| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাজ ৩
বহু বছর আমি সময়ের সাথে বিদ্রহ করেছি, পরিশেষে নিজেকে তার হাতে ছেড়ে দিয়েছি।নফসকে জয় করা হিমালয় জয় করার থেকেও কঠিন।নফসকে জয় করা হিমালয় জয় করার থেকেও কঠিন।
নফসকে জয় করা হিমালয় জয় করার থেকেও কঠিন।
ব্যাখা=
নফসকে জয় করা হিমালয় জয় করার থেকেও কঠিন।এই কথার অর্থ কি?
নফস মানুষের আদি শত্রু।শুধু মানুষের নয়,জীন এবং শয়তানদেরও শত্রু এই নফস।নফসকে বিজয় করা মানে হলো,নফসের রোগব্যাধি থেক মুকত্ি লাভ করা।যে ব্যাক্তি নফসের রোগ-ব্যধি থেকে মুক্তি লাভ করে সেই প্রকৃত মানুষ।সে রুহানী মানুষে পরিনত হয়।দুনিয়াটাই তার জন্য জান্নাতের মতো হয়ে যায়।
কিভাবে নফসের রোগব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ হয়?
উল্লেখ্য যে নফসের রোগব্যাধি সকলের কাছে ধরা পরেনা।যারা ইমাম গাজ্জালী রহ.এর কিমিয়ায়ে সায়াদাত এবং এহইয়াউল উলুমুদ্দিন বুঝে পড়েছেন, অথবা এই ধরনের কিতাব পাঠ করেছেন কেবলমাত্র তাদের নিকটেই নফসের রোগব্যাধি ধরা পরে।
নফসের রোগব্যাধি ধরা পড়লে কি করনীয়?
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যোগ্য ইমামের পিছনে সহিশুদ্ধ ভাবে পড়লেও নফসেের রোগ ধরা পরে।আগে নফসের রোগগুলো কি কি তা চিন্হিত করতে হবে,তারপর করনীয় বিষয় আলোচনায় আসবে।
নফসের রোগগুলো কি কি?
=নফসের রোগ তো অনেক।এর মধ্যে বুযুর্গরা দশটা বড় বড় রোগ আলোচনা করেছেন।তা দূর করতে পারলে বাকিগুলোও সহজেই দূর হয়ে যায়।
বড় বগ দশটি রোগ হলো—
১।হিংসা ;২।অহংকার ;৩।রিয়া(লোক দেখানো ইবাদত) ৪।ক্রোধ ৫।লোভ -লালসা ;৬।কামনা,কাম প্রবৃত্তি ;৭।দুনিয়ার ভালোবাসা, ৮।
২|
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
নফ্স বিষয়ে আপনার মুল্যবান লেখাটি বেশ মনযোগ সহকারে পড়লাম । লেখাটি আমার বেশ উপকারে আসবে।
ভাই বাজ ৩, আপনি ঠিকই বলেছেন নফসকে জয় করা হিমালয় জয় করার থেকেও কঠিন।
এখানে নফ্স দমনের জন্য বাংলা, উর্দু, আরবী মিলিয়ে একটি গজল নিন্মে তুলে দিলাম ।
খোদা রাসুল নাম দিলমে জপো ভাই
ওহি আগুন মে জ্বালা করো
ছুমমুন বুকমুন ওম ইউন হো কার
খুদী কো আপনা ফানা করো।
এখন প্রথমে গজলটির প্রতিটি পংক্তি ধরে ধাপে ধাপে অর্থ ও গভীর অর্থ বোঝা যাক।
গজল
১। খোদা রাসুল নাম দিলমে জপো ভাই
বাংলা হল, ভাই, তোমার অন্তরে খোদা ও রাসুলের নাম জপ করো।
এখানে বলা হচ্ছে, মানুষের অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের স্মৃতি ও নাম স্থাপন করা। ইসলামী আধ্যাত্মিকতা
অনুযায়ী, নফ্সকে দমন করতে হলে প্রথম শর্ত হলো মনে আল্লাহর স্মৃতি স্থাপন। মন যখন খোদার স্মৃতিতে
ভরপুর হয়, তখন নফ্স বা তামসিক প্রবৃত্তি ( অহংকার, রাগ) ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।
২। ওহি আগুন মে জ্বালা করো
বাংলা হল ওহি (প্রিয়), নফ্সের আগুনে নিজেকে জ্বালা করো।
এখানে নফ্সের আগুন বলতে ইচ্ছা, অহংকার, কাম, ক্ষুধা ইত্যাদি। এখানে বলা হচ্ছে, যে ব্যক্তি নিজেকে ইচ্ছার
শাসন না করতে পারে, সে আত্মশুদ্ধি লাভ করতে পারে না। আধ্যাত্মিক শিক্ষা অনুযায়ী, আত্মশুদ্ধির জন্য নিজের
ত্রুটিগুলো (যেমন রাগ, অহংকার, কাম ইত্যাদি) চিনে গ্রহণ করতে হয় এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে শিখতে হয়।
৩। ছুমমুন বুকমুন ওম ইউন হো কার
বাংলা: এটি আরবী/উর্দুর শব্দের মিশ্রণ এবং আধ্যাত্মিক রীতিতে মনের ভেতরে চুপচাপ (ধ্যান) অবস্থায় নিজেকে
খোদার দিকে সমর্পণ করো এর ইঙ্গিত বহন করে।
এখানে নফ্স দমনের অন্যতম পথ হলো ধ্যান, মনন এবং নিজেকে আত্মসমর্পণ। নিজেকে শান্ত রেখে অন্তরের
গভীরে আল্লাহর স্মৃতি জাগানো।
৪। খুদী কো আপনা ফানা করো
বাংলা হল নিজেকে(নিজস্ব ইচ্ছা বা অহংকে)ফানা ( ধ্বংস বা বিলীন) করো।
এখানে ফানা শব্দটি সুফি আধ্যাত্মিকতার ধারণা থেকে এসেছে। নিজস্ব ইচ্ছা, অহংকার, এবং তামসিক প্রবৃত্তিকে
ধীরে ধীরে বিনষ্ট বা আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ফানা করা। অর্থাৎ, নফ্সের দমন সেই স্তর যেখানে ব্যক্তি নিজের
স্বার্থকে আল্লাহর স্বার্থের কাছে সমর্পণ করতে শেখে।
নফ্স দমনের প্রসঙ্গে গজলের ব্যখ্যায় বলা যায় নফ্সের প্রকৃতি হিসাবে নফ্সকে তিন ভাগে বর্ণনা করা হয়:
নফ্সে লাওয়ামা: তীব্র অপরাধবোধ, নিজের ভুল বুঝতে পারে।
নফ্সে মরিয়াম: স্বাভাবিক মানবীয় প্রবৃত্তি।
নফ্সে আম্মারা: অধিকারহীন, ইচ্ছাপরায়ণ নফ্স।
গজলটি মূলত নফ্সের অধঃপতিত অংশকে (আম্মারা) দমন করার শিক্ষা দিচ্ছে।
এর আধ্যাত্মিক পদ্ধতি হল:
অন্তরে খোদা ও রাসুলের নাম জপ করার মাধ্যমে নফ্সকে আল্লাহর স্মৃতি দিয়ে শান্ত করা।
আগুনে নিজেকে জ্বালা করা তথা ইচ্ছাশক্তির প্রতি সতর্ক হওয়া, ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণে আনা।
ধ্যান/মনন দ্বারা নফ্সের উপর চেতনা বৃদ্ধি করা।
ফানার মাধ্যমে নিজস্ব অহং, কাম, লোভ ধীরে ধীরে বিলীন করা।
ফলাফল হল এই পদ্ধতিতে নফ্সের অধঃপতিত প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে আসে। আত্মা শান্ত হয়, মানব আল্লাহর
কাছাকাছি পৌঁছায়, এবং সঠিক নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবন লাভ করে।
এই গজলটি মুলত সংক্ষেপে নফ্স দমনের একটি নির্দেশিকা। ধীরে ধীরে ইচ্ছাশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে,
নিজেকে আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খোদার দিকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করাই গজলের মূল শিক্ষা।
তবে নিয়মিত নামাজ আদায় ( জামাতে নামাজ) ,রোজা , হজ্জ, যাকাত সহ ব্যক্তি, সমাজ ও রাস্ট্রিয় পর্যায়ের
জন্য সকল সরিয়া বিধান মেনে সঠিক উপযুক্ত আলেমের সহচর্যে থেকে খাটি মুমিন হিসাবে নীজকে তৈরী
করতে হবে, তা না হলে কোন মতেই নফ্স বিজয় করা সম্ভব নয় ।
শুভেচ্ছা রইল
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮
বাজ ৩ বলেছেন: মাশাআল্লাহ,অনেক চমৎকার শিক্ষনীয় কয়েকটি কথা বলেছেন।আপনার এই ছোট কমেন্টটিও বড় একটি গ্রন্থের মতো পরিপূর্ণ।তবে প্রতিটা রোগ আলাদা করে,কিভাবে তা দূর করা যায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা দরকার।যেমন হিংসা দূর করার উপায় গুলো,ইত্যাদি।ধন্যবাদ এম আলী ভাই,আপনার মন্তব্যটি আমার উপকারে আসবে,আলোচনার পথ আরোও খুলবে,কৃতজ্ঞতা রইলো, আল্লাহ তায়ালা,এই কঠিন পথকে আমাদের জন্য সহজ করুন।আমিন
৩|
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১১
বাজ ৩ বলেছেন: @রাসেল। আপনার এই উত্তর খুব সহজ নয়।কারন নফস কোনো প্রকাশ্য বস্তু নয়।সম্পূর্ন গুপ্ত জিনিস।আমার পোস্ট এবং এম আলী ভায়ের কমেন্টে তার কিছু ব্যাখা, এবং হাকিকত পাবেন।আর বিস্তারিত জানার জন্য আমার ব্লগ মাঝে মধ্যে ভ্রমন করতে পারেন,আমি এগুলো নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২০
রাসেল বলেছেন: নফস শব্দের অর্থ কি? বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন কি ?