নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“Blogger | Law Student | Human Rights Activist”

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু

লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু › বিস্তারিত পোস্টঃ

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে তাণ্ডব চালানো হলো—তা কোনো দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রীর আচরণের সাথে কোনোভাবেই মেলে না। ভিডিওতে যেভাবে সাধারণ মানুষকে লাথি মারা, ‘একেবারে গুলি করে দেব’ বলে হুমকি দেওয়া এবং খোদ প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে ‘ধর ধর’ বলে চিৎকার করতে দেখা গেছে, তা কেবল আইনি ব্যত্যয়ই ঘটায়নি, বরং খোদ সরকার ও ক্ষমতাসীন দলকে চরম অস্বস্তির মুখে ফেলে দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন করে এমনভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়াটাই ছিল সময়ের স্বাভাবিক দাবি। এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে মিরপুরের ঘটনার দায়ে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। মিষ্টির পদত্যাগের আড়াই সপ্তাহের মাথায় ইশরাকের এই বিদায় স্পষ্ট করে দেয় যে, দলীয় বা সরকারি শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে হাইকমান্ড আর কোনো রাজনৈতিক ছাড় দিতে রাজি নয়।

তবে পদত্যাগের ঘোষণার পর ইশরাকের ফেসবুক পোস্টটি কিন্তু বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ। সেখানে তিনি নিজেকে একজন 'বিএনপি কর্মী' হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করার কথা বলেছেন, 'সুশীল' সমাজকে তোপ দেগেছেন এবং দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধির দোহাই দিয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন, কিন্তু রাজনৈতিক ময়দানের অন্তরালে কি অন্য কোনো হিসেব-নিকাশ কষা হচ্ছে?

আমার পর্যবেক্ষণ বলছে, এই পদত্যাগ ইশরাকের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং এটি হতে পারে একটি নতুন কৌশলী চাল! সামনেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের লড়াই। সেখানে জামায়াত অলরেডি সাদিক কায়েমকে মাঠে নামিয়েছে এবং এনসিপি থেকে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর মতো তরুণ মুখগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত। ঢাকা দক্ষিণ কিন্তু ঐতিহ্যগতভাবেই এক বিশাল ও জটিল রাজনৈতিক পরাশক্তি। এখানে সাদিক কায়েম বা নাসির পাটোয়ারীর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে বিএনপিকে এমন একজনকে দাঁড় করাতে হবে, যার মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা যেমন আছে, তেমনই এক ধরনের 'রাফ অ্যান্ড টাফ' বা মারমুখী নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতাও রয়েছে।

ইশরাক হোসেনের পারিবারিক ঐতিহ্য, ঢাকা দক্ষিণে তাঁর নিজস্ব বলয় এবং রাজপথের অকুতোভয় ভাবমূর্তি—সব মিলিয়ে জাতীয়তাবাদী শিবিরের জন্য তিনি কিন্তু বেশ শক্ত এক বাজি হতে পারেন। মন্ত্রিসভার পদ হারিয়ে তিনি হয়তো সচিবালয়ের প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হলেন, কিন্তু এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ ঢাকার রাজপথে যদি তাঁকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে নামিয়ে দেওয়া হয়, তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—আইনি ঝক্কি আর বিতর্ক সামলে ইশরাক কি সত্যি নিজেকে ঢাকা দক্ষিণের নগর ভবনের দৌড়ে প্রধান মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন, নাকি ভুল রাজনীতির মাশুল গুনে মাঠের সাধারণ কর্মী হয়েই তাকে দিন কাটাতে হবে? উত্তরটা হয়তো সময়ের গর্ভেই লুকিয়ে আছে, তবে ঢাকার রাজপথের এই নতুন খেলা যে জমজমাট হতে চলেছে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়!

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: রাজনীতির মাঠে মাথা গরম করলে হেরে যেতে হয় ।
.................................................................................
প্রতিমন্ত্রী তরুন হলে ও তাহার এই ফাঁদে পা রাখা উচিৎ হয় নাই ।
তার প্রতিপক্ষরা এবার তীর মেরে সাফল্য ঘরে তুলে নিয়েছেন ।

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: পুরান ঢাকায় বিএনপির শক্ত কোনো নেতা নেই। মির্জা আব্বাস এর বয়স হয়েছে এবং তিনি অসুস্থ। ইসহাক সরকার এনসিপিতে। সংগঠন করা এবং কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার মতো নেতা সেখানে দৃশ্যমান নেই। ইশরাক হঠাৎ করে এরকম একশন হিরো হয়ে গেলেন কেনো? যেদিন পিএম নিজেই রাস্তায় নেমেছেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একাউটিবিলিটি নিশ্চিত করার তাগিত দিচ্ছেন। কারন একটাই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইশরাক এর কিছু বাধ্যবাধকতা আছে কিন্তু বিএনপি নেতা হিসেবে তা নেই। যদি ইশরাককে ঢাকা দক্ষিনে বিএনপি মেয়র প্রার্থী করে তাহলে সাদিক কায়েম বা নাসির উদ্দিন যে সহজে এলাকায় দাড়াতে পারবে না এটা তার সিগনাল।

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

২| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

নতুন বলেছেন: দুই জন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আপনার মুল্যায়ন কি?

এটা কি সোঅফ না কি ভালো কিছুর লক্ষন?

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: পিএম তারেক রহমান সাহেব দেশবাসী এবং তার দলকে এটা বুঝাতে চাইছেন তিনি কোনো অন্যায় বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দিবেন না। অন্যায়-অনিয়ম করলে সে যেই হোক তাকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে। সে ব্যক্তি সাবেক ছাত্রদল সভাপতি নাসির উদ্দিন পিন্টুর বোন মিষ্টি হোক বা ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোক। তবে পলিটিক্স কখনও সরল পথে যায় না। ইশরাকের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তার পিছনে ঢাকার সিটি কর্পোরেশন ইলেকশনকে মাধায় রেখে করা হয়েছে বলে আমার ধারনা।

৩| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মেয়র হবেন আশা করি। কথিত আছে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙতে বুলডোজার সাপোর্ট দিয়েছিলেন ভাইয়া । উল্টাপাল্টা কাজ করে বসেন মাঝে সাঝে । :) ।

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৪

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: ইশরাকের একশন দেখে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর প্যান্ট নষ্ট হওয়া শুরু করে দিয়েছে সম্ভবত।

৪| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০৮

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:



রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতার চেয়ে আইন মেনে চলা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের রাজনৈতিক প্রভাব ও ঢাকা দক্ষিণের ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে আপনার বিশ্লেষণটি বেশ চিন্তাশীল।

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৫| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

নতুন বলেছেন: লেখক বলেছেন: পিএম তারেক রহমান সাহেব দেশবাসী এবং তার দলকে এটা বুঝাতে চাইছেন তিনি কোনো অন্যায় বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দিবেন না। অন্যায়-অনিয়ম করলে সে যেই হোক তাকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে। সে ব্যক্তি সাবেক ছাত্রদল সভাপতি নাসির উদ্দিন পিন্টুর বোন মিষ্টি হোক বা ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোক। তবে পলিটিক্স কখনও সরল পথে যায় না। ইশরাকের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তার পিছনে ঢাকার সিটি কর্পোরেশন ইলেকশনকে মাধায় রেখে করা হয়েছে বলে আমার ধারনা।

পিএম তারেক রহমান যদি সেটা করতে পারে তবে তো ভালো। না হইলে বিএনপির নেতারাই তারে ডুবাবে।

রবিন্দ্রনাথের ছবিতে কালি, ধর্মঅবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার ফলে এমন কাজের জজবা কমবে আশা করি।

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: পিএম তারেক রহমানকে আমরা বর্তমান সময়ে যেমন দেখছি উনি কি তেমন ছিলেন পূর্বে? অনেক বদলেছেন সময়ের সাথে। তিনি জানেন কখন কি করতে হবে। আমার ধারনা যত সময় যাবে, বিএনপি সরকার ধীরে ধীরে কঠোর অবস্থান নিবে।

৬| ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৪৪

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: লোকটা একটু শোডাউন করতে চেয়েছিলো- কিন্তু আপনারা তাকে আর শান্তিতে থাকতে দিলেন না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.