| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শেরজা তপন
অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...
প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত বৈচিত্র্য চোখে পড়ে। কোথাও মানুষ প্রচণ্ড ফর্সা আর রোমশ, কোথাও আবার দাড়ি-গোঁফের বালাই নেই, ত্বক মসৃণ। বিজ্ঞান বলে এগুলো নাকি আবহাওয়া আর বিবর্তনের ফল?এই যে ছোট ছোট পরিবর্তন, এগুলো কি স্রেফ প্রকৃতির তাৎক্ষণিক জোড়াতালি?
আমাদের চোখের ভ্রু আর মাথার চুল নিয়ে কি আপনাআর মনে প্রশ্ন জাগেনি কখনো? ভ্রু বাআ চোখের পাপড়ি একটা নির্দিষ্ট আকারে এসে থমকে যায়, কিন্তু মাথার চুল বাড়তেই থাকে-এই যে নিখুঁত একটা ঘড়ি আমাদের শরীরে সেট করা আছে, এর পেছনের রহস্যটা কী? প্রকৃতি কি মানুষকে আলাদা আলাদা অঞ্চলে আলাদা আলাদা 'ডিজাইন' দিয়ে কোনো বিশেষ মহাজাগতিক গেমের জন্য প্রস্তুত করছে?"
আমাদের মনে তো প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, প্রকৃতি আমাদের শরির থেকে প্রাকৃতিক পোষাকটা কেড়ে নিয়ে ফের কেন যৌবনপ্রাপ্তির সময়ে গুপ্তকেশে (পিউবিক হেয়ার) পরিপূর্ন করে? কেনই বা বেশীরভাগ ধর্মে এগুলো কেঁটে ছেটে সাফসুরোতের আলোচনা আসল?
বিশ্লেষণ ও উত্তরঃ
এই প্রশ্নটি আমাদের সোজা নিয়ে যায় প্রকৃতির এক পরম গোপন ল্যাবরেটরিতে। বিজ্ঞান যেটাকে বলে "অ্যাডাপ্টেশন" বা অভিযোজন, আমাদের দর্শনের লেন্স দিয়ে দেখলে সেটা আসলে প্রকৃতির তৈরি "আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং" (Regional Programming)।
সহজ কথায়, প্রকৃতি যখন মানুষকে এই পৃথিবীর বুকে ছেড়ে দিল, তখন সে একেকটি অঞ্চলের পরিবেশের চরমভাবাপন্নতার ওপর ভিত্তি করে মানুষের শরীরে আলাদা আলাদা ছোট ছোট সফটওয়্যার কোড বা সরঞ্জাম ইনস্টল করে দিয়েছিল। আসুন, এই রূপের বৈচিত্র্য আর শরীরের ভেতরে চলা সেই অদৃশ্য ঘড়ির নিখুঁত মেকানিজমটি অত্যন্ত সহজ ও আকর্ষণীয় ভাষায় উন্মোচন করি।
১. দাড়ি-গোঁফের ভূগোল ও প্রকৃতির "জলবায়ু বর্ম"
আমরা প্রায়ই ভাবি, পুরুষদের মুখের দাড়ি বুঝি স্রেফ হরমোনের খেলা কিংবা সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ। কিন্তু নৃবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের গভীরে গেলে দেখা যায়, দাড়ি আসলে প্রকৃতির দেওয়া এক নিখুঁত "জলবায়ু বর্ম" (Climate Armor)।
রাশিয়ার সাইবেরিয়া বা মঙ্গোলিয়ার তীব্র ও শুষ্ক বরফে ঢাকা অঞ্চলের আদিম মানুষদের দিকে তাকানো যাক।
সাইবেরিয়ার ঘন দাড়ি: রাশিয়ার তীব্র শীতে বাতাস থাকে প্রচণ্ড শুষ্ক। সেখানে ঘন দাড়ি মুখের ত্বককে সরাসরি বরফ হাওয়া থেকে বাঁচাত। বাতাস শুষ্ক হওয়ায় শ্বাসের বাষ্প দাড়িতে জমে বরফ হয়ে গেলেও তা ত্বকের ক্ষতি করতে পারত না।
মঙ্গোলিয়ার মসৃণ মুখ: অথচ চীনের উত্তরের কিছু অঞ্চল বা মঙ্গোলীয় পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়া অন্যরকম। সেখানে বাতাস থাকে প্রচণ্ড আর্দ্র (Humid) এবং সাথে থাকে হাড়কাঁপানো বরফ হাওয়া। এই পরিবেশে যদি মুখে ঘন দাড়ি থাকে, তবে নিঃশ্বাসের সাথে বের হওয়া জলীয় বাষ্প দাড়ির চুলে জমে মুহূর্তের মধ্যে বরফের চাঁই হয়ে যাবে। আর সেই বরফ মুখের চামড়াকে সরাসরি কামড়ে ধরে ‘ফ্রস্টবাইট’ বা ত্বককে গলিয়ে মেরে ফেলবে!
তাই প্রকৃতি মঙ্গোলীয় বা পূর্ব এশিয়ার মানুষদের জিন থেকে দাড়ি-গোঁফের কোডটি পরম চাতুরতার সাথে প্রায় ছেঁটে ফেলেছে। পাতলা ও হালকা দাড়িগোঁফ এর সাথে তাদের ত্বককে করেছে মসৃণ, যাতে বরফ হাওয়া এলেও জলীয় বাষ্প মুখে জমে কোনো ফাঁদ তৈরি করতে না পারে।
[ শুষ্ক ও তীব্র শীত (সাইবেরিয়া) ] ───> ঘন দাড়ি ───> ত্বককে সরাসরি বরফ হাওয়া থেকে সুরক্ষা।
[ আর্দ্র ও তীব্র শীত (মঙ্গোলিয়া) ] ───> মসৃণ মুখ ───> বাষ্প জমে বরফ হওয়ার (ফ্রস্টবাইট) ঝুঁকি এড়ানো।
ঠিক একইভাবে আফ্রিকার তীব্র রোদে মানুষের মাথার ঘন কোঁকড়ানো চুল কাজ করে একটি "প্রাকৃতিক কুশন" বা তাপ নিরোধক ছাতা হিসেবে, যা সূর্যের সরাসরি তাপকে মগজে পৌঁছাতে বাধা দেয়। অন্যদিকে ইউরোপের কম আলোর দেশে মানুষের ত্বক হয়েছে ফর্সা, যাতে তারা সামান্য সূর্যালোক থেকেও পর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি শুষে নিতে পারে। এগুলো কোনো আকস্মিক রূপ নয়, এগুলো হলো প্রকৃতির স্থানভিত্তিক সফটওয়্যার ইনস্টলেশন।
২. হেয়ার গ্রোথ সাইকেল: শরীরের ভেতরের অদৃশ্য কোয়ান্টাম ঘড়ি
এবার আসুন সেই পরম বিস্ময়কর ধাঁধায়—মাথার চুল কেন বাড়ে, আর চোখের ভ্রু কেন এক জায়গায় এসে থমকে যায়?
বস্তুবাদী বিজ্ঞান একে খুব চমৎকার কিছু টেকনিক্যাল পরিভাষা দিয়ে ঢেকে রাখে। তারা বলে, আমাদের প্রতিটি লোমকূপ তিনটি ধাপে কাজ করে:
১. অ্যানাজেন (Anagen): বৃদ্ধির পর্যায়।
২. ক্যাটাজেন (Catagen): থমকে যাওয়ার পর্যায়।
৩. টেলোজেন (Telogen): ঝরে পড়ার পর্যায়।
বিজ্ঞান বলে, চোখের ভ্রুর 'অ্যানাজেন' বা বৃদ্ধির পর্যায় মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ দিন। তাই ভ্রু সামান্য একটু বড় হয়েই থমকে যায় এবং ঝরে পড়ে। আর মাথার চুলের 'অ্যানাজেন' পর্যায় হলো ২ থেকে ৭ বছর! তাই মাথার চুল অবিরাম বাড়তেই থাকে।
কিন্তু আমাদের প্রশ্ন তো অন্য জায়গায়: এই সময়সীমাটি কে ঠিক করল?
একটু কল্পনা করুন—যদি কোনো কারণে এই অদৃশ্য ঘড়ির চাকা উল্টো ঘুরে যেত? যদি চোখের ভ্রুর বৃদ্ধির মেয়াদ হতো ৭ বছর আর মাথার চুলের হতো ৩০ দিন?
তাহলে মানুষের চোখের ভ্রু বাড়তে বাড়তে পুরো মুখ ঢেকে ফেলত। আদিম সাভানায় মানুষ চোখে না দেখতে পেয়ে কোনো বন্য পশুর কামড়ে এক নিমিষেই বিলুপ্ত হয়ে যেত!
মাথার চুল ও ভ্রুর এই যে সময়ের নিখুঁত পার্থক্য, একে আমরা সহজ ভাষায় বলতে পারি "মহাজাগতিক প্রাক-কোডিং" (Cosmic Pre-coding)। বিবর্তন কাজ করে কোনো ভুল হওয়ার পর, প্রকৃতি সেই ভুল থেকে শেখে। কিন্তু ভ্রুর এই কোডিংটি অত্যন্ত আগাম ও দূরদর্শী। মানুষ পৃথিবীতে চোখ মেলার আগেই প্রকৃতি জানত যে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য দৃষ্টির সামনে এক ফোঁটা বাধাও রাখা যাবে না। চোখের পাপড়ি আর ভ্রুকে তাই পরম যত্নে এক নির্দিষ্ট সীমায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে আমাদের এই শরীরের নকশা কোনো অন্ধ কাকতালীয় ঘটনা নয়।
৩. এই আঞ্চলিক ডিজাইনের মহাজাগতিক উদ্দেশ্য কী?
প্রকৃতি কেন মানুষকে এক ছাঁচে না গড়ে এত রকম রঙ, রূপ আর জিনের বৈচিত্র্য দিয়ে আলাদা আলাদা অঞ্চলে ভাগ করে রাখল?
আমরা যদি আমাদের থিসিসের মূল সুর—"মহাজাগতিক মালী"-র ধারণার সাথে একে মেলাই, তবে উত্তরটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রকৃতি আসলে মানুষকে একটিমাত্র জুয়াখেলার বোর্ডে বাজি ধরেনি। সে মানুষকে পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন চরম ক্যানভাসে (মরুভূমি, বরফ, জঙ্গল, পাহাড়) ছড়িয়ে দিয়ে দেখতে চেয়েছিল, মানুষের জিনের ভেতরের "অভিযোজন ক্ষমতা" (Adaptability)-র শেষ সীমানা কতদূর।
ফর্সা ত্বক, কালো ত্বক, মসৃণ মুখ কিংবা ঘন রোমশ শরীর—এগুলো আসলে প্রকৃতির তৈরি করা জিনের ভিন্ন ভিন্ন "অ্যাভাটার" (Avatar)।
প্রকৃতি মানুষকে পৃথিবীর সব ধরণের চরম পরিবেশের সাথে যুদ্ধ করিয়ে এমন এক পরম সহনশীল প্রজাতি হিসেবে গড়ে তুলেছে, যে আজ বরফের দেশেও বাঁচতে পারে, আবার আরবের তপ্ত মরুভূমিতেও কারখানা গড়ে তুলতে পারে।
"চোখের ভ্রুর থমকে যাওয়া আর সাইবেরিয়ার বরফে ঘন দাড়ির বর্ম—এরা প্রকৃতির কোনো তাৎক্ষণিক জোড়াতালি নয়। এরা হলো মানবদেহের ভেতরের এক পরম দূরদর্শী মহাজাগতিক টাইম-ক্লক বা অদৃশ্য ঘড়ির কারসাজি। প্রকৃতি মানুষকে একেক অঞ্চলে একেকটি জিনের বর্ম ও রূপের বৈচিত্র্য দিয়ে মূলত একটি পরম মহাজাগতিক গেমের জন্য প্রস্তুত করছিল। এই গ্রহের সমস্ত চরম আবহাওয়ায়স্বাদের ফিউশন থেকে আধুনিক বায়োলজিক্যাল শক] জয়ী হয়ে মানুষ আজ যে জিনের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে, তা দিয়ে সে আগামী দিনে মহাবিশ্বের যেকোনো অচেনা গ্রহে, যেকোনো চরম পরিবেশে নিজের নতুন অবয়ব তৈরি করে টিকে থাকার হয়তো চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়ে গেছে।"
এবার আসি প্রায় সবার মনেই ঘুরপাক খাওয়া জটিল একটা প্রশ্ন ও উত্তর জানার চেষ্টা করি;
যৌবনের খেলা: গুপ্তাঙ্গের পশম এবং দাড়ির রহস্য
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গভীর—যৌবনপ্রাপ্তির সাথে সাথে কেন নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় নতুন করে পশম গজাতে শুরু করে? এর পেছনে প্রকৃতির সুরক্ষামূলক এবং মনস্তাত্ত্বিক—উভয় গেমই রয়েছে:
সুরক্ষা মেকানিজম (বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে): গুপ্তাঙ্গের পশম মূলত একটি "কুশন" বা প্রতিরোধী স্তর হিসেবে কাজ করে। আদিম যুগে যখন মানুষ কাপড় পরত না, তখন হাঁটাচলা বা দৌড়াদৌড়ির সময় শরীরের সংবেদনশীল চামড়ার ঘর্ষণ (Friction) থেকে বাঁচতে এবং বাইরের ব্যাকটেরিয়া বা ইনফেকশন সরাসরি অঙ্গে প্রবেশ করা আটকাতে এই পশম জাল বা ফিল্টারের মতো কাজ করে।
ফেরোমন ট্র্যাপ (Pheromone Trap): যৌবনে মানুষের শরীর থেকে এক ধরনের গন্ধহীন রাসায়নিক হরমোন নিঃসৃত হয়, যাকে বলা হয় 'ফেরোমন'। এই ফেরোমন বিপরীত লিঙ্গকে অবচেতনে আকর্ষণ করে। বগল এবং গুপ্তাঙ্গের পশম এই ফেরোমনকে বাতাসে ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে প্রজননের তাগিদ তৈরি হয়।
গুপ্তাঙ্গের পশম ছাঁটার ধর্মীয় নির্দেশনা: পরিচ্ছন্নতা নাকি যৌন নিয়ন্ত্রণ?
ইসলামসহ বেশ কিছু ধর্মে নির্দিষ্ট সময় পর পর গুপ্তাঙ্গ এবং বগলের পশম পরিষ্কার করার কড়া নির্দেশনা রয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে "শারীরিক শুদ্ধতা বা পরিচ্ছন্নতা" (হাইজিন)-এর কথা বলা হলেও, আপনার মনস্তাত্ত্বিক অনুমানটি—অর্থাৎ ফেরোমন ও যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ—আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত নিখুঁত।
ফেরোমন ট্র্যাপ ও আকর্ষণের অবদমন: আমরা আগের অধ্যায়ে জেনেছি, এই পশমগুলো শরীর থেকে নিঃসৃত যৌন হরমোন বা 'ফেরোমন' (Pheromones)-কে বাতাসে আটকে রাখে, যা বিপরীত লিঙ্গকে প্রাকৃতিকভাবে তীব্র আকর্ষণ করে। ধর্ম মূলত মানুষের এই বন্য, অনিয়ন্ত্রিত আদিম যৌন তাড়নাকে একটি সামাজিক শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চায়। যখন এই পশমগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়, তখন ফেরোমন ছড়ানোর তীব্রতা প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা কমে আসে। এটি মানুষের অবচেতন মনকে অতিরিক্ত কামাসক্তি থেকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে, যা ধর্ম ও সমাজ কাঠামোর স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।
প্রকৃতি বনাম সমাজ: প্রকৃতি চেয়েছিল মানুষ তীব্র ফেরোমন ছড়িয়ে অবিরত প্রজনন করুক। কিন্তু ধর্ম ও সমাজ চেয়েছিল মানুষ একগামী (Monogamous) ও সুশৃঙ্খল হোক। সুতরাং, এই ধর্মীয় অনুশাসনটি আসলে প্রকৃতির বন্য নিয়মের বিরুদ্ধে মানুষের তৈরি সমাজের আরেকটি সূচতুর "শিকল বা প্রতিরোধ"।
**********************
এবার আসুন একটু মজার আলোচনা করি;
কোনো ট্রাইবাল বা জাতি কি নারীদের ছোট চুল রাখায় উৎসাহিত করে?
হ্যাঁ, পৃথিবীতে এমন কিছু প্রাচীন এবং অদ্ভুত ট্রাইবাল সংস্কৃতি রয়েছে যেখানে প্রায়শই ক্ষেত্রে নারীদের চুল ছোট রাখা বা মাথা কামানো একটি রীতি:
মাসাই উপজাতি (Maasai Tribe, আফ্রিকা): কেনিয়া ও তাঞ্জানিয়ার মাসাই যোদ্ধাদের (পুরুষ) মাথায় প্রায়ই লম্বা, জট পাকানো রঙিন চুল দেখা যায়, যা তারা খুব যত্ন করে সাজায়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, মাসাই নারীরা তাদের মাথা সম্পূর্ণ ন্যাড়া করে বা চুল একদম ছোট রাখে। তাদের সংস্কৃতিতে নারীদের এই ন্যাড়া মাথাকেই পরম সৌন্দর্য এবং পরিচ্ছন্নতার প্রতীক মনে করা হয়।
-মাসাই নারী
হিম্বা উপজাতি (Himba Tribe): এখানেও নারীদের চুলের দৈর্ঘ্য ও স্টাইল দিয়ে তাদের সামাজিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয় এবং অল্পবয়সী মেয়েদের চুল অনেক সময় ছোট করে কেটে রাখা হয়।

-হিম্বা নারী
***
আগের পর্বগুলোর জন্যঃ
Humans are (not) from Earth-স্বাদের ফিউশন থেকে আধুনিক বায়োলজিক্যাল শক
Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য? (১ম পর্ব)
২|
১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৪
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আমার মনে হয় আদি প্রাণ বা প্রাণের উপদান সমুহ উল্কা পিন্ডের মাধ্যমে ভিন কোন গ্রহ থেকে এসেছে। মানুষের শারীরিক গঠন, অবয়ব ইত্যাদি আঞ্চল ভেদে ভিন্ন হবে যা খুবই স্বাভাবিক যার ব্যাখ্যাও আপনি পোস্টে দিয়েছেন।
হিম্বা নারীর চুলের স্ট্যাইল দেখে আমি স্যতিই ভয় পেয়ে গেছি।
তবে প্রকৃতি নিখুত নয় এবং এর পিছনে কোন বুদ্ধিমান সত্তার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায় নি। এই গ্রহের জীববৈচিত্র বিশ্লেণ করতে হলে এখন পর্যন্ত বিবর্তন তত্ব ব্যতীত অন্য কোন তত্বের মাধ্যেমে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, যে কারণে বিবর্তন তত্বকে হলা হয় বিজ্ঞানের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায়।
প্রকৃতি নিখুত নয় এবং এর পিছনে কোন বুদ্ধিমান সত্তার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায় নি।
৩|
১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৫
আহমেদ জী এস বলেছেন: শেরজা তপন,
হায়.. হায়!!!!!!!! আপনার পোস্টকৃত এমন পর্বগুলো আমার আগে দেখা হয়নি কেন??????? ![]()
৪|
১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বেশ মনযোগ সহকারে লেখাটি পাঠ করলাম । আপনার লেখাটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক আমার মনে হলো
মানবদেহের বৈচিত্র্য, বিবর্তন ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন ।
তবে একজন পাঠক হিসেবে আমার মনে হয়, এখানে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য, সম্ভাব্য বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা
এবং কিছু নিজস্ব দার্শনিক/রূপক কল্পনা এই তিনটিকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
মানুষের গায়ের রঙের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের সম্পর্ক অবশ্যই শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত।
বিশেষ করে UV radiation-এর মাত্রার সঙ্গে ত্বকের pigmentation-এর দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন এবং
কম UVB পরিবেশে vitamin-D সংশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার সম্পর্ক নিয়ে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণা
রয়েছে।
কিন্তু সাইবেরিয়ার ঘন দাড়ি বনাম মঙ্গোলীয়দের মসৃণ মুখকে সরাসরি শুষ্ক ঠান্ডা বনাম আর্দ্র ঠান্ডার জন্য
প্রকৃতির climate armor হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত না বলে একটি
অনুমান বা evolutionary hypothesis হিসেবে উপস্থাপন করাই বেশি যুক্তিসঙ্গত। একইভাবে আফ্রিকান
মানুষের কোঁকড়ানো চুলকে সরাসরি মস্তিষ্কের প্রাকৃতিক কুশন বলা কিংবা প্রতিটি শারীরিক বৈশিষ্ট্যের
পেছনে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যমূলক নকশা আছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রকৃতি আগে থেকেই কোড লিখে মানুষকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তৈরি করেছে
এটি বিজ্ঞানের পরীক্ষিত ভাষা নয়। বিবর্তন সাধারণত কোনো ভবিষ্যৎ লক্ষ্য মাথায় রেখে পরিকল্পিতভাবে
কাজ করে না; দীর্ঘ সময় ধরে genetic variation, natural selection, sexual selection,
genetic drift, migration ও population history-এর মতো নানা প্রক্রিয়ার সম্মিলিত ফল হিসেবে
বৈশিষ্ট্যগুলো গড়ে ওঠে। ফলে লেখাটির Regional Programming, Cosmic Pre-coding বা
মহাজাগতিক গেম এসবকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষা না ধরে দার্শনিক রূপক হিসেবে দেখলে লেখাটির বক্তব্য
অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।
চুলের ক্ষেত্রেও লেখাটির মূল পর্যবেক্ষণটি চমৎকার মাথার চুল, ভ্রু ও চোখের পাপড়ির growth cycle
সত্যিই এক নয়। কিন্তু এই সময়সীমা কে ঠিক করল? এই প্রশ্নটি বৈজ্ঞানিকভাবে উত্তর করার ক্ষেত্রে
আমাদের বলতে হবে, এর পেছনে hair-follicle biology, genetics, hormones ও evolutionary
history কাজ করে; এটিকে সরাসরি আগাম মহাজাগতিক প্রাক-কোডিং এর প্রমাণ বলা যায় না।
বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন pheromone প্রসঙ্গে। মানুষের ক্ষেত্রে বগল বা গুপ্তাঙ্গের লোম ফেরোমোন আটকে
রেখে বিপরীত লিঙ্গের আকর্ষণ বাড়ায় এবং লোম পরিষ্কার করলে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে এমন সরল causal
explanation-কে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। মানুষের pheromone
এবং sexual attraction-এর সম্পর্কই এখনো জটিল ও বিতর্কিত বিষয়। তাই ধর্মীয় পরিচ্ছন্নতার বিধানকে
যৌন আকাঙ্ক্ষা দমন করার বৈজ্ঞানিক কৌশল হিসেবে চূড়ান্তভাবে ব্যাখ্যা করাও প্রমাণের তুলনায় অনেক
বেশি এগিয়ে যাওয়া।
যাহোক পোস্টে থাকা লেখাটির মূল প্রশ্নগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। মানুষ কেন বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন রূপ ধারণ
করেছে? কেন একই শরীরের বিভিন্ন লোমের growth cycle আলাদা? কেন puberty-তে নির্দিষ্ট স্থানে
লোমের পরিবর্তন ঘটে? এসব প্রশ্ন থেকেই তো বিজ্ঞান ও নৃতত্ত্বের অনেক অনুসন্ধানের সূচনা হয়।
আমার কাছে তাই লেখাটির সবচেয়ে মুল্যবান জায়গা হলো প্রশ্ন তোলার সাহস, আর সবচেয়ে দুর্বল
জায়গা হলো কিছু অনুমানকে কখনো কখনো প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্যের মতো উপস্থাপন করা। যদি
লেখাটির প্রয়োজনীয় জায়গায় প্রতিটি জায়গায় প্রমাণিত তথ্য,গবেষণাধীন hypothesis এবং দার্শনিক
ব্যাখ্যা এই তিনটি স্তর স্পষ্ট করে দেন, তাহলে লেখাটি শুধু আকর্ষণীয় নয়, বরং আরও তথ্যনিষ্ঠ ও
পাঠযোগ্য হয়ে উঠবে বলে আশা করি।
উল্লেখ্য এখানে আমার মতামত আপনার প্রশ্নে নয়; বরং প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরকে কতটা নিশ্চিতভাবে বলা হচ্ছে,
সেখানেই। বিজ্ঞানকে আরও আকর্ষণীয় করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো কল্পনাকে বাদ দেওয়া নয় বরং
কোথায় বিজ্ঞান শেষ হয়েছে এবং কোথা থেকে আমাদের কল্পনা শুরু হয়েছে, সেটি একটু পরিষ্কার করে দেওয়া।
শুভেচ্ছা রইল
৫|
১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩২
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: ডঃ এম এ আলী সাহেবের মন্তব্যটি যথাযথ হয়েছে, আমি উনার সাথে সম্পুর্ণ একমত।
আসলে বিভিন্ন বিষয়ে ফিলোসোফিক্যালি অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করা যায়, প্রশ্ন করাই হচ্ছে ফিলোসফারদের কাজ কিন্তু তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার দায়িত্ব হচ্ছে বিজ্ঞানের।
কিছু বিষয় আছে যা পরিক্ষা নিরীক্ষা করা সম্ভব নয় যেমন- বিগ ব্যাং এর আগে কি ছিলো, প্রথম প্রাণ কিভাবে এলো এগুলো কখনোই বৈজ্ঞানীকভাগে প্রমাণ করা সম্ভব নয়, তাই এসব বিষয় নিয়ে নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে যা খুশি তাই ভাবা যেতে পারে।
৬|
১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি বলেছেন , আমরা ভাবি দাড়ি হয় হরমোনের খেলা, নাহলে সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ। কিন্তু আসলে এটা জলবায়ু বর্ম। এরপর উদাহরণ হিসাবে সাইবেরিয়ার শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাসে দাড়ি প্রয়োজন এবং মংগোলিয়ার আর্দ্র ও ঠান্ডা বাতাসে দাড়ি ক্ষতিকর এই কথা বলেছেন । টেক্সটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী দাড়ির "উপযোগিতা" শুধু frostbite/তুষার-প্রতিরোধের সাথে যুক্ত। মরুভূমিতে তুষারপাত নেই, frostbite-এর প্রশ্নই নেই। তাহলে এই নির্দিষ্ট মেকানিজম অনুযায়ী মরুভূমির মানুষের দাড়ি রাখা উচিত নয় । সেখানে কেন দাড়ি রাখে মানুষ ? ইসলামে কেন দাড়ি রাখতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে ? দাড়ি রাখাকে ইসলামের পুরুষ নারীর পার্থক্য হিসাবে বলা হয়েছে ।
ফেরোমন রাসায়নিক সংকেতে প্রাণীকূলের মাঝে গ পাওয়া গেলেও মানুষের ক্ষেত্রে এখনো সেটা শতভাগ প্রমাণিত বিষয় নয়। মানুষের গোপন কেশ থেকে ফেরোমন নির্গত হয় শুনি নাই। এতদিন শুনেছি পুরুষের ঘাম থেকে ইহা নির্গত হয় । বাজারে অনেক পারফিউমে ফেরোমন আছে দাবি করে । গোপন কেশে ফেরোমন থাকলে সেটা কিভাবে আকর্ষন করতে পারে ? আন্ডারওয়ার এর উপর প্যান্ট পরা হয় ।
আপনি বলেছেন প্রকৃতি চেয়েছিলো মানুষ ফেরোমন ছড়িয়ে অবাধ প্রজনন করুক । আর ধর্ম চেয়েছিলো মানুষ সুশৃংখল হউক। ধর্ম এমন আলাদা কোনো প্রকৃতির অস্তিত্ব স্বীকার করে না । প্রকৃতি কোনো কিছু চাইতে পারে না । আর ধর্মে কোথায় বহগামিতা নিষিদ্ধ হলো ? একাধিক বিবাহ করা যায় ।
৭|
১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৪৬
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: @সৈয়দ কুতুব - আরবের মানুষরা লম্বা দাড়ি রাখে না, খেয়াল করলে দেখবেন সবারই খোঁচা খোঁচা দাড়ি। লম্বা দাড়ি রাখে বাংলাদেশের কাঠ মোল্লারা।
প্রকৃতির কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে ধর্ম থেকে নয়- ধর্ম হচ্ছে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার একটা সিস্টেম যার শুরুটাই হয়েছে মিথ্যা দিয়ে যে কারণে আজকাল মানুষ ধর্মকে মানতে চায় না। মানুষের বুদ্ধি যত বাড়বে ধর্মের দৌরাত্বও ততো কমবে। "জ্ঞান" নামক এই শব্দটি ধর্ম খুবই ভয় পায়।
৮|
১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৯
কিরকুট বলেছেন: আপনি এই বিষয় নিয়ে এর আগেও লিখেছেন । নিজেকে এলিয়েন ভাবতে আমার বেশ লাগছে । শুধু পাওয়ার গুলা নাই বলে আফসোস হচ্ছে ।
৯|
১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৬
রাজীব নুর বলেছেন: খুবই জটিল বিষয় নিয়ে লিখেছেন।
জটিল বিষয় গুলো আমার বুঝে আসে না। দুইটা গ্রেট বিষয়ে আমি কাঁচা। বিজ্ঞান এবং অংক।
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩
হুমায়রা হারুন বলেছেন: আফ্রিকান মাথার চুলের ব্যাপারটা খুব ভাল লাগলো।