নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাংবাদিক সোহরাব মাহাদী

সাংবাদিক সোহরাব মাহাদী › বিস্তারিত পোস্টঃ

‘পথকলি’ কথন

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৩১

জীবনযুদ্ধে সুবিধা বঞ্চিত। সহজে বললে অবহেলিত। অবাঞ্চিত। সমাজ থেকে বহুদূরে সমাজেরই অংশ। আসলে ওরা টোকাই, সাবেক স্বৈরশাসকের দৃষ্টিতে ‘পথকলি’।

কলি হয়ে ফোটার সৌভাগ্য তাদের কখনও হয় না। উল্টো কলমের বদলে হাতে ওঠে কল্কে। তারই রসদ জোগাতে ধরে অস্ত্র। তাতেই আমরা বিগড়ে যায়। কখনো ক্ষতবিক্ষত হয়ে তুলে দেই অর্থ।

বলছিলাম পথশিশুর কথা। দৈনিক চলার পথে আমরা তাদের দেখি, রাস্তায়। কখনও কেউ কুড়াচ্ছে ফেলে দেয়া পণ্য, কারও আঙুল খুঁজে ফিরছে ডাস্টবিনের ‘খাদ্য’ নামক অখাদ্য।

শরীরে নেই শীত নিবারণে সরঞ্জাম। ময়লা- আর জীর্ণ দেহেই আপনার কাছে এসে বলছে- ভাইয়া/আপু নিবেন? স্যার রাখবেন? অথবা স্যার একটা ট্যাকা দিবেন, কিছু খামু।

বেঁচে থাকার নিরন্তর লড়াই দেখে এসব শিশুদের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী (রনবী) ক্যানভাসে তুলে এনেছিলেন ‘টোকাই’ শিরোনামে। পথে পথে টুকিয়ে জীবন পার করে বলেই হয়তো রনবী তাদের এই অভিধা দিয়েছিলেন।

আর শিশুরা ফুলের মত, অস্ফূট কলি। তাইতো সাবেক স্বৈরশাসক ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এদের বলেছিলেন ‘পথকলি’।

কিন্তু এসব অবতারণার আগে টোকাই, পথশিশু বা পথকলিদের জীবন সম্পর্কে আমরা ক’য়জনা জানি?

আমরাতো প্রতিদিনই তাদের দেখি রাস্তায় পড়ে থাকতে, ভিক্ষা করতে কিংবা ফুল চকলেটসহ নানা জিনিস বিক্রি করতে। কিন্তু আমরা কি কখনো তাদের জীবন-জীবিকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি?

এই শিশুরা একটু বড় হলে জীবিকার তাড়নায় ছুটে চলে পথ থেকে পথে। জীবন এদের মৌলিক সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। ন্যূনতম জৈবিক সুবিধা তারা পাচ্ছে না। জড়িয়ে পড়ছে নেশার ভয়াল জগতে, জড়াচ্ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।

মেয়ে পথশিশুরা শৈশব থেকেই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে, পরবর্তীতে সেটিই হয়ে উঠছে তাদের উপার্জনের একমাত্র পথ। এদের এ জীবনের জন্য কারা দায়ী? আপনি, আমি, আমরা সবাই।

মনে করুন- আপনি আপনার স্ত্রী, সন্তান, বা মা-বোনকে নিয়ে রাস্তার ধারে হেঁটে চলছেন, হঠাৎ কেউ একজন পিছন থেকে এসে তাদের হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। আপনিও তার পিছন পিছন দৌঁড়াচ্ছেন কিন্তু তার আর নাগাল পেলেন না। আপনি কি জানেন এই মনে করার ঘটনার জন্য আপনিই দায়ী?

কেন না সেদিন যখন ওই ছিনতাইকারী আপনার কাছে হাত পেতেছিল, আপনি তাড়িয়ে দিয়েছেন। কিনে দেননি এক মুঠো খাবার। কখনও ভাবেননি এদেরও দরকার রয়েছে আমার সন্তানদের মত স্বাভাবিক জীবন। সে চেষ্টাও কখনও করেননি। তাই তো সে বাধ্য হয়ে আজ পথকলি থেকে হয়েছে ছিনতাইকারী কিংবা সন্ত্রাসী।

আমরা যদি পথশিশুদের সকল মৌলিক অধিকার দিতে পারতাম। তারা আজ হয়তো ছিনতাইকারী, পকেটমার সন্ত্রাসী কিংবা বারবণিতা হতে পারত না। আসুন, একবার আমরা সবাই আমাদের বিবেককে ঝাঁকুনি দেই, পথকলিদের জন্য কিছু করি।

সোহরাব হোসেন মাহাদী
[email protected]
সংবাদ কর্মী, শিক্ষার্থী সাংবাদিকতা বিভাগ।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৮:০৫

বিজন রয় বলেছেন: দারুন।

২| ১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৭:২১

সিডর সুমন বলেছেন: ব্লগ লিখে ব্লগের নিচে নিজের ব্যক্তিগত কোন কিছুর লিংক দেওয়া সম্পূর্ণ ব্লগ নীতিমালা পরিপন্থী। বিস্তারিত জেনে ব্লগ লিখা ‍উচিত Click This Link

৩| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৫:৩২

সাংবাদিক আরিফ বলেছেন: হাইল্লার নাচ দেখে বাইল্লাও নাচে। তাই মনে হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.