| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
৭১ পরবর্তী জামায়াতী রাজাকারদের ২.০ প্রজন্মের শাবকেরা যারা ৭১ এর মুক্তিসংগ্রাম নিয়ে সন্দেহ পোষন করে, যারা সেই মুক্তিসংগ্রামে ভারতীয় ষড়যন্ত্র খোঁজে তাদের অবস্থা ওইরকম সন্তানদের মতোই যারা নির্দ্বিধায় তাদের বাবাদের বলে বেড়ায় যে, “আগে ডিএনএ টেস্ট করে নিশ্চিত হই, তবেই বুঝবো তুমি আমার বাবা”। অথচ যে সন্তানেরা এ প্রশ্ন করলো তারা ওই বাবা-মায়ের কষ্টে গড়ে তোলা সংসারেই (বাংলাদেশ) বেড়ে উঠেছে। এই বাংলাদেশ হয়েছে বলেই আজকে তারা যে যার অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে।
কিন্তু তাদের যে পরিচয়হীনতা, সেই পরিচয়হীনতা নিয়ে তাদের আবার ব্যাপক গর্ব। নিজেদের পরিচয় সঙ্কটের সমস্যাকে সমস্যা তো মনেই করে না উল্টো তা মহিমান্বিত করার ব্যর্থ চেষ্টায় মশগুল। জন্মগতভাবে বংশপরম্পরায় বাঙ্গালী হওয়া সত্ত্বেও ২.০ রাজাকার শাবকরা অবাঙ্গালী পাঞ্জাবী হতে চায়।
এই পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার দাবিদারেরা (মতান্তরে ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকাররা) বংশানুক্রমে বাঙ্গালী। সুদূর অতীত হতে বাংলাদেশ নামক পলি মাটিতে গড়া বদ্বীপ অঞ্চলে বসবাস করে, বাংলায় কথা বলে, ভাত মাছ শাক পাতা খায়, ভৌগলিকতার সাথে মানানসই জামা কাপড়ও পরে। প্রকৃতিগত ভাবে বাঙ্গালী হয়ে জন্ম নেয়া সত্ত্বেও এই মানুষ গুলোর “বাঙ্গালী” শব্দে বড়ই অ্যালার্জি। বাঙ্গালী হওয়ায় রীতিমত হীনমন্যতায় ভোগে। আর নিজের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় যে বাঙ্গালী তা কষ্টে সৃষ্টে মেনে নেয়ার ভান ধরলেও “আগে বাঙ্গালী না আগে মুসলমান” এমন আপেল বনাম কমলা মার্কা অহেতুক বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না কখনোই। কারন যেভাবেই হোক নিজের বাঙ্গালী পরিচয়টাকে তাদের অবমূল্যায়ন করতেই হবে।
জন্মসূত্রে বাঙ্গালী হয়েও একদিকে পাঞ্জাবী জাতিসত্তা প্রীতি আর পাশাপাশি নিজ জাতিসত্তার প্রতি ঘৃণা, পাকিস্তানী পতাকার প্রীতি আর অন্যদিকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশী , পতাকাকে অবজ্ঞা এসবই তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের দেউলিয়াত্বের নিদর্শন, মোনাফেকির নিদর্শন। সুতরাং তাদের ধর্মীয় তথা মুসলিম পরিচয়টাও এক প্রকার identity of convenience. স্বাভাবিকভাবেই, "আমি বাংলাদেশী বাঙ্গালী মুসলমান বা বাংলাদেশী~(নৃতাত্তিক/জাতিগত পরিচয়) (ধর্মীয় পরিচয়)"-এ কথাটা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ নিঃসংকোচে নির্দ্বিধায় গর্বের সাথে বলতে পারে যা জামায়াত ও তার সমগোত্রীয়রা বলতে পারে না।
একই ধর্মীয় পরিচয় ধারণ করা সত্ত্বেও সারা বিশ্বের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষের মাঝে যে নৃতাত্ত্বিক ভিন্নতা আছে তা অবসম্ভাবী, প্রকৃতিগত ভাবেই। ভাষা, ভূ প্রকৃতি, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক আসাক এসব বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য থাকবেই। যেমন: পাঞ্জাবি, বেলুচ, সিন্ধি, পোশতু, আরব, কুর্দী, আফ্রিকান, জাভানিজ, মালয়, পারস্য। তারা তাদের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য সমূহও ধরে রেখেছে, ইসলাম ধর্মের রীতি নীতি বা আদর্শ বজায় রেখেই।
বাংলাদেশ বাঙ্গালী জাতিসত্তার বিরোধীদের ভাব দেখলে মনে হয় দুনিয়ায় একমাত্র এরাই প্রকৃত মুসলমান (শতভাগ বাঙ্গালী নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যবিহীন), এদের পাঞ্জাবী মনিবদের মতো। অথচ এদের মনিব পাঞ্জাবীদের জাত্যভিমান কিন্তু তাদের পাঞ্জাবী জাতিসত্তার পরিচয়কে ঘিরেই। ওরা ওদের জাতিগত/নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নিয়ে গর্ব করতে পারবে, তা নিয়ে ২.০ দের কোনো আপত্তি নেই আর অন্যদিকে আমরা বাঙ্গালীরা আমাদের জাতিগত পরিচয় ধারণ করতে পারবো না, বাঙ্গালী পরিচয় নিয়ে বড়জোর হীনমন্যতায় ভুগতে পারবো। পাঁঠায় যেমন উৎকট গন্ধ তেমনি জামায়াতী মনস্তত্ত্বে বিকশিত ২.০ রাজাকার প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে বাঙ্গালীর বাঙ্গালীত্বেও আছে হিন্দুয়ানী গন্ধ। ২.০ প্রজন্মের রাজাকার শাবকরা বোধ করি নিজেদের খাসী মনে করে। কারন ওতে হিন্দুয়ানী গন্ধ নেই।
পাকিস্তানী পতাকার পেখম পড়ে দাঁড়কাকের ময়ূর হওয়ার প্রাণান্তকর ব্যর্থ প্রচেষ্টার পরও দিনশেষে না তারা উর্দু ভাষী পাঞ্জাবী হতে পারলো, না বাঙ্গালীত্ব ধারণ করতে পারলো।
কোরআনের সূরা হুজুরাতে (৪৯:১৩) তো উল্লেখই আছে যে আল্লাহ আমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন যাতে আমরা পরস্পর পরিচিত হতে পারি।
সুতরাং বিশ্বব্যাপী যে অসংখ্য জাতি-গোত্র বিদ্যমান ও তার পরিপ্রেক্ষিতে ভাষা ও সংস্কৃতিগত যে সীমাহীন বৈচিত্রতা, তা মহান আল্লাহতাআলারই ফয়সালা। এখন কোন ব্যক্তি/গোষ্ঠী যদি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবাঙ্গালী উপাদান/বৈশিষ্ট্য দ্বারা জবরদস্তিমূলক প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করে তবে তা হবে আল্লাহর ফয়সালার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেয়া। খুব স্বাভাবিকভাবেই এরূপ কর্মকাণ্ড আজ হোক বা কাল, ব্যর্থ হবেই এবং তা জামায়াতের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে আসছে।
এটিই ঐতিহাসিক সত্য।
২|
১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:১১
ক্লোন রাফা বলেছেন: লালবদরদের মাঝেও এই প্রবণতা প্রকটভাবে পরিলক্ষিত হয়। তাদের কাছে বাংলাদেশ জিন্দাবাদের চাইতে ইনকিলাব জিন্দাবাদ বেশি প্রিয়। ন্যায় বিচার না ইনসাফ কায়েম করতে মরিয়া।বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কোটেশন ব্যাবহার করে ৩২শে বুলডোজার চালায়।
১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২২
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: সাম্প্রতিক সময়ে কোন ব্রিটিশ তাড়ানোর জন্য স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতিরা “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগান ব্যবহার করে? শুধু তাই নয় “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” ছিলো তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতের বামপন্থীদের বহুল ব্যবহৃত স্লোগান। সারা বছর জুড়ে বাম শাহবাগীদের গালিগালাজ করে সেই বামদের স্লোগানই এখন তাদের অবলম্বন। এরা যেমন ধর্মশ্রয়ী পরগাছা তেমনি অন্যের স্লোগানকে আকড়ে ধরা পরগাছাও বটে।
বাঙ্গালীরা গর্বের সাথে বলতে পারে যে তারা মুসলিম লীগ করে ৪৭ এ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন আন্দোলন করেছিল তেমনি আওয়ামী লীগ করে নিজেদের গড়া পাকিস্তানও ভেঙ্গেছিল। তবে নিজেদের নৃশংস কৃতকর্মের কারনেই জামায়াতি রাজাকাররা যথাসম্ভব ৭১ এড়িয়ে ৪৭ এ আশ্রয় নিতে চায় কিংবা তারও পেছনে পালাতে চায়। অবশ্য তারা পরগাছার মত ৪৭ এ কেন আশ্রয় নিতে চায় সেটিও বিশ্বয়কর কারন জামায়াতি রাজাকারা তো পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সরাসরি বিরোধী ছিলো। অখণ্ড ভারতে মুসলিম শাসনের দিবাস্বপ্নে ছিলো বিভোর। সুতরাং তাদের মারফতে/বরাতে ৪৭ এর পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিষয়টিই বা কেন আসবে?
সুযোগ/পরিস্থিতি সাপেক্ষে তারা তাদের অবস্থান/বক্তব্য পরিবর্তন করে থাকে। এজন্যই জামায়াতি মোনাফেকদের কোন এজেন্ডাই পরিষ্কার থাকে না, সবসময়ই থাকে গুপ্ত, সচেতনভাবেই। ৫ ই আগস্টের আগ পর্যন্ত এরা “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগান দেয়নি। দিলে জুলাই আন্দোলনের পর্দার আড়ালের কুশীলবরা যে আক্ষরিক অর্থেই রাজাকার/রাজাকারের দোসর তা প্রমাণ হয়ে যেতো। জন্মলগ্ন থেকে পরবর্তী ৮৪ বছরে যে দলটির রাজনীতিতে মৌলিক কোন অর্জন নেই তাদের বহুল প্রচারিত ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান কোন “ইনকিলাবের” জিন্দাবাদ? এই স্লোগান কি হিন্দুস্তানের সাথে যুক্ত হয়ে অখণ্ড হিন্দুস্তান প্রতিষ্ঠার ইনকিলাব নাকি পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয়ে অখণ্ড পাকিস্তান পুনঃ প্রতিষ্ঠার ইনকিলাব?
৩|
১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০৫
রাজীব নুর বলেছেন: জামাত খারাপ। এরা কোনোদিন ভালো হবে না। এরা ইতরামি করেই যাবে।
৪|
১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৩০
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: যে বাঙ্গালী জাতিসত্তার পরিচয়কে ভিত্তি করে বাংলাদেশের অস্তিত্ব, সে অস্তিত্বকে বিশ্বাস না করলে জামায়াতি রাজাকার ও তার ২.০ প্রজন্মের রাজাকারদের উচিত বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অতিসত্বর ত্যাগ করা, যদি তাদের বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ থেকে থাকে। কারণ বাংলাদেশের যাবতীয় নাগরিক সুবিধা ও অধিকার তারা ভোগ করছে বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে। বাংলাদেশ নিয়ে এত সমস্যা হলে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় নির্দেশ করে এমন জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম সনদ আর পাসপোর্টের সুবিধা কোন যুক্তিতে ভোগ করে?
এই সকল সুবিধা তাদেরকে তাদের পেয়ারের পাকিস্তান দেয় না, দেয় বাংলাদেশ যা ৭১ এর মুক্তিসংগ্রামের ফসল।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জামায়াত আজকে চায়নার ইফতার কে নিজেদের বলে চালিয়ে দিতে গিয়ে কট খেয়েছে ।