| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহিউদ্দিন হায়দার
শব্দে আমার আশ্রয়, লেখায় আমার মুক্তি। এখানে আমি লিখি, ভেবে দেখি, আর খুঁজি মানুষের মনের গল্প।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, ছিল জাতির নৈতিক বোধের ওপর নির্মম আঘাত। একজন জাতীয় নেতার শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে একটি দলের নেত্রীর তথাকথিত জন্মদিন পালন ছিল ঠিক তেমনই এক অন্ধকার ও লজ্জাজনক অধ্যায়।
যে দিনে পুরো জাতি শোকাহত, যে দিনে ইতিহাস রক্ত, কান্না আর বেদনার স্মৃতি বহন করে, সেই দিনটিকেই ইচ্ছাকৃতভাবে আনন্দ-উৎসবের দিনে পরিণত করা কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক আচরণ নয়। এটি ছিল প্রতিপক্ষকে কষ্ট দেওয়ার বিকৃত মানসিকতা, শোককে অপমান করার এক নগ্ন রাজনৈতিক প্রদর্শনী।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই তথাকথিত জন্মদিন নিয়ে বছরের পর বছর যে বিতর্ক, অসঙ্গতি এবং প্রশ্ন ছিল, সেগুলোকে উপেক্ষা করেই সেটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতীকে পরিণত করা হয়েছিল। যেন উদ্দেশ্য একটাই, “তোমাদের শোকের দিনেও আমরা বিদ্রূপ করবো।”
সেই দিন থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এক বিষাক্ত সংস্কৃতি। প্রতিপক্ষ আর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলো না, তারা পরিণত হলো ঘৃণার বস্তুতে। মানবিকতা হারিয়ে গেল দলীয় উন্মাদনার নিচে। আর আজ যখন আমরা দেখি কারও মৃত্যুতে উল্লাস, কারও বিপর্যয়ে বিদ্রূপ, তখন অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এই নোংরা রাজনীতির বীজ বহু আগেই বপন করা হয়েছিল।
একটি জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতি তখনই ভয়ংকর হয়ে ওঠে, যখন শোকের প্রতিও ন্যূনতম সম্মান থাকে না। যে রাজনীতি মানুষের মৃত্যু, বেদনা এবং জাতীয় ট্র্যাজেডিকেও প্রতিশোধের অস্ত্র বানায়, সেই রাজনীতি কখনো সভ্য হতে পারে না।
ইতিহাস সবকিছু মনে রাখে। ক্ষমতার উল্লাস একদিন শেষ হয়, কিন্তু শোককে উপহাস করার দাগ ইতিহাসের পাতায় চিরকাল থেকে যায়।
১৭ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৫০
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: ঠিক সেই অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথাই তো বলেছি। শোকের দিনকে প্রতিহিংসার মঞ্চ বানানো কখনোই সুস্থ রাজনীতির অংশ হতে পারে না। ব্যক্তি বা দল বদলালেও এই মানসিকতার কারণে পুরো জাতিই মানবিকতা হারিয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু শোককে বিদ্রূপে পরিণত করা কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় নয়।
২|
১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ৮:০৩
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
২০২৪ এর তথাকথিত বিপ্লবীরা কোটা সংস্কারের নামে বিদেশের দালালী করে দেশের সর্বনাশ করেছে।
সেই থেকে আমরা জানলাম যে কেউ মারা গেলেও আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করতে হয়।
এই নষ্ট মানুষগুলো দেশে নষ্টামী আমদানি করেছে।
১৭ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৫২
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয় তখনই, যখন মানুষের মৃত্যু, দুর্যোগ কিংবা রক্তপাতও দলীয় উল্লাসের উপাদান হয়ে যায়।
কোনো নির্দিষ্ট প্রজন্ম বা গোষ্ঠী একদিনে এই সংস্কৃতি তৈরি করেনি, বরং দীর্ঘদিনের প্রতিহিংসাপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চাই আমাদের এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। আজ প্রয়োজন ঘৃণাকে আরও ছড়ানো নয়, বরং এই অমানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে দাঁড়ানো।
৩|
১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: “তোমাদের শোকের দিনেও আমরা বিদ্রূপ করবো।”
................................................................................
আমরা দিনে দিনে অমানুষ হয়ে যাচ্ছি,
আমাদের ঈমান নষ্ট হয়েছে, কিন্ত ভাব দেখাই
আমাদের মতো সাচ্চা মুসলমান আর কেউ হয়না ।
১৭ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: ঠিক বলেছেন।
যখন মানুষের মৃত্যু, শোক আর বেদনার মধ্যেও আমরা প্রতিপক্ষ খুঁজি, তখন বুঝতে হবে আমাদের ভেতরের মানবিকতা ভয়ংকরভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছে। ধর্ম শুধু মুখের বুলি বা বাহ্যিক পরিচয়ে নয়, মানুষের কষ্টকে সম্মান করার মধ্যেও প্রকাশ পায়। রাজনৈতিক বিদ্বেষ যদি আমাদের সহমর্মিতা পর্যন্ত কেড়ে নেয়, তাহলে সেটা শুধু রাজনীতির নয়, সমাজেরও নৈতিক বিপর্যয়।
৪|
১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১:১৩
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত যাবতীয় স্থাপনা ও ভাস্কর্য ধূলিস্যাৎ করার অসংখ্য ঘটনাবলী কি মানুষের চোখে পড়েনি?
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বাড়াবাড়ি হয়েছে। অতিব্যবহার, অপব্যবহার হয়েছে। এমনকি একে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কাজেও ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু এটা কি খোদ চেতনার দোষ? চেতনা কি তার উপযোগিতা হারিয়ে ফেলেছে? নাকি দোষ/দায়ভার চেতনার অপব্যবহারকারীদের?
তাহলে কোরান হাদীসের অপব্যবহার করে তৌহিদী জনতার নামে মববাজি করলে দোষ কোরান হাদিসের নাকি তৌহিদী জনতা নামধারী অমানুষগুলোর? তখন অমানুষ গুলোর বিচারের ব্যবস্থা করতে যাওয়া যুক্তিযুক্ত নাকি কোরান হাদিস ছুড়ে ফেলে দেয়া (নাউজুবিল্লাহ)? তাহলে অস্ত্রোপচারের ছুড়ি মানব হত্যার কাজে ব্যবহৃত হলে, মানব হত্যাকারীর বিচারের ব্যবস্থা না করে ছুরিটাই নর্দমায় ফেলে দিলে কেমন হয়?
লীগ সমর্থন করে না, লীগের ধারও ধারে না এমনকি কোনো রাজনৈতিক দলেরটা খায় না, পরেও না কিন্তু ৪৭ থেকে ধাপে ধাপে পরিপক্ব হওয়া বাঙ্গালী জাতিসত্তার পরিচয় আর পরিশেষে ৭১ এ বাংলাদেশ নামক দেশের অভ্যুদয়ে “বাংলাদেশী” নামক যে পরিচয়ের অর্জন, তা নিয়ে এই বৃহৎ জনগোষ্টির কোনো সন্দেহ নেই।
জুlie যোদ্ধার মৃত্যুতে কিছু মানুষের উল্লাস দেখে কি কষ্ট হয়? মানুষের এরকম ব্যক্তিগত পর্যায়ের প্রতিহিংসা দেখে আবেগাক্রান্ত হন? তাহলে একটা দল করার জন্য মাশরাফির ব্যাক্তিগত বসতবাড়ি ও তার সারাজীবনের অর্জন যেমন: শৈশব থেকে ক্রিকেট খেলা ছাড়া পর্যন্ত খেলাধুলা থেকে পাওয়া যাবতীয় পুরস্কার ও স্বারক সমূহ যে পুড়িয়ে দেয়া হলো তখন সেখানকার উন্মত্ত জনতার উল্লাসে আমাদের কি অনুভূতি ছিলো? ওদের উন্মত্ততা কি আমাদের আনন্দ দিয়েছিলো? নাকি কষ্ট?
লীগের ১৭ বছরে যদি বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়ে থাকে তবে সেই সংস্কৃতির লিগেসি তো তথাকথিত জুlie আন্দোলনের যোদ্ধারাই continue করলো। ফ্যাসিস্টের তকমা দিয়ে লীগের নেতা কর্মীর ব্যক্তিগত সম্পদ ও সম্পত্তিতে আগুন দিলে আন্দোলনের spirit আর কোনোভাবেই একটা গ্রহণযোগ্য গণমুখী আন্দোলনের পর্যায়ে থাকে না। ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেমে আসে।
ফ্যাসিস্টের তকমা লাগিয়ে যখন লীগের নেতা কর্মীর চলমান ফ্যাক্টরিতে (যেমন: গাজী টায়ার, বেক্সিমকোর ইয়েলো) আগুন দেয়া হয় তখন ওই ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ধর্ম বর্ণ মত নির্বিশেষে সকল কর্মীর রিজিক নষ্ট হয়। ক্ষতিটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে আসে।
জনমুখী ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনের নামে বিচার ছাড়াই শাস্তির কার্যকর করে আলু পোড়া খাওয়ার এই সকল আয়োজন, ভুক্তভোগী ও সংক্ষুব্ধ মানুষের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসারই জন্ম দেয়, পরবর্তী এরকম আরেকটি অন্যায় ঘটার ক্ষেত্র তৈরি করে। মানুষের মাঝে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারমুখী হওয়ার তাড়না মৃত্যুবরণ করে।
এই যে গণভবন আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (যা জনগণের করের টাকায় গড়া রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি) ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলো, জিনিসপত্র লুটপাট করা হলো এতে শেষ বিচারে ক্ষতি কার? ভার৭ত, পাকি২স্তান নাকি অন্য কোনো তৃতীয় দেশের? খোলা ময়দানে, জনসম্মুখে, স্বপরিবারে লুটতরাজে অংশ নিয়ে লুণ্ঠিত দ্রব্যাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারনা করে যে বার্তা দেয়া হয়েছিলো তা সংশ্লিষ্ট পরিবার সম্বন্ধে কি ভাবমূর্তি তৈরি করে? কোনো সামগ্রিক ইতিবাচক বার্তা দেয়,? নাকি নিকট ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আরও অসংখ্য বিচারহীন, নৈরাজ্যময় পরিস্থিতি/ঘটনা তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে?
১৭ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: আপনার বক্তব্যের অনেক জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ সত্য ও আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয় দিক আছে। কোনো আদর্শ, চেতনা বা ইতিহাস নিজে কখনো অপরাধী নয়, অপরাধ করে মানুষ; আর অপব্যবহার করে ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হোক কিংবা ধর্মীয় অনুভূতি, এগুলোকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো হলে শেষ পর্যন্ত সমাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আমি মূলত যে বিষয়টি বলতে চেয়েছি তা হলো, প্রতিহিংসাকে যখন রাজনীতির বৈধ ভাষা বানানো হয়, তখন সেই আগুন একসময় সব পক্ষকেই পুড়িয়ে দেয়। শোকের দিনে উল্লাস, প্রতিপক্ষের ক্ষতিতে আনন্দ, বিচারহীন আক্রমণ কিংবা জনরোষের নামে ব্যক্তিগত সম্পদ ধ্বংস করা, কোনোটাই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।
আপনি যেসব উদাহরণ দিয়েছেন, সেগুলোও একই অসুস্থ ধারাবাহিকতার অংশ। রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজ যখন ন্যায়বিচারের জায়গা হারায়, তখন মানুষ ধীরে ধীরে আইনের ওপর আস্থা হারিয়ে প্রতিশোধকেই ন্যায়বিচার ভাবতে শুরু করে। আর সেটাই সবচেয়ে ভয়ংকর সংকেত।
সভ্য সমাজে অপরাধের বিচার হবে আদালতে, জনতার উল্লাসে নয়।
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩
রাজীব নুর বলেছেন: শোকের দিনে উল্লাস এটা তো নতুন কিছু না আমাদের দেশে।
শেখ মুজিবের মৃত্যু বার্ষীকিতে, খালেদা জিয়া কেক কাটতেন।