ে লেখা লাইব্রেরীতে রাখতে হবে। আশা করি আপনার সম্পাদিত বইটি সেখানে স্থান পাবে ।
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৫১
প্রামানিক বলেছেন: জিয়াউর রহমান সত্যিকার অর্থেই একজন সৎ ছিলেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও তিনি সিং মাছ আর ডাল দিয়ে ভাত খেতেন। রাষ্ট্রের টাকায় অতিরিক্ত কোন খরচ করতেন না।
৩|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০৮
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: জিয়াউর রহমান ছিলেন দরকারী সময়ে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত দরকারী একজন মানুষ।
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৫৩
প্রামানিক বলেছেন: ঠিক বলেছেন ঐ মুহুর্তে জিয়ার মতো সরকার না আসলে দেশটা দেউলিয়া হওয়ার অবস্থা হয়েছিল।
৪|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৮
মেঠোপথ২৩ বলেছেন: বইটা আপনি আবার প্রকাশ করুন। নতুন প্রজন্ম আরো বেশি করে জানুক এই দেশপ্রেমিক প্রেসিডেন্টকে। এই দেশে সুশাষনের ছিটেফোটা জিয়ার আমল, ১/১১ পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল ও ডক্টর ইউনুসের ইন্টারিম সরকারের আমলেই যা একটু দেখেছে। ডক্টর ইউনুস অবস্য প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেন নাই বহুমাত্রিক ষঢ়যন্ত্রের কারনে।
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৫৬
প্রামানিক বলেছেন: ডক্টর ইউনুস ভালো করতে পারতেন কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল তাকে বিভিন্ন আন্দোলনের যাতাকলে ফেলে কাজই করতে দেয় নাই। যতদিন ছিল ততদিন তাকে শুধু আন্দোলন ঠেকাতেই সময় ব্যায় করতে হয়েছে।
৫|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০৫
মাথা পাগলা বলেছেন: শেখ মুজিব হত্যাকান্ডে জিয়ার কি কোন ভূমিকা ছিল, আর সেই হত্যাকান্ডের ফলে দেশের কি উন্নতি হয়েছিল? শুধুমাত্র চালের দাম অর্ধেক হওয়াতে জিয়ার প্রতি আপনার শ্রদ্ধা বেড়ে গিয়েছিল? ৭৪'-এ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ কি ছিল?
বইটা নতুন করে ছাপাতে পারেন, আশা করি নতুন প্রজন্ম অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবে।
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৪৮
প্রামানিক বলেছেন: ধন্যবাদ মাথা পাগলা ভাই, জিয়ার প্রতি যে শুধু আমার শ্রদ্ধা বেড়ে গিয়েছিল তা নয় আওয়ামী নেতা নেত্রী ছাড়া সারা বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই একটা স্বস্তিরভাব ফিরে এসেছিল। ’৭৪ সালের অভাবের অনেকগুলো কারণ ছিল। পর পর তিনবার অতি বন্যার কারণে কৃষকদের ঘরে কোন চাল ডাল ছিল না তারোপর কিছু অসাধু আওয়ামী নেতা বিদেশের সাহায্যগুলো আত্মসাত করে ভারতে পাচার করে দিত যার ফলে দেশে ভয়াবহ আকাল শুরু হয়। আমাদের বাড়িতে দুইবার চুরি একবার ডাকাতি হওয়ার কারণে আমরাও খাদ্য সঙ্কটে পড়েছিলাম। অভাবের কারণে মানুষের কোন কাজকর্ম ছিল না কারণ কৃষকের ঘরেই খাবার নাই সে আবার অন্যকে কি সাহায্য করবে। ’৭৫ এর পট পরিবর্তনের সাথে সাথেই নেতারা সব পালিয়ে ভারত চলে গেল, আর্মিদের পেটনের ভয়ে চুরি ডাকাতি বন্ধ হয়ে গেল সেই সাথে প্রচুর বিদেশি সাহয্য সুশৃঙ্খলভাবে আর্মিদের মাধ্যমে বন্টন হওয়ায় দ্রুত চাল ডালের দাম কমে যায়। বিস্তারিত লিখতে গেলে অনেক লিখতে হয় মন্তব্যে এতো লেখা সম্ভব নয়।
৬|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
বইটির কোন পিডিএফ কপি অনালাইনে পেলাম, গুরু।
প্রকাশক হিসেবে তাতে আপনার নাম লেখা। 
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫
আলমগীর সরকার লিটন বলেছেন: বাহ সুন্দর মানিকে মানিক চিনে প্রামানিক দা ভাল থাকবেন