| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রুহুল অামিন রায়হান
সত্য ও ন্যায়ের পথে, নির্ভীক কলম সৈনিক
ছলাতুত তারাবীহ বা তারাবীহ নামায:
তারাবীহ শব্দটি বহুবচন। একবচনে ‘তারবীহাতুন’। এর অর্থ হচ্ছে বিশ্রাম নেয়া বা আরাম করা। পাঁচ তারবীহাতুন মিলে এক তারাবীহ। অর্থাৎ, চার রাকাআত পর পর বসে দুআ, দুরূদ ও তাসবীহ পাঠের মাধ্যমে বিশ্রাম নিয়ে বিশ রাকাআত নামায আদায় করা হয় বলে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘তারাবীহ’।
তারাবীহ্ নামায বিশ রাকাআত
পুরুষ-মহিলা প্রত্যেকের জন্যই এ নামায সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। বিশ রাকাআত থেকে কেউ যদি এক রাকাআতও কম পড়ে তাহলে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ তরক করার কারণে ওয়াজিব তরকের গুনাহে গুনাহগার হবে। তারাবীহ নামায জামাআতে পড়া, তা খতম তারাবীহ হোক বা সূরা তারাবীহ হোক উভয়টিই পৃথকভাবে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়া। খতমে তারাবীহ পড়িয়ে বা কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয না। মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামাআত-এর সাথে তারাবীহ বা অন্যান্য নামায আদায় করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কুফরী।
তারাবীহ নামায বিশ রাকাআত পড়ার দলীল
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের ফতওয়া মুতাবিক তারাবীহ-এর নামায বিশ রাকাআত পড়াই সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। অতএব, কেউ যদি বিশ রাকাআত থেকে এক রাকাআতও কম পড়ে, তবে তার সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ তরক করার গুনাহ হবে। অর্থাৎ তারাবীহ-এর নামায বিশ রাকাআতই পড়তে হবে। এর উপরই ইজমা হয়েছে। যারা তারাবীহ-এর নামায ৮ রাকাআত বলে থাকে, তারা বুখারী শরীফ-এ বর্ণিত উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হাদীছ শরীফখানা দলীলস্বরূপ পেশ করে থাকে। যাতে বর্ণিত আছে যে, “আল্লাহ পাক উনার রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাদ্বান শরীফ-এ এবং রমাদ্বান শরীফ ব্যতীত অন্যান্য মাসে (বিতর সহ) ১১ রাকাআত নামায আদায় করতেন।” মূলত এটি হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাযের বর্ণনা, তারাবীহ-এর নামাযের বর্ণনা নয়। কারণ তারাবীহ নামায শুধুমাত্র রমাদ্বান শরীফ-এর জন্যই নির্দিষ্ট। রমাদ্বান শরীফ ব্যতীত অন্যান্য মাসে তারাবীহ নামায নেই। আর তাহাজ্জুদের নামায সারা বছরই পড়তে হয়। অতএব, হানাফী মাযহাব মতে “তারাবীহ-এর নামায বিশ রাকাআত”- এ ব্যাপারে বহু হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে।
যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﺍﻥ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻳﺼﻠﻰ ﻓﻰ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ ﺳﻮﻯ ﺍﻟﻮﺗﺮ .
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ রাকাআত তারাবীহ নামায পড়তেন বিতর নামায ব্যতীত।” অর্থাৎ তারাবীহ নামায বিশ রাকাআত এবং বিতর তিন রাকাআত মোট তেইশ রাকাআত। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা)
হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে-
ﻋﻦ ﻋﻠﻰ ﻭﻋﻤﺮ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻭﻏﻴﺮﻫﻤﺎ ﻣﻦ ﺍﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ .
অর্থ: “হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত উমর ইবনূল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং অন্যান্য ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে বর্ণিত রয়েছে, তারাবীহ নামায বিশ রাকাআত।” (তিরমিযী শরীফ)
ﺭﻭﻯ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻰ ﺑﺎﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻘﻴﻤﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪ ﻋﻤﺮ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﻭﻋﻠﻰ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻬﻢ .
অর্থ: হযরত ইমাম বায়হাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছহীহ সনদে বর্ণনা করেন যে, “খুলাফায়ে রাশিদীন হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু, হযরত উছমান যুন নূরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা সকলেই বিশ রাকাআত (তারাবীহ) নামায আদায় করেছেন।”
ﻋﻦ ﻳﺰﻳﺪ ﺑﻦ ﺭﻭﻣﺎﻥ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﻘﻮﻣﻮﻥ ﻓﻰ ﺯﻣﺎﻥ ﻋﻤﺮﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻓﻰ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺑﺜﻠﺚ ﻭﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ .
অর্থ: “হযরত ইয়াযীদ ইবনে রুমান রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিলাফতকালে
সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সকলেই তারাবীহ নামায ও বিতর নামাযসহ মোট তেইশ রাকাআত নামায আদায় করতেন।” (মুওয়াত্তা ইমাম মালিক) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে, যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ”-এর।২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ১৭৫তম সংখ্যা পাঠ করুন। সেখানে ৩০৪ খানা অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীলের ভিত্তিতে ছাবিত করা হয়েছে যে, তারাবীহ নামায বিশ রাকাআত পড়াই সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ এবং এটাই গ্রহণযোগ্য ও ছহীহ মত।
তারাবীর নামাজ ২০ রাকাত ভিডিও
©somewhere in net ltd.