| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একজন মায়ের শেষ বিদায়, একজন সন্তানের কান্না আর আমাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন।
সনাতনীদের অধিকার ও নিরাপত্তার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে আজ কারাগারে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু। তিনি কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা নন, রাজনীতির কূটকৌশলও হয়তো তিনি বোঝেন না। আমরা অনেকেই তাঁকে আগে চিনতাম না। কিন্তু নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার কারণেই তিনি আজ আলোচিত, বিতর্কিত এবং কারাবন্দি।
আজ তাঁর মা শ্রীমতী সন্ধ্যা রাণী ধর আর নেই। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু যে দৃশ্যটি আজ মানুষের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়েছে মায়ের শেষ বিদায়ে দাঁড়িয়ে একজন সন্তানের সেই কান্নার মুখ!
সেই মুখের দিকে তাকিয়ে একটি প্রশ্ন বারবার মনে আসে।
এই মানুষটিই কি সত্যিই সেই ভয়ংকর অপরাধী, যাকে নিয়ে এত অভিযোগ?
আইনের বিচার হোক। অভিযোগের বিচার আদালত করুক। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসও নন। কিন্তু বিচার শেষ হওয়ার আগেই একজন মানুষকে কি আমরা সমাজের চোখে অপরাধী বানিয়ে দেব?
আরও বড় প্রশ্ন
একজন বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুশয্যায় তাঁর ছেলেকে শেষবার দেখার সুযোগটুকুও কি আমরা দিতে পারলাম না?
আজ তাঁর মা নেই।
শেষবার মায়ের মুখ দেখার সুযোগও হয়নি জীবিত অবস্থায়।
তারপর পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে যখন তিনি মায়ের শেষকৃত্যে এলেন, তাঁর চোখের জল দেখে প্রশ্ন জাগে রাষ্ট্র কি শুধু আইন দিয়ে চলে, নাকি রাষ্ট্রের হৃদয়ও থাকে?
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সেগুলোর বিচার আদালতেই হওয়া উচিত। কিন্তু বিচার চাওয়া আর মানবিকতা চাওয়া এই দুটো কি পরস্পরের শত্রু?
আমরা কোনো অন্যায়ের পক্ষ নিচ্ছি না।
আমরা কোনো অপরাধকে সমর্থন করছি না।
আমরা শুধু বলছি
যদি তিনি অপরাধী হন, আদালতে প্রমাণ হোক।
যদি তিনি নির্দোষ হন, মুক্তি দেওয়া হোক।
কিন্তু বিচারাধীন একজন মানুষকে নিয়ে প্রতিহিংসা নয় আইনের শাসন চাই।
একজন মানুষকে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়, মানুষ হিসেবে বিচার করা হোক।
আজ প্রশ্নটা শুধু চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নয়।
আজ প্রশ্নটা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের
রাষ্ট্র কি সবার?
আইন কি সবার জন্য সমান?
বিচার কি সবার অধিকার?
আর একজন মায়ের মৃত্যুর সামনে কি রাজনীতি, ধর্ম ও প্রতিহিংসার সব হিসাব এক মুহূর্তের জন্য থামতে পারে না?
আজ চিন্ময়ের চোখের জল শুধু একজন সন্তানের কান্না নয় এটি আমাদের বিবেকের সামনে একটি আয়না।
বিচার চাই। প্রতিহিংসা নয়।
মানবিকতা চাই। বৈষম্য নয়।
আইনের শাসন চাই। অন্যায় নয়।
বাংলাদেশ কারও একার নয় বাংলাদেশ সকল নাগরিকের। 
২|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২২
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
শ্রী চিন্ময়কে আটক করার কারণ কি?
উনি কি কোন অপরাধ করেন নাই?
৩|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭
রাজীব নুর বলেছেন: আমাদের দেশের রাজনীতি এরকমই।
৪|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৩
আহমেদ জী এস বলেছেন: রাবব১৯৭১,
চট্টগ্রামের নিউমার্কেট চত্বরে মুক্তমঞ্চে জাতীয় পতাকার ওপর গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করার কারণে
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে চিন্ময়কে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
তার অনুসারীরা আদালত ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে, যেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর সহিংস হয়ে উঠে। সহিংসতার সময়, সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে এক আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এই রকম রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙে উস্কানির কারণ হ্ওয়ার কারণে তার তো যাবজ্জীবন কারাদন্ড হওয়া উচিৎ।
শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ইসকন যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক শিশু সুরক্ষা কার্যালয় (সিপিটি) কর্তৃক চিন্ময়ের উপর ৫টি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। চিন্ময়কে ইসকনের নেতৃস্থানীয় পদে না থাকা, শিশু ও নারীদের সাথে যোগাযোগে বিরত থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় । ইসকনের সিপিটি যুক্তরাজ্য দপ্তর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সত্যতা নিশ্চিত করে,যা এখনও বহাল রয়েছে।
এই রকম পেডোফাইল চিন্ময়ের চোখের জলে আমাদের মানবিকতাবোধ জাগ্রত হওয়ার কোন কারণ আছে কি ?
চিন্ময় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সমাবেশে মিথ্যা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিব্রত করতে একের পর এক কর্মসূচির নামে সহিংসতার মদদ দেওয়াসহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে চিন্ময়ের বিরুদ্ধে।
এর পরেও তার প্রতি আমাদের সহানুভূতি দেখাতে হবে ? যদিও তার মায়ের মৃত্যতে আমরা তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে সমব্যথী।
সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার গ্রেফতারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলো।
বাংলাদেশের নাগরিককে বাংলাদেশের সরকারই গ্রেফতার করেছে। সে গ্রেফতারে ভারতের মাথাব্যথা হবে কেন? এই মাথাব্যথা খুবই সহজবোধ্য। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক বানানোর চেষ্টা।
চিন্ময়কে নিয়ে ঘটা এই ঘটনাগুলো (যা প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এবং উইকিপিডিয়াতে) তা জটিল বিষয় যদিও এসব নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি দেখানোর প্রয়োজন আছে কি ?
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২০
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
যে কোন মানুষের মায়ের মৃত্যু খুব বেদনাদায়ক।
খোদা শ্রী চিন্ময়কে ধৈর্য্য ধরার ক্ষমতা দিন।