| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?
ইরানের ২০১০ সালে প্রবর্তিত 'টার্গেটেড ক্যাশ ট্রান্সফার' বা সরাসরি গরিবের হাতে নগদ টাকা পৌঁছানোর নীতিটি বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সাহসী পরীক্ষা হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও এই কর্মসূচির প্রাথমিক সফলতার উচ্চ প্রশংসা করেছে।
নিষেধাজ্ঞা ও মূল্যস্ফীতির মাঝেও এই অনন্য নীতিটি যেভাবে কাজ করছে এবং গ্রামীণ ও প্রান্তিক দারিদ্র্য দূর করেছে, তার বিশদ বিবরণ আমাদের জানা প্রয়োজন।
ঢালাও ভরতুকি থেকে নগদ অর্থে রূপান্তর
২০১০ সালের আগে ইরান সরকার দেশের তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি এবং রুটির মতো মৌলিক পণ্যগুলোতে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ভরতুকি দিত। এর ফলে দেশের ধনী শ্রেণী (যাদের একাধিক গাড়ি বা বড় বাড়ি ছিল) সস্তা জ্বালানির সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করতো, আর গরিবরা পেতো নামমাত্র সুবিধা। ইরান সরকার এই অন্যায্য ও ঢালাও ভরতুকি রাতারাতি তুলে দেয় এবং জ্বালানির দাম মুক্ত বাজারের মূল্যের কাছাকাছি নিয়ে যায়। এর ফলে সরকারের হাতে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল বেঁচে যায়, তা সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ হিসেবে ভাগ করে দেওয়া শুরু হয়।
সর্বজনীন এবং সরল ব্যাংকিং সিস্টেম
এই নীতিটি সফল করার জন্য ইরান সরকার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। তখন পর্যন্ত দেশের একটি বড় অংশের দরিদ্র মানুষের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না।
বাস্তব পদক্ষেপ: সরকার প্রতিটি পরিবারের প্রধানের জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দেশের ৯৫% এরও বেশি নাগরিককে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা হয়, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের জন্য একটি রেকর্ড। প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে সরকার সরাসরি এই অ্যাকাউন্টগুলোতে নগদ রিয়াল (ইরানি মুদ্রা) জমা করে দেয়, যার ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা কোনো দুর্নীতি ছাড়াই শতভাগ টাকা প্রকৃত সুবিধাভোগীর হাতে পৌঁছায়।
গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন
শহরের মানুষের তুলনায় এই সরাসরি নগদ অর্থ গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলোর জীবনে অলৌকিক পরিবর্তন এনেছিল।
আয়ের সমতা: ২০১০ সালে যখন এই স্কিম শুরু হয়, তখন প্রতি মাসে একজন নাগরিককে ৪৫,৫০০ রিয়াল (তৎকালীন মূল্যে প্রায় ৪০ মার্কিন ডলার) দেওয়া হতো। চার-পাঁচ জনের একটি দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের জন্য এই মাসিক আমানতটি ছিল তাদের প্রথাগত কৃষি আয়ের চেয়েও অনেক বেশি। এর ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাবার কেনা, সন্তানদের শিক্ষা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবার পেছনে ব্যয়ের সামর্থ্য লাভ করে, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য সূচক এক ধাক্কায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসে।
শ্রমবাজার ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর ইতিবাচক প্রভাব
সমালোচকরা শুরুতে দাবি করেছিলেন যে, ঘরে বসে বিনামূল্যে টাকা পেলে মানুষ অলস হয়ে যাবে এবং কাজ করা ছেড়ে দেবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদদের গবেষণায় দেখা গেছে এই ধারণাটি ভুল ছিল।
ব্যবসায়িক পুঁজি: ইরানের দরিদ্র ও মাঝারি আয়ের মানুষেরা এই নিশ্চিত মাসিক ক্যাশ ট্রান্সফারের টাকা জমিয়ে গ্রামীণ এলাকায় ছোট ছোট হাঁস-মুরগির খামার, হস্তশিল্প, টেইলারিং বা ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করে। এই নিয়মিত অর্থ প্রবাহ গ্রামীণ বাজারে তারল্য বা ক্যাশ ফ্লো সচল রাখে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলে।
বর্তমান ২০২৬ সালের বাস্তবতা ও মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ
যদিও এই নীতিটি প্রথম কয়েক বছর ইরান থেকে চরম দারিদ্র্য দূর করতে শতভাগ সফল হয়েছিল, তবে বর্তমান ২০২৬ সালের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং এর ফলে সৃষ্ট উচ্চ অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির কারণে নগদ টাকার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রনায়করা নীতিটি আরও আধুনিক করেছেন। এখন ধনী ও উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোকে এই তালিকা থেকে বাদ দিয়ে কেবল সমাজের সর্বনিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত (B40 গ্রুপ) নাগরিকদের চিহ্নিত করে তাদের ভাতার পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে নগদ টাকার পাশাপাশি দরিদ্রদের জন্য 'ইলেকট্রনিক ফুড স্ট্যাম্প' বা ডিজিটাল খাদ্য রেশন কার্ডের সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে মূল্যস্ফীতির বাজারেও গরিব মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বজায় থাকে।
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৪৪
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
ইরানের এক্ষেত্রে পথ প্রদর্শক।
ধন্যবাদ নিরন্তর।
২|
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:১৪
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আপনি দেখি আজকাল সকল দেশের অর্থনীতি নিয়ে একযোগে গবেষণা শুরু করে দিয়েছেন।
চ্যাটজিপিটি না থাকলে আমাদের কি যে হতো!!
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৪৮
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
যেসব দেশ দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে সফল হয়েছে, তাদের জানার চেষ্টা করা মন্দ নয়।
চ্যাট জিপিটি ভালো। তবে, আমার সাথে পাল্লা দেওয়া তার কাজ নয়। সে এই পরিমাণ বুদ্ধিমত্তায় পৌছায় নাই।
আপনার কেন মনে হলো যে, আপনারা চ্যাট জিপিটি ছাড়া চলতে পারবেন না?
সুবিধায় থাকুন নিরন্তর।
৩|
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৫৪
সাইফুলসাইফসাই বলেছেন: পড়লাম
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:১৫
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
ধন্যবাদ।
বাংলাদেশে এই নীতির প্রয়োগ দেখে চমৎকৃত হলাম।
শুভেচ্ছা নিরন্তর।
৪|
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ভুয়া কথা সব ....ইরানে ডিভোরসের হার সবচেয়ে বেশি; এখন মুতা বিয়া চলে ।
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:১৮
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
অন্য দেশকে সমালোচনার সময়ে নিজের দেশের কথা মনে রাখুন।
আমাদের দেশে ঐ দুটো জিনিস চালু আছে।
ইরানে মুতা বিয়ের থাকার সাথে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক কোথায়!!!!
৫|
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:২২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
একজন অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিতে ইরানের ২০১০ সালের নগদ অর্থ হস্তান্তর তথাTargeted Cash Transfer
কর্মসূচি আধুনিক ফিসকাল পলিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, কারণ এটি ভর্তুকির কাঠামোকে মূল্যভিত্তিক
price subsidy থেকে আয়ভিত্তিক তথা income support ব্যবস্থায় রূপান্তর করেছে। অর্থনীতির ভাষায়,
এটি সম্পদের বণ্টনকে অধিক দক্ষ এবং তুলনামূলকভাবে equitable করার একটি প্রচেষ্টা।
তবে এই নীতিকে মূল্যায়ন করতে হলে এর সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা দুই দিকই সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রাথমিক পর্যায়ে সর্বজনীন নগদ সহায়তা দারিদ্র্য হ্রাস, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, গ্রামীণ ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা
সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল বলে বিভিন্ন গবেষণায় আমি দেখতে পেয়েছি। একই সঙ্গে জ্বালানি ভর্তুকির
অপচয় ও উচ্চ আয়ের মানুষের অসম সুবিধা কমানোর ক্ষেত্রেও এটি একটি সাহসী সংস্কার বলে অনেকেই
উল্লেখ করেছেন ।
অন্যদিকে, আধুনিক ফিসকাল পলিসির একটি মৌলিক শিক্ষা হলো নগদ সহায়তার কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর
করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। যদি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন বা দীর্ঘস্থায়ী রাজস্ব ঘাটতি
তৈরি হয়, তাহলে একই পরিমাণ নগদ অর্থের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা দ্রুত কমে যায়। ফলে শুধু নগদ সহায়তা নয়, এর
সঙ্গে কার্যকর রাজস্বনীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোও
সমানভাবে প্রয়োজন।
ইরানের সাম্প্রতিক নীতিতে সর্বজনীন ভাতা থেকে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক সহায়তা এবং ডিজিটাল খাদ্য
সহায়তা যুক্ত করার পদক্ষেপ আধুনিক কল্যাণ অর্থনীতির (welfare economics) সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সীমিত সরকারি সম্পদকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দিকে পরিচালিত করাই বর্তমানে অধিকাংশ দেশের
গ্রহণযোগ্য ফিসকাল কৌশল।
ইরানের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে ভর্তুকি সংস্কার সফল হতে পারে, যদি তার সঙ্গে স্বচ্ছ ডিজিটাল আর্থিক অবকাঠামো,
সুনির্দিষ্ট সুবিধাভোগী নির্বাচন, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত নীতি যুক্ত থাকে। তাই এটিকে
নিঃশর্ত সাফল্য বা ব্যর্থতা হিসেবে নয়, বরং আধুনিক ফিসকাল নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষণীয়
বিষয় হিসাবে দেখা অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক বলে অনেক গবেষক মনে করেন ।
গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয়ে পোস্ট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
আমার পোস্টে করা আপনার মন্তব্যের জবাবটি দেখে
আসার জন্য অনুরোধ রইল ।
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সরকারের হাতে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল বেঁচে যায়,
তা সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ হিসেবে ভাগ করে দেওয়া শুরু হয়।
...................................................................................................
এটা অর্থণীতি চালু রাখার অত্যন্ত শক্তিশালী কৌশল ।
যদি ও পর্যাপ্ত নয়, ফ্যামিলি কার্ড অতি দরিদ্র পরিবারের আশার বিন্দু ।