নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

করুণাধারা

করুণাধারা

জীবন যখন শুকাইয়া যায় করুণাধায় এসো

করুণাধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা জানার কোনো উপায় নেই!!! দুঃখের বিষয় এটাই, যখন জানা যায় তখন এই জানাটা নিজের কোনো কাজে লাগে না।

আজকে আমাদের দুজন ব্লগারের জন্মদিন।
শায়মা
কাজী ফাতেমা ছবি

তাদের প্রত্যেক জন্মদিন হোক সুখপাঠ্য বইয়ের একেক পৃষ্ঠার মতো, নিজের জন্য এবং তাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা অন্য সকলের জন্য। অনেক শুভকামনা...

জন্মদিনকে জীবন বইয়ের পৃষ্ঠার মতো মনে হয়, কারণ আমার শৈশবে দেখা সব জন্মদিনের স্মৃতিতে অনেক বই জড়িয়ে আছে। আমাকে প্রথম বই উপহার দিয়েছিলেন আমার মা, আমার দু বছরের জন্মদিনে, তার অনেক বছর পর আমি গল্প বই পড়া শিখি। সেই বইটা এখনো আছে।

আমাদের ছোটবেলায় জন্মদিন হতো, কিন্তু শুধু ছোটদের নিয়ে। এসব জন্মদিনের উপহার ছিল প্রধানত বই। সেসময় জন্মদিন খুব সাধারণভাবে পালন করা হতো। খুবই সামান্য আয়োজন, কিন্তু তাতে আনন্দে- উত্তেজনার কোনো কমতি থাকতো না। এই উপলক্ষে একটা অতি সাধারণ, কিন্তু নতুন জামা পাওয়া যেতো। মায়ের হাতে তৈরি সেই সাধারণ জামা পরে জন্মদিনের ক্রিমকেক কাটার বিমলানন্দ পরে আর কখনো পাইনি!

অতিথি থাকতো কেবল প্রতিবেশি ছোটরা। প্রবল আনন্দের সাথে কেক কাটা হতো, কারণ ক্রিম কেক নামের এই লোভনীয় খাবারটা কেবল জন্মদিন উপলক্ষেই ঘরে আসতো। তখন তো আর পাড়ায় পাড়ায় কেকের দোকান ছিল না, কেক কিনে আনতে হতো নিউমার্কেটের লাইট বা অলিম্পিয়া বেকারি থেকে। সেসময় ক্রিম কেক ছাড়া আর মাত্র দুই রকম কেকের নাম জানতাম, প্লেন কেক আর ফ্রূট কেক! আজকাল তো দেখি পনির দিয়েও কেক বানায়!

টেবিলে আগে থাকতেই প্লেটে প্লেটে খাবার সাজিয়ে রাখা হতো অতিথিদের জন্য। সেই খাবারও খুব সাধারণ খাবার; একটা লাড্ডু বা মিষ্টি, কলা বা অন্য কোনো ফল, ঘরে বানানো দুয়েকটা খাবার। কেক কাটা শেষ হতেই প্লেটে এক পিস করে কেক দিয়ে সবার হাতে প্লেট তুলে দেয়া হতো। তারপর গল্প করতে করতে, সেই সাধারণ খাবার খেতে খেতে, জন্মদিনের অসাধারণ আনন্দ উপভোগ করা...

মোটামুটি সবার বাড়িতেই এভাবেই জন্মদিন পালন হতো। কিন্তু নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা হল কলোনির বন্ধু মুন্নির (ওর আসল নামটা কাছাকাছি) জন্মদিনে গিয়ে। খাওয়া-দাওয়ার পর খেলাধুলার আয়োজন ছিল, এটা আগে কখনো দেখিনি। আমার মত ছোটদের জন্য খেলা ছিল পিলো পাসিং। আমার বোনের মতো বড়দের জন্য(যারা সেভেন, এইট, নাইন বা টেনে এ পড়তেন) ছিল লেখা প্রতিযোগিতা! মুন্নির আম্মা লেখা প্রতিযোগিতার বিষয় বলে দিলেন, চার্চিলকে নিয়ে ইংরেজিতে দশটা বাক্য লিখতে হবে দশ মিনিটে! সবাইকে কাগজ আর পেন্সিল দেয়া হয় লেখার জন্য। সেসময় ৬/৭ টা ফাউন্টেন পেন কারো বাসায় থাকতো না, তাই পেন্সিল! সবার লেখা শেষ হলে মুন্নির আম্মা সব লেখা পড়ে আমার বোনের লেখা সবচেয়ে ভালো হয়েছে বলে জানান, পুরস্কার হিসাবে দেয়া হয়েছিল জাহানারা ইমামের অনুবাদ করা লরা মেরীর বই। নাইন বা টেনে পড়ুয়া আমার বোন খুব খুশি হয়ে বলেছিলো, "আমি গতকালকেই চার্চিল কে নিয়ে লেখা একটা বই পড়েছি, তাই সহজে লিখতে পারলাম।" জন্মদিনে এই রচনা প্রতিযোগিতার কথা আমার এখনো মনে পড়ে! মনে পড়ার সাথে সাথে ভাবি, আজকাল নাইন টেনে পড়ুয়ারা পাঠ্য বই ছাড়া এই রকম অপাঠ্য বই পড়ার সুযোগ পায় নাকি!! আরেকটা জিনিস মনে হয়, সেসময় জ্ঞানের চর্চাকেও আনন্দদায়ক কিছু বলে মনে করা হতো।

সেসময় জন্মদিনে উপহার হিসেবে যে বই উপহার দেয়া হতো, সেই বইয়ের প্রথম দিকে "উপহার" লেখা একটা পাতা থাকতো। সেখানে উপহার দাতা যাকে উপহার দিচ্ছেন তার নাম লিখে লিখতেন, "শুভেচ্ছা সহ... "কেউ আবার পন্ডিতি করে সাহিত্য করতেন। আমার জন্মদিনে আমার বন্ধু মুন্নি যে বই দিয়েছিল সেখানে লিখে দিয়েছিল,

শিশু পুষ্প আঁখি মেলি হেরিল এ ধরা—
শ্যামল, সুন্দর, স্নিগ্ধ, গীতগন্ধভরা—
বিশ্বজগতেরে ডাকি কহিল, হে প্রিয়,
আমি যত কাল থাকি তুমিও থাকিয়ো।

কবিতাটা মুখস্ত করেছিলাম, কিন্তু আজ অবধি বুঝতে পারিনি জন্মদিনের উপহারে এই কবিতাটা কিভাবে প্রাসঙ্গিক হয়!

আমার বোনের এক বান্ধবী যে বই উপহার দিয়েছিলেন, সেই বইতে "উপহার" লেখা পৃষ্ঠায় দীর্ঘ একটা কবিতা লিখেছিলেন,

স্নেহ উপহার এনে দিতে চাই
কি যে দেব তাই ভাবনা,
যত দিতে সাধ করি মনে মনে
খুঁজে- পেতে সে তো পাবো না!
- - - - - - - - - - - - - - - -
- - - - - - - - - - - - - - - -
অচল শিখর ছোটো নদীটিরে
         চিরদিন রাখে স্মরণে --
যতদূর যায় স্নেহধারা তার
           সাথে যায় দ্রুতচরণে।
তেমনি তুমিও থাক না'ই থাক,
           মনে কর মনে কর না,
পিছে পিছে তব চলিবে ঝরিয়া
           আমার আশিস-ঝরনা॥

এই কবিতাটাও মুখস্ত করেছিলাম। আর সেই আপাটাকে এখনো মনে করি।

এই বইগুলো পেয়েছিলাম আমার আট বছরের জন্মদিনে। আমাদের বাসায় নিয়ম ছিল দশ বছর পর্যন্ত এমন জন্মদিন হতো, তারপর আর হতো না। নবম জন্মদিনের আগে আমার বাবার ক্যান্সার ধরা পড়লো। আমার নবম জন্মদিনের দিন, আব্বা রেডিও থেরাপি নিয়ে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে আছেন। আমি বললাম, "আব্বা, এবার তো আমার জন্মদিন হলো না। তাহলে আমার জন্য কিন্তু ১০ বছর না, ১১ বছর পর্যন্ত জন্মদিন করতে হবে। ঠিক আছে?"

আমার বাবা ক্লান্ত বিষন্ন চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন, কোন উত্তর দিলেন না... দশম জন্মদিনের আগেই তাঁকে চিরদিনের জন্য হারালাম। তারপর আর কখনও আমার কোনো জন্মদিন পালন করা হয় নি! কিন্তু প্রতি জন্মদিনে আমার মনে পড়ে যায়, আমার বাবার সেই ক্লান্ত- বিষন্ন- অসহায় দুটো চোখের কথা! আমি জানতাম না, কিন্তু আমার বাবা জানতেন আমার পরের জন্মদিনে তিনি আর থাকবেন না।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১২

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আপনে ফি বছর শুধু ফিমেইল ব্লগারদের শুভেচ্ছা জানান, মেইল ব্লগাররা কি ভাইসা আসছে? বুঝলাম না বিষয়টা!!!! B:-)

যাকগে, দুইজনকেই শুভেচ্ছা। :)

১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২২

করুণাধারা বলেছেন: এনাদের তো এটুকু তোয়াজ করতেই হবে, দেখেন না তাঁরা কী সুন্দর করে এই ব্লগারকে ফুলে-ফলে, টেবিল ভরা খাবার দিয়ে সাজিয়ে দেন!

আচ্ছা, আপনার জন্মদিনেও শুভেচ্ছা জানাবোনে। কবে জানাবো বলে যান!

আপনার জন্যও শুভেচ্ছা, প্রথম মন্তব্য আর প্রথম লাইক দেবার জন্য। :D

২| ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৮

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আরে আমি আমার জন্মদিনের শুভেচ্ছার কথা বলি নাই। শুধু জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশানের কথা তুলে ধরলাম। আমি ছাড়াও কতো ব্লগার আছে!!!! যে কাউকেই শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। ;)

বাই দ্য ওয়ে, আমার জন্ম মাস মার্চ। আমি আর বঙ্গবন্ধু, দু'জনেই মীন রাশির জাতক!!!! :P

১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

করুণাধারা বলেছেন: এখানে কোন জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন হয় নাই, এই দুইজনের একজন ১৮ বছর আর অন্যজন ১৫ বছর ধরে ব্লগে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে মধ্যে তারা একটাবারও ব্লগ ছেড়ে যান নাই! তাদের একটু প্রণোদনা দেওয়া লাগে না!!

মার্চ মাসে আপনার জন্ম!! আপনি তো মহান মানুষের কাতারে আছেন! এই মাসেই জন্মেছেন আলবার্ট আইনস্টাইন, ভ্যান গগ, আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল... B-)

৩| ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯

মিরোরডডল বলেছেন:




ধারাপু, তুমি পোষ্ট দিয়ে কোথায় যে হাওয়া হয়ে যাও। আড্ডা দিবো ভেবে আসলাম, এসে দেখি তুমি পগারপার।

সকালে এসে শায়মাপুর পোষ্টে উইশ করে গেলাম, কিন্তু ছবিপুর কথা ভুলে গিয়েছিলাম। থ্যাংকস মনে করিয়ে দেবার জন্য।
দুই আপুকেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

তোমার পোষ্ট পড়তে ভালো লাগলো, শুরুতে মজার ঘটনা শেয়ার করেছো কিন্তু শেষটা এসে এতো মন খারাপ হয়ে গেলো আপু।
জানতাম না যে তুমিও বাবাকে ক্যান্সারে হারিয়েছো।

আমার বাবা ক্লান্ত বিষন্ন চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন, কোন উত্তর দিলেন না

এই লাইনটা পড়ে আমার বাবার মুখটা ভেসে উঠলো। বাবাও ঠিক এভাবে বিষণ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো। মানুষ যখন বুঝতে পারে তার সময় হয়ে গেছে চলে যাবার, কাছের মানুষগুলোও বুঝতে পারে যে কোন সময় চলে যাবে, সেই সময়ের অনুভূতি প্রকাশ করে বোঝানো সম্ভব না। এই একটা সময় মানুষ খুব অসহায়। সকল বাবারা ওপারে ভালো থাকুক।

ভুমের কথাটা পুরোটা ঠিক না, এই ব্লগে পুরুষ ব্লগারদের জন্মদিন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে পোষ্ট হয়েছে। ধারাপু দিয়েছে কিনা জানিনা কিন্তু শায়মাপু খায়রুল আহসানের জন্মদিনে পোষ্ট দিয়েছে, আমি পোষ্ট করেছিলাম ধুলোর জন্মদিনে। আরও নিশ্চয় হয়েছে।

শুধু মার্চ মাস বললে হবে না, ভুম কবে এই ধরাতে এসেছিলো সেইটা জানলে ধারাপু নিশ্চয়ই পোষ্ট দিবে :)
মীন রাশির জাতক নাকি রোম্যান্টিক হয়, যেটা ভূমকে একদমই মনে হয়না কিন্তু আচরণে এগ্রেসিভ হয়, এটা মিলে গেছে :)

ধারাপু পোষ্টের ছবির কাহিনী কি? তোমার বানানো?
স্বাদ কেমন হবে জানিনা, কিন্তু লুকটা ......... ইয়ে মানে .......... #:-S


১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৪

করুণাধারা বলেছেন: দুঃখিত মিড! আড্ডা দিতে পারলাম না। :|

আমার গত পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে তুমি রাত ৩-৪০ পর্যন্ত জেগেছিলে! সেই পোস্টটা যখন দিয়েছিলাম তখন তোমার দেশে গভীর রাত। তখনই তোমাকে বলেছিলাম, এরপর পোস্ট দিলে তোমার সময়ের দিকে খেয়াল রেখে দেব। তাই আজকে সকাল সকাল পোস্ট দিয়েছিলাম, কিন্তু দিয়ে উধাও হয়ে যেতে হয়েছিল। অনেকগুলো কাজ পড়ে গিয়েছিল আজকে, সেগুলো আজকেই করতে হবে আবার এই পোস্টটাও আজকেই দিতে হবে! এজন্য পোস্টটা দিয়ে ষই উধাও হয়ে গিয়েছিলাম।

শুধু মার্চ মাস বললে হবে না, ভুম কবে এই ধরাতে এসেছিলো সেইটা জানলে ধারাপু নিশ্চয়ই পোষ্ট দিবে :)
মীন রাশির জাতক নাকি রোম্যান্টিক হয়, যেটা ভূমকে একদমই মনে হয়না কিন্তু আচরণে এগ্রেসিভ হয়, এটা মিলে গেছে :)


তারিখটা জানা গেল না এখনো। কিন্তু তোমার মনে হওয়া বাকি কথাগুলোর উত্তর দেখো নিচের মন্তব্যে আছে। তবে আমার কিন্তু ভুমকে রোমান্টিক বা এগ্রেসিভ, কোনটাই মনে হয় না। যেটা মনে হয়, সেটাকে বাংলায় বলে ঠোঁট কাটা।

না, এই কেক আমি বানাইনি। আমার একজন আত্মীয়ের বানানো। বাসার আমগুলো খাওয়া হচ্ছে না দেখে এই কেকের উদ্ভব। হাতের কাছে শুধু এটাই ছিল। ;)

৪| ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯

ভুয়া মফিজ বলেছেন: মিরোরডডল বলেছেন: তোমার পোষ্ট পড়তে ভালো লাগলো, শুরুতে মজার ঘটনা শেয়ার করেছো কিন্তু শেষটা এসে এতো মন খারাপ হয়ে গেলো আপু। জানতাম না যে তুমিও বাবাকে ক্যান্সারে হারিয়েছো। আমার অনুভূতিও একই রকমের।

মীন রাশির জাতক নাকি রোম্যান্টিক হয়, যেটা ভূমকে একদমই মনে হয়না রাশি/টাশি আমি বিশ্বাস করি না, তবে আমি আগেও রোম্যান্টিক ছিলাম, এখনও আছি; শুধু প্রকাশ করা বাদ দিয়েছি। উদাহরন হিসাবে একটা ঘটনা বলি, আমার বিয়ের কয়েক মাস পরের ঘটনা। কোন এক মেঘহীন ফুলমুনের রাতে আমার বউকে বললাম, আজ সারা রাত আমরা জ্যোৎস্নার মধ্যে বারান্দায় বসে হাল্কা চা-নাস্তা খাবো, গল্প করবো। একটু পরে দেখি, তার নাক ডাকছে। কিছুক্ষণ চেয়ারে ঘুমিয়ে তারপরে উঠে গেলো, বললো..........এই কাজ আমার দ্বারা সম্ভব না!!!! সকালে উঠেও তার মধ্যে কোন রিগ্রেট দেখি নাই। সেটাই শেষ, এরপরে তাকে এই ধরনের কোন কিছু আর বলি নাই।

আমার আব্বা সব সময়ে বলতেন, মানুষকে জাজ করতে হয় ছোটখাটো ঘটনা বা আপাত কম গুরুত্বহীন কথা দিয়ে; কারন সেইসবের মধ্যে কোন ভণিতা থাকে না, প্রস্তুতিও থাকে না । ফলে সেগুলোর মাধ্যমেই আসল মানুষটা বেরিয়ে আসে। এই কথাগুলো আমি আজীবন মেনে চলেছি।

কিন্তু আচরণে এগ্রেসিভ হয়, এটা মিলে গেছে :) আমি আমার কথা-বার্তা, কাজ-কর্মে সব সময়ে সৎ থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। সেইজন্যই হিপোক্র্যাসিকে আমি প্রচন্ড ঘৃণা করি। আর এই একই কারনে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে গিয়ে কোন কিছুকে পরোয়া করি না। এর উদাহরন আমার দুই শতাধিক পোষ্ট আর বিভিন্ন মন্তব্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এটাকে যদি এগ্রেসিভ আচরণ মনে হয়, তাই সই। স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড মানুষকে অনেকেই অপছন্দ করবে, এটাই স্বাভাবিক। কারো পোষ্টে গিয়ে মন রক্ষা করার জন্য পুতু পুতু টাইপ কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব না। কি করবো............আমারই ব্যর্থতা!!!! :P

১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:২১

করুণাধারা বলেছেন: যাক্, মিডের কল্যাণে ভুমের রোমান্টিসিজমের একটা নমুনা পাওয়া গেল! :D গল্পটা পড়ে খুব হাসলাম।

আমি কিন্তু আপনাকে এগ্রেসিভ মনে করি না। ব্লগে অনেককেই দেখি নিজের মতের সাথে না মিললেই নখদন্ত বের করে প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়েন, এদেরকে আমি এগ্রেসিভ বলি। আপনাকে বলা যায় ঠোঁট কাটা। এই আর কী!

৫| ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪৫

শায়মা বলেছেন: ভেবেছিলাম লগ ইন না করে ল্যাপটপের কাজ গুলো সেরে নেবো। তোমার পোস্ট দেখে আর লগ ইন না করে পারলাম না!!

আপুনি বহু বছর ধরে ফয়সাল ভাইয়া আমার জন্মদিনের পোস্ট দিয়ে গেছে। গত বছর থেকে ভাইয়া টায়ার্ড হয়ে গেছে। তবুও এক যুগের বেশি সময় ধরে আর কেউ এমন করে আমার জন্মদিনটা মনে রাখেনি কখনও।

আর তারপর মনে রেখেছো তুমি।

মিররমনিও মনে রাখে । খুব খুব মেমোরী আছে তার।

ভুয়া ভাইয়ার জন্মদিন ১৭ই মার্চ । আমি বলে দিলাম আর কষ্ট করতে হবে না।

ছেলেদের জনমদিন নিয়ে আমি আরও লিখেছিলাম। আমার জেসন ভাইয়ার জন্মদিনে, আমার জিনি ভাইয়ার জনমদিনে আর খায়রুল ভাইয়ার জন্মদিনে। আর প্রতিফলনের জন্মদিনে বরুনা এক যুগের বেশি সময় লিখেছিলো। এখন তো সেই নিকটাই লগ ইন করা যায় না আর! :(

১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:২১

করুণাধারা বলেছেন: অনেকদিন পর তোমার দেখা পাওয়া গেল শায়মা! হ্যাপি বার্থডে!

কী হয়েছে তোমার!! একদম উধাও হয়ে গেছো!!! এই পোস্ট না দিলে হয়তো আজকেও ব্লগে আসতে না।

তোমার জন্মদিন উপলক্ষে কি করি আজ ভেবে না পাই এর কবিতা, আর তোমার উত্তরগুলো খুব মনে পড়ে! কত হাসিখুশি একটা সময় ছিল তখন!

বরুনা নিক তো মনে হয় কয়েক মাস আগেও এক্টিভ দেখলাম। এখন আর লগ ইন করা যাচ্ছে না!!

৬| ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

শায়মা বলেছেন: আমার জন্মদিনের একটা বই উপহারের কথা আমার মনে পড়ে। বইটার নাম ছিলো ছড়ায় ছড়ায় ছন্দ। সেটাই জন্মদিনে আমার মায়ের থেকে পাওয়া স্মৃতিময় উপহার। তখন আমার বয়স ছিলো ছয়!


আমাদের ছোটবেলাতেও জন্মদিনের খানা ছিলো কেক মিষ্টি কলা আপেল এইসবই হা হা .......

কত বদলে গেলাম আমরা!!!
বদলে গেলো সামুও .......

আগে কত শত জন্মদিনের পোস্ট আসতো এই ব্লগে। এখন আর কেউ কোথাও নেই......

শুধু তুমি আর আমরা কয়েকজনা আছি এখনও জেগে ......

১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৭

করুণাধারা বলেছেন: আমাদের সহজ সরল আনন্দের আর নিশ্চিন্ততার দিনগুলো হারিয়ে গেছে। এখন শুধু ছুটে চলার দিন! ছেলেবেলায় যেমন ছোট ছোট জিনিসে আনন্দ খুঁজে পেতাম এখন আর পাই না। :(

আমার প্রথম বই ছিল দেব সাহিত্য কুটির পূজা বার্ষিকী। সেটা মোটেও দু বছরের বাচ্চার উপযোগী ছিল না। অবশ্য পরে বইটা আমার খুব পছন্দ হয়েছিল। আমার মেয়ের প্রথম জন্মদিনে দিয়েছিলাম লিটল রেড রাইডিং হুড।

আশাকরি সুস্থ আছো... আনন্দে কেটেছে সারাদিন।

৭| ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৩০

শায়মা বলেছেন: আপুনি

এখন আপাতত ভালোই আছি। যদিও গত মাসের ১৮ তে পা মচকেছিলাম!

আমার পা এর উপর এত বিপদ আপদ যাচ্ছে !!! :(

অনেক অনেক বিজি আছি তাই একটু উধাও আছি!

আবার চলে আসবো ঠিক ঠিক একটু ইজি হলেই.....

৮| ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: জীবনের বইটা ট্রাজেডি না কমেডি সেটা জীবনের শেষ প্রান্তে না আসলে বোঝা যায় না। কথা ঠিক। তবে এই ব্লগে একজন আছে যার পোষ্ট আর মন্তব্য দেখলে বোঝা যায় যে তার জীবনটা আস্ত একটা কমেডি। উনি হলেন আমাদের প্রিয় ব্লগার শায়মা মণি। শায়মা মণির মন্তব্য আর পোষ্ট মানেই কমেডি। সার্কাসের retired বাঁদরও এতো ভালো কমেডি করতে পারবে না। আজকে শায়মা মণি আর কাজী ফাতেমা ছবি মণির জন্মদিন।

দুইজনকেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

আপনার মত আমার জন্মদিনেও আমি মায়ের কাছ থেকে বই উপহার নিতাম। আমাদের পরিবারে জন্মদিনে আমার মা ভালো রান্না করতেন। কেক কাটার রেওয়াজ ছিল না আমাদের বাসায়। আম্মা জিগ্যেস করতেন উপহার কী চাই। অনেক বাড়িতে অনুষ্ঠান হত, তবে বাচ্চারাই আমন্ত্রিত হত মুলত।

আপনার বাবার ক্যানসার এবং আপনার ১১ তম জন্মদিন পালনের অভিলাষ সম্পর্কে জানলাম। ঐ সময়ে ক্যান্সারের প্রকোপ কম ছিল। ইদানীং বাড়িতে বাড়িতে ক্যান্সারের রোগী। আমার ছোট ফুফু ক্যান্সার সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেলেন। আমার বোনের ক্যানসার হয়েছিল, তবে এখন সুস্থ।

ভুয়া মফিজ ভাইয়ের কণ্ঠের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলছি, ব্লগের ছেলেদেরকেও জন্মদিনের শুভেচ্ছা দেয়ার অভিলাষ জাগ্রত হউক আপনার মধ্যে। বিশেষ করে মার্চ মাস আসলে জন্মদিনের পোস্টের কথা যেন মনে থাকে সেই কামনা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.