| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."
সাধারণ মানুষকে আমরা তার ব্যক্তি চরিত্র দিয়ে বিচার করি, কিন্তু একজন ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনীতিবিদকে ব্যক্তিজীবন দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এটা সত্য যে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিজীবনের ছাপ তাদের কর্ম, নীতি ও আদর্শে প্রতিফলিত হয়। রাজনীতিবিদকে যদি আমরা ব্যক্তি মানুষ হিসেবে দেখি, তাহলে দোষে-গুণে মানুষ হিসেবে তাদের প্রতি আমরা সহজেই সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ব। তাদের কাজগুলো তখন চোখের আড়ালে চলে যাবার সম্ভাবনা থাকে। যেটা প্রয়োজন, তা হলো কর্তৃত্ব ও ক্ষমতাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ করা। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার মাধ্যমেই তাদের সঠিক পথে রাখা সম্ভব হয়। তাদের ভক্ত হওয়ার মধ্যে নয়।
গতকাল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে কয়েক লক্ষ মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। ঘটনাটি বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান এবং নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যেতে পারে। মানুষ আদিকাল থেকেই দলবদ্ধভাবে শোক প্রকাশ করে এসেছে। মানুষের মনের গভীরে থাকা এটা একটি সামাজিক প্রতিক্রিয়া। সমাজবদ্ধ মানুষ হিসেবে আমরা গোষ্ঠীসংহতি ও মৃত্যুকে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করি। খুব আনন্দের মুহূর্তে যেমন আমরা একসাথে বসে খাওয়া-দাওয়া করি, শোকে ও দুঃখেও তাই করি। আমাদের আদি পিতামাতা শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানকে সামাজিক জীবনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাই এটা আমাদের সামষ্টিক স্মৃতি ও মস্তিষ্কে এভাবেই কাজ করে। ব্যক্তিগত শোককে সমষ্টিগত করে তোলার মাধ্যমে গোষ্ঠীর ভেতরের বন্ধন দৃঢ় হয়, যা প্রাগৈতিহাসিক মানবগোষ্ঠীর টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে, এরকম বড় জানাজা এবং শোকসমাবেশ অনেকগুলো সামাজিক কাজ সম্পন্ন করে। এটি সমষ্টিগত পরিচয়কে নিশ্চিত করে। খালেদা জিয়া কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি একটি রাজনৈতিক যুগ, সংগ্রাম ও পরিচয়ের প্রতীক। এত মানুষের একত্র হওয়া মানে একজন নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু নয়, একটি যৌথ ইতিহাসকে দৃশ্যমান করে তোলা। এই দৃশ্যমান ইতিহাসের ভিতরের কথাটা হলো খালেদা জিয়ার প্রতি যে অন্যায়, অসম্মান এবং জুলুমগুলো করা হয়েছে, সেগুলো মনে করে নিজেদের কাজের পর্যালোচনা করা।
প্রাচীন সমাজগুলোতেও শেষকৃত্যের আচার ছিল জীবিতদের নিজেদের সামাজিক অবস্থান ও পরিচয় মনে করিয়ে দেওয়ার একটি উপায়। এই ধরনের সমাবেশ শোককে স্মরণে রূপান্তরিত করে। ইতিহাসজুড়ে দেখা যায়, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মৃত্যু জাতীয় বা সামষ্টিক আত্মসমালোচনা ও ভাবনার মুহূর্ত তৈরি করে।
আবার, বৃহৎ শোকানুষ্ঠান সমাজের জন্য এক ধরনের প্রতীকী নিরাময়। মানুষ যেমন একসময় শিকার বা খাদ্য ভাগাভাগি করে টিকে ছিল, তেমনি শোক ও ক্ষতিও ভাগ করে নেওয়ার সামাজিক প্রক্রিয়া গড়ে তুলেছিল। নেতৃত্ব ও পরিচয়ের প্রতীক কোনো মানুষের মৃত্যু সমাজে শূন্যতা তৈরি করে। সম্মিলিত শোক সেই শূন্যতাকে অর্থ দেয় এবং সমাজকে আশ্বস্ত করে যে ক্ষতির পরও গোষ্ঠী বন্ধন অটুট রয়েছে।
খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের এই বিপুল উপস্থিতি দেখায়, হাজার বছর আগে মানুষ জীবন ও মৃত্যুকে ঘিরে একটি সামাজিক আচার গড়ে তুলেছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষ হিসেবে একসাথে থাকার বোধ, যৌথ জীবনের শক্তির অনুভুতি এবং মৃত্যুকে অর্থ দেওয়া। এই জনসমুদ্র প্রাচীন মানবিক প্রবৃত্তিরই আধুনিক প্রকাশ।
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০২
শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, সঠিক। তবে সমষ্টিগত পরিচয়কে আপনি কিভাবে দেখেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। শোকে আমরা সাধারণত একসাথে থাকি, আমাদের কমন গ্রাউন্ড থাকে, কিন্তু ক্ষমতার প্রশ্ন আসলে তখন উগ্র চিন্তাভাবনা সমস্যা তৈরি করে।
২|
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০২
কিরকুট বলেছেন: এটা খুবি স্বাভাবিক , তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের একজন সফল নেত্রী ছিলেন ।
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১১
শ্রাবণধারা বলেছেন: হা হা, "এটা খুবি স্বাভাবিক" এটাও একটি ব্যাখ্যা।
সেটা হলে, এই লেখাটাকে ব্যাখ্যার ব্যাখ্যা হিসেবে বোঝা যেতে পারে। শুরুর প্রশ্নটা এমন হতে পারে যে, আমরা সমাজবদ্ধ মানুষেরা কেন মৃতের সৎকার করি। মৃতের জন্য শোক প্রকাশ করতে একত্রিত হবার মানে কি? তারপর আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে বৃহত্তম দলের সফল নেত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে অনুষ্ঠানের অর্থ কী।
৩|
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭
রাসেল বলেছেন: ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ‘আপোষহীন’ শব্দটি নিয়ে কোনো বিতর্ক ছিল না, এটি সবাই সত্য হিসেবেই মেনে নিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর কাজের মূল্যায়নে দক্ষতার ঘাটতি, অজ্ঞতা এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার বিষয়গুলো বেশি চোখে পড়ে।
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ধন্যবাদ।
তার কাজের মূল্যায়ন অবশ্য এই পোস্টের মূল বিষয় নয়। বিষয়, তার মত বড় মাপের নেত্রীর জানাজার অন্তর্নিহিত অর্থ, যা বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হল। জানি না আদৌ আমি সেটা কতটুকু স্পষ্টভাবে বোঝাতে পেরেছি।
৪|
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৯
রাসেল বলেছেন: হ্যাঁ, আমি কোনও প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করিনি। দেশের জনগণ হিসেবে, উনাকে মূল্যায়ন করা আমাদের দায়িত্ব, ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ।
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার এই মন্তব্যটিও গুরুত্বপূর্ণ।
অবশ্যই দেশের জনগণ হিসেবে তাঁর কাজের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। হয়তো কেউ কেউ সেটা করেও থাকেন। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, এটা করতে গেলেই "হাসিনাকেই নিয়ে আসি, কি বলেন?" এ জাতীয় কথা শুনতে হয়। আমিও অনেকবার শুনেছি। হা হা! ![]()
৫|
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩
কিরকুট বলেছেন: লেখক বলেছেন: হা হা, "এটা খুবি স্বাভাবিক" এটাও একটি ব্যাখ্যা। সেটা হলে, এই লেখাটাকে ব্যাখ্যার ব্যাখ্যা হিসেবে বোঝা যেতে পারে। শুরুর প্রশ্নটা এমন হতে পারে যে, আমরা সমাজবদ্ধ মানুষেরা কেন মৃতের সৎকার করি। মৃতের জন্য শোক প্রকাশ করতে একত্রিত হবার মানে কি? তারপর আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে বৃহত্তম দলের সফল নেত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে অনুষ্ঠানের অর্থ কী।
একটাই অর্থ- তার আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞ্যাপন করা । একজন মানুষ যিনি দ্বীর্ঘ সময় পৃথীবিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তার পরিশরে তাকে তার নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের কর্তব্য।
০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: কিরকুট বলেছেন: একটাই অর্থ- তার আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞ্যাপন করা।
মানুষ কেন আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এটাই প্রশ্ন। যদি মনে করেন, এটা কোন প্রশ্নই নয়, তাহলে সেটাও একটা দৃষ্টিভঙ্গি। সেক্ষেত্রে পোস্টের বিষয়বস্তু আপনার চিন্তার সাথে মানানসই নয়।
৬|
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৩
মাথা পাগলা বলেছেন: সবই রাজনীতির খেলা - হাসিনার আমলে খালেদা জিয়া মারা গেলে এত মানুষ কি হতো? আবার ইউনুসের আমলে হাসিনা মারা গেলে কত মানুষ জমায়েত হতো? আর লীগের আমলে হাসিনা মারা গেলে কত মানুষ আসত? ভন্ডের দেশে মৃত্যুর পর সাইদীকে চাঁদে দেখা গেছে বলে ফেরেশতা বানানো হয়।
০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ মাথা পাগলা। এর ভেতরে প্রবলভাবে রাজনীতি আছে, অবশ্যই। আবার এর একটি আধিভৌতিক ব্যাখ্যাও আছে। আমার পয়েন্টটা হলো, সেই আধিভৌতিক, ঐশ্বরিক, অস্পষ্ট ব্যাখ্যাটাকে যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে বিচার করা।
আমার মতে, আমরা যদি রাজনীতির অংশটা যুক্তির খাতিরে বাদও দিই, তাহলে দেখতে পাব, এই জানাজার বিপুল লোকসমাবেশের মাধ্যমে মানুষ তার সমষ্টিগত পরিচয়কে উপলব্ধি করতে চাচ্ছে, শোক ও ক্ষতি ভাগ করে নিতে চাচ্ছে, সমাজের যৌথ ইতিহাসকে নির্মাণ করতে চাচ্ছে। ঠিক আদিকালে আমাদের পূর্বপুরুষরা যেভাবে করত। এর মধ্যে কোনো ঐশ্বরিক শক্তির হাত আমি দেখতে পাচ্ছি না।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৩
দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: আসলেই এই জানাজা সমষ্টিগত পরিচয়কে নিশ্চিত করেছে।